প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামানোর প্রস্তাব

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পুরনো ছবি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পুরনো ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি অর্থবছরে মধ্যে অর্থাৎ আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা যেন স্বতস্ফূর্তভাবে বাংলা পড়তে পারে, সেটা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কমিটি মন্ত্রণালয়কে বলেছে- আগামী ২০২০ সালের মধ্যে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত যে এক কোটি ৬৪ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে, তাদের সবাইকে পত্রিকা পড়া বা যেকোনো বাংলা রচনা স্বাচ্ছন্দ্যভাবে পড়ানোর মত সক্ষম করে তুলতে হবে।

বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সংসদ ভবনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য মো. জাকির হোসেন, ইসমাত আরা সাদেক, আলী আজম, মো. নজরুল ইসলাম বাবু, শিরীন আখতার ও ফেরদৌসী ইসলাম সভায় অংশ নেন।

বৈঠক শেষে কমিটি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম বাবু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা বলেছি- এই অর্থবছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার্থী ঝরে পড়া হার শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়েছে ২০২০ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে অবশ্যই পরিষ্কারভাবে বাংলা পড়তে হবে। এজন্য শিক্ষকদের যা যা করণীয় সেটা করতে হবে। শিক্ষার মান বাড়াতে মান সম্মত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের যোগ্য করে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সশরীরে বিদ্যালয় পরিদর্শন ও রিপোর্ট জমাদানের পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক 'ই-মনিটরিং' -এর আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে পার্বত্য অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান নিয়ে বলা হয়- 'বান্দরবান জেলার লামা, আলীকদম ও থানচি উপজেলার অফ গ্রিড স্কুলসমূহে সোলার সিস্টেম স্থাপন ও নিরাপদ পানি সরবরাহের সম্ভাব্যতা/সমীক্ষা প্রকল্প' -এর আওতায় গত ১০ জুন হতে লামা উপজেলায় ডিপ-টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে লামা উপজেলার ১১টি বিদ্যালয়ে সোলার পাম্প স্থাপনের নিমিত্ত ডিপ-টিউবওয়েলের বোরিং এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যান্য বিদ্যালয়সমূহে বোরিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে 'ডিজিটাল প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প' -এর আওতায় নির্বাচিত ৫০৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমগুলো কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মনিটরিং করার জন্য বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ডিভাইস, ওয়াই-ফাই ক্লাউড ক্যামেরা ও ওয়াই-ফাই রাউটার যন্ত্রাংশ/মালামাল/সেবা ই-জিপি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রয়ের জন্য পাঁচটি লটে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

এছাড়া 'নগরবস্তি আনন্দস্কুল কার্যক্রম' -এর আওতায় ১০টি সিটি করপোরেশনে আরবান স্লাম আনন্দ স্কুল কার্যক্রম চলছে যাতে ৪০ হাজার ১০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। 'প্রি-ভোকেশনাল স্কিলস প্রশিক্ষণ কর্মসূচি' -এর আওতায় বিভিন্ন ট্রেডে ১৬ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে ৮ হাজার ১২৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থান হয়েছে।

বৈঠকে আরো জাননো হয়, ২০১৯-২০ সালে কক্সবাজার জেলার আটটি উপজেলা ও বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় আট হাজার ৫০০ জনকে প্রি-ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। 'দারিদ্য পীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি (তৃতীয় সংশোধিত)' -এর আওতায় বর্তমানে দেশের দারিদ্র্যপ্রবণ ১০৪টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

চলমান প্রকল্পসমূহের অধিকতর সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সকলকে স্বচ্ছতার সাথে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান।

বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: প্রাথমিকে ঝরে পড়ছে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ

আপনার মতামত লিখুন :