জিয়াউর রহমান ভয়ঙ্কর হত্যাকারী: শাজাহান খান



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সংসদে বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান/ ছবি: সংগৃহীত

সংসদে বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান/ ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ভয়ঙ্কর হত্যাকারী আখ্যায়িত করে সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ‘যদি প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর হত্যাকারী কে? জবাব জেনারেল জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছেন এবং রাষ্ট্রপরিচালনা করেছেন। আমার কাছে অনেক তথ্য আছে।’

বুধবার (২৬ জুন) বিকালে সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

শাজাহান খান বলেন, ‘১৯৭৫ সালের নভেম্বর হতে ১৯৮১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও জাসদের এক হাজার ৫০০ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে ৬২ হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে বন্দি করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৮০ সালে রাজশাহীতে ৫০ জন জেলবন্দিকে ‍গুলি করে হত্যা করেছেন। জিয়ার শাসন আমলে অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মীবে হত্যা, গুম ও গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে খালেদা জিয়াও ১৯৯১ সালে শ্রমিক আন্দোলন দমন করার নামে ১৭ জন শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করেছিলেন এবং সারের জন্য আন্দোলন করায় ১৮ জন কৃষককে হত্যা করেছিলেন। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা করেন। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে ও ক্ষমতার বাইরে থাকতেও মানুষ হত্যা করেছেন। আগুন, পেট্রোল বোমার কথা মানুষ ভুলে যায়নি।’

খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ নিয়ে শাজাহান খান বলেন, ‘যার (খালেদা জিয়া) ছয়টি জন্ম তারিখ, সে কিভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে?’

বাজেটে পরিবহন খাতে আরোপিত কর হ্রাস করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই খাতে ভ্যাট ট্যাক্স বৃদ্ধি করলে মূলত সেটা জনগণের উপর বর্তাবে। বর্তমানে ঋণের সুদ হারের কারণে উৎপাদনশীল কোনো শিল্প গড়ে উঠেনি। বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। রেগুলেটরি ডিউটি তিন থেকে পাঁচ শতাংশ করা হলে ‍ভোক্তা পর্যায়ে চাপ পড়বে, টায়ারের মূল্য বৃদ্ধি পাবে।’

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার করার প্রস্তাব করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়নে অনেক কাজ করছে। বর্তমানে ১০ হাজার করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এই ভাতা ২০ হাজার করা দরকার।’ নতুন আরেকটি বোনাস চালুরও প্রস্তাব করেন তিনি।

শাজাহান খান বলেন, ‘একটি সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে সেটা হচ্ছে বাড়িভাড়া। কোনো নিয়মনীতি নেই। বছর বছর বাড়িভাড়া বাড়ছে। শ্রমিকের মুজুরি বৃদ্ধি পেলেও বাড়িভাড়া কয়েক গুণ বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকরা বর্ধিত মুজুরির সুবিধা নিতে পারছেন না।’