Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামানোর প্রস্তাব

প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামানোর প্রস্তাব
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পুরনো ছবি
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি অর্থবছরে মধ্যে অর্থাৎ আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা যেন স্বতস্ফূর্তভাবে বাংলা পড়তে পারে, সেটা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কমিটি মন্ত্রণালয়কে বলেছে- আগামী ২০২০ সালের মধ্যে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত যে এক কোটি ৬৪ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে, তাদের সবাইকে পত্রিকা পড়া বা যেকোনো বাংলা রচনা স্বাচ্ছন্দ্যভাবে পড়ানোর মত সক্ষম করে তুলতে হবে।

বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সংসদ ভবনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য মো. জাকির হোসেন, ইসমাত আরা সাদেক, আলী আজম, মো. নজরুল ইসলাম বাবু, শিরীন আখতার ও ফেরদৌসী ইসলাম সভায় অংশ নেন।

বৈঠক শেষে কমিটি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম বাবু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা বলেছি- এই অর্থবছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার্থী ঝরে পড়া হার শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়েছে ২০২০ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে অবশ্যই পরিষ্কারভাবে বাংলা পড়তে হবে। এজন্য শিক্ষকদের যা যা করণীয় সেটা করতে হবে। শিক্ষার মান বাড়াতে মান সম্মত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের যোগ্য করে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সশরীরে বিদ্যালয় পরিদর্শন ও রিপোর্ট জমাদানের পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক 'ই-মনিটরিং' -এর আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে পার্বত্য অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান নিয়ে বলা হয়- 'বান্দরবান জেলার লামা, আলীকদম ও থানচি উপজেলার অফ গ্রিড স্কুলসমূহে সোলার সিস্টেম স্থাপন ও নিরাপদ পানি সরবরাহের সম্ভাব্যতা/সমীক্ষা প্রকল্প' -এর আওতায় গত ১০ জুন হতে লামা উপজেলায় ডিপ-টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে লামা উপজেলার ১১টি বিদ্যালয়ে সোলার পাম্প স্থাপনের নিমিত্ত ডিপ-টিউবওয়েলের বোরিং এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যান্য বিদ্যালয়সমূহে বোরিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে 'ডিজিটাল প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প' -এর আওতায় নির্বাচিত ৫০৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমগুলো কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মনিটরিং করার জন্য বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ডিভাইস, ওয়াই-ফাই ক্লাউড ক্যামেরা ও ওয়াই-ফাই রাউটার যন্ত্রাংশ/মালামাল/সেবা ই-জিপি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রয়ের জন্য পাঁচটি লটে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

এছাড়া 'নগরবস্তি আনন্দস্কুল কার্যক্রম' -এর আওতায় ১০টি সিটি করপোরেশনে আরবান স্লাম আনন্দ স্কুল কার্যক্রম চলছে যাতে ৪০ হাজার ১০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। 'প্রি-ভোকেশনাল স্কিলস প্রশিক্ষণ কর্মসূচি' -এর আওতায় বিভিন্ন ট্রেডে ১৬ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে ৮ হাজার ১২৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থান হয়েছে।

বৈঠকে আরো জাননো হয়, ২০১৯-২০ সালে কক্সবাজার জেলার আটটি উপজেলা ও বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় আট হাজার ৫০০ জনকে প্রি-ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। 'দারিদ্য পীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি (তৃতীয় সংশোধিত)' -এর আওতায় বর্তমানে দেশের দারিদ্র্যপ্রবণ ১০৪টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

চলমান প্রকল্পসমূহের অধিকতর সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সকলকে স্বচ্ছতার সাথে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান।

বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: প্রাথমিকে ঝরে পড়ছে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ

আপনার মতামত লিখুন :

ফের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ায় সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ

ফের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ায় সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক, ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসনে বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি সেফ জোন সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্যগণকে সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড সফরের জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে আগস্ট মাসকে শোকের মাস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়া ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের নিহত সদস্য এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

বৈঠকে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং নিরীহ মানুষকে রক্ষার জন্য বিদেশে অবস্থানরত চিহ্নিত যে সকল বাংলাদেশি দালাল চক্র অবৈধ মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত তারা বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।

এদিকে নানা আয়োজনের পরেও শেষ মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করতে না পারায় কমিটিতে হতাশা প্রকাশ করার পাশাপাশি তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি ও মিয়ানমারের সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনরত এনজিওদের কার্যক্রম মনিটরিং এর ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যেসহ বিভিন্ন দূতাবাসে ভিসা পেতে বাংলাদেশি নাগরিক বিশেষ করে সিনিয়র নাগরিকদের হয়রানিরোধে মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য বর্তমান অর্থবছরে বাজেট বৃদ্ধি পাওয়ায় কমিটির পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং বরাদ্দকৃত বাজেট যাতে সফল ও যথাযথভাবে ব্যয় করা হয় ও ফেরত না যায় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

কমিটি সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ. কে. আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, মো. আব্দুল মজিদ খান, কাজী নাবিল আহমেদ এবং নিজাম উদ্দিন জলিল (জন) অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হক, মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খোরশেদ আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তরুণদের উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে কারিগরি শিক্ষা জরুরি

তরুণদের উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে কারিগরি শিক্ষা জরুরি
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে এক কর্মশালায় স্পিকার শিরীন শারমিন, ছবি: সংগৃহীত

দেশের তরুণ সমাজকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, 'দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, তাই নারী ও শিশুকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের তরুণ সমাজকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা জরুরি।

এ সময় তিনি তরুণদের কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগাতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. শিরীন শারমিন বলেন, 'কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের জ্ঞানভিত্তিক ও গবেষণামূলক আলোচনা সংশ্লিষ্টদের জানার পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করবে। নতুন সংসদ সদস্যবৃন্দের অবহিতকরণের জন্য কর্মশালা আয়োজনের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর প্রতি সহিংসতাপ্রবণ এলাকায় ব্যাপকভাবে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।'

এ সময় তিনি প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করতে এসপিসিপিডি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

স্পিকার বলেন, 'মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ল্যাকটেটিং ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, পুষ্টি কার্যক্রম এবং মা ও শিশু সহায়তা কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।'

এ সময় তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, যুব উন্নয়ন ও মাতৃ স্বাস্থ্য উন্নয়নে সংসদ সদস্যগণকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান।

কর্মশালায় সূচনা বক্তব্য রাখেন, অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ এমপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসপিসিপিডি'র প্রকল্প পরিচালক এম এ কামাল বিল্লাহ।

কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম। মুক্ত আলোচনা সেশন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান।

কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য রাখেন- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ. ফ. ম রুহুল হক, অ্যারোমা দত্ত এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সিনিয়র সচিব ড. শামসুল হক। কর্মশালায় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র