Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

সত্য ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সত্য ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ শুধু বাংলাদেশের সম্পত্তি নয়। সারাবিশ্বের মূল্যবান সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। ভাষণটি আজ বিশ্বের প্রামাণ্য দলিলে স্থান পেয়েছে। গোটা বিশ্বের মানবসভ্যতার অমূল্য দলিল হিসেবে স্থান পেয়েছে।'

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা ৭ মার্চ ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ করেছিলো তারা কত অন্ধকার যুগে বাস করতো তা আজ প্রমাণ হয়েছে। তারা এ ভাষণের মূল্য বুঝতে পারেনি। এটা যে দেশের জন্য কত মূল্যবান সম্পদ তা বুঝতে পারেনি। কিন্তু ইতিহাসকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না। সত্যকে কোনদিন বেশিদিন ঢেকে রাখা যায় না, সেটিও আজ প্রমাণিত হয়েছে।'

সংসদ নেতা বলেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে নেই। তাঁর আজীবনের স্বপ্ন ছিল দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলা। আমি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁরা টানা তৃতীয়বারের মতো আমাদের দেশ সেবার সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ আর পিছিয়ে পড়া জাতি নেই, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে, তাঁর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।'

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, 'বঙ্গবন্ধু জানতেন নির্বাচনে জিতলেও পাকিস্তানিরা বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা দেবে না। সেজন্য সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করার প্রস্তুতি তাঁর দীর্ঘদিন থেকেই ছিল। যুদ্ধ বাঁধলে কোথায় ট্রেনিং হবে, অস্ত্র কোথায় থেকে আসবে, অর্থ কোথায় থেকে আসবে সবকিছুর প্রস্তুতিই তিনি আগে থেকেই রেখে গিয়েছিলেন।'

তিনি আরও বলেন, '৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু গেরিলা যুদ্ধসহ সবকিছুই বলে গিয়েছিলেন। যা বাঙালি জাতিকে বুঝতে এতটুকু অসুবিধা হয়নি। পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার সংগ্রামকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে দেখাতে অনেক কিছুই করেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তা হতে দেননি। ২৫ মার্চ গণহত্যার পরই বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণার দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বিশ্বের সমর্থন ও স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি। আর বঙ্গবন্ধু জানতেন, ভাষণের পর তাঁকে হয়তো বেঁচে নাও রাখা হতে পারে। সেজন্য ভাষণে বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেছিলেন, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমাদের কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। মূলত ৭ মার্চের ভাষণের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পৃথিবীর অনেক স্বীকৃত ভাষণ রয়েছে। সেগুলোর সবই হয় লিখিত কিংবা পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে বলা হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পুরো ভাষণটি ছিল অলিখিত, মনের হৃদয় থেকে উচ্চারিত। অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে সশস্ত্র যুদ্ধে নামানো এবং সেই যুদ্ধে বিজয় হওয়ার ঘটনা সারাবিশ্বের মধ্যে বিরল। পৃথিবীর এমন কোন ভাষণ নেই, যেটি ৪৮টি বছর ধরে সমান আবেদন নিয়ে মানুষ শুনছে, বাজছে।'

শেখ হাসিনা বলেন, 'আড়াই বছরের সব আলোচিত ভাষণগুলো নিয়ে যুক্তরাজ্যের একজন গবেষক কাজ করেন। সেখানে বাছাই করে মাত্র ৪৪টি শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্থান পেয়েছে। যার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি অন্যতম হিসেবে সেখানে স্থান পেয়েছে। ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট জাতিসংঘের ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এই ভাষণটি বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্থান পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এ ভাষণের আবেদন কোনদিন ফুরাবে না, যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।'

আপনার মতামত লিখুন :

সিপিএ সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে স্পিকারের সাক্ষাত

সিপিএ সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে স্পিকারের সাক্ষাত
আকবর খানের সঙ্গে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সিপিএ সাবেক চেয়ারপার্সন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ছবি: সংগৃহীত

কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) সেক্রেটারি জেনারেল আকবর খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সিপিএ সাবেক চেয়ারপার্সন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

শনিবার (১৩ জুলাই) নিউইয়র্কে সাক্ষাৎকালে তারা সিপিএ'র কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন।

পরে স্পিকার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ইকোসক চেম্বারে হাই লেভেল পলিটিকাল ফোরাম (এইচএলপিএফ) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে এইচএলপিএফ-এ অংশগ্রহণ উপলক্ষে নিউইয়র্কে সফররত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী ‘কার্যকর উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব (জিপিইডিসি)’ এর সিনিয়র-লেভেল মিটিং (এসএলএম)-এ অংশ নেন।

প্রথমবারের মতো আয়োজিত জিপিইডিসি’র সিনিয়র লেভেল মিটিং এ ফোরামটির কো-চেয়ার হিসেবে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর সিপিএ নির্বাহী কমিটির ২১তম চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে ১-৮ নভেম্বর, ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ বাংলাদেশ সিপিএ'র ৬৩ তম সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করেন।

এরশাদের মৃত্যুতে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের শোক

এরশাদের মৃত্যুতে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের শোক
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। রোববার (১৪ জু্লাই)  জাতীয় সংসদ থেকে পাঠানো এক শোক বার্তায় স্পিকার মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

এছাড়া শোক প্রকাশ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া এবং চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী।

উল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত কারণে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল ৭ টা ৪৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র