Alexa

জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট বিরূপ প্রভাবের নির্মম শিকার বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট বিরূপ প্রভাবের নির্মম শিকার বাংলাদেশ

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ফ্রান্স ন্যাশনাল পার্লামেন্টের সদস্য ও ফ্রান্স বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল ওবোনো।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে বাংলাদেশের খুব একটা দায় না থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট বিরূপ প্রভাবের নির্মম শিকার বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ।

বুধবার (২২ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় করেন ফ্রান্স ন্যাশনাল পার্লামেন্টের সদস্য ও ফ্রান্স বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল ওবোনো। এ সময় স্পিকার তাকে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে তুলে ধরেন।

স্পিকার ড্যানিয়েল ওবোনোর উদ্দেশ্যে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস সম্প্রচার, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে যথাসময়ে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ, উপকূলীয় বাঁধ তৈরি, লবণাক্ত ও খরা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন, বাঁধ ও বাঁধ সংলগ্ন চর এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনি সৃষ্টি, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠন ইত্যাদি পদক্ষেপ সমূহ বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নেই সমাধা করছে। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন এবং এ বিষয়ে বিশেষ ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘ চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কারে ভূষিত করেন।

সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, নতুন নতুন মাত্রার প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিরসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমন্বিত প্রয়াস আরও প্রয়োজন।এ ক্ষেত্রে তিনি প্যারিস ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহবান জানান। 

ড. শিরীন শারমিন বলেন, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং এ সংক্রান্ত দুটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া সরকার ডেল্টা প্লান ২১০০ গ্রহণ করেছে। অপ্রতুল ভূমি,ঘন বসতিপূর্ণ জনসংখ্যা, জেন্ডার ইস্যু, খাদ্য নিরাপত্তা ইত্যাদি সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে কাজ করতে হয়। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বন্যা ও সাইক্লোন সফলতার সাথে মোকাবেলা করছে। সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে দু’দেশের সংসদ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ড্যানিয়েল ওবোনো বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শঙ্কা বাংলাদেশের। তাই আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রসংশা করেন এবং বাংলাদেশের অভিযোজন  অভিজ্ঞতা থেকে ঝুঁকির মুখে থাকা রাষ্ট্রসমূহ শিক্ষা নিতে পারে বলেও উল্লেখ করেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :