রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও ভেজালমুক্ত রাখতে অভিযান



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি: পিআইডি

সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি: পিআইডি

  • Font increase
  • Font Decrease

সংসদ অধিবেশন থেকে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, রমজানকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ভেজালমুক্ত করতে সারা বছরই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালানো হচ্ছে, এটি অব্যাহত থাকবে।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এসব কথা জানান।

সরকার দলীয় অপর সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১০ বছরে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে পেঁয়াজ, ছোলা, চিনি, ভোজ্য তেল, খেজুর এবং ডালের চাহিদা বেড়ে যায়। আমরা চাহিদা অনুযায়ী এ সব পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি করেছি। অসাধুচক্র যাতে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে মূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) সক্ষমতা ও মজুদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং নিরলস প্রচেষ্টায় ইতোপূর্বে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র মাহে রমজান, ঈদ-উল-ফিতরসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য ইভেন্ট সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জনগণ যাতে পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্বিঘ্নে উদযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা তৎপর রয়েছি।

সম্পূরক এক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতা গ্রহণ করি তখন মূল্যস্ফীতি ছিল ডাবল ডিজিটে। আমরা দক্ষভাবে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। খাদ্য ভেজাল দেওয়া অত্যন্ত জঘণ্য কাজ। আমি আশা করি, যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তারা এ পথ থেকে সরে আসবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) শিরীন আখতারে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদকে সামনে রেখে রমজান মাসে হকাররা যাতে ফুটপাতের বদলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ও সময়ে বসে কেনা-বেচা করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আগে কয়েক দফা কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থান দেওয়া হলেও সেখানে হকাররা না বসে ফুটপাত দখল করে। এটা যাতে না হয় সেজন্য সিটি করপোরেশন একটি নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ে হকাররা যেন বসতে পারে, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ওই ভবন পরিদর্শন করে। ভবন মালিক কর্তৃপক্ষকে অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপণ ব্যবস্থাদি নিশ্চিত করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু এফ আর টাওয়ার কর্তৃপক্ষ ভবনের অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপণ সংক্রান্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

সংসদ নেতা জানান, সম্প্রতি ভয়াবহ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের পর বহুতল ভবনসমূহের ইমারতের ব্যবহার, অনুমোদন অনুযায়ী ইমারতের তলার সংখ্যা, বর্তমানে ইমারতের তলার সংখ্যা, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃক প্রদত্ত উচ্চতা, কার পার্কিং, ইমারতের সেটব্যাক, সিঁড়ির সংখ্যা, অগ্নি নির্গমন সিঁড়ি, অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা/যন্ত্র ও অতিরিক্ত ইনেটরিয়র ডিজাইন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য রাজউককে নির্দেশ দিয়েছি। রাজউক ২৪টি টিমের মাধ্যমে এ সকল বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। এ সংক্রান্ত তথ্য ও প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।