Alexa

'জয়বাংলা' জাতীয় স্লোগান করার প্রস্তাব

'জয়বাংলা' জাতীয় স্লোগান করার প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

একাত্তরের রণাঙ্গনের স্লোগান জয়বাংলাকে জাতীয় স্লোগান করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। তিনি বলেছেন, 'ঠিক যেমন করে আমরা সংবিধান সংশোধন করে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা ঘোষণা করেছি, ঠিক তেমনি সংবিধান সংশোধন করে জয়বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে যেন আমরা ঘোষণা করি।'

রোববার (১০ মার্চ) বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সরকারি কর্মকর্তারা জয়বাংলা স্লোগান না দেয়ায় বিষয়টিও আশ্চর্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সালমান এফ রহমান বলেন, 'নির্বাচনের সময় বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আমার সমর্থন জানিয়েছিল। তারা যখন বক্তব্য শেষ করলেন তারা জয়বাংলা বললেন না। পরে আমি যখন বক্তৃতা করি তখন আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম আপনারা জয়বাংলা বললেন না কেন? জয়বাংলা তো আওয়ামী লীগ বা দলীয় স্লোগান না। জয়বাংলা দলীয় স্লোগান হলো ক্যামনে? জয়বাংলার উপরে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, এটা হলো আমাদের দেশের স্লোগান, জাতীয় স্লোগান।'

তিনি বলেন, 'অনেক সময় সরকারি অনুষ্ঠানে দেখি সরকারি কর্মকর্তারা জয় বাংলা বলেন না। আমি জিজ্ঞেস করেছি আপনারা জয়বাংলা বলেন না কেনো? তারা বলেন আমরা সরকারি চাকরি করি আমাদের তো নিরপেক্ষ থাকতে হবে। আমরা আশ্চর্য লাগে যে স্লোগানে দেশটা স্বাধীন হলো আর দেশ স্বাধীন বলেই উনারা পদে আছেন। দেশ স্বাধীন না হলে উনারা কিভাবে থাকতেন? এটা কিভাবে দলীয় স্লোগান হলো। রাষ্ট্রপতি জয়বাংলা বলে তার ভাষণ শেষ করেছেন তাহলে উনি কি আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি? উনি তো সারা দেশের রাষ্ট্রপতি।'

নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সম্পর্কে বলেন, 'আমার সৌভাগ্য বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের জোষ্ঠ্যপুত্র শেখ কামালের আমি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলাম। আমি ছাত্র আন্দোলনে শেখ কামালের সঙ্গে ছিলাম এবং স্বাধীনতার পর যখন শেখ কামাল আবহনী ক্রীড়া চক্র এবং স্পন্দন শিল্প গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করল আমি তার সঙ্গে ছিলাম। শেখ কামাল সৎ দক্ষ নিষ্ঠাবান এবং দেশপ্রেমিক ব্যক্তি ছিল। আমি নিজে তাকে দেখেছি। স্বাধীনতার পর অনেক দেশি বিদেশি ব্যবসায়ী তার কাছে তার অনুগ্রহের জন্য এসেছে। যদি সেই চাইত তখন সে কোটি কোটি টাকা বানাতে পারত। যেহেতু সে দেশ প্রেমিক ছিল সে কিন্তু তাদেরকে পাত্তা দেই নাই।'

তিনি বলেন, 'আমি লন্ডন যাচ্ছিলাম কামালকে জিজ্ঞেস করলাম তোমার জন্য কি আনব। সে চাইলো একটা দামি ঘড়ি, দামি কলম চাইতে পারত। একটা শার্ট পর্যন্ত আনার জন্য বলেন নাই, সে বলল তুমি লন্ডন যাচ্ছ আমার আবহনীর খেলোয়াড়দের জন্য জার্সি এবং কেডস নিয়ে আস। আমি চাই খেলোয়াড়রা যেন আন্তর্জাতিক মানের জার্সি পড়ে খেলা করতে পারে। তার পর জাপান যাচ্ছি জিজ্ঞেস করলাম কি আনব তোমার জন্য? আবার একই কথা নিজের জন্য কিছু চাই না। বলল তুমি আমার স্পন্দনের জন্য ইয়ামাহার একটি ইলেট্রিক কি বোর্ড নিয়ে আস।'

বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সৎ বলে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, 'শেখ রেহেনা যদি চাইতেন অনেক সম্পদ করতে পারতেন। তার পুত্র ববি কিন্তু গত ৭ বছর ধরে ঢাকায় থাকেন। একজন মন্ত্রী, সচিব বা যে কেউ বলতে পারবেন না ববি থেকে একটা টেলিফোন পেয়েছে। কোন তদবিরের জন্য কোনো ব্যবসার তদবির অথবা বদলির তদবিরের জন্য।'

নাম না বলে কয়েকটি পত্রিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'কয়েকটি খবরের কাগজ আছে, যারা বঙ্গবন্ধু শব্দটা ব্যবহার করে না। এমনকি একটি কাগজ আছে আমাদের বর্তমান এক সংসদের সদস্যের পরিবার পত্রিকারটির মালিক। তারাও বঙ্গবন্ধু শব্দ ব্যবহার করেন না। শুধু শেখ মুজিবুর রহমান লেখেন। এটা দু:খজনক।'

সংসদ এর আরও খবর