Barta24

রোববার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

'আমরা প্রতিপক্ষ, শত্রু নই'

'আমরা প্রতিপক্ষ, শত্রু নই'
সংসদে জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার সুযোগ চেয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, 'আমরা প্রতিপক্ষ শত্রু নই। আমরা আপনাদের সহায়ক শক্তি আমাদের শত্রু হিসেবে দেখলে চলবে না।'

সোমবার (১১ মার্চ) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা এবং একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান।

জিএম কাদের বলেন, 'আমরা আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের সঙ্গে মহাজোট করে নির্বাচন করেছি। আমাদের প্রতিপক্ষ ছিল বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আমাদের কথা ছিল এক সঙ্গে নির্বাচন ও সরকার গঠন করে এক সঙ্গে দেশ পরিচালনা করা। কিন্তু আমাদের প্রতিপক্ষ এতো নগণ্য আসন পেয়েছে এবং তারা সংসদে আসবে কি না তা নিয়েও সংশয় ছিল।'

তিনি বলেন, 'আমরা সরকারে অংশ নিয়ে ঐকমত্যের সরকার করতাম। অথবা কিছুটা মন্ত্রিসভায় কিছুটা বিরোধী দলে থাকতে পারতাম। কিন্তু সেটা সরকার ও দেশের জন্য ঠিক হতো না। আমরা সরকারি দলে থাকলে সংসদ অকেজো হয়ে যেতো এটা দেশের জন্য ভালো হতো না। তাই আমাদের বিরোধী দলে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। যেটা আমরা করেছি সেটা দেশের জন্য ভালো হয়েছে। আমরা সংসদে সরকারি দলের বিরুদ্ধে কথা বলব। এটাকে অনেকে কৃত্রিম বিরোধী দল, পাতানো বিরোধী দল বলছে।'

জিএম কাদের বলেন, 'সরকারি দলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সরকারি দল সংসদে সব সময়ই জয়ী হবে। আমাদের এটা যদি পাতানো হয় তাহলে ৯০ এর পর সংসদে সকল বিরোধী দলই পাতানো ছিল।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা সরকারি জোটে ছিলাম, আলোচনা করে বিরোধী দলে এসেছি, এটা মেকি বিরোধী দল, পাতানো বিরোধী দল এটা বলা ঠিক না। আমরা যদি সত্যিকারের একটা বিরোধী দল হওয়ার চেষ্টা করি, বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলে ধরি তাহলে মেকি বলা ঠিক হবে না। সংসদকে প্রাণবন্ত করতে হলে আমাদেরকে যথেষ্ট সময় দিতে হবে। আমাদের কথা বলতে দিতে হবে। আমাদের শত্রু মনে করলে হবে না, সহায়ক শক্তি মনে করতে হবে। সরকারের ভুল ত্রুটি ধরব। আমাদের দাবি বক্তব্য সঠিক হলে গ্রহণ করতে হবে।'

আপনার মতামত লিখুন :

রেল দুর্ঘটনা সেতু ভেঙে নয়, বললেন মন্ত্রী

রেল দুর্ঘটনা সেতু ভেঙে নয়, বললেন মন্ত্রী
সংসদ অধিবেশন ও রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন | ফাইল ছবি

কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকায় উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনা সেতু ভেঙে ঘটেনি বলে সংসদে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। সংসদে বিরোধী পক্ষের দুই সংসদ সদস্যের ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবির প্রেক্ষিতে রেলমন্ত্রী বলেন, কোনো দুর্ঘটনাই কাম্য নয়। ২০১৪ সালের পরে দেশে এই প্রথম কোন রেল দুর্ঘটনা ঘটল।

তিনি বলেন, বলা হয়েছে—সেতু ভেঙে রেল দুর্ঘটনা হয়েছে। এটি সঠিক নয়। এক লাইন থেকে আরেক লাইনে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সোমবার (২৪ জুন) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করেন মৌলভীবাজার থেকে নির্বাচিত গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতাম মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির দলীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান।

তাদের দাবির প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার ঘটার পর রোববার রাতেই রেল মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে যান। এখানে পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এক লাইন থেকে আরেক লাইনে যাওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর যেহেতু সেখানে ব্রিজ ছিল সেই ব্রিজ থেকে দুটি বগি পড়ে গেছে। মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার সময় এটা চালু হয়েছে।

রেলমন্ত্রী আরো বলেন, ইতিমধ্যেই আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ১৩৫ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ করা হয়েছে। এটা সত্য যে, দীর্ঘদিন ধরে রেললাইনগুলো সংস্কার হয়নি। বিগত সরকারগুলো এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান সরকার প্রত্যেক এলাকার মিটারগেজ লাইন ডাবল গেজ লাইনে রূপান্তর করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে এড়ানো যায় তা দেখা হবে।

তামাকের জন্য প্রতিবছর ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকা

তামাকের জন্য প্রতিবছর ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকা
সংসদে সাবের হোসেন চৌধুরী, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, 'শুধু তামাকের কারণে দেশে মারা যায় এক লাখ ৬১ হাজার ২৫৩ জন। যা মোট মৃত্যুর ২০ শতাংশ। আর তামাকের জন্য দেশে প্রতিবছর ক্ষতি হচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা।'

সোমবার (২৪ জুন) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সব বলেন।

তিনি বলেন, 'মোট বাজেটের এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি বাজেট, সেখানে কেন আমরা তামাকে ছাড় দিচ্ছি। তামাক কোম্পানিকে শুধু তিন হাজার কোটি টাকা ছাড় দিচ্ছি। প্রতিটি সিগারেটের ওপর মাত্র ৫০ পয়সা কর বসাই তাহলে মোট রাজস্ব আয় হবে চার হাজার কোটি টাকা। তাহলে কেন আমরা তামাককে ছাড় দিচ্ছি।'

এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, 'দেশে ধনী ও দরিদ্রের মাঝে যে বৈষম্য তা থেকে যাচ্ছে। আয়ের মধ্যে এ বৈষম্য বাড়ছে আর সম্পদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য বাড়ছে। আমরা যদি এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতে না পারি তাহলে আমাদের যে অর্জন, সেটা টেকসই করতে পারব না। আরও একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়, জিডিপি বাড়ছে কিন্তু আমাদের বেকারত্বের হার কমছে না। এখনো বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এখানে যেটা উদ্বেগের কারণ সেটা হলো শিক্ষিত বেকার। যারা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেছে তাদের বেকারত্বের হার অনেক বেশি, কিন্তু যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার করেছে তাদের হার কিন্তু ২ দশমিক ৭ শতাংশ। যারা শিক্ষিত তাদের ক্ষেত্রে ১১ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ যত বেশি শিক্ষিত হচ্ছে ততটা তার বেকার থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। এটা কখনো আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।'

তিনি আরও বলেন, 'সময় এসেছে বেকার ভাতা করার। যারা বেকার রয়েছে তাদের যদি আমরা ভাতা দিতে পারি তাহলে তাদের হতাশা দূর হবে। তারা মনে করছে, তারা সমাজ ও দেশের জন্য বোঝা, এর থেকে তাদের বের করে আনতে পারি। বর্তমানে যারা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বেকার, তাদের সংখ্যা ৬ লাখ ৩৮ হাজার (পরিসংখ্যান ব্যুরো), তাদের যদি বেকার ভাতা দিই তাহলে আসবে ২ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। আর বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা বেকার ৪ লাখ ৫ হাজার, তাদেরকে যদি আমরা ৭৫০০ করে বেকার ভাতা দিই তাহলে খরচ হবে সব মিলিয়ে খরচ হবে ৬ হাজার কোটি টাকা। দেশের ১০ লাখ বেকারকে একটা ছাতায় আনতে পারব।'

এ সময় তিনি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, 'আমরা শিক্ষায় মাত্র জিডিপির ২.৫ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছি। কিন্তু আমরা আন্তর্জাতিক ফোরামে জানিয়েছি জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করব। এখন যে মিসম্যাচটা আছে, আমাদের শিক্ষা খাতটা বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা দেখা।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র