সমস্যায় জর্জরিত বিটিসিএল, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার



সিদ্দিকুর রহমান, ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশাল: ঘন ঘন লাইন কেটে যাওয়া, সার্ভিস ভালো না পাওয়াসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত বরিশাল অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিফোন কোম্পানি বিটিসিএল। তাই বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানি ও স্থানীয় ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে পারছে না বিটিসিএলের ল্যান্ড ফোন ও ইন্টারনেট সেবা।

তাছাড়া বরিশাল অঞ্চলের এক্সচেঞ্জগুলোতে সংযোগ ক্ষমতার তিনভাগের দুই ভাগই খালি রয়েছে। এতে বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। গত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানটির আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ।

বিটিসিএলের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল অঞ্চলে বিটিসিএলের এক্সচেঞ্জের সংখ্যা প্রায় ৫০টি। ফোন সংযোগ দেয়ার ক্ষমতা আছে প্রায় ৪৩ হাজার। অথচ এ অঞ্চলে টেলিফোনের সংযোগ রয়েছে মাত্র ১৬ থেকে ১৭ হাজার। আর টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগের ধারণ ক্ষমতা ৩ হাজার ৬৫৬ হলেও সংযোগ রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৫৭৭টি।

এদিকে আরও জানা গেছে, ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে বরিশালে টেলিকম বিভাগে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১০ কোটি ৭৯ লাখ ২৬ হাজার ১৪৬ টাকা। ঠিক ৫ বছরে পরে ২০১০-১১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৮১ লাখ ৮৫ হাজার ২১৩ টাকায়। আর ২০১৪-১৫ তে কোম্পানির এ অঞ্চলে মোট আয় হয়েছিল ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং ২০১৬-১৭-তে আয় হয় মাত্র ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

এর বিপরীতে ২০১৪-১৫ সালে ১১ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪৫ টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং ২০১৬-১৭-তে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়।

বিটিসিএলের যখন এই অবস্থা ঠিক তখনই বেসরকারি পর্যায়ে ইন্টারনেটে ব্যবসা রমরমা। ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা বলছে বিটিসিএল গ্রাহককে চাহিদা মাফিক সেবা দিতে না পারায় তারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছে ।

প্রায় ১০ বছর ধরে বিটিসিএলের টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সেবা গ্রহীতা আজমল হোসেন জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে যে সার্ভিসগুলো দেয়ার কথা। সেগুলো পুরোপুরি পাচ্ছি না। মাঝে মাঝে লাইনে সমস্যা হলে বার বার ফোন দেয়া সত্ত্বেও তাদেরকে পাওয়া যায় না। তাইতো কয়েকদিন আগে বেসরকারি একটি ব্রডব্যান্ড কোম্পানির কাছ থেকে ইন্টারনেট সংযোগ নিয়েছেন।

স্থানীয় ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ইউরোটেল বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান এসএম জাকির হোসেন বলেন,‘বিটিসিএলের প্রতি আমাদের দাবিটি হল, ওনাদের সার্ভিস, কল সেন্টার, সার্পোট এবং ম্যানেজমেন্ট আরও শক্তিশালী করা দরকার। যার ফলে আমরা যারা লোকাল ব্রডব্যান্ড ব্যবসায়ী রয়েছি তারা তাদের কাছ থেকে ব্যান্ড নিয়ে চালাতে পারি।’

এদিকে বছরের পর বছর ধরে লোকসানের কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের বরিশাল অঞ্চলের সহ-ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বিটিসিএলের সেবা আধুনিকায়ন হচ্ছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিটিসিএলের ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর সংখ্যা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া চাহিদা মোতাবেক সরকারও ইনভেস্ট করতে পারছে না। তাই অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের জন্য দ্রুত ইনভেস্ট দরকার।

তিনি আরও জানান, বিভাগের প্রতিটি উপজেলায় বিটিসিএলের কানেকশনের বিপরীতে যে আয় হয় তা লাভজনক নয়। আর ইতোমধ্যে বিভাগের প্রায় সবকটি উপজেলায় ফাইবার অপটিক্যাল লাইনও চলে গেছে। এর মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।