দুর্নীতি মহামারির রূপ নিয়েছে, সংসদে রুমিন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা, জাতীয় সংসদ ভবন থেকে
সংসদ অধিবেশনে রুমিন ফারহানা | ফাইল ছবি

সংসদ অধিবেশনে রুমিন ফারহানা | ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকার আর্থিক খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে ধুঁকছে। দুর্নীতি এখন মহামারির রূপ ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসা মানেই শেয়ারবাজারে ধস।

বুধবার (১৯ জুন) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা।

এদিনই প্রথম রাজনৈতিক উত্তাপ না ছড়িয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য। পুরো বক্তৃতা দিতে কোন বাধার মুখে পড়তে হয়নি তাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের ব্যাপারে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে। বর্তমান সরকারকে ঋণখেলাপিবান্ধব সরকার বলে মন্তব্য করে রুমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিলেও দেশে এখন দুর্নীতি মহামারির রূপ ধারণ করেছে। সর্বত্র দুর্নীতি, এটা এখন সরকার স্বীকৃত। এ সরকারের আমলে দুর্নীতিকে আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে।

রুমিন বলেন, সরকার দিনে দিনে বিদেশি ঋণের কবজায় পা বাড়াচ্ছে, বর্তমানে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। যে শিশু আজ জন্মগ্রহণ করেছে তার মাথার ওপর ঝুলছে ৮০ হাজারের বেশি ঋণ। দরিদ্রতম দেশের মধ্যে বাংলাদেশ পঞ্চম। সরকার যে ঋণ খেলাপিদের সঙ্গে আছে তা ইতিমধ্যে সরকারের কর্মকাণ্ডে বোঝা যাচ্ছে। ব্যাংকগুলোকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক অবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। আদায়ের কোন লক্ষণ নেই। আবার ঋণখেলাপিদের ছাড় দেবার তোড়জোড় চলছে।

রুমিন ফারহানা বলেন, বাজেট থেকে সরকারের চরিত্র কিছুটা বোঝা যায়। দরিদ্রতম দেশের মধ্যে বাংলাদেশ পঞ্চম। বিদেশি ঋণের পরিমাণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এ বাজেটে ৮৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশি ঋণ নেবার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী সুদ দিতেই চলে যাবে ১১ শতাংশ টাকা।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে মাসে ২০ হাজার টাকা আয় থাকলে তাকেও কর দিতে হবে। অথচ বিদেশি কর্মীরা ৮৫ হাজার কোটি টাকা আয় করে নিয়ে যাচ্ছে। এরা কর দেয় না, এরা যদি ২০ শতাংশও কর দিত তাহলে ১৭ হাজার কোটি টাকা আয় হতো।

রুমিন ফারহানা বলেন, ১৪ হাজার কোটি টাকা রূপপুরে বরাদ্দ হলেও শিক্ষায় মাত্র জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। শিক্ষায় জিডিপির ৬ শতাংশ, যা হওয়া উচিত ছিল মোট বাজেটের ২০ শতাংশ।

তিনি বলেন, ২০২০ সাল পর্যন্ত বিদ্যুতে কুইক রেন্টালের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে লুটপাটের জন্য। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎখাতে লোকসান দিতে হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। রাষ্ট্র এখন শোষকের পক্ষে, শোষিতের বিপক্ষে।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা মানেই শেয়ারবাজারে ধস নেমে আসা। সম্প্রতি শেয়ারবাজারে ধস নেমে গেলেও এর কোন প্রতিকার নেই।

কালোটাকা সাদা করার বিষয়ে রুমিন বলেন, সরকার এদের সুযোগ করে দিচ্ছে অসৎভাবে আয় করার আর বিদেশে পাচারের। একইভাবে চিনি, তেল, গুঁড়া দুধের ওপর শুল্ক আরোপ করে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলেছে।

আপনার মতামত লিখুন :