Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বঙ্গবন্ধু একটি বিপ্লব ও ধ্রুবতারার নাম

বঙ্গবন্ধু একটি বিপ্লব ও ধ্রুবতারার নাম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। এই দিনে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই ঐতিহাসিক ভাষণের উপর অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রায় ৩ ঘণ্টা আলোচনা করেছেন।

আলোচনায় তারা বলেছেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি বিপ্লব, একটি ইতিহাস, একটি অভ্যুত্থান ও এক ধ্রুবতারা নাম। বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় অনেক রাজনৈতিক নেতার জন্ম হয়েছে কিন্তু তারা বাঙালিকে স্বাধীনতার স্বাদ দিতে পারেননি। এক মাত্র বঙ্গবন্ধুই বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। তিনি জনতার মধ্যে অভূতপূর্ব সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন। দেশের জনগণ তাকে হৃদয়ে স্থান দিয়েছিলেন। বক্তারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল মাস্টারমাইন্ডদের শনাক্ত করতে একটি গণ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান।'

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, অধ্যাপক আলী আশরাফ, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশ জাসদের মইন উদ্দিন খান বাদল, গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু,তাহজীব আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, 'বঙ্গবন্ধু একটি মাত্র ভাষণে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি সৃষ্টি করেছেন। নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিলেন, একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন এই পাকিস্তান বাংলাদেশের জন্য হয়নি। বাংলার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ বাঙালিরা করবে। তাই এই দিনটির জন্য বঙ্গবন্ধু অপেক্ষা করছিলেন। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। একটি হলো স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করা, আরেকটি যাতে তাঁকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত না করা। দুটোই নিখুঁতভাবে করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। চশমাটা খুলে মুক্তিযুদ্ধে কি করণীয় সেই তাত্ত্বিক ভাষণে নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন।'

আমির হোসেন আমু বলেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যে বিশ্বাস নিয়ে ১৩টি বছর কারাগারে কাটিয়েছেন, দুবার ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে জনগণের বিজয়ের জয়গান গেয়েছেন, ৭ মার্চের ভাষণে সেটিই তুলে ধরেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের অমর বাণী, নির্দেশ বাঙালি জাতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর গেরিলা যুদ্ধের নির্দেশনা অনুযায়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার লালসূর্য ছিনিয়ে এনেছিলেন।'

বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, '৪৮ বছর পার হয়ে গেছে, ৭ মার্চের আবেদন এতটুকুও কমেনি। বাংলাদেশে বসে বঙ্গবন্ধুকে যেভাবে পরিমাপ করি, বিদেশের নেতারা বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়ের মতোই দেখেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে স্বাধীনতার ইঙ্গিতের পাশাপাশি গেরিলা যুদ্ধের দিক-নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। এতো সহজভাবে হৃদয়গাঁথা ভাষণ বিশ্বের কোন নজির নেই। মৃত্যু-ভয় তাঁকে কখনো লক্ষ্যস্থল অর্জন থেকে পিছু হঠাতে পারেনি।'

রাশেদ খান মেনন বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল তার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের এক অভূতপূর্ব কবিতা। লাখো বাঙালির হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা সেই স্বাধীনতার রূপরেখাই দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। একটি ভাষণে গোটা ঐক্যবদ্ধ জাতিকে যোদ্ধা জাতিতে পরিণত করেছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণের মধ্যে দিয়ে তাঁর রাষ্ট্র ভাবনা প্রকাশিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর এই যুদ্ধ কৌশলের ভাষণে গোটা জাতি হাতিয়ার তুলে নিয়ে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এই ভাষণ শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের অনুপ্রেরণার ভাষণ।'

শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, '১৯৭১ সালের ৭ মার্চসহ ওই সময়ে যা কিছু হয়েছে, তা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ও পরিকল্পনায় হয়েছে। এক্ষেত্রে অন্য কারো কোন বিশেষ কৃতিত্ব নেওয়ার কিছু নেই। এই ভাষণ জাতিকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিল। যা কখনোই পুরানো হবার নয়। অথচ জিয়াউর রহমান এই ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু সেই ভাষণ আজ বিশ্ব স্বীকৃত। মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। সশস্ত্র আন্দোলনের জন্য দেশ ত্যাগ করে নেতাজি সুভাষ বোস নিখোঁজ হয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সফল হয়েছে। অনেকের অনেক পরামর্শ ও চাপ সত্ত্বেও তিনি দেশ ত্যাগ করতে রাজি হননি। তাঁর নেতৃত্বেই স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়।'

