প্রতিহিংসায় খালেদাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপির সংসদ সদস্য উকিল আব্দুস ছাত্তার, ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির সংসদ সদস্য উকিল আব্দুস ছাত্তার, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটক রাখা হয়েছে দাবি করে তার নিঃশর্ত মুক্তি চাইলেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য উকিল আব্দুস ছাত্তার।

তিনি বলেছেন, 'খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে সুচিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। খালেদা জিয়াকে যে মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে তা জামিন যোগ্য, শুধুমাত্র প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে জামিন দিয়ে আবার নানা উছিলায় ছলচাতুরী করে আবার কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। এটা অমানবিক। খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।'

সোমবার (২৪ জুন) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুস ছাত্তার বলেন, 'বর্তমান সরকারের এই বিশাল বাজেট কতটা জনকল্যাণমুখী তা নিয়ে সংশয় আছে। বাজেট যেভাবে প্রতি বছর বাড়ছে, সেভাবে ঘাটতিও বাড়ছে, ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, কিন্তু বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে। আর এই ঘাটতি মেটাতে ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। বিনিয়োগে স্থবিরতা চলছে, আশানুরূপ বিনিয়োগ হচ্ছে না। সরকার রাজস্ব আদায়ে চ্যালেঞ্জ পড়েছে। এবারের বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে চার লাখ কোটি টাকার বেশি। প্রতি বছরই বাড়ানো হচ্ছে, আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ে, সেই হাড়ে বিনিয়োগ বাড়ে না।'

তিনি বলেন, 'বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়ে না, কর্মসংস্থান না হলে রাজস্ব আদায় হবে না। জিডিবি ৮.৩ শতাংশ বলা হলেও কর্মসংস্থানের অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে বিদেশে যেতে গিয়ে মারা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারেনি বর্তমান সরকার। বিগত বছরের তুলনায় কৃষিখাতে কম বরাদ্দ রাখা হয়েছে, শিক্ষায়ও সঠিকভাবে নজর দেওয়া হয়নি। ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎস কর দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগের পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয় ১০ শতাংশ করা হয়েছে, যা স্বল্প পুঁজির মানুষ সঞ্চয় করতে আগ্রহ হারাবে। বিদেশি স্মার্টফোনের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে দেশীয় তৈরি স্মার্টফোনের সুবিধা দিলেও সিম কার্ড ব্যববহারের ওপর ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে দেশের জনগণের বিশাল অংশের ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।'

বিএনপির এ সংসদ সদস্য বলেন, 'এক দিকে দুর্নীতির জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়ে, অন্যদিকে প্রতিটি প্রজেক্টের ব্যয় বাড়িয়ে দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ বেশি রাখার কথা বলে বড় বড় প্রকল্পে দুনীতির মহা উৎসব চলছে। সম্প্রতি রুপপুর পারমানবিক প্রকল্পে দুর্নীতির হরিলুট দেখা গেছে। শেয়ার বাজার লুট, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে, কোনো প্রতিকার নেই। ঋণ খেলাপিদের ঋণ আদায়ে কোনে সঠিক নির্দেশনা নেই। সম্প্রতি ঘোষিত ৩০০ ঋণ খেলাপির ঋণ আদায়ের সরকারের পদক্ষেপ জাতি জানতে চায়। এছাড়া বাজেটে অবহেলিত বঞ্চিত সমতলের আদিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ নেই। এই বাজেট ধনী গরিরে বৈষম্য বাড়াবে, ধনী আরও ধনী হবে, গরির আরও গরিব হবে।'

নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী গায়েবি মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রিুতি দিয়েছিলেন, তাই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সারা দেশের বিএনপির নেতা কর্মীদের মুক্তির দাবিও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :