Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জিয়ার ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টে’ গণহত্যায় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি

জিয়ার ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টে’ গণহত্যায় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি
সংসদ ও হাসানুল হক ইনু
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা
জাতীয় সংসদ ভবন থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

জেনারেল জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনামলে কাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞ ও গুমের ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন এবং শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে যারা ব্যবহার করে সশস্ত্র বাহিনীর গায়ে কলঙ্ক লেপন করেছিলেন, সেই সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার জন্যই এই তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। ১৯৭৭ সালের লোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞ দেশবাসীর জানা উচিত। তাই শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন, তদন্ত কমিশন গঠন করুন। দেশবাসী জানুক জেনারেল জিয়ার আমলে কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।

ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) রাতে পয়েন্ট অব অর্ডারে এ দাবি জানান হাসানুল হক ইনু।

পরে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ সিনিয়রিটির ভিত্তিতে সংসদে আসন বণ্টনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ১৯৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে ডেপুটি স্পিকার তাকে বাধা দিয়ে বলেন, সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি বহির্ভূত কোন কথা বলার সুযোগ সংসদে নেই। হাসানুল হক ইনু সর্বোচ্চ আদালতের রায় সংসদে উপস্থাপন করেছেন। এ কারণে তাকে কিছুটা সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

পয়েন্ট অব অর্ডারে হাসানুল হক ইনু বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে আসছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ২১ আগস্টের খুনিদের বিচার, আগুন সন্ত্রাসীদের বিচারের ধারাবাহিকতায় কর্নেল তাহের হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রতিকার পেয়েছি। তাই আমি মনে করি, সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার জন্য ১৯৭৭ সালের লোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞ দেশবাসীর জানা উচিত। তাই শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন, তদন্ত কমিশন গঠন করুন।

তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালের জুলাই মাসে সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধ ক্ষমতার দখলদার জিয়াউর রহমান আর্মি অ্যাক্ট লঙ্ঘন করে বেআইনিভাবে গঠিত সামরিক আদালতে কেস নম্বর-১, ১৯৭৬ সালের মিথ্যা সাজানো মামলায় প্রহসনমূলক বিচারে জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান আবু তাহেরকে জুলাইয়ের ২১ তারিখে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেন। সেই মিথ্যা মামলায় বেআইনিভাবে গঠিত সামরিক আদালতে আমিসহ অনেক রাজনৈতিক মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক অফিসার, এনসিও, জেসিও বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হই। আমি ১৯৭৫ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৮০ সালের জুন মাস লাগাতার ৫ বছর জিয়ার কারাগারে বন্দি ছিলাম। সবই আদালতের কথা।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন আহমেদ ও বিচারপতি শেখ মোহাম্মদ জাকিরের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ ২০১১ সালের ২২ মার্চ একটা রায় দেন। আমি, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, মেজর জিয়াউদ্দিন সবাই মিলে একটা রিট করেছিলাম। সেটা ২২ মার্চ আদালতের রায়ে নিষ্পত্তি হয়।

তিনি বলেন, কর্নেল আবু তাহেরের ফাঁসি অবশ্যই বিচার বহির্ভূত স্পষ্ট খুন। ফাঁসি কার্যকরণের কাজ নিন্দনীয় খুনি হিসেবে বিবেচিত। তাকে শহীদ হিসেবে গণ্য করে তার পরিবারের ক্ষতি পূরণ এবং কর্ণেল তাহেরকে দেশপ্রেমিক ও শহীদ হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ এসেছে।

হাসানুল হক ইনু বলেন, জেনারেল জিয়ার আমলে নিজের করা আর্মি অ্যাক্ট লঙ্ঘন করে অনেক সেনা অফিসার, এনসিও, জেসিও সৈনিককে তড়িঘরি করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। যাদের সবাই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। এমনকি তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে দেওয়া হয় নাই। এটা সম্পূর্ণ জুডিশিয়াল মার্ডার।

তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর রহস্যময় ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর দুই মাসের মধ্যে ১ হাজার ১৪৩ জন সৈনিককে ফাঁসির দড়িতে অথবা ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করা হয়। কাঙ্গারু কোর্টে ৫০০ অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। পশু পাখির মত টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেয়ে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হতো। প্রাণ না যেতেই রগ কেটে দেওয়া হতো। বাংলাদেশ কেন, পৃথিবীতে এমন হত্যাকাণ্ড হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

বন্যা প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা, অভাব নেই ত্রাণের

বন্যা প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা, অভাব নেই ত্রাণের
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দেশের বন্যা পরিস্থিতি প্রলম্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। তবে বন্যা প্রলম্বিত হলেও সরকারের ভাণ্ডারে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে বলে কমিটিকে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

রোববার (২১ জুলাই) দুপুরে সংসদ ভবনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব কথা বলা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটি সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এবার বন্যা প্রলম্বিত হতে পারে এমন একটি আশঙ্কা আমাদের রয়েছে। তবে বন্যা প্রলম্বিত হলেও ত্রাণ সামগ্রীর কোনো অভাব হবে না। আমাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে। আমরা কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়কে বলেছি বন্যার কারণে একজন মানুষও যেন কষ্টে না থাকে না খেয়ে কেউ কষ্ট না করে সেই জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।'

বৈঠকে আরও আলোচনা হয় কমিটির যে সকল সদস্য ফ্রি আছেন তারা যেন মন্ত্রণালয়ের কাজে সহযোগিতা করতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় যান এবং বন্যার্তদের সহযোগিতা করেন।

এছাড়া দেশের অধিকাংশ কালভার্টের অবস্থা অত্যন্ত করুন। বেশিরভাগই ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে বলে কমিটিকে জানানো হয়। এসব কালভার্ট মেরামত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার (ছেলুন), মো. আফতাব উদ্দিন সরকার, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জুয়েল আরেং, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং কাজী কানিজ সুলতানা অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন, ছবি: সংগৃহীত

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আজ বেশ সুদৃঢ়।'

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত এসডিজি’র লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের বর্তমান অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কিত অবহিতকরণ আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বুধবার (১৭ জুলাই) সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসডিজি বাংলাদেশের অর্জন বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

স্পিকার বলেন, 'এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এসডিজির সঙ্গে সংসদ সদস্যগণকে অধিক সম্পৃক্ত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, যা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।'

এসডিজি অর্জনে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি স্থায়ী মিশন গৃহীত পদক্ষেপসমূহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

'২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস' সম্পর্কিত অপর এক আলোচনায় স্পিকার বলেন, 'ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।'

জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র