হাসানুল হক ইনু বলেন, 'তিনিই (বঙ্গবন্ধু) ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বীর। তাঁর নেতৃত্বে সমগ্র বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে তাঁর দেওয়া ভাষণ ইতিহাসের দরজা খুলে দিয়েছে। ওই ভাষণ ইতিহাস বদলে দেওয়ার ভাষণ, নির্বাচন গণআন্দোলনের অপূর্ব সমন্বয় সাধনের ভাষণ, নিরস্ত্র জনগণকে সশস্ত্র করার ভাষণ, অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার ভাষণ, বাংলাদেশের কর্তৃত্ব গ্রহণের ভাষণ, তখন থেকে স্বাধীনতা প্রবেশের ভাষণ, দেশের মানুষের অন্তরে মুক্তি ও স্বাধীনতার ভাষণ। কোন কিছুই বঙ্গবন্ধুকে খাটো করতে পারে না। কোন কিছুই নাই, যা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে মাপা যায়। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ অমর ছিল, অমর আছে থাকবে।'

মইন উদ্দিন খান বাদল বলেন, 'একজন পরিপূর্ণ বাঙালির হাত ধরে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক বাঙালি নেতা। ৭ মার্চ বাঙালি মানুষের হৃদয়ের তার বাজিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর এ ৭ মার্চেই সত্যিকারের স্বাধীনতা ঘোষণা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা তাঁর ধারাবাহিকতা মাত্র।'

সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, 'বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ডদের শনাক্ত করতে একটি গণ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছি। শুধু ফারুক-রশিদ-নূর গংরা নয়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানসহ অনেক মাস্টারমাইন্ড জড়িত রয়েছে। এদের শনাক্ত করে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।'

আপনার মতামত লিখুন :

ন্যাম ভবনের বাসায় কত মধু?

ন্যাম ভবনের বাসায় কত মধু?
উপরের সারিতে কৃষিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী , নিচের সারিতে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এবং পরিবেশ উপমন্ত্রী।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করা হয় সরকারের পক্ষে। সংসদ সচিবালয় থেকে প্রত্যেক এমপির জন্য নাখালপাড়া ও মানিকমিয়া এভিনিউয়ে অবস্থিতি ন্যাম ভবনে থাকার বন্দোবস্ত করা হয়। এমপিদের চাহিদার ভিত্তিতে সংসদ সচিবালয় এই বাসা বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। যতদিন তিনি সংসদ সদস্য থাকবেন ততদিন পরিবার নিয়ে ওই বাসাতেই থাকবেন। তবে কেউ যদি বাসা বরাদ্দ না নেন তাতেও কোন আপত্তি নেই সংসদ সচিবালয়ের।

আর যখন সংসদ সদস্যগণ মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়ে যান তখন তাদের ঠিকানা হয় মন্ত্রিপাড়ায়। মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া এমপিগণ তাদের পূর্বের বাসা ছেড়ে উঠবেন মন্ত্রী হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া নতুন বাসায়। দশম সংসদের অনেক সদস্যই একাদশ সংসদেরও সদস্য। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের দলীয় এমপিরা। একাদশ সংসদ গঠনের পর মন্ত্রিসভায় যাদের নাম উঠেছে ন্যাম ভবনে তাদের নামে পূর্বের বরাদ্দকৃত বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা। সরকার গঠনের ৭ মাস হতে চলল এখনো ন্যাম ভবনের বাসা দখলে রেখেছেন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী।

সংসদ সচিবালয় থেকে বাসা ছাড়ার জন্য কয়েক দফা নোটিশ দিয়েও কাজে আসেনি। তাই শেষ পর্যন্ত অভিযোগ গেছে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। সদ্য শেষ হওয়া তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিন ১১ জুলাই সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় নাম উল্লেখ না করে ন্যাম ভবনে বাসা দখল করে থাকা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের ভৎসনা করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সভায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী ওইসকল মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ন্যাম ভবনের বাসা যদি এতই ভাল লাগে তাহলে মন্ত্রিপাড়ার বাসা ছেড়ে দিন, এখানে চলে আসুন। আর আপনাদের বাসা দেওয়া হয়েছে। আপনাদের ড্রাইভার, পিয়ন, আত্মীয় থাকার জন্য না। বাসায় যারা থাকেন না তারা বাসা ছেড়ে দেন।”  

ওইদিনের সভার পর অনুসন্ধান করে দেখা গেছে ২ মন্ত্রী, ৪ প্রতিমন্ত্রী ও এক উপমন্ত্রী ন্যাম ভবনের বাসা দখলে রেখেই মন্ত্রিপাড়ার বাসাতে থাকছেন। তাদের মধ্যে দুইজন আবার সেদিনের পর ন্যাম ভবনের বাসা ছেড়ে গেলেও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বুঝিয়ে না দিয়েই চলে গেছেন। যে কারণে ওই দুইজনের বাসা এখনো তাদের দখলে রয়েছে মর্মে কাগজে রয়েছে। এ নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে কথা উঠেছে ন্যাম ভবনের বাসায় কত মধু যে মন্ত্রিপাড়ার বাসা পাওয়ার পরেও তারা বাসা ছাড়ছে না। অনেকে আবার বলছেন আমি থাকব দেখি কি হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563352664638.jpg

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ন্যাম ভবনের বাসায় আসলে ওই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের মধ্যে অনেকেই থাকেন না, কেউ কেউ মাঝে মাঝে দুই একদিন আসেন, আবার চলে যান। ওই বাসায় মূলত তাদের আত্মীয়রা থাকেন।

মন্ত্রিপাড়ার বাসা থাকা সত্ত্বেও ন্যাম ভবনের বাসা দখলে থাকা মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন-কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নূরুজ্জামান আহমেদ, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, এর বাইরে নবনিযুক্ত নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা তার নামে ন্যাম ভবনে বরাদ্দকৃত বাসা এখনো তিনি বুঝে নেননি। যেহেতু প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন তাই সেই বাসায় আর হয়ত উঠবেন না।

এদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ন্যাম ভবনের বাসায় নিজে থাকেন না। তাদের আত্মীয়রা ওই বাসায় থাকেন। আর নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী দুই দিন আগে ন্যাম ভবনের বাসা ছেড়ে গেলেও এখনো তারা সংসদ সচিবালয়কে তাদের সেই বাসা বুঝিয়ে দেননি। আর সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দেখতে চান শেষ পর্যন্ত কি হয়।

অন্যদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার ন্যাম ভবনের বাসাতেই থাকার ইচ্ছে পোষণ করেছেন। আর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যও তার ন্যাম ভবনের বাসাতে মাঝে মাঝে আসেন, অন্য সময় খালিই থাকে।

এ বিষয়ে হুইপ শামসুল হক চৌধুরী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, সংসদ নেতার নির্দেশে আমরা ওইসকল মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের নোটিশ করব, আগেও করিছি, এবার চূড়ান্ত নোটিশ। মন্ত্রীদের মধ্যে যারা বাসা ছাড়বেন না তাদের কাছ থেকে ভাড়া কেটে রাখা হবে। আশা করছি, তারা বাসা ছেড়ে দেবেন।  

নারীর ক্ষমতায়নের পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য: জাতিসংঘে স্পিকার

নারীর ক্ষমতায়নের পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য: জাতিসংঘে স্পিকার
জাতিসংঘের প্যানেল আলোচনায় স্পিকার শিরীন শারমিন, ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিকভাবে লিঙ্গসমতা নিশ্চিতকল্পে গৃহীত প্লাটফর্ম 'প্লানেট ৫০-৫০' অর্জনের জন্য নারীর ক্ষমতায়নের পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) জাতিসংঘ সদরদফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের 'টেকসই বিশ্বের জন্য লিঙ্গসমতা ও নারী নেতৃত্ব' শিরোনামে অনুষ্ঠিত লিঙ্গসমতা বিষয়ক বৈশ্বিক নেতাদের অনানুষ্ঠানিক সভায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, 'ক্ষমতা-কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য সংসদ সদস্য হিসেবে আমাদের যে ক্ষমতা রয়েছে, তা ব্যবহার এবং ইতোপূর্বে যে কথা বলা হয়ে ওঠেনি তা বলতে হবে। আর সে সময় এখনই। আসুন, আমাদের প্রতিশ্রুতিসমূহকে বাস্তবে রূপ দেই। আসুন, বাধা হিসেবে যে কাঁচের দেওয়াল রয়েছে তা ভেঙে ফেলে লিঙ্গসমতা অর্জনের পথ মজবুত করি। আসুন, প্লানেট ৫০-৫০ অর্জন করি, যা আজ সময়ের দাবি।'

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, 'বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নারী ক্ষমতায়নের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সংসদ নেতা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নারী। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও বিরোধীদলীয় উপনেতাও নারী। নারীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে ৫০টি আসন। আর ২৩ জন নারী সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত। সামরিক বাহিনী, প্রশাসন, পুলিশ, আইন ও বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানসহ সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে নারীর ক্ষমতায়ন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের নারীরা কাজ করছেন। দেশে ৪০ লাখেরও বেশি নারী তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ করছে, যা লিঙ্গসমতার উজ্জ্বল উদাহরণ।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র