দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ বাড়াতে সংসদে রিপোর্ট

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ আরেক দফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। আইনটির মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) বিল-২০১৯ উত্থাপন করা হয়।

এরপর বিলটি অধিকতর যাচাই বাছাই করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করলে কমিটির বৈঠকে তা চূড়ান্ত করে পাসের জন্য রিপোর্ট উত্থাপন করেছেন কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু। এই অধিবেশনেই বিলটি পাস হতে পারে।

সোমবার (৮ জুলাই) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এ সংক্রান্ত বিলের রিপোর্ট উত্থাপন করা হয়। এর আগে গত ২৫ জুন বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ নিয়ে দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ান হল।

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০২ সালে দ্রুত বিচার আইন পাসের পর তা দুই বছরের জন্য কার্যকর করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে এ আইনের মেয়াদ দুই বছর করে বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালে আরও পাঁচ বছর আইনটি বলবৎ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। গত ৯ এপ্রিল আইনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু সরকার ইতোমধ্যে আইনটির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেজন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটির মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বলবৎ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে চাঁদাবাজি, যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, যানবাহনের ক্ষতিসাধন, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিনষ্ট করা, ছিনতাই, দস্যুতা, ত্রাস ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি, দরপত্র ক্রয়, বিক্রয়, গ্রহণ বা দাখিলে জোরপূর্বক বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন ইত্যাদি গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নতির লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ প্রণয়ন জারি করা হয়েছিল।

‘আইনটি করার সময় প্রথমে মেয়াদ দুই বছর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে ৬ বারে এর মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ বছর বৃদ্ধি করা হয়। সবশে ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল ৫ বছর বাড়িয়ে ১৭ বছর করা হয়। যার মেয়াদ ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল শেষ হয়। আইনের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে এবং দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অধিকতর উন্নতির জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি করার প্রয়োজন। এই আইনটির অধীনে তদন্তাধীন ও বিচারধীন ১ হাজার ৭০৩টি মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইনটির মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন।’

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী- অপরাধ প্রমাণিত হলে দুই থেকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। এ আইনে ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ নিষ্পত্তি করার বিধান আছে। এই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা না গেলে আরও ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :