তুরস্কের মূল ধারায় বাংলাদেশি ছাত্ররা



কাওসার আহমেদ

  • Font increase
  • Font Decrease

তুরস্ক,ইজমির থেকে: তুরস্কের ভৌগলিক অবস্থান ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশে। এ কারণে জিওপলিটিক্যালি বা স্ট্যাটিজিক্যালি যেমন গুরুত্বপূর্ণ; অন্যদিকে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার আশায় আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে আগত অবৈধ অভিবাসীদের এক স্বর্গরাজ্য। এই তালিকায় বাংলাদেশিদের সংখ্যা কম নয়। এক দশক আগেও বাংলাদেশীদের এখানে অবৈধ অভিবাসী হিসাবেই পরিচিতি ছিল। এখন এ চিত্র পাল্টেছে। তুর্কীদের কাছে বাংলাদেশ মানে মেধাবীদের দেশ-এই পরিচয় ব্যাপকতর হয়েছে।

তুরস্কে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দেশটির মূল ধারায় আসতে শুরু করেছে। বেশ কয়েকজন  বাংলাদেশি তুরস্কের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও সাংবাদিক হয়েছেন। এছাড়া স্কলারশিপ  নিয়ে  প্রায়  ১০০ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন। প্রায় ২০০ জন অনার্স ও মাস্টার্স পড়ছেন। সেই সাথে সেলফ ফান্ডে আরও অনেকেই পড়ালেখা করছেন তুরস্কে।

কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীরাও তুরস্কে অবস্থান করে ব্যবসা বাণিজ্য চালাচ্ছেন। তবে এখনো  ইউরোপের জার্মানি, ব্রিটেন বা যুক্তরাষ্ট্রের মত বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেনি। বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে  শিক্ষাথীরা আগমনের সংখ্যাই বেশি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/14/1534226315146.jpg

প্রতি বছর বিশ্বের ১৯০ টি দেশ থেকে ৫০০০  শিক্ষার্থী কে সরকারি স্কলারশিপে নেয় তুর্কি।ইউরোপিয়ান ইরাসমুস স্কলারশিপ ও দিয়ানাত স্কলারশিপ প্রদান করা হ্য়। এছাড়াও বিভিন্ন এনজিও এবং ইউনিভার্সিটির পৃথক স্কলারশিপও চালু রয়েছে। এ সুযোগে তুরস্কে এখন বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী এখানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আসছেন।  

সম্প্রতি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করে মাজহারুল ইসলাম রবিন তুরস্কের হাজেতেপে ইউনিভার্সিটিতে সরকারি স্কলারশিপ নিয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসাবে তুরস্কের নেভশেহির হাজী বেকতাস ভেলি ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছেন।

তিনি বলেন, ‘আই ফিল প্রাউড, এটা আমার, আমার পরিবারের, এলাকার ও সবশেষে বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। আর বাংলাদেশিদের জন্য তুর্কি ইজ দ্যা বেস্ট অপশন, কারন এখানের লাইফস্টাইল ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড, কোয়ালিটি এডুকেশন তারপর মুসলিম হিসাবে খাদ্যাভ্যাস এর ক্ষেত্রেও হালাল হারাম খোঁজার কোন দুশ্চিন্তা নেই।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/14/1534226337751.jpg

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেন্টাল সার্জারি সম্পন্ন করেছেন ডা. আবু শামিম মুহাম্মাদ সাদাত খন্দকার। তারপর জাপানের টোকিও মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটি থেকে মলিকুলার কারনিফ্যাইসাল এম্ব্রিওলজিতে পিএইচডি শেষ করেন। বর্তমানে তুরস্কের গাজী আনতেপ ইউনিভার্সিটিতে ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিন এ অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসাবে কর্মরত।

আবু বকর সিদ্দিক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্কিওলজীতে পড়ালেখা করে এখন তুরস্কের সরকারী স্কলারশিপে মারদিন আরতুকলু ইউনিভার্সিটিতে একই বিষয়ে পিএইচডি করছেন। একইসাথে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসাবে শিক্ষকতা পেশাও নিয়োজিত।

সরয়ার আলম এসেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তুরস্কে আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটিতে তুর্কি সরকারী স্কলারশিপ এর আওতায় সাংবাদিকতায় পড়ছেন। তারপর কিছুদিন শিক্ষকতাও করেছেন ফাতিহ সুলতান মেহমেত ভাকিফ ইউনিভার্সিটিতে। তুর্কি সরকারের রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনদোলু এজেন্সিতে তিনি ডেপুটি চিফ রিপোটার হিসাবে কর্মরত আছেন।  

মেহেদী হাসান ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বিবিদ্যালয়ে অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজিতে ইলেকট্রিকেল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে এসেছেন তুরস্কে। সরকারী বৃত্তি নিয়ে কারাদেনিজ টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে একই প্রোগ্রামে মাস্টার্স করেন। তিনি সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য ড্রোন আবিষ্কার করেন। বর্তমানে ভেরা ইলেকট্রমেকানিক আ.সে. নামে একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে তুরস্কে কর্মরত আছেন।