'তারেক রহমানের নির্দেশেই শপথ নিয়েছি'

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
শপথ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি  ছবি: বার্তা২৪.কম

শপথ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অবশেষে জল ঘোলা করে শপথ নিলেন বিএনপি’র নির্বাচিত চার সংসদ সদস্য। শপথ নিয়েই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি’র দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, 'দলীয় সিদ্ধান্তে, বিশেষ করে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশক্রমেই আমরা এখানে এসেছি, শপথ নিয়েছি।'

সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে ৫টা ৪০ মিনিটে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তার কার্যালয়ে তাদের শপথ পাঠ করান। এখন বাকি রইল শুধু বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, 'এই সংসদ জনগণেকে প্রতিনিধিত্ব করছে না। জনগণের ভোটে এই সরকার নির্বাচিত হয় নাই। যে কারণে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক আছে। এই নির্বাচন বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট প্রত্যাখ্যান করেছে, যে কারণে আমরা দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলাম।'

তিনি বলেন, 'মানুষ যে ফলাফল প্রত্যাশা করেছিল, সেই ফলাফল পায় নাই। তারপরেও আজকে আমরা চারজন এবং এর আগে আমাদের একজন জাহিদুর রহমান শপথ নিয়েছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আমাদের দলের ৬ জনের মধ্যে ৫ জন শপথ নিলাম। আমরা দলীয় সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে আমাদের পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশক্রমে আজকে এসেছি এবং শপথ গ্রহণের জন্য এসেছি।'

বিএনপির সাংসদ বলেন, 'সংসদে সত্য কথা বলার জন্য এবং দেশের যে সংকট তৈরি হয়েছে সেই বিষয়ে কথা বলার জন্য এসেছি। ভোট চুরির মাধ্যমে সংসদ গঠন করা হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে দেওয়া হয়েছে। ভোট চুরি করে আসার জন্য সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। এটিকে ঠিক করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের । কিভাবে সরকার এটাকে ঠিক করবেন, কিভাবে জনগণের দ্বারা সরকার গঠন করা যায়, কিভাবে জনগণের দ্বারা প্রতিনিধি নির্বাচন করা যায় এটা সম্পূর্ণভাবে সরকারের দায়িত্ব। বিষয়গুলো সংসদে বলার জন্য এসেছি।'

তিনি বলেন, 'বিশেষ করে দেশনেত্রী, যিনি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন। যাকে আজকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। নিম্ন আদালত থেকে ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে সরকারের হস্তক্ষেপে সাজা দেওয়া হলো। তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। অথচ দেশে ফাঁসির আসামি, মাদকের আসামি, জঘন্যতম আসামি তারা জামিনে মুক্তি পায়। ওনাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। আমরা প্রত্যাশা করব, যতদ্রুত সম্ভব সরকার তাকে জামিনে মুক্তি দেবেন এবং দেশে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।'

বিএনপি’র মহাসচিব কেন শপথ নিলে না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'মহাসচিব কি জন্য আসেননি এটা আমার বলার বিষয় না। সেটা মহাসচিবকেই জিজ্ঞেস করুন।'

এর আগে জাহিদুর রহমান শপথ গ্রহণের পর দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'উনি (জাহিদুর রহমান) আজ আমাদের পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেনে। উনি ভুল স্বীকার করেছেন, উনি বলেছেন আমরা আরও অপেক্ষা করার দরকার ছিল আপনার (তারেক রহমানের) সিদ্ধান্তের অপেক্ষা থাকার দরকার ছিল। হয়তো উনি দলের নিকট লিখিত ক্ষমা চাইলে দল বিবেচনা করতে পারে।'

শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের বৈধতা প্রসঙ্গে বলেন, 'এই সংসদকে বৈধতা দানের জন্য সংসদে আসিনি। দেশে আইনের শাসন নেই, অরাজকতা চলছে এই কথাগুলো, সারাদেশের মানুষের বিশেষ করে ১৭ কোটি মানুষের কথা বলতে এসেছি।

আপনার মতামত লিখুন :