Alexa

রিজার্ভ চুরি মামলার আপডেট সংসদে

রিজার্ভ চুরি মামলার আপডেট সংসদে

সংসদে অর্থমন্ত্রী, ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি যাওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পক্ষে মামলা করেছে দেশটির একটি আইনি প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে যখনই কোন আপডেট তথ্য পাওয়া যাবে তখনই স্পিকারের মাধ্যমে সংসদকে অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল।

মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে এ সংক্রান্ত বিবৃতি দেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশের ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভটি যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কে অবস্থিত ফেডারেল ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সংরক্ষণ করা হয়। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের রিজার্ভই এখানে সংরক্ষিত থাকে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে ২০১৬ সালে জানুয়ারিতে হ্যাকিং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংকে সংরক্ষিত আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের একটি অংশ শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে পাচার করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক হ্যাকাররা ৭০টি ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৯৫১ মিলিয়ন ইউএস ডলার পাচারের চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে ৫টি মিথ্যা চেক এর মাধ্যমে ১০১ মিলিয়ন ডলার ট্রান্সফার করার পর নিউইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংকের সন্দিহান হয়ে বাকি পেমেন্টগুলো করতে পারেননি।'

মুস্তাফা কামাল বলেন, 'রিজার্ভ চুরির বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে আমাদের সরকার চুরি হয়ে যাওয়া অর্থ উদ্ধার, চুরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ ও ভবিষ্যৎ চুরি রোধে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি দ্রুত সরকারের নিকট একটি রিপোর্ট পেশ করেন। পাশাপাশি সিআিইডিকে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিআইডি’র তদন্ত এখনো চলমান আছে।'

মন্ত্রী আরও বলেন, 'ফৌজদারি কার্যকরে যেন কোন প্রভাব না সেজন্য রিপোর্টটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। রিজার্ভ চুরির বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং বিদেশি একাধিক প্রতিষ্ঠান জড়িত আছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ইউএস এর এফবিআই এবং ফিলিপাইন সরকার তদন্তে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রীলঙ্কা থেকে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয় এবং ফিলিপাইন থেকে ১৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আনা হয়েছে। বাকি ৬৬ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্ধারে এখনো কার্যক্রম চলান আছে।'

এফবিআই নিজ দেশের হ্যাকারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, 'ফিলিপাইনে এন্ট্রি মানিলন্ডারিং কাউন্সিল মানিলন্ডারিং এ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে। এখান থেকে আমরা পর্যাপ্ত প্রমাণাদি পেয়েছি এবং প্রমাণাদিসহ ২০১৮ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি আইনি প্রতিষ্ঠান ‘কোজেন অব অনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। যারা গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের পক্ষে মামলা দায়ের করেছে। এখানে উল্লেখ্য যে নির্দিষ্ট সময়ে মাঝে আমরা মামলাটি দায়ের করতে পেরেছি। চুরি যাওয়া রিজার্ভ অর্থ উদ্ধারের কাজ এখনো চলমান আছে। এ বিষয়ে যখনই কোন অগ্রগতি হবে এই সংসদকে অবহিত করব।'

আপনার মতামত লিখুন :