Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

দশ বছরে সড়কে সাড়ে ২৫ হাজার জনের মৃত্যু

দশ বছরে সড়কে সাড়ে ২৫ হাজার জনের মৃত্যু
পুরনো ছবি
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের বিগত দশ বছরে ২৫ হাজার ৫২৬ জন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এই সময়ে ১৯ হাজার ৭৬৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার (১২ জুন) বিকেলে একাদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সালের মে মাস পর্যন্ত সময়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

মন্ত্রী বলেন, 'সড়ক দুর্ঘটনার মামলাগুলো আপসে নিষ্পত্তি হয়েছে তা এ বিভাগে সংশ্লিষ্ট নয়।'

একই প্রশ্নকারী অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'সড়ক দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিআরটিএ ও এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই) বুয়েট কতিপয় কারণ নির্ণয় করেছে। এরমধ্যে রয়েছে- পথচারীসহ সড়ক ব্যবহারকারীদের যথাযথ সচেতনতার অভাব, যানবাহনের চালকগণের দক্ষতার অভাব। আইন অমান্য করারা প্রবণতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব। সড়ক দুর্ঘটনায় যে মানুষ মারা যাচ্ছে তার উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে ওভারলোডিং, ওভারটেকিং, যান্ত্রিক ত্রুটি, যাত্রীদের অসচেতনতা, চালকদের ট্রাফিক সাইন না মানা, এক নাগাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো।'

আপনার মতামত লিখুন :

জিয়াউর রহমান ভয়ঙ্কর হত্যাকারী: শাজাহান খান

জিয়াউর রহমান ভয়ঙ্কর হত্যাকারী: শাজাহান খান
সংসদে বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান/ ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ভয়ঙ্কর হত্যাকারী আখ্যায়িত করে সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ‘যদি প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর হত্যাকারী কে? জবাব জেনারেল জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছেন এবং রাষ্ট্রপরিচালনা করেছেন। আমার কাছে অনেক তথ্য আছে।’

বুধবার (২৬ জুন) বিকালে সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

শাজাহান খান বলেন, ‘১৯৭৫ সালের নভেম্বর হতে ১৯৮১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও জাসদের এক হাজার ৫০০ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে ৬২ হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে বন্দি করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৮০ সালে রাজশাহীতে ৫০ জন জেলবন্দিকে ‍গুলি করে হত্যা করেছেন। জিয়ার শাসন আমলে অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মীবে হত্যা, গুম ও গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে খালেদা জিয়াও ১৯৯১ সালে শ্রমিক আন্দোলন দমন করার নামে ১৭ জন শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করেছিলেন এবং সারের জন্য আন্দোলন করায় ১৮ জন কৃষককে হত্যা করেছিলেন। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা করেন। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে ও ক্ষমতার বাইরে থাকতেও মানুষ হত্যা করেছেন। আগুন, পেট্রোল বোমার কথা মানুষ ভুলে যায়নি।’

খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ নিয়ে শাজাহান খান বলেন, ‘যার (খালেদা জিয়া) ছয়টি জন্ম তারিখ, সে কিভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে?’

বাজেটে পরিবহন খাতে আরোপিত কর হ্রাস করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই খাতে ভ্যাট ট্যাক্স বৃদ্ধি করলে মূলত সেটা জনগণের উপর বর্তাবে। বর্তমানে ঋণের সুদ হারের কারণে উৎপাদনশীল কোনো শিল্প গড়ে উঠেনি। বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। রেগুলেটরি ডিউটি তিন থেকে পাঁচ শতাংশ করা হলে ‍ভোক্তা পর্যায়ে চাপ পড়বে, টায়ারের মূল্য বৃদ্ধি পাবে।’

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার করার প্রস্তাব করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়নে অনেক কাজ করছে। বর্তমানে ১০ হাজার করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এই ভাতা ২০ হাজার করা দরকার।’ নতুন আরেকটি বোনাস চালুরও প্রস্তাব করেন তিনি।

শাজাহান খান বলেন, ‘একটি সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে সেটা হচ্ছে বাড়িভাড়া। কোনো নিয়মনীতি নেই। বছর বছর বাড়িভাড়া বাড়ছে। শ্রমিকের মুজুরি বৃদ্ধি পেলেও বাড়িভাড়া কয়েক গুণ বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকরা বর্ধিত মুজুরির সুবিধা নিতে পারছেন না।’

মিয়ানমারের টালবাহানায় প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হচ্ছে

মিয়ানমারের টালবাহানায় প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হচ্ছে
সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত থাকলেও মিয়ানমার তাদের ফেরত নিচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে তিনটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা হয়েছে। সেই চুক্তিগুলোর একটিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে দুই বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, তারপরেও মিয়ানমার সরকার নানা টালবাহান সৃষ্টি করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করছে বলে জানিয়েছেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের অতি দ্রুত ফেরত পাঠাতে না পারলে আমাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে প্রথম থেকেই একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বুধাবার (২৬ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য নুর মোহাম্মদের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী বলপূর্বক বাস্তচ্যুত নাগিরকদের ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারে তৈরি ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত বছর আগস্টে মিয়ানমার সফর করেন। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার জন্য ইতোমধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে দু’দেশের সম্মতিক্রমে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে গত বছরের ২৫ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকরা স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে রাজি হয়নি। ফলে ২৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি। আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের সঙ্গে তিনটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন করেছি। চুক্তির একটিতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে যে, দুই বছরে মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে; তথাপি মিয়ানমার সরকার নানা টালবাহানা সৃষ্টি করে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করছে।

সংসদ নেতা বলেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য মিয়ানমারের ১১ লাখ নাগরিকের অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের সংস্থান করা আমাদের জন্য দুরুহ ব্যাপার। এই সব বাস্তুচ্যুত অধিবাসীরা স্বাভাবিকভাবেই অসন্তুষ্টিতে ভুগছে। তাদের রয়েছে অনেক অভাব-অভিযোগ। এদের অতিদ্রুত ফেরত না পাঠাতে পারলে আমাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে প্রথম থেকেই একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, চুক্তিতে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে যে, এ সকল বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার অধিবাসীদের নিরাপত্তা, সম্মান এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। চুক্তির আদর্শ ও মূল বাণী বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমার সরকারকেই উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে এবং আশ্বাস দিতে হবে কেননা মিয়ানমার সরকার নিজেরাই এ সমস্যা তৈরি করেছে। বিশ্ব জনমত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অব্যাহতভাবে আমাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ এ বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার তাদের এ বিষয়ে কাজ করতে দিচ্ছে না। মিয়ানমারের অসযোগিতা সত্ত্বেও আমরা দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক দুটি পথই খোলা রেখেছি। বঙ্গবন্ধুর অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী সকল বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির বিষয়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র