আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল/ ছবি: সংগৃহীত

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল/ ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান ও দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই লক্ষ্যে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ীসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, কোনো ব্যক্তি অথবা গোষ্ঠী অথবা দল যাতে গুজব অথবা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বা সামাজিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে না পারে, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মদদদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া সিআইডিতে নবগঠিত সাইবার পুলিশ সেন্টার অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করছে ও সাইবার অপরাধীদের গ্রেফতার করছে।

পাশাপাশি প্রত্যেক মেট্টোপলিটন ইউনিট ও জেলা পুলিশে নিজস্ব সাইবার ক্রাইম ক্রাইম প্রতিরোধ টিম গঠন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সারা দেশ হতে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ ও সোশাল মিডিয়া মনিটরিংয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে চলমান রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন রোধে সুরক্ষা বিভাগ কর্তৃক ইতোমধ্যে অ্যাকশন প্লান প্রণয়ন করা হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে। উক্ত অ্যাকশন প্লান অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা ও উপজেলাকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।’

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহীদ ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বাহকের সকল তথ্য অধিদফতরের ডেটা সেন্টারে সংরক্ষিত রয়েছে। তাছাড়া ই-পাসপোর্ট প্রণয়নের লক্ষ্যে ডাটা সেন্টারটি আরও অত্যাধুনিক করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে পাসপোর্ট তথ্য সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি জানান, উত্তরায় পাসপোর্ট তথ্য সংরক্ষণের কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় অবস্থিত ডেটা সেন্টারের অনুরূপ যশোরে একটি ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার রয়েছে, যা পাসপোর্টের ডেটা সেন্টারের ব্যাকআপ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টারকে আরও অত্যাধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর শাওনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে সংশ্লিস্ট জেলা অথবা ইউনিট হতে প্রাপ্ত ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত জনবলের মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কর্মরত পুলিশের সংখ্যা এক লাখ ৮৮ হাজার ৭২৪ জন। তন্মধ্যে পুরুষের সংখ্যা এক লাখ ৭৫ হাজার ৩৩৩ জন এবং মহিলা ১৩ হাজার ৩৯১ জন।’

আপনার মতামত লিখুন :