শহুরের গ্রাম দরশন



মাহমুদ হাফিজ, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
জালালপুরের মাঠপ্রান্তর

জালালপুরের মাঠপ্রান্তর

  • Font increase
  • Font Decrease

দুপুরের ভাতঘুম থেকে উঠে আমরা বাইরে যাওয়ার জন্য তৈরি। রিসোর্টকর্মীরা রুমে রুমে নক করে খবর দিল, নিচে টমটম তৈরি। আমাদের কক্ষগুলো দোতলায়। বড় জানালা দিয়ে সামনের রাস্তার দুয়েকটি ইজিবাইক চলাচল অদূরের ফাঁকা মাঠ, দূরগ্রামের সবুজ দেখা যায়। অন্যদিকে গ্রাম্য টিনের ঘরবাড়ি। নিচে নেমে দেখি, রিসোর্টের গেটমুখে ইজিবাইক দাঁড়ানো, টমটমের দেখা নেই। প্রসঙ্গ তুলতেই বলা হলো, ইজিবাইককেই অনেকে টমটম বলে। ভাবলাম, ঘোড়ার গাড়ির টমটম হলেই বোধ হয় গ্রামপর্যটনের সঙ্গে মানানসই হতো। তবে আজ ঘোড়াও যে বাংলার গ্রামগুলো থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে!

হাওর ও গ্রামপর্যটন বিস্তারে জালালপুর ইকো রিসোর্ট

পরিকল্পনামতো, বৃন্দভ্রমণের পুরুষদল ইজিবাইকে উঠে বসল, মেয়েরা হেঁটে হেঁটে পাড়া বেড়াতে যাবে—যার পোশাকি নাম ভিলেজ ওয়াকিং ট্যুর। ইজিবাইক আমাদের নিয়ে গ্রামের পর গ্রাম আর ফাঁকা মাঠ পেরিয়ে যাত্রা শুরু করল। আমাদের বলতে পুরুষদলে আমি, কবি কামরুল হাসান ও ভ্রমণবিদ সৈয়দ জাফর। ফাঁকা মাঠের মধ্যে ইজিবাইক থামিয়ে অদূরের সবুজ গ্রামকে পটভূমি করে আমরা কিছু ছবি তুললাম। পথিমধ্যে একটি গ্রাম্যবাজার। দোকানের সাইনবোর্ড দেখে বুঝলাম, এর নাম দশপাখি বাজার। বৈকালিক হাটে হাটুরের সংখ্যা খুব বেশি না। তরতাজা শাক সবজি, ডিম, দুধ, মাছ নিয়ে পাংশুমুখে বসে আছে অজস্র বিক্রেতা। ক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ায় তাদের এই বিরসবদন। চলতিপথে ইজিবাইকের মধ্য নানা আলাপ হচ্ছে। আলোচনার বিষয় পুরো এলাকাটি হাওর অববাহিকা বলে এখানে মেঘবৃষ্টির আশীর্বাদ সবসময়। চারদিকে ‘ভেজিটেশন’ বা সবুজপ্রকৃতির মায়াময় রূপ অপরূপ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/09/1562673357632.jpg
পুরুষ পর্যটক দলের গ্রামপর্যটন

 

আমাদের আজকের গাইড রিসোর্টের ম্যানেজার জিহান। যাওয়ার পথে সে গ্রামগুলোর নাম বলে যাচ্ছিল। পর্যটকদলে সে আজ অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার। কিছুক্ষণের মধ্যে অদূরে দৃষ্টগোচর হলো একটি নতুন সেতু। আশপাশের সবচেয়ে পরিচিত জায়গা পাইকান বাজার। লোকেদের কাছে পাইকানবাজার শেখ রাসেল সেতু হিসেবে জায়গাটির পরিচয়। নিচ দিয়ে স্রোতহীন মজা নদী। গুগলে নাম খুজে পেলাম না। লোকজন বলল, এটা আড়িয়াল খাঁ নদী। এতে পানির চেয়ে কচুরিপানা বেশি। বুঝলাম স্রোতের শক্তি নেই বলে কচুরিপানার এতটা দাপট। যা উল্লেখের তা হচ্ছে, সবুজ প্রকৃতির মধ্যে কংক্রিটের ব্রিজে লাল রঙ করে দেশের পতাকার থিমটি উদ্ভাসিত করা হয়েছে। নদীর নাম গুগলে নেই, স্থানীয়রা বলল, আড়িয়াল খাঁ। সেতুটির অন্য বৈশিষ্ট্য এটি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী আর নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলাকে যুক্ত করেছে। দু’জেলার সীমান্তসেতু। জেলাসীমান্ত দেখার জন্য এখানে সেতুটিতে সকাল বিকাল ভিড় করে থাকে মানুষ। মনে পড়ল আমার সুইজারল্যান্ডের সীমান্তশহর বাজেল (Basel) ভ্রমণের কথা। বাজেলে রাইন নদী ঘেঁষা একটি জায়গা তিনদেশের সীমান্তবিন্দু। বর্ডার ট্রায়াঙ্গেল বলা হয় থাকে। ত্রিকোণাকৃতি স্তম্ভের তিনদিকে সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও ফ্রান্সের নাম। পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলেছে সুইজারল্যান্ড।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/09/1562673491953.jpg
নদীতে কচুরিপানার দাপট

 

সেতু পেরিয়ে মনোহরদী তথা নরসিংদী জেলার পাইকান বাজার এলাকায় পৌঁছালাম। মানুষের পর্যটন আগ্রহকে আমলে নিয়ে বছরখানেক আগে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে ‘জলতরঙ্গ’ নামের পার্ক। মজা নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা চরের ওপর রেস্টুরেন্ট, গোলাকৃতি একাধিক ওয়াচটাওয়ার, নৌকা ঘাট, ফুলবাগান, বিচ চেয়ার নিয়ে জলতরঙ্গ। ছোট্ট কাঠের সেতু পেরিয়ে ২৫ টাকার টিকেট কেটে ঢুকতে হয়। চেয়ার বা ওয়াচ টাওয়ারে বসে শেখ রাসেল সেতুটি নব্বুই ডিগ্রি কৌণিকে চমৎকার দেখা যায়। সবুজ পটভূমিতে লাল সবুজ রঙে সাজানোয়, সেতুর সঙ্গে পার্কের রঙসাজুয্যও নজর কাড়ে। আমাদের এর কিছুই জানা ছিল না। এসেছি জালