Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

'সরকারি খরচে দরিদ্র-শ্রমজীবীদের আইনগত সহায়তা'

'সরকারি খরচে দরিদ্র-শ্রমজীবীদের আইনগত সহায়তা'
সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সংসদে বলেছেন, 'দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও বিচার পেতে অসমর্থ প্রান্তিক পর্যায়ের বিচার প্রার্থী ও শ্রমজীবী জনগণকে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার তত্ত্বাবধানে সরকার গঠিত কমিটি লিগ্যাল এইড অফিস কাজ করছে।'

সোমবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফ।

লিখিত জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, এ জন্য সরকারি খরচে আইনগত পরামর্শ প্রদান, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ, বিনামূল্যে ওকালতনামা সরবরাহ, মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ, আইনজীবীর ফি পরিশোধ, সালিশকারীর সম্মানী পরিশোধ, আদেশের অনুলিপি সরবরাহ, ডিএনএ টেস্টের ব্যয় পরিশোধ এবং পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ব্যয়সহ প্রাসঙ্গিক সকল ব্যয় পরিশোধ করা হয়।

আওয়ামী লীগের সদস্য মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের লিখিত জবাবে আনিসুল হক জানান, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে প্রণীত ৩৭৮টি আইন চালু আছে। আইনগুলো সংবিধানের ১৪৯ অনুচ্ছেদ দ্বারা হেফাজত করা হয়। এরপর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ ল’স (রিভিশন অ্যান্ড ডিক্লারেশন) প্রণয়নের মাধ্যমে স্বাধীনতার পূর্ব আইনগুলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও অভিযোজন পূর্বক বহাল রাখা হয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, স্বাধীন আইন কমিশন আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও নতুন আইন প্রণয়নের জন্য সুপারিশ করে থাকে। উক্ত সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন আইন আধুনিকায়ন ও বাস্তবমুখী করার জন্য সংশোধন ও প্রণয়ন করা হয়। এক্ষেত্রে আইন কমিশন উক্ত আইনগুলো বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করলে সরকার তা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সরকারি দলের সদস্য শামসুল হক টুকু ও বিরোধী দলের সদস্য নাসরিন জাহান রতনার প্রশ্নের জবাতে আইন মন্ত্রী জানান, মামলা জট কমাতে ও বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে বিচার কাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও এজলাস সংকট নিরসনে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্যে অর্জিত হয়েছে। মামলা দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অন্যতম একটি প্রতিবন্ধকতা হলো এজলাস সংকট। এজলাস স্বল্পতা দূর করে সর্বোচ্চ কর্মঘণ্টা ব্যবহার করে বিচার কাজে গতিশীলতা আনয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও এজলাস সংকট নিরসনের পাশাপাশি সরকার বর্তমানে মামলা ব্যবস্থাপনার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে।

আনিসুল হক জানান, বর্তমান সরকার বিচার প্রার্থী জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য একটি আধুনিক বিচার বিভাগ ও বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিচার বিভাগ আধুনিকায়ন ও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার যে সকল পদক্ষেপ নিয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে সারাদেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা একটি সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কার্যকর ও দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন, ছবি: সংগৃহীত

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আজ বেশ সুদৃঢ়।'

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত এসডিজি’র লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের বর্তমান অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কিত অবহিতকরণ আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বুধবার (১৭ জুলাই) সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসডিজি বাংলাদেশের অর্জন বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

স্পিকার বলেন, 'এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এসডিজির সঙ্গে সংসদ সদস্যগণকে অধিক সম্পৃক্ত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, যা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।'

এসডিজি অর্জনে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি স্থায়ী মিশন গৃহীত পদক্ষেপসমূহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

'২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস' সম্পর্কিত অপর এক আলোচনায় স্পিকার বলেন, 'ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।'

জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলায় এজলাসে খুন

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলায় এজলাসে খুন
সংসদ ভবন, ছবি: সংগৃহীত

 

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলার কারণেই এজলাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কোন বিভাগ বা কারা এর জন্য দায়ী, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে তদন্ত প্রতিবেদনও দিতে বলেছে কমিটি।

বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার জন্য মন্ত্রণালয়কে বলেছে সংসদীয় কমিটি। এদিকে রিফাত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এখনই মতামত প্রকাশ করার সময় আসেনি বলেও কমিটিকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে তদন্ত শেষে জনসন্মুখে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে, আইনের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কমিটি সভাপতি শামসুল হক টুকু এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে খুনের ঘটনায় আমরা খুবই দুঃখিত। এজন্য তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত করে দেখবে কারা দায়ী। আমি সাংঘাতিকভাবে বলেছি—অন্য জায়গায় একটি দুর্ঘটনা আর আদালতে দুর্ঘটনা একভাবে দেখলে চলবে না। এটা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কোর্টের কোনো দুর্বলতা আছে কি না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দুর্বলতা আছে কিনা, তদন্ত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে দেখছে। ভালো করে তদন্ত করে এর কারণ নিরূপণ করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলার কারণেই আদালতে খুন হয়েছে।

গত ১৫ জুলাই কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩য় আদালতের এজলাসে বিচারকাজ চলাকালে বিচারকের সামনে এক আসামি অপর আসামিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। বিচারক বেগম ফাতেমা ফেরদৌসের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। নিহত ও ঘাতক মামাতো-ফুফাতো ভাই এবং দুজনই একটি হত্যা মামলার আসামি। নিহত ফারুক কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলার অহিদ উল্লাহর ছেলে। ঘাতক হাসানের বাড়িও একই এলাকায়। ঘটনার পর হাসানকে আটক করা হয়েছে।

সম্প্রতি বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও কমিটির বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠকে এজেন্ডার বাইরে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। যেহেতু হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তা নিয়ে কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, রিফাত হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে। এখনো এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময় আসেনি। অপরাধী যেই হোক তার পরিচয় জনসাধারণের সামনে উন্মুক্ত করা হবে, আইনের মুখোমুখি করা হবে।

এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে। কেউ মাদকের বিষয়ে কোন আপস করবে না এমনটা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি। এছাড়া মাদক নির্মূলকাজে আনসার ভিডিপিকে কাজে লাগানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নের নিমিত্ত ‘মাদকাসক্ত শনাক্তকরণ ডোপ টেস্ট প্রবর্তন’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিতে প্রবেশকালে বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট করা হবে।

কমিটি রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ করে।

কমিটি’র সভাপতি মো. শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মো. আফছারুল আমীন, মো. হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পীর ফজলুর রহমান এবং সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ অংশ নেন।

এছাড়া জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র