ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনের মাঠে থাকার পরামর্শ সম্পাদকদের

ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনের মাঠে থাকার পরামর্শ সম্পাদকদের, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পত্রিকার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশান হোটেল লেকশোরে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এমন আহ্বান জানান তারা।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পত্রিকার সম্পাদক ও ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রধানদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সরকার বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানের শুরুতে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও ফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য রাখেন।

এরপর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের কাছে প্রশ্ন রাখেন দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান। তিনি প্রশ্নে জানতে চান, ‘ক্ষমতায় অথবা বিরোধী দলে গেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করবে কিনা।'

নাঈমুল ইসলাম খান পরে আরেক প্রশ্নে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঐক্যফ্রন্টের জনসভাগুলোতে সকল ধর্মীয়গ্রন্থ পাঠ করে সভার কার্যক্রম শুরু করেছে, পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রশান্তিমূলক আলোচনা হচ্ছে- এগুলো তাদের ঐক্যবদ্ধ চিন্তার ফসল কিনা?

ঐক্যফ্রন্টের কাছে তিনি আরও জানতে চান, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট নিয়ে তাদের কোনো ঐক্যবদ্ধ চিন্তা আছে কি না? আর থাকলে তা নির্বাচনের আগে লিখিতভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপন করবেন কিনা?

বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে, সভায় কামাল হোসেন সাংবাদিকদের কাছে জানতে চেয়েছেন, আপনারা নিরপেক্ষতার জায়গা থেকে কি করলে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে?

ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উভয়েই এসব প্রশ্নের জবাব দেন।

ক্ষমতায় গেলে ঐক্যফ্রন্টের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালেদী জানাতে চাইলে এর উত্তরে কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।

মতবিনিময় সভা শেষে সাপ্তাহিক এর সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা সাংবাদিকদের বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্তকে আমাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তাদেরকে নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকার কথাও বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, নির্বাচনে প্রতিকূল অবস্থা থাকবেই। কিন্তু মাঝে-মধ্যে নির্বাচন বয়কটের সুর ঐক্যফ্রন্টের কাছে শোনা যায়। যা সাধারণ মানুষসহ গণমাধ্যমকে ভড়কে দেয়। তাই এসব বক্তব্য পাল্টে আগামীর বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনে থাকার কথা বলা হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, ঐক্যফ্রন্ট গণমাধ্যমে কাছে প্রকৃত চিত্র দেখতে চায়। তারা বলেছেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অনেক ঘাটতি আছে। আমরা বলেছি, ঐক্যফ্রন্ট প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের নিকট যেতে পারে। এতে নির্বাচনের পরিবেশ অনেকটাই তৈরি হবে। তারা এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের সহায়তা চেয়েছেন। জোটের নেতাকর্মীরা যাতে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে কাজ করতে পারেন।

ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ড. কামাল হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলেছি। সম্পাদকরা আমাদের নিকট তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন। নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষা করা যেমন সরকারের কর্তব্য তেমনি আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে।’

এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা সব রকমের সহযোগিতা সম্পাদকদের কাছ থেকে চাই।

মতবিনিময় সভায় সিনিয়র সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন, দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, আমাদের নতুন সময় সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা, সাপ্তাহিক বুধবার সম্পাদক আমির খসরু, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, দিনকাল সম্পাদক রেজোয়ান সিদ্দিকী, ইনকিলাবের যুগ্ম-সম্পাদক মুন্সি আবদুল মান্নান, এএফপির ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম, রয়টার্সের সিরাজুল ইসলাম কাদির, ডেইলি স্টারের প্লানিং এডিটর সাখাওয়াত লিটন, যুগান্তরের প্রধান প্রতিবেদক মাসুদ করিম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক আবু তাহের, বাংলাদেশের খবরের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন ও সমকালের চিফ রিপোর্টার লোটন একরামসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই ঘন্টাব্যাপী মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জেএসডির আসম আবদুর রব, তানিয়া রব, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মনটু, সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমেদ ও গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সাথে বসলেন তারা। এই ফ্রন্টে বিএনপি, জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এই ৬টি রাজনৈতিক দল রয়েছে।

এর আগে গত ১৮ অক্টোবর কূটনীতিকদের সাথেও মতবিনিময় করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শনিবার (১৭ নভেম্বর) বেসরকারি টেলিভিশনসহ অনলাইন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের।

নির্বাচন এর আরও খবর

//election count down