বিএনপি-জামাত নিয়ম বিরুদ্ধ এমপিওভুক্ত করেছে: শিক্ষামন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সংসদে বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি/ ছবি: সংগৃহীত

সংসদে বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি/ ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: নতুন অর্থবছরে শিক্ষার মান বাড়াতে বিদেশ থেকে শিক্ষক আনার প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপি দলীয় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, ‘যখন একটি সরকার এক দশক ধরে ক্ষমতায় থাকার পরও বিদেশ থেকে শিক্ষক আনতে চায়, সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার থাকে না।’

এর জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র করে, শিক্ষার্থীদের হাতে মাদক তুলে দেয়, হিজবুর বাহারে মেধাবী ছাত্রদের বিপদগামী করে,  তাদের কাছে নৈতিকতার ছবক নেওয়া একটু হাস্যকরই মনে হয়। বিএনপি-জামাতের আমলে নিয়ম বিরুদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এখন সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাচাই করার সময় এসেছে।’

রোববার (৩০ জুন) সকালে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাজেট পাসের আগে মুঞ্জুরি দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার দেখেছি। তখন শিক্ষাখাতে বরাদ্দ, শিক্ষার মান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান সম্পর্কে অবগত আছি। জাতীয়করণ বঙ্গবন্ধুর সরকার করেছে আর বঙ্গবন্ধুকন্যার সরকার করেছে। আর কেউ করেনি। বিএনপি-জামাতের আমলে কোথায় এমপিওভুক্ত করা হয়েছে? কোনো কোনো প্রভাশালী মন্ত্রী তার নিজ এলাকায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছে। যেগুলোর মান ঠিক নেই, শিক্ষক নেই।’

তিনি বলেন, ‘সকল স্কুলে ও সকল সাধারণ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত কারিগরি মৌলিক জ্ঞান সবার জন্য বাধ্যতামূলক করছি। প্রতি বিদ্যালয়ে ৯ম-১০ম শ্রেণীর জন্য অন্তত পক্ষে একটি ট্রেডে শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে, সেই ব্যবস্থা ২০২১ সালের চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আগে সংখ্যার দিকে নজর দিয়েছি। এখন শিক্ষার মান বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে।’

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে সরকারি-বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি শিক্ষা উন্নয়ন কমিটি গঠনের দাবি জানান।

জাতীয় পার্টির দলীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান লন্ডন ভিত্তিক একটি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনের জরিপ তুলে ধরে বলেন, ‘এশিয়ার শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ফিলিপাইনসহ কয়েকটি দেশ থাকলেও আমাদের দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই।’

কাজী ফিরোজ রশীদ শিক্ষকদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন হচ্ছে কিন্তু একটি সমস্যা আছে, শিক্ষকদের নৈতিক শিক্ষার অভাব আছে। এই নৈতিক শিক্ষার অভাবে ভিকারুন নিসা স্কুলে একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেল, নারায়নগঞ্জে দুর্ঘটনা, নুসরাতের মাদরাসা দুর্ঘটনা, এই নৈতিক শিক্ষার জায়গা দুর্বল আছে। সরকার এত টাকা দিচ্ছে, শিক্ষকদের বেতন বাড়াচ্ছে, এমপিওভুক্তি চাইলে দেওয়া হচ্ছে কিন্তু শিক্ষার মান বাড়েনি।’

‘শিক্ষকরা দলীয় রাজনীতিতে জড়িত হয়ে পড়ছে। যখন বিএনপি আসবে তখন তাদের একটি দল, আওয়ামী লীগ আসলে একটা দল, দলীয় রাজনীতির মহা উৎসব চালায়। কোনো লেখাপড়ার ধার ধারে না, কোনোটাতে রিসার্চ নেই, বইপত্র লেখা নেই পড়ানোর ধার ধারে না, কিন্তু ওখানে বসে থাকবেন। তাদের কিছু বলা যাবে না। শিক্ষক ও ডাক্তারদের রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। রাজনীতির বাইরে থাকলে কোনো সমস্যা থাকবে না।

আপনার মতামত লিখুন :