ঢাবির বাজেট ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকা



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার বাজেট পাস করা হয়েছে। বুধবার (২৬ জুন) সিনেটে এই বাজেট ঘোষণা করা হয়।

বাজেটে গবেষণার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪০ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

বিকালে সাড়ে ৩টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ঢাবি সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে তিনি বাজেট উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, কমপক্ষে ১৫০০ কোটি টাকার বাজেট আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন। আমাদের স্ট্যান্ডার্ড প্রোডাকশনের জন্য এই ৮০০ কোটি টাকার বাজেট আমাদের নিতান্তই কম। আমাদের বর্তমান সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে আন্তরিক। আশা করি, আমরা সামনে আরও বড় বাজেট পাব।

উপাচার্যের অভিভাষণে সিনেটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, সিনেটের এখন সদস্য সংখ্যা ১০৫, যা ১৯৯৩ সালের পর পূর্ণাঙ্গ সিনেট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজীবন সদস্য পদ প্রদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই। এছাড়া পাঁচজন সংসদ সদস্যকে নতুন সদস্য হিসাবে সিনেট অভিবাদন জানাই।

তিনি বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুগ বাস্তবতার নিরিখে বাস্তবায়নযোগ্য নতুন অ্যাকাডেমিক ও অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষকদের বিদেশে প্রশিক্ষণ শীর্ষক একটি উদ্যোগ গ্রহণ করে। দুঃখজনকভাবে পরবর্তী সরকার ২০০৫ সালে তা বন্ধ করে দেয়। প্রধানমন্ত্রী ‘বঙ্গবন্ধু ওভারসিস স্কলারশিপ' শিরোনামে তা পুনরায় চালু করেছেন। মোট ৪০ জন শিক্ষক এ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কাজ শুরু করেছেন।

DU

বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃত তথ্য না জেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও র‌্যাংকিং নিয়ে ঢালাওভাবে অনেকেই যেসব মন্তব্য করেন, তা খুবই হতাশাজনক। অনেক মানদণ্ডেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় স্বীকৃত জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশকে উৎসাহিত করে থাকে। শিক্ষকরা তা করেও থাকেন।

‘২০২০ মুজিব বর্ষ এবং ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন, এ দু’টো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে অর্থবহ করে রাখার জন্য ঢাবি বিভিন্ন কর্মসূচি ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে থাকবে- শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে কিছু উদ্যোগ, গবেষণাগার উন্নয়ন ও ভৌত অবকাঠামো সম্প্রাসারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্হাপন, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক ক্যাম্পাস বিনির্মান প্রভৃতি।’

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ৬৯৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খাত থেকে ৬৬ কোটি টাকা আসবে। বাজেটে সম্ভাব্য ঘাটতি ধরা হয়েছে ৪৫.৭৭ কোটি টাকা।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৭৬১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সে হিসেবে এ বছর বাজেট বেড়েছে ৬৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

অধিবেশনের কার্যসূচিতে ছয়টি বিষয় রাখা হয়েছে। এগুলো হলো- উপাচার্যের অভিভাষণ, কোষাধ্যক্ষের বাজেট উপস্থাপন, পূর্ববর্তী অধিবেশনের কার্যবিবরণী অনুমোদন, ২০১৭-১৮ সালের বার্ষিক বিবরণী বিবেচনা, জগন্নাথ হল ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মনোনয়ন এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য ছয়জনের একটি প্যানেল অনুমোদন।