গৃহ তল্লাশির ক্ষমতা দিয়ে কাস্টমস বিল উত্থাপন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
সংসদ অধিবেশন | ফাইল ছবি

সংসদ অধিবেশন | ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: চোরাচালানে জড়িত সন্দেহে যেকোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা পরোয়ানা ছাড়াই গৃহ তল্লাশির ক্ষমতা দিয়ে কাস্টমস বিল-২০১৯ উত্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বিলে চোরাচালান নিরোধে কাস্টমস কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা, গৃহ তল্লাশি ও আটকের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পণ্য আমদানি ও রপ্তানিতে কাস্টমস ডিউটি বা শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা বা চোরাচালানের মাধ্যমে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ৬ বছরের কারদণ্ডের পাশাপাশি ওই পণ্য বাজেয়াপ্ত করাসহ দুই থেকে তিনগুণ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পরে বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একমাসের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

গত বছর দশম সংসদের ২৩তম অধিবেশনে একই শিরোনামে (কাস্টমস বিল-২০১৮) সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একটি বিল উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে দশম সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ইতোমধ্যে সরকার বিলটিতে আরও কিছু পরিবর্তন এনে নতুনভাবে কাস্টমস বিল ২০১৯ শিরোনামে পুনরায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়া হয়।

বিলে শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পেলে কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা ছাড়াই পণ্য বাজেয়াপ্ত বা জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহার করলে ৩ বছরের কারদণ্ড এবং শুল্ক পরিশোধ ছাড়া পণ্য খালাসে সহায়তা করলে একই দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে দুই লাখ টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিলে কাস্টমস হাউস বা ক্লিয়ারেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার সর্বোচ্চ পরিমাণ জরিমানা আরোপ করতে পারবেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯-এর পরিবর্তে বাংলায় একটি আধুনিক কাস্টমস আইন প্রণয়ণের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের। এছাড়া বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত মান সংক্রান্ত কনভেনশন অনুযায়ী আমদানি ও রপ্তানি পণ্যেও সাপ্লাই চেইনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার নেতৃত্বে কাস্টমস ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধিবিধান সন্নিবেশ করে নতুন আইন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ট্রেড ফেসিলিয়েশন অ্যাগ্রিমেন্টের কতিপয় ধারাও আইনে অন্তর্ভুক্ত করার আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে।

সংসদে আরও দুটি বিল উত্থাপন:
বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র আইন ২০১৯ বিল উত্থান করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এবং বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (সুরক্ষা) আইন, ২০১৯ বিল নামে পৃথক আরেকটি বিল উত্থাপন করেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

আপনার মতামত লিখুন :