Alexa

সত্য ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সত্য ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা, বার্তা২৪.কম

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ শুধু বাংলাদেশের সম্পত্তি নয়। সারাবিশ্বের মূল্যবান সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। ভাষণটি আজ বিশ্বের প্রামাণ্য দলিলে স্থান পেয়েছে। গোটা বিশ্বের মানবসভ্যতার অমূল্য দলিল হিসেবে স্থান পেয়েছে।'

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা ৭ মার্চ ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ করেছিলো তারা কত অন্ধকার যুগে বাস করতো তা আজ প্রমাণ হয়েছে। তারা এ ভাষণের মূল্য বুঝতে পারেনি। এটা যে দেশের জন্য কত মূল্যবান সম্পদ তা বুঝতে পারেনি। কিন্তু ইতিহাসকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না। সত্যকে কোনদিন বেশিদিন ঢেকে রাখা যায় না, সেটিও আজ প্রমাণিত হয়েছে।'

সংসদ নেতা বলেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে নেই। তাঁর আজীবনের স্বপ্ন ছিল দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলা। আমি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁরা টানা তৃতীয়বারের মতো আমাদের দেশ সেবার সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ আর পিছিয়ে পড়া জাতি নেই, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে, তাঁর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।'

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, 'বঙ্গবন্ধু জানতেন নির্বাচনে জিতলেও পাকিস্তানিরা বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা দেবে না। সেজন্য সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করার প্রস্তুতি তাঁর দীর্ঘদিন থেকেই ছিল। যুদ্ধ বাঁধলে কোথায় ট্রেনিং হবে, অস্ত্র কোথায় থেকে আসবে, অর্থ কোথায় থেকে আসবে সবকিছুর প্রস্তুতিই তিনি আগে থেকেই রেখে গিয়েছিলেন।'

তিনি আরও বলেন, '৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু গেরিলা যুদ্ধসহ সবকিছুই বলে গিয়েছিলেন। যা বাঙালি জাতিকে বুঝতে এতটুকু অসুবিধা হয়নি। পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার সংগ্রামকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে দেখাতে অনেক কিছুই করেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তা হতে দেননি। ২৫ মার্চ গণহত্যার পরই বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণার দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বিশ্বের সমর্থন ও স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি। আর বঙ্গবন্ধু জানতেন, ভাষণের পর তাঁকে হয়তো বেঁচে নাও রাখা হতে পারে। সেজন্য ভাষণে বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেছিলেন, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমাদের কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। মূলত ৭ মার্চের ভাষণের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পৃথিবীর অনেক স্বীকৃত ভাষণ রয়েছে। সেগুলোর সবই হয় লিখিত কিংবা পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে বলা হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পুরো ভাষণটি ছিল অলিখিত, মনের হৃদয় থেকে উচ্চারিত। অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে সশস্ত্র যুদ্ধে নামানো এবং সেই যুদ্ধে বিজয় হওয়ার ঘটনা সারাবিশ্বের মধ্যে বিরল। পৃথিবীর এমন কোন ভাষণ নেই, যেটি ৪৮টি বছর ধরে সমান আবেদন নিয়ে মানুষ শুনছে, বাজছে।'

শেখ হাসিনা বলেন, 'আড়াই বছরের সব আলোচিত ভাষণগুলো নিয়ে যুক্তরাজ্যের একজন গবেষক কাজ করেন। সেখানে বাছাই করে মাত্র ৪৪টি শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্থান পেয়েছে। যার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি অন্যতম হিসেবে সেখানে স্থান পেয়েছে। ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট জাতিসংঘের ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এই ভাষণটি বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্থান পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এ ভাষণের আবেদন কোনদিন ফুরাবে না, যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।'

সংসদ এর আরও খবর