মেঘের ভেলায় ভেসে সান্দাকফু-ফালুট: শেষ পর্ব



তৌফিক হাসান
ছবিঃ মনিরুল ইসলাম

ছবিঃ মনিরুল ইসলাম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফালুট পৌঁছার আগেই বৃষ্টি শুরু হয়েছিল যা রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশই বাড়ছিল! সব মেঘ গলে পানি হয়ে ঝরে গিয়ে সকালে একটা ঝকঝকে সূর্যোদয় পাবো এই আশাবাদ নিয়ে ঘুমাতে গিয়েছিলাম। রাতে টিনের চালে বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পরেছিলাম, কিন্তু দেহঘড়ি ঠিকই সজাগ ছিল। ভোর সাড়ে ৪টায় ঘুম ভেঙে গেল, জেগে উঠে দেখি মনির ভাই আগেই জেগে গেছে। যে শব্দ গতরাতে অন্যরকম ভালোলাগা তৈরি করেছিল সেই একই শব্দ চরম বিরক্তি এবং শঙ্কার সৃষ্টি করলো। হিমালয়ের শৃঙ্গ দেখা তো দূরের কথা, বৃষ্টি না কমলে যে আমাদের ফালুটেই বসে দিন কাঁটাতে সেটা ভাবতেই শঙ্কিত হয়ে গেলাম। জালানার পর্দা সরিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আবারও বিছানাতে গা এলিয়ে দিলাম। আলো ফোঁটার বেশ পর বিছানা ছেড়ে ফ্রেশ হলাম। অঝোর ধারায় বৃষ্টি তখনও ঝরছে, অগত্যা নাস্তা সেরে সবার সঙ্গে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা। সাদা চামড়ার জুটিগুলো খানিকক্ষণ অপেক্ষা করে যাত্রা শুরুর সিদ্ধান্ত নিল। ওরা যেতে পারলে আমরা কেন বসে থাকবো, যে ভাবা সেই কাজ ৫ মিনিটে আমরাও রেডি হয়ে গেলাম। আমাদের দেখাদেখি কলকাতার আর সিকিমের গ্রুপ দুটোও যাবার তোরজোড় শুরু করে দিল। আজ আমাদের ১৬ কিমি ট্রেক করে গোর্খে গ্রামে যাবার কথা। পুরো ট্রেকটাই সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের মধ্য দিয়ে হেঁটে নিচের দিকে নামতে হবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরসীমানায় অবস্থিত সিঙ্গালিলা পর্বতশ্রেণি, আর সেই পর্বতশ্রেণি জুড়ে বিস্তৃত সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান। এই উদ্যানে ওক, হেমলক, রূপালি দেবদারু, রূপালি ফার জাতীয় গাছ প্রভৃতি দেখা যায়। প্রাণীর ভিতরে দেখা যায় রেড পান্ডা, সোনালী বিড়াল, বনবিড়াল, কালো ভাল্লুক এবং অসংখ্য পাখী। আমাদের মধ্য একটা অন্যরকম উত্তেজনা ছিল আজকের এই ট্রেক কে ঘিরে, কিন্তু এমন বৃষ্টি সব মাটি করে দিল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/03/1559557887498.jpg

যাইহোক, ভারী বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ট্রেকার্স হাট ছাড়লাম। ফালুট ছাড়ার আগে নিরাপত্তারক্ষী ক্যাম্পে গাইডকে রিপোর্ট করতেই হবে, সেটাই নিয়ম। ক্যাম্পের গেটে দাড়িয়ে অনেক ডাকাডাকি করা হলো, এই ভারী বৃষ্টিতে মামারা গেট ফেলে রেখে বিছানায় গা এলিয়েছে মনে হয়। অনেক ডাকাডাকি করেও যখন কাউকে পাওয়া গেল না তখন গাইড সিদ্ধান্ত নিল রিম্বিকে গিয়ে রিপোর্ট করবে।

আবার হণ্টন শুরু, যতই বনের ভিতর ঢুকছি ততই মনে মধ্যে একটু আধটু ভয় লাগতে শুরু করছে। মাথার উপর ভারী বৃষ্টি, পায়ের নিচে পাহাড় বেয়ে নামা চলমান পানির ধারা। কখনও কখনও সেই চলমান পানির ধারা বেশ জোরালো হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও পায়ের নিচে পাথর আছে আবার কোথাও শুধুই কাদামাটি। কোনো দিকে তাকানোর স্কোপ নেই কারন একটু অসাবধান হলে পা হড়কে বিপদ হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘণ্টাখানেক চলার পর বৃষ্টির প্রকোপ একটু কমে এলো, আমাদের পায়ের মাসলও একটু রিল্যাক্স করার সুযোগ পেল। বৃষ্টি কমে যেতেই সারা উদ্যান ঘন কুয়াশায় ভরে গিয়ে এক অদ্ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি করলো, কেমন গা ছমছম করা পরিবেশ। মনে হচ্ছিল যেন আমরা কোনো হলিউড ফিল্মের ক্যারেক্টার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/03/1559557923665.jpg

কখনও নিয়মিত চলার রাস্তা, কখনও শর্টকাট নিতে গিয়ে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে, কখনও প্যাঁচপ্যাঁচে কাঁদার মধ্য দিয়ে আবার কখনও হাচরে পাঁচরে বা গাছের লতা অথবা ঝুলেপরা বাঁশগাছ ধরে টারজানের মতো স্থান পরিবর্তন। ভেজা শরীর আর বৃষ্টির কারনে ছবি বা ভিডিও ধারন করার তেমন ইচ্ছেই হলোনা। খুব একটা কঠিন না হলেও পথটা বেশ অ্যাডভেঞ্চারাস ছিল। ঘন জঙ্গল, পায়ের নিচে চল মান পানির ধারা, আবার কোথাও প্যাচপ্যাচে কাদা, কোথাও ঝরাপাতার কার্পেট বিছানো রাস্তা আবার কোথাও ভেঙ্গে পরা বিশাল গাছের নিচ দিলে অথবা ডিঙ্গিয়ে পথ চলা সে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

চলার পথে বৃষ্টির কারণে সামান্য দু-একটা পাখি ছাড়া তেমন কিছুই আমাদের চোখে পরেনি, তবে একখানা জোঁক আমার গালে চুম্বন দিয়ে জঙ্গলে ট্রেক করার ষোলকলা পূর্ণ করে দিয়েছিল। গোর্খে যতই কাছে আসতে থাকলো আবহাওয়া ততই ভাল হতে লাগলো আর নামার পথটা আরও খাঁড়া হতে লাগলো। পাহাড়ে উঠতে আমার তেমন সমস্যা হয় না, অনেক সময় ধরে নিচে নামতে থাকার কারনে আমার বাঁ পায়ের হাঁটুতে ব্যথা অনুভুত হতে লাগলো। তাই আমার নামার গতি একটু কমে গিয়েছিল, সাথে মনির ভাইয়েরও তবে আমাদের কনিষ্ঠ সদস্য স্বাভাবিক গতিতেই নেমে যাচ্ছিল। চলতে চলতে একসময় পাহাড়ি ঝরনার শব্দ কানে আসলো, গাইড বলল আমরা গোর্খের একেবারে কাছে চলে এসেছি আর ওটা শব্দটা গোর্খে নদীর পানি বয়ে যাবার শব্দ। কিছুদুর যেতেই জঙ্গল শেষ হয়ে গোর্খে গ্রামটা দৃশ্যমান হল। লিখে বিশ্বাস করাতে পারবো না কিরকম সুন্দর গ্রাম। বেশ খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে নিচে নামা শুরু করলাম। অনেকক্ষণ সময় নিয়ে ধীরে ধীরে অতি সাবধানে নামতে থাকলাম আর তাড়া করতে গিয়ে রুবেল ইতিমধ্যেই ৩ বার কুপোকাত হলে গেল।

ভাগ্য বেশ ভালই বলতে হবে রুবেলের, তেমন কোনো আঘাত পায়নি। বেশ খানিকক্ষণ সময় নিয়ে আমরা নিচে নেমে আসলাম,  হোম স্টে তে থাকার ব্যবস্থা হলো। রুমে ব্যাগ রেখে আন্ডাকারির আর সবজি অর্ডার করে বাহিরের অবিরাম ধারায় ফ্রেশ হতে গেলাম। বেশ সময় নিয়ে বুট আর কাপড় পরিস্কার করে রুমে ফিরে গোসল সেরে নিলাম। ততক্ষণে আমাদের লাঞ্চ রেডি, ঝটপট খেয়ে নিয়েই বেরিয়ে গেলাম গ্রাম দেখতে, আসলে তর আর সইছিল না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/03/1559557938646.jpg

আমাদের হোম স্টের পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে পাহাড়ি চপলা নদী, গ্রামে রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটা বাড়ি আর সরকারি ট্রেকার্স হাট,  প্রতিটা বাড়িতে রয়েছে নানান রঙের ফুলের বাগান। এমনিতেই পাহাড়ের বাড়িগুলো খুব সুন্দর হয় তার উপর ফুলবাগান বাড়িগুলোকে আরও সুন্দর করে তোলে। শুধু বাড়িগুলো নয়, গোর্খের রাস্তার পাশের ফুটে রয়েছে নানান রকম ফুল। আরও রয়েছে বুনো স্ট্রবেরি পেকে একেবারে লাল টুকটুকে হয়ে আছে, সাইজে অনেক ছোট তবে বেশ সুস্বাদু। আমরা পটাপট কিছু তুলে নিয়ে পেটে চালান করে দিলাম, মজা করে ছবিও তুললাম। গোর্খেতে নদীটাই সিকিম-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত। ছোট্ট পাহাড়ি নদীতে কাঠের সুন্দর একটা ব্রিজ, ব্রিজ পেরিয়ে সিকিম অংশে গিয়ে ঘাসের উপর অনেকক্ষণ বসে থাকলাম। বসে বসে পাহাড়ি নদীর সৌন্দর্য আর পাহাড়ের ভাজে ভাজে সবুজের মাঝে সাদা মেঘের নৃত্য দেখতে লাগলাম। বেশ খানিকক্ষণ বসে থেকে উঠে পরলাম আর সন্ধ্যা নামার আগ পর্যন্ত আমরা ঘোরাঘুরি করলাম, গোর্খের উচ্চতা প্রায় ৮০০০ ফুট ঠান্ডা তেমন নেই খুবই মনোরম আবহাওয়া। সন্ধ্যার পর তো আর কোন কাজ নেই, ডিনারের ডাক পরল। এবার ডিনারে একটা স্পেশাল ডিম ভাজি রান্না করে খাওয়ালো রুবেল, ভালই লাগলো । ডিনার সেরে রুমে চলে গেলাম, বিছানায় শুয়ে শুয়ে বহমান গোর্খে নদী বয়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে লাগলাম।

আজ এই প্রথম একটু বেলা করে বিছানা ছাড়লাম কারন আমাদের তেমন তারা নেই আজ আর ট্রেক রুটটাও বেশ স্বস্তিদায়ক। নাস্তা সেরে সকাল ৮টার দিকে বেরিয়ে পরলাম, আজ হাঁটবো ২৩ কিমি। শুরুতেই খাড়া উঠতে হলো, একেবারে হাফ ধরে গেল। তবে সামান্য পরেই ঠিক হয়ে গেল, হবেই বা না কেন এমন সুন্দর পাইনবনের মধ্য দিয়ে গেলে সবাই শারীরিক কষ্ট ভুলে যাবে। কিলো এক যেতেই সামান্দিন ভিলেজ পৌঁছে গেলাম। অসম্ভব সুন্দর গ্রাম সামান্দিন, একবারে ক্যালেন্ডারের পাতায় যেমন পাহাড়ি গ্রামের ছবি দেখি তেমন। সামান্দিনে স্কুল, খেলার মাঠ, ফসলের খেত, প্রার্থনালয় সবই আছে।

খানিকক্ষণ গ্রামটা দেখে, ছবি তুলে পা বাড়ালাম। আসলে মন চাইছিল না, মনে হচ্ছিলো আরও খানিকক্ষণ থেকে যাই কিন্তু যেতে হবে কারণ ট্রাকে আমরা সবসময়ই একটা টার্গেট নিয়ে হাঁটি। ক্যালকুলেশনের বাহিরে সময় নষ্ট করা যায় না। সামান্দিন শেষে আবারও পাইনবন, আরও কিছুদূর যেতে নানান রকমের গাছপালার দেখা পেলাম। নানান পাখির ডাক শুনতে শুনতে আমরা চললাম  শ্রীখোলার পথে। কিলো ২ যাবার পর থামলাম রাম্মামে, হোম স্টেতে চা এর অর্ডার করে বাহিরে চেয়ার পেতে বসলাম। ঝঁকঝঁকে রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়া, অপর পারে সিকিম। পাহাড়ের ভাজে ভাজে সুন্দর সুন্দর ঘরবাড়ি এবং স্তুপা। পাহাড় সারির এক মাথায় উঁকি দিচ্ছে সাদা ধবধবে হিমালয় শৃঙ্গ। এখান থেকে পুরো রেঞ্জ না দেখা গেলেও খানিকটা দেখা গেল। স্তুপা থেকে ভেসে আসা বৌদ্ধ ধর্মীয় সঙ্গীত শুনতে শুনতে গরম গরম চা পান করলাম, এরকম পরিবেশে চা পান করতে আমার অসম্ভব ভালো লাগে চায়ের স্বাদ যেমনই হোক না কেন! এই প্রথম মোবাইলে নেটওয়ার্ক পাওয়া গেল, সবাই যার যার বাসায় কথা বললাম। সবার বাসার লোকজন টেনশনে ছিলো সাইক্লোন ফণীর কারণে। কথা বলে সবাইকে আশ্বস্ত করে পা বাড়ালাম শ্রীখলার পথে।

পথে শুকনো ঝরপাতার কার্পেট বিছানো রাস্তা, ছোট ছোট পাহাড়ি ঝরনা, অসম্ভব সুন্দর ছোট ছোট পাহাড়ি পথ পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম শ্রীখোলা। শ্রীখোলার আইকোনিক ব্রিজে ছবি তুলে পা বাড়ালাম সেপির পথে। আর মাত্র ২ কিলোর পর আমাদের ট্রেকের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।

সেপির হোম স্টেতে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া সেরে আবার একটু হাঁটতে বের হলাম, বেশিক্ষণ বাহিরে থাকা হল না শরীরে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি পড়ল বলে। আমাদের কনিষ্ট ট্রেকার রুবেলের পিড়াপিড়িতে হোম স্টের মালিক একটা মুরগি জোগাড় করলো, রুবেল জবাই করে দিল। রাতের খাবার খেয়ে ফেরার আয়োজন শুরু করলাম। ভোর ৫টায় রওনা হতে হবে, জিপে করে রিম্বিক হয়ে শিলিগুড়ি। তারপর ফুলবাড়ি বর্ডার ক্রস করে দেশের মাটিতে। ট্রেক শেষ করার সন্তুষ্টি নিয়ে আর দেশে ফেরার উত্তেজনা নিয়ে ঘুমুতে গেলাম।

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর-ট্রাভেল এন্ড ট্যুর, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর  চলতি বছরের ১ এপ্রিল সীমান্ত খুলে দেয় মালয়েশিয়া। মূলত ওইদিন থেকে দেশটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এর ফলে ফের পর্যটক টানতে নানা উদ্যোগ নেয় মালয়েশিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটির পর্যটন উন্নয়ন সংস্থা ‘ট্যুরিজম মালয়েশিয়া’ ২ থেকে ৭  জুন বাংলাদেশের  গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকা এবং চট্রগ্রামে প্রথমবারের মতো রোডশো’র আয়োজন করছে।

ঢাকায় রোববার (৫ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য  রোডশো’র আয়োজন করে মালয়েশিয়া পর্যটন উন্নয়ন বোর্ড- ট্যুরিজম মালয়েশিয়া।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম, ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শিবলুল আজম কোরেশী সহ স্বনামধন্য সকল ট্রাভেল এজেন্ট এবং ট্যুর অপারেটররের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এবং ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’র সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুর আলম।

এদিকে রোডে শো উপলক্ষে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক (কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগ) সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এর নেতৃত্বে একটি মালয়েশীয় প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে মালয়েশিয়ার ৫টি ট্রাভেল এজেন্সি এবং দুটি স্বাস্থ্যশিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরাও।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম বক্তব্য রাখছেন

অনুষ্ঠানে রোড শো’র আয়োজন প্রসঙ্গে বক্তরা জানান, মালয়েশিয়া ভ্রমণে বাংলাদেশিদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করার সাথে সাথে এই রোডশো’র লক্ষ্য হলো ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা যার মাধ্যমে তারা পর্যটনকে পূর্বাবস্থায় বা আরো ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান বলেন, বাংলাদেশে ফিরে আসার এটি একটি দারুণ সময় এবং রোডশো আয়োজনের জন্য যথার্থ। বাংলাদেশে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য মালয়েশিয়ার সীমান্ত উন্মুক্তকরণ বলতে গেলে একই সময়ে সংঘঠিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ায় স্বাগত জানানোর সূযোগ পেয়ে আমরা সত্যিই রোমাঞ্চিত। পর্যটকরা এখন মালয়েশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ রোমাঞ্চকর আকর্ষণগুলো সাশ্রয়ী খরচে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ দুবছর পর পর্যটকরা এখন অনেক কিছুই এক্সপ্লোর করতে পারবেন যার মধ্যে রয়েছে সম্প্রতি চালু হওয়া আউটডোর থিমপার্ক, গেন্টিং স্কাইওয়ার্ল্ড, কুয়ালালামপূরে নতুন সাজে সজ্জিত সানওয়ে রিসোর্ট এবং জাকজমকপূর্ণ নতুন আকর্ষণ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু অট্টালিকা ‘মারদেকা ১১৮’। অনিন্দ্য সুন্দর সমূদ্রতট, চিত্তাকর্ষক পর্বতমালা ও বনোরাজিসহ বিভিন্ন আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর কর্মকান্ড আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।

উল্লেখ্য, বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যার হিসেবে মালয়েশিয়ার তালিকায় বাংলাদেশের স্থান প্রথম দিকে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন; যা মোট সংখ্যার ১৯.৩০ শতাংশেরও বেশি। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ণ কোর্স কোভিড টিকাপ্রাপ্ত বিদেশিদের জন্য মালয়েশিয়া ভ্রমণে কোন কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজন নেই। আসার আগে ও যাওয়ার পর  পর্যটকদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা লাগবে না। ১৭ বছর বা তার নিচের বয়সী শিশুদের জন্যও করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, বাটিক এয়ার এবং এয়ার এশিয়া ঢাকা এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে ভ্রমণের জন্য সপ্তাহে ৩ হাজার ৯১০ টির বেশি আসন অফার করছে।

;

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই বছর পর পুরোদমে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১ এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য সীমানা সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দর্শনার্থীদের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা কর্মী যারা দুই ডোজ বা বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন তারা খুব সহজেই মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারবেন। তাদের কোয়ারেনটিনে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে তাদের অবশ্যই যাত্রার দুই দিন আগে একটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা এবং পৌঁছানোর পরে একটি দ্রুত পরীক্ষা (আরটিকে) করতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসার কার্যক্রম বন্ধ করে দেশের সীমানা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটির সরকার। মালয়েশিয়ার প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।

;

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করলেই যাওয়া যাবে মালদ্বীপ। বিশ্বের যেকোনো দেশের পর্যটকরাই এ সুযোগ নিতে পারবে।

সম্প্রতি মালদ্বীপের পর্যটন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যা গত শনিবার থেকে কার্যকর হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো যাত্রী যদি করোনা প্রতিরোধ টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ (বুস্টার ডোজ প্রয়োজন নেই) নিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ৫ মার্চ থেকে সেসব যাত্রীর মালদ্বীপ ভ্রমণের আগে আরটি-পিসিআর টেস্টের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হলো। সূত্র: লয়ালটিলবি ডটকম

;

সাদা পানির ঝর্ণা



তৌফিক হাসান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্ধকার থাকতেই ভোর ৫টা নাগাদ হোটেল ছেড়ে নৌকা ঘাট পৌঁছে গেলাম। ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই কিছু জেলে নৌকা নিয়ে নেমে গেছে কাপ্তাই লেকের জলে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। আজকের যাত্রা সাদা পানির ঝর্ণা তথা ধুপপানির উদ্দেশ্যে। রাঙমাটির বিলাইছড়ি ঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ আমাদের বোট ছাড়ল উলুছড়ির উদ্দেশ্যে, সেখান থেকেই শুরু হবে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং। লোকালয়ের পাশ দিয়েই এগিয়ে চলছে আমাদের বোট। স্থানীয়রা কেউ কেউ লেক ঘেষা রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণ করছেন, কেউ কেউ কৌতুহলী দৃষ্টি আমাদের বোটের দিকে তাকিয়ে আছেন। এবারের যাত্রায় আমরা মোট ৯ জন যাচ্ছি। সবারই পাহাড়ে হাঁটার অল্প বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে। ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন নন-এসি বাসে করে কাপ্তাই এসেছিলাম। কাপ্তাই ঘাট থেকে দুই দিনের জন্য ৫৫০০ টাকায় নৌকা ভাড়া নিয়ে আমরা রাঙ্গামাটির বিলাছড়িতে পৌঁছেছি। রাত্রিবাস হয়েছে ঘাট লাগোয়া স্মৃতিময় বোডিং-এ। কোনরকমে থাকা যায় সেরকম রুমের ভাড়া পড়েছে ১০০০ টাকা।

কাপ্তাই লেকের বুক চিরে আমাদের নৌকা এগিয়ে চলছে। বিগত কয়েকদিন বৃষ্টিজনিত পাহাড়িঢলের কারণে সব পলিমাটি এসে জমা হয়েছে সুন্দরি কাপ্তাইয়ের বুকে, তাই পানি একেবারে ঘোলা। সুন্দর পানিপথের মাঝে মাঝে জংলার মতন আবার কখনো বা নাম না জানা জলজ ফুল দেখতে পাচ্ছি। সামান্য যাবার পর বিলাইছড়ি আর্মি সদর দফতরের নৌ-চেক পোস্ট পড়লো সেখানে যথাযথ পরিচয় লিপিবন্ধ করেই আবার সচল হলো আমাদের নৌকার ইঞ্জিন। নৌকা এবার নদী বা খালের মতো সরু পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। কি মনোরম এই পথ, সবুজে ঘেরা খাড়া পাহাড়কে পাশে রেখে চলছি। মাঝে মাঝে পাহাড়ের খাজে শুভ্র মেঘকে আটকে থাকতে দেখছি যেন সবুজ পাহাড় তার শুভ্রতায় ভরা প্রেয়সীকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে। আমরা কেউ কোনো কথা বলছিনা, অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি।

কাদা মাটি মাড়িয়ে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং শুরু

এক পর্যায়ে আমরা আলীক্ষিয়াং নামক একটা স্থানে দাঁড়িয়ে নাস্তা সেরে নিলাম। এখানে খুব কম সংখ্যক পরিবারই বাস করে যার মধ্যে মাত্র ৩টি পরিবার আছে বাঙালি। লাল মিয়া নামে এক বাঙালির হোটেলে ঝটপট নাস্তা করেই যাত্রা শুরু হলো। মিনিট ৫/৭ পরেই আবার দাঁড়াতে হলো আরেকটা আর্মি চেক পোস্টে, যথারীতি পরিচয় লিপিবদ্ধ করার পালা। এবারে চেক পোস্ট থেকে আমাদের সতর্ক করা হলো ফিরতি পথে বিকেল ৫টার মধ্যেই এই চেকপোস্ট পার হতে হবে। চেকপোস্ট পেরিয়ে সুন্দর নদীপথ ধরে যেতে যেতে মোটামুটি আড়াই ঘণ্টায় উলুছড়ি পৌঁছে গেলাম। ঘাট থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে এক ক্ষুদে গাইড বিচ্ছুকে সাথে নিয়ে শুরু হলো মূল ট্রেকিং। যাত্রা শুরুর পূর্বে মাঝির মাধ্যমে দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করে গেলাম স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে, কারণ এখানে কোন খাবারের দোকান নেই। ২০০ টাকায় আমাদের ভাত, মুরগি, আলু ভর্তা আর ডাল খাওয়ার ব্যবস্থা হলো।

যাইহোক ট্রেকিং এর শুরুতেই পথটা বেশ খারাপ। খানিকটা পথ বেশ পিচ্ছিল, গ্রিপ পেতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। আর বেশ খানিকটা পথ ভয়াবহ কর্দমাক্ত, মোটামুটি হাঁটুর সমান কাঁদা। এ ধরনের রাস্তার আলাদা একটা মজা আছে, আমরা পাহাড়ে আসি রোমাঞ্চের খোঁজে আর এরকম পথ, নালা, জংগল, চড়াই-উতরাই ও ঝর্না দেয় ভীষণ রকম আনন্দ। ধুপপানিতে বর্ষার শেষ দিকে যাওয়াই উত্তম বিধায় আমরা সেপ্টেম্বর মাসে যাচ্ছি এই পথে। অন্য সময় গেলে হয়তো অন্যরকম সৌন্দর্য দেখতে পাবো কিন্তু ঝর্ণায় বেশি পানি পেতে হলে এর থেকে দেরিতে যাওয়া ঠিক হবে না।

অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি

 

ট্রেকিং শুরুর খানিক পরেই একটা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গ্রাম পড়ল, চারিদিকে পাহাড় মাঝখানে সমতল আর সেখানে ধান পেকে সোনালি রঙ ধারন করে আছে। কি সেই সৌন্দর্য, সবুজের মাঝে খানিকটা সোনালি আভা একেবারে চিরায়ত বাংলার রূপ। গ্রামবাসীরা তাদের উৎপাদিত ফল বিক্রি করছিল আমরা সেখান থেকে দেশি লাল পেয়ারা আর পেঁপে কিনে খেয়ে হাঁটা দিলাম।

এরপর প্রথমে একটা সিড়ি তারপর খাঁড়া তিনটে পাহাড় ডিঙিয়ে বেশ হাঁপিয়ে গিয়ে বিশ্রাম নেবো বলে চিন্তা করতেই দূরে তাকিয়ে দেখি দুটো শিশু কি যেন বিক্রি করছে! ওদের কাছে গিয়ে দেখি কলার ছড়ি ঝুলিয়ে রেখেছে, প্রতি পিস ৫ টাকা। অতঃপর বেশকিছু কলার সুব্যবস্থা করে সেখানে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু হলো আমাদের। আরও কিছুদূর গিয়ে ধুপপানি গ্রামে পৌঁছে দেখি টেবিল পেতে রীতিমতো দোকান সাজিয়ে বসে আছে, জুস পানি চিপস শসা আর ফল-মূল কি নেই সেখানে! আবারও পেয়ারা কিনে নিয়ে যাত্রা শুরু হলো আমাদের।

সাদা পানির ঝর্ণা

হাচরে-পাচরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছে গেলাম ধুপপানিতে। রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে এর অবস্থান। খুব বেশিদিন হয়নি মানুষজন এই ঝর্ণার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কিছু বছর আগে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এই স্থানে ধ্যান করার কারণে নয়নাভিরাম এই ঝর্ণাটি মানুষের নজরে আসে। তঞ্চঙ্গ্যা শব্দে ধুপ অর্থ সাদা আর পানিকে পানিই বলা হয় অর্থাৎ ধুপানির অর্থ সাদা পানির ঝর্ণা ।

মূলত এই ঝর্ণার পানি স্বচ্ছ এবং যখন অনেক উঁচু (প্রায় ১৫০ মিটার) থেকে ঝর্ণার জল আছড়ে পড়ে তখন তা শুধু সাদাই দেখা যায়। তাই একে ধুপপানি ঝর্ণা বলা হয়। বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ঝরনাগুলির মধ্যে অন্যতম এই ঝরনায় নিচের দিকে একটি গুহার মতন আছে। যা এই ঝরনাকে করেছে অনন্য।

;