‘বোরকা পরা মেয়েদের সিদ্ধান্ত’



সেন্ট্রাল ডেস্ক ৩

  • Font increase
  • Font Decrease
বোরকা বা হিজাব না পরলে সৌদি আরবে মেয়েদের জেল পর্যন্ত হয়৷ এতই কড়া আইন৷ তবে সম্প্রতি সে দেশের যুবরাজ সালমান বলেছেন, মেয়েরা নিজের সম্মানজনক পোশাক নিজেরাই বেছে নিতে পারবেন৷ কেউ বলছেন, যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত৷ কেউ বলছেন, ব্যাখ্যা স্পষ্ট নয়৷ কেউ বলছেন, সংস্কারের আরো এক পদক্ষেপ৷ কেউ বলছেন, এখনো অনেক পথ চলার বাকি৷ তবে সকলেই আশাবাদী৷ সৌদি আরবে মেয়েদের ওপর যে নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, ক্রমশ তা শিথিল হচ্ছে৷ এবং তার জন্য একমাত্র ধন্যবাদ প্রাপ্য সে দেশের বর্তমান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের৷ সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে ১ ঘণ্টার এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন যুবরাজ সালমান৷ সেখানে তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের মেয়েরাই ঠিক করবেন, তারা কী পরবেন৷ তিনি বলেছেন, আবায়া বা বোরকা পরা মোটেই বাধ্যতামূলক নয়, কারণ, শরিয়তে তার কোনো উল্লেখ নেই৷ শরিয়া থেকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সেখানে বলা আছে, মেয়েরা পুরুষের মতো সম্মানজনক পোশাক পরবেন, যাতে তাঁদের শরীর ঢাকা থাকে৷ কিন্তু কোনো বিশেষ পোশাকের কথা সেখানে বলা নেই৷ বস্তুত, বিভিন্ন দিক থেকেই নারীদের ওপর নানারকম অসম্মানজনক বিধিনিষেধ চালু আছে আরবে৷ জনসমক্ষে আসতে হলে মেয়েদের সেখানে কালো বোরকা পরতে হয়৷ মাথা এবং মুখও ঢেকে রাখতে হয়৷ অন্যরকম পোশাক পরার জন্য সেখানে মেয়েদের জেলও হয়েছে৷ পুলিশ এবং প্রশাসন এ বিষয়ে খুবই কড়া৷ কিন্তু যুবরাজের ঘোষণার পর অনেকেই মনে করছেন, সেই ব্যবস্থা এবার শিথিল হবে৷ মেয়েরা পোশাকের স্বাধীনতা পাবে৷ তবে সে দেশে নারী স্বাধীনতা নিয়ে যারা আন্দোলন করেন, তাঁদের অনেকেরই বক্তব্য, যুবরাজ বিষয়টি ভাসিয়ে দিয়েছেন৷ বলেছেন, মেয়েদের সম্মানজনক পোশাক পরতে হবে৷ আইনে এর ব্যাখ্যা কী হবে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন৷ বস্তুত তাদের মতে, কিছুদিনের মধ্যেই যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন৷ সেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও তার দেখা হওয়ার কথা৷ সেখানে গিয়ে যাতে কোনো অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে না হয়, তার জন্যই সালমান এমন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বলে অনেকের ধারণা৷ তবে অনেকেই বিষয়টিকে সদর্থক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন৷ তাঁদের বক্তব্য, এর আগেও বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করেছেন সালমান৷ এ বছরের গ্রীষ্ম থেকে সে দেশের মেয়েরা গাড়ি চালাতে পারবেন৷ বিভিন্ন খেলার অনুষ্ঠানেও মেয়েরা যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন৷ যদিও সেখানে তাকে কোনো পুরুষ মানুষের সঙ্গে যেতে হবে৷ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এখনো অনেক পথ চলার বাকি৷ কিন্তু সংস্কার হচ্ছে৷ সেটাই আশাব্যঞ্জক৷ তাদের বিশ্বাস, যুবরাজের ঘোষণার পর নারীদের পোশাকের বিষয়ে আইনও বদলাবে৷ উল্লেখ্য ইরানে বছরখানেক ধরে বোরকা এবং হিজাবের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন সেখানকার নারীরা৷ বহু নারী ইতিমধ্যে জেলে গিয়েছেন৷ এমন সময়ে যুবরাজ সালমানের এহেন বক্তব্য আশা জাগায়৷