Alexa

বঙ্গবন্ধু একটি বিপ্লব ও ধ্রুবতারার নাম

বঙ্গবন্ধু একটি বিপ্লব ও ধ্রুবতারার নাম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা, বার্তা২৪.কম

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। এই দিনে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই ঐতিহাসিক ভাষণের উপর অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রায় ৩ ঘণ্টা আলোচনা করেছেন।

আলোচনায় তারা বলেছেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি বিপ্লব, একটি ইতিহাস, একটি অভ্যুত্থান ও এক ধ্রুবতারা নাম। বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় অনেক রাজনৈতিক নেতার জন্ম হয়েছে কিন্তু তারা বাঙালিকে স্বাধীনতার স্বাদ দিতে পারেননি। এক মাত্র বঙ্গবন্ধুই বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। তিনি জনতার মধ্যে অভূতপূর্ব সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন। দেশের জনগণ তাকে হৃদয়ে স্থান দিয়েছিলেন। বক্তারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল মাস্টারমাইন্ডদের শনাক্ত করতে একটি গণ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান।'

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, অধ্যাপক আলী আশরাফ, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশ জাসদের মইন উদ্দিন খান বাদল, গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু,তাহজীব আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, 'বঙ্গবন্ধু একটি মাত্র ভাষণে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি সৃষ্টি করেছেন। নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিলেন, একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন এই পাকিস্তান বাংলাদেশের জন্য হয়নি। বাংলার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ বাঙালিরা করবে। তাই এই দিনটির জন্য বঙ্গবন্ধু অপেক্ষা করছিলেন। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। একটি হলো স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করা, আরেকটি যাতে তাঁকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত না করা। দুটোই নিখুঁতভাবে করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। চশমাটা খুলে মুক্তিযুদ্ধে কি করণীয় সেই তাত্ত্বিক ভাষণে নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন।'

আমির হোসেন আমু বলেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যে বিশ্বাস নিয়ে ১৩টি বছর কারাগারে কাটিয়েছেন, দুবার ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে জনগণের বিজয়ের জয়গান গেয়েছেন, ৭ মার্চের ভাষণে সেটিই তুলে ধরেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের অমর বাণী, নির্দেশ বাঙালি জাতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর গেরিলা যুদ্ধের নির্দেশনা অনুযায়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার লালসূর্য ছিনিয়ে এনেছিলেন।'

বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, '৪৮ বছর পার হয়ে গেছে, ৭ মার্চের আবেদন এতটুকুও কমেনি। বাংলাদেশে বসে বঙ্গবন্ধুকে যেভাবে পরিমাপ করি, বিদেশের নেতারা বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়ের মতোই দেখেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে স্বাধীনতার ইঙ্গিতের পাশাপাশি গেরিলা যুদ্ধের দিক-নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। এতো সহজভাবে হৃদয়গাঁথা ভাষণ বিশ্বের কোন নজির নেই। মৃত্যু-ভয় তাঁকে কখনো লক্ষ্যস্থল অর্জন থেকে পিছু হঠাতে পারেনি।'

রাশেদ খান মেনন বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল তার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের এক অভূতপূর্ব কবিতা। লাখো বাঙালির হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা সেই স্বাধীনতার রূপরেখাই দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। একটি ভাষণে গোটা ঐক্যবদ্ধ জাতিকে যোদ্ধা জাতিতে পরিণত করেছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণের মধ্যে দিয়ে তাঁর রাষ্ট্র ভাবনা প্রকাশিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর এই যুদ্ধ কৌশলের ভাষণে গোটা জাতি হাতিয়ার তুলে নিয়ে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এই ভাষণ শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের অনুপ্রেরণার ভাষণ।'

শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, '১৯৭১ সালের ৭ মার্চসহ ওই সময়ে যা কিছু হয়েছে, তা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ও পরিকল্পনায় হয়েছে। এক্ষেত্রে অন্য কারো কোন বিশেষ কৃতিত্ব নেওয়ার কিছু নেই। এই ভাষণ জাতিকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিল। যা কখনোই পুরানো হবার নয়। অথচ জিয়াউর রহমান এই ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু সেই ভাষণ আজ বিশ্ব স্বীকৃত। মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। সশস্ত্র আন্দোলনের জন্য দেশ ত্যাগ করে নেতাজি সুভাষ বোস নিখোঁজ হয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সফল হয়েছে। অনেকের অনেক পরামর্শ ও চাপ সত্ত্বেও তিনি দেশ ত্যাগ করতে রাজি হননি। তাঁর নেতৃত্বেই স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়।'

হাসানুল হক ইনু বলেন, 'তিনিই (বঙ্গবন্ধু) ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। তাঁর নেতৃত্বে সমগ্র বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে তাঁর দেওয়া ভাষণ ইতিহাসের দরজা খুলে দিয়েছে। ওই ভাষণ ইতিহাস বদলে দেওয়ার ভাষণ, নির্বাচন গণআন্দোলনের অপূর্ব সমন্বয় সাধনের ভাষণ, নিরস্ত্র জনগণকে সশস্ত্র করার ভাষণ, অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার ভাষণ, বাংলাদেশের কর্তৃত্ব গ্রহণের ভাষণ, তখন থেকে স্বাধীনতা প্রবেশের ভাষণ, দেশের মানুষের অন্তরে মুক্তি ও স্বাধীনতার ভাষণ। কোন কিছুই বঙ্গবন্ধুকে খাটো করতে পারে না। কোন কিছুই নাই, যা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে মাপা যায়। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ অমর ছিল, অমর আছে থাকবে।'

মইন উদ্দিন খান বাদল বলেন, 'একজন পরিপূর্ণ বাঙালির হাত ধরে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক বাঙালি নেতা। ৭ মার্চ বাঙালি মানুষের হৃদয়ের তার বাজিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর এ ৭ মার্চেই সত্যিকারের স্বাধীনতা ঘোষণা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা তাঁর ধারাবাহিকতা মাত্র।'

সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, 'বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ডদের শনাক্ত করতে একটি গণ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছি। শুধু ফারুক-রশিদ-নূর গংরা নয়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানসহ অনেক মাস্টারমাইন্ড জড়িত রয়েছে। এদের শনাক্ত করে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।'

সংসদ এর আরও খবর