Barta24

রোববার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

'দুর্নীতি করতে আসিনি, জনগণের সেবা করতে এসেছি'

'দুর্নীতি করতে আসিনি, জনগণের সেবা করতে এসেছি'
ফাইল ছবি
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একাদশ সংসদে আওয়ামী লীগকে বেছে নিয়েছে এদেশের জনগণ। তাছাড়া আমরা ১০ বছরে যে উন্নয়ন করেছি সেই উন্নয়ন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা দুর্নীতি করতে আসিনি, জনগণের সেবা করতে এসেছি, জনগণের কাজ করতে এসেছি। আমি মনে করি সৎভাবে বসবাস করলে যদি নুন ভাতও খাই তার তৃপ্তি আলাদা, অসৎভাবে বিরিয়ানি খাওয়া থেকে।'

সোমবার (১১ মার্চ) রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগে বিশাল বিজয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তরুণ ভোটাররা ব্যাপকভাবে আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছে। নারীরা আমাদের নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছে। এটা আর কিছু না, আমরা ১০ বছর সরকারে থেকে যে উন্নয়ন করেছি সেই উন্নয়নের ছোঁয়াটা একেবারে গ্রাম বাংলার মানুষের ঘরে পর্যন্ত পৌঁছেছে। তারই ফলে একটা আস্থা বিশ্বাস আমরা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।'

সংসদ নেতা বলেন, 'সাধারণত ক্ষমতায় থাকলে অনেকেই জনগণের আস্থা বিশ্বাস ধরে রাখতে পারে না। উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু আমরা পর পর দুবার ক্ষমতায় এসেছি। আমরা সেবক হিসেবে নিজেদের যে ঘোষণা দিয়েছিলাম এবং সেই সেবাটা জনগণ পেয়েছে বলেই এই বিশ্বাস আস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, তাই তারা আমাদেরকে ভোট দিয়েছে। এত বেশি সমর্থন দিয়েছে অনেকে বিশ্বাসই করতেই পারেনি, চিন্তাই করতে পারেনি।'

শেখ হাসিনা বলেন, 'দেশের মানুষ আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দুর্নীতি, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযানকে সমর্থন করেছে। ভোটের মধ্য দিয়ে এটাই বলেছে, তারা জঙ্গিবাদ দেখতে চায় না, সন্ত্রাস দেখতে চায় না। মাদক দেখতে চায় না। দুর্নীতি দেখতে চায় না। এর বিরুদ্ধে তারা নৌকায় ভোট দিয়েছে তারা নৌকায় আস্থা রেখেছে। এই নৌকায় ভোট দেওয়ার কারণে তাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।'

সংসদ নেতা বলেন, 'জনগণের ভেতরে আত্মবিশ্বাস জাগ্রত হয়েছে। নিজের ভেতরে পরিবারের ভেতরে একটা সৎ ইচ্ছা জাগ্রত হয়েছে, তার জন্য ভোট দিয়েছে। সামরিক সরকারগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিয়েছিল। তারা ১০টাকার জিনিস কিনে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করেত। তাদের সময় মুষ্টিমেয় কিছু এলিট শ্রেণি তৈরি করেছিল। যে কারণে দুর্নীতি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছিল। মাথার থেকে যদি দুর্নীতি হয় আর সেটা যদি নিচ পর্যন্ত যায় সেটা নির্মূল করা খুব কঠিন। তবে আমরা সেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। কই আমাদের বিরুদ্ধে তো বিশ্বব্যাংক পর্যন্ত দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল, প্রমাণ করতে পারেনি। এখানে তো দুর্নীতি করতে আসিনি জনগণের সেবা করতে এসেছি, জনগণের কাজ করতে এসেছি। যার জন্য আমরা দুর্নীতি অনেক কমিয়ে আনতে পেরেছি। কিন্তু একটা সমাজে যখন গভীরে দুর্নীতি পৌঁছে যায় সেখান থেকে ফিরিয়ে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়, কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি, দুর্নীতি বন্ধ করে উন্নয়ন করা। দুর্নীতি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি বলেই আজকে আমাদের উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে। তা নাহলে তো উন্নয়ন দৃশ্যমান হত না। প্রযুক্তি ব্যবহার করছি আজকাল টেন্ডার বাক্স ছিনতাই এর কথা শোন যায় না।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা চেষ্টা করছি ধীরে ধীরে মানুষের মনে চেতনা জাগ্রত করতে। তদেরকে বোঝাতে চাচ্ছি যে, এভাবে দুর্নীতি করা যায় না, দুর্নীতি করলে তার শাস্তি পেতে হবে। সেই ব্যবস্থাটা নিচ্ছি। এই সমস্ত কারণে দেশের মানুষ অনেকটা সচেতন হয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি সৎভাবে বসবাস করলে যদি নুন ভাতও খাই তার তৃপ্তি আলাদা। অসৎভাবে বিরিয়ানি খাওয়া থেকে।'

আপনার মতামত লিখুন :

রেল দুর্ঘটনা সেতু ভেঙে নয়, বললেন মন্ত্রী

রেল দুর্ঘটনা সেতু ভেঙে নয়, বললেন মন্ত্রী
সংসদ অধিবেশন ও রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন | ফাইল ছবি

কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকায় উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনা সেতু ভেঙে ঘটেনি বলে সংসদে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। সংসদে বিরোধী পক্ষের দুই সংসদ সদস্যের ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবির প্রেক্ষিতে রেলমন্ত্রী বলেন, কোনো দুর্ঘটনাই কাম্য নয়। ২০১৪ সালের পরে দেশে এই প্রথম কোন রেল দুর্ঘটনা ঘটল।

তিনি বলেন, বলা হয়েছে—সেতু ভেঙে রেল দুর্ঘটনা হয়েছে। এটি সঠিক নয়। এক লাইন থেকে আরেক লাইনে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সোমবার (২৪ জুন) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করেন মৌলভীবাজার থেকে নির্বাচিত গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতাম মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির দলীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান।

তাদের দাবির প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার ঘটার পর রোববার রাতেই রেল মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে যান। এখানে পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এক লাইন থেকে আরেক লাইনে যাওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর যেহেতু সেখানে ব্রিজ ছিল সেই ব্রিজ থেকে দুটি বগি পড়ে গেছে। মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার সময় এটা চালু হয়েছে।

রেলমন্ত্রী আরো বলেন, ইতিমধ্যেই আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ১৩৫ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ করা হয়েছে। এটা সত্য যে, দীর্ঘদিন ধরে রেললাইনগুলো সংস্কার হয়নি। বিগত সরকারগুলো এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান সরকার প্রত্যেক এলাকার মিটারগেজ লাইন ডাবল গেজ লাইনে রূপান্তর করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে এড়ানো যায় তা দেখা হবে।

তামাকের জন্য প্রতিবছর ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকা

তামাকের জন্য প্রতিবছর ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকা
সংসদে সাবের হোসেন চৌধুরী, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, 'শুধু তামাকের কারণে দেশে মারা যায় এক লাখ ৬১ হাজার ২৫৩ জন। যা মোট মৃত্যুর ২০ শতাংশ। আর তামাকের জন্য দেশে প্রতিবছর ক্ষতি হচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা।'

সোমবার (২৪ জুন) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সব বলেন।

তিনি বলেন, 'মোট বাজেটের এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি বাজেট, সেখানে কেন আমরা তামাকে ছাড় দিচ্ছি। তামাক কোম্পানিকে শুধু তিন হাজার কোটি টাকা ছাড় দিচ্ছি। প্রতিটি সিগারেটের ওপর মাত্র ৫০ পয়সা কর বসাই তাহলে মোট রাজস্ব আয় হবে চার হাজার কোটি টাকা। তাহলে কেন আমরা তামাককে ছাড় দিচ্ছি।'

এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, 'দেশে ধনী ও দরিদ্রের মাঝে যে বৈষম্য তা থেকে যাচ্ছে। আয়ের মধ্যে এ বৈষম্য বাড়ছে আর সম্পদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য বাড়ছে। আমরা যদি এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতে না পারি তাহলে আমাদের যে অর্জন, সেটা টেকসই করতে পারব না। আরও একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়, জিডিপি বাড়ছে কিন্তু আমাদের বেকারত্বের হার কমছে না। এখনো বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এখানে যেটা উদ্বেগের কারণ সেটা হলো শিক্ষিত বেকার। যারা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেছে তাদের বেকারত্বের হার অনেক বেশি, কিন্তু যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার করেছে তাদের হার কিন্তু ২ দশমিক ৭ শতাংশ। যারা শিক্ষিত তাদের ক্ষেত্রে ১১ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ যত বেশি শিক্ষিত হচ্ছে ততটা তার বেকার থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। এটা কখনো আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।'

তিনি আরও বলেন, 'সময় এসেছে বেকার ভাতা করার। যারা বেকার রয়েছে তাদের যদি আমরা ভাতা দিতে পারি তাহলে তাদের হতাশা দূর হবে। তারা মনে করছে, তারা সমাজ ও দেশের জন্য বোঝা, এর থেকে তাদের বের করে আনতে পারি। বর্তমানে যারা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বেকার, তাদের সংখ্যা ৬ লাখ ৩৮ হাজার (পরিসংখ্যান ব্যুরো), তাদের যদি বেকার ভাতা দিই তাহলে আসবে ২ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। আর বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা বেকার ৪ লাখ ৫ হাজার, তাদেরকে যদি আমরা ৭৫০০ করে বেকার ভাতা দিই তাহলে খরচ হবে সব মিলিয়ে খরচ হবে ৬ হাজার কোটি টাকা। দেশের ১০ লাখ বেকারকে একটা ছাতায় আনতে পারব।'

এ সময় তিনি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, 'আমরা শিক্ষায় মাত্র জিডিপির ২.৫ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছি। কিন্তু আমরা আন্তর্জাতিক ফোরামে জানিয়েছি জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করব। এখন যে মিসম্যাচটা আছে, আমাদের শিক্ষা খাতটা বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা দেখা।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র