আন্ত:যোগাযোগ বৃদ্ধি জনগণের উন্নয়নের অন্যতম সোপান

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

‘সিল্করোড অর্থনৈতিক বেল্ট’ নির্মাণের উদ্যোগের প্রশংসা করে ডেপুটি স্পিকার বলেছেন, এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। সিল্করোড কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং এবং চীনের সঙ্গে যোগাযোগ সহজতর হবে। এরফলে এ অঞ্চলের মধ্যকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে- - জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আন্ত:যোগাযোগ বৃদ্ধি জনগণের উন্নয়নের অন্যতম সোপান।

রোববার (১৬ জুন) হোটেল সোনারগাঁও এ বাংলাদেশ চীন সিল্করোড ফোরাম আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ ফ্রেন্ড অব সিল্করোড ক্লাব এ্যান্ড দ্যা সিল্ক রোড কমিউনিটি বিল্ডিং ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ লঞ্চিং সিরেমনি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছিলেন। মর্মান্তিকভাবে ১৯৭৫ সালে তাকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৯৬ সালে প্রথম দফা এবং ২০০৯সালে দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নতুনভাবে বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতে মন্ত্রীর পরিবর্তে সাধারণ সংসদ সদস্যকে সভাপতি করার বিধান করে সংসদীয় কার্যক্রমে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছেন। বর্তমানে সরকারী হিসাব সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতির আসনে বিরোধীদলকে দেয়া হয়েছে- - যা সারা বিশ্বে বিরল।

ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হওয়ার বিকল্প নাই। এ সময় তিনি চীনকে বাংলাদেশের পাশে থাকার অনুরোধ করেন।

সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত, প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে ডেপুটি স্পিকার মো: ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি’র সঙ্গে ১৩তম ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস অব চায়না’র (এনপিসি) স্টান্ডিং কমিটি এর ভাইস চেয়ারম্যান ও চাইনিজ এসোসিয়েশন ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারষ্টান্ডিং এর প্রেসিডেন্ট মি. জি বিংজুয়ান নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, চীনের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার চীন। তিনি বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনকে বিনিয়োগের অনুরোধ জানান। জনবহুল বাংলাদেশের একটা বড় অংশই হচ্ছে তরুণ—তাই বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চীনের প্রতিনিধি দলের প্রধান মি. জি বিংজুয়ান বাংলাদেশকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এ অঞ্চলের সকল দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে চীনের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব দিনদিন শক্তিশালী হচ্ছে। ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

এসময় বাংলাদেশস্থ চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং ঝুও প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ  এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিনিধিদল একাদশ জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।   

আপনার মতামত লিখুন :