Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

দ্রুত প্রবৃদ্ধিশীল দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

দ্রুত প্রবৃদ্ধিশীল দেশের তালিকায় বাংলাদেশ
সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা
জাতীয় সংসদ ভবন থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগ ক্রমাগত বাড়ছে, রপ্তানি এবং প্রবাস আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতির পরিমাণ জিডিপি’র পাঁচ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এমন পরিবেশে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন সামনের দিনগুলোতে আরও বেগবান হবে। সোনার বাংলায় দারিদ্র্য হবে সুদূর অতীতের কোন ঘটনা।

বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এ সব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাতিসংঘের বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা ও সম্ভাবনা, ২০১৯ প্রতিবেদনে শীর্ষ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে। জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে ২০১৮ সালে সবচেয়ে দ্রুত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী ১০টি দেশের মধ্যে (৭ ভাগের বেশি প্রবৃদ্ধি অজর্নকারী) বাংলাদেশ একটি। এই ১০ দেশের তালিকায় এশিয়া অঞ্চলে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

সংসদ নেতা জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক, এপ্রিল ২০১৯-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী তিনটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং ভারতের প্রবৃদ্ধির সমান। এই তালিকায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রথম স্থানে অছে রুয়ান্ডা, যার পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূলে রয়েছে আমাদের সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ ও তার দক্ষ বাস্তবায়ন। ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনী ইশতেহার দিন বদলের সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। আমরা রূপকল্প,২০২১ ঘোষণা করেছি। এ পরিকল্পনার আওতায় আমরা দেশের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়বো।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে যে, পদ্মা সেতুর মত বৃহৎ প্রকল্প নিজেদের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি। পদ্মা সেতুসহ আমরা ১০টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। এ সকল পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা ২০১৫ সালে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণে সক্ষম হয়েছি। জাতিসংঘ আমাদের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এটি দেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেরই প্রতিফলন ও স্বীকৃতি। জাতি হিসেবে এটি আমাদের জন্য অবশ্যই একটি বড় অর্জন। আশা করছি, আমরা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়ন করে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তুলনীয় এক শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, সুখী এবং উন্নত জনপদ। এসময়ের মধ্যে বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রায়িত হবে; সরকারি ব্যয়ের সিংহভাগ বাস্তবায়িত হবে স্থানীয় পর্যায়ে, এ দায়িত্ব পালন করবে স্থানীয় প্রশাসন। পরিকল্পনা করা হবে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রের সুস্পষ্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে; সুশাসন, জনগণের সক্ষমতা ও ক্ষমতায়ন হবে এই অগ্রযাত্রার মূলমন্ত্র। নারীর ক্ষমতায়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, শিক্ষার প্রসার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হবে এই অগ্রযাত্রার নিয়ামক।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সমৃদ্ধ ও উন্নত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় দুঃখী ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আওয়ামী লীগ সরকারের মূল লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্য পূরণে নিরলসভাবে কাজ করতে আমি ও আমার সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।

১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১ কোটি কর্মসংস্থান
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে শিল্পের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং রপ্তানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, পশ্চাৎপদ ও অনগ্রসর এলাকাসহ সম্ভাবনাময় সকল এলাকায় পরিকল্পিতভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন আমাদের এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন সম্পন্ন হলে অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ মূল্যের পণ্য ও সেবা উৎপাদন ও রফতানি করা সম্ভব হবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে উন্নীতকরণে অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

সংসদে ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়

সংসদে ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়
সংসদ ভবন

প্রতি ঈদের মতো এবারও সংসদে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১২ আগস্ট ঈদুল আজহার দিন সকাল সাড়ে ৭টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদ জামাত অনুষ্টিত হবে।

যদি বৈরী আবহাওয়া থাকে তাহলে সংসদের টানেলের নিচে জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

সংসদ ভবনের ঈদ জামাত পরিচালনা করবেন জাতীয় সংসদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম।

ঈদ জামাতে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, অন্যান্য হুইপ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ-সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারীরা অংশ নেবেন। এছাড়াও সংসদের ঈদের নামাজের জামাত সবার জন্য উন্মুক্ত। জামাতে আগ্রহী মুসল্লিদের অংশ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এমপি হিসেবে শপথ নিলেন সালমা চৌধুরী

এমপি হিসেবে শপথ নিলেন সালমা চৌধুরী
সালমা চৌধুরীকে শপথ বাক্য পাঠ করাচ্ছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চেীধুরী/ ছবি: সংগৃহীত

একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন সালমা চৌধুরী রুমা। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। জাতীয় সংসদের আসন-৩৩৪ এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪ এর সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন রাজবাড়ী জেলার এই নারী।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ের তার শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সালমা চৌধুরী গত ৪ আগস্ট বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

গত ৯ জুলাই রুশেমা বেগম মারা গেলে জাতীয় সংসদের ৩৩৪ নম্বর সংরক্ষিত নারী আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ১৮ জুলাই আসনটিতে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ছিল ২৫ জুলাই পর্যন্ত ও বাছাই ২৮ জুলাই। আর প্রত্যাহারের শেষ সময় ১ আগস্ট এবং ভোট ১৮ আগস্ট।

সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত ওয়াজেদ চৌধুরীর কন্যা সালমা চৌধুরী রুমা। তিনিও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আইন অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রাপ্ত আসন অনুসারে দলগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত আসন বণ্টন করে দেয় নির্বাচন কমিশন। সে অনুযায়ী ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৪৩টি, জাতীয় পার্টির চারটি, বিএনপির একটি, ওয়ার্কার্স পার্টির একটি এবং স্বতন্ত্ররা একটি আসন পায়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র