বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায়

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, জাতীয় সংসদ ভবন থেকে
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ও দিক-নির্দেশনায় বিগত এক দশকে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় আসীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছে। তবে উভয় দেশ নিকটতম প্রতিবেশী হওয়ায় উভয়ের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। আমাদেরও আছে। বাংলাদেশ পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগুলো সমাধানের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য পুলিশের সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

মন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তরোত্তর উন্নয়নে আমাদের দুই দেশের ঐকান্তিক ইচ্ছার বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। স্থল সীমানা ও সমুদ্র সীমার সমাধান, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন এবং ছিটমহল বিনিময় আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সদিচ্ছার সর্বোচ্চ প্রতিফলন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি বিপুল ভোটে পুননির্বাচিত হওয়ায় আমাদের আশাবাদ দৃঢ়তর হয়েছে যে, উভয় দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি, পানিসম্পদের সুষম বণ্টন ও তার উপযুক্ত ব্যবহারসহ অন্যান্য অনিষ্পন্ন ইস্যুসমূহেরও শিগগিরই নিষ্পত্তি হবে।

ড. মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেরিত শুভেচ্ছা বার্তার প্রত্যুত্তরে নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন তার সরকার পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে পূর্বের মত ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির অনুসরণ করবে।

বিদেশে প্রায় ৯ হাজার বাংলাদেশি বন্দী
সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম এ আব্দুল মোমেন জানান, ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জানামতে ৮ হাজার ৮৪৮ জন বাংলাদেশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জেলে বা ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছে। কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদেশি কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। এটা রুটিন মাফিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দূতাবাসের সাহায্যে করে আসছে।

তিনি বলেন, যখনি কোন বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন জরুরি হয়ে পড়ে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট দেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সে দেশের আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রবাসীদের জন্য ভ্রমণ ডকুমেন্ট (পাসপোর্ট/ট্রাভেল পাস) তৈরি করে দেয়। অনেক সময় সাজার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়া, সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নেওয়া অথবা আইনজীবী নিয়োগ করে মামলা পরিচালনা করে আটকদের মুক্তির ব্যবস্থা করা, এ সবই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে করে আসছে।

অতিসম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া, তিউনিশিয়া, লিবিয়া ও ভানুয়াতু থেকে আটকে পড়া অনেক বাংলাদেশি দূতাবাসের সার্বিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে ফিরে এসেছে বা বাংলাদেশে ফিরে আসার প্রক্রিয়াধীন আছে বলে সংসদে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন :