জঙ্গিবাদের আলামত পেলেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সংসদে প্রধানমন্ত্রী ফাইল ছবি

সংসদে প্রধানমন্ত্রী ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এর বিরুদ্ধে দেশের সকল মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের কোথাও এতটুকু জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের আলামত দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিন। আমরা এ ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে আর দেখতে চাই না। বাংলাদেশকে আমরা উন্নত ও শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।'

নুসরাত হত্যাকাণ্ডসহ যৌন নিপীড়নের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর আইন আইন প্রণয়ন করা হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যারাই এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। জড়িতরা কে কোন দলের তা দেখা হবে না। যৌন নিপীড়ন যারা করবেন তাদেরও রেহাই নেই। অনেকেই কঠোর আইনের কথা বলেছেন। আইন রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজন হলে কঠোর আইন করতে হয় আমরা করব। তাদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয় সেই ব্যবস্থাই আমরা করব।'

সোমবার (২৯ এপ্রিল) রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ, শ্রীলঙ্কার গির্জা ও হোটেলে সন্ত্রাসী হামলা, ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ এবং এ সকল সন্ত্রাসী যৌন নিপীড়নের ঘটনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল সংসদ, সরকার ও নাগরিকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আনীত সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রস্তাবটি সমর্থন করে প্রধানমন্ত্রী শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, 'শান্তিপূর্ণ দেশ নিউজিল্যান্ডেও নামাজ পড়া অবস্থায় ৫৩ জন মুসল্লিদের হত্যা করে একজন খুনি ক্যামেরা মাথায় নিয়ে। সে একজন উগ্রবাদী খ্রিস্টান ছিল। জাতীয় ক্রিকেট টিমের সদস্যরা অল্পের জন্য বেঁচে যান। ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে অধ্যক্ষ যৌন নির্যাতন করে। মামলা প্রত্যাহারের প্রচণ্ড চাপ দেয়া হয়, সাহসী মেয়ে নুসরাত তাতে রাজী হয়নি। এ কারণে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।'

তিনি বলেন, 'জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী সমস্যা। শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিষ্পাপ শিশু জায়ান চৌধুরী নিহত হয়। প্রায় ৪২ জন বিদেশি মারা যায় ওই ভয়াবহ হামলায়। আত্মঘাতী সন্ত্রাসীরা এই হামলা করেছে। এ ধরণের জঘন্য ঘটনার আমরা নিন্দা জানাই।'

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কোথাও এবং কারও বিরুদ্ধে কোন অস্বাভাবিক ঘটনা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীকে জানাবেন, যাতে আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি। আমিও ২১ আগস্ট ভয়াল হামলার শিকার হয়েছিলাম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।'

তিনি বলেন, 'যারা এ ধরনের হামলা করে তাদের কোন ধর্ম নেই। যারা এসব করে তারা নিজের ধর্মও মানে না। আল্লাহ-রাসুল মানলে তারা নিজেরা হত্যা করতো না। ইসলাম ধর্ম পবিত্র ও শান্তির ধর্ম। কে মুসলমান, কে মুসলমান তা বিচার করার দায়িত্ব কারও নেই। কোরআনে এটা বলা নেই, কে মুসলমান কে মুসলমান নয় তা বিচার মানুষ করবে। এই বিচার করবেন আল্লাহ। যে এ ধরনের বিচার করতে যায় সে তো আল্লাকেই মানে না। তাই শান্তির ধর্মকে কলুষিত করা এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।'

দেশবাসীর প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। মানুষকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। কোথাও জঙ্গি-সন্ত্রাসের সামান্যতম আলামত পেলে সঙ্গে সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তুলতে হবে। আর যেন কোন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ না থাকে, বাংলাদেশকে উন্নত ও শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।'

আপনার মতামত লিখুন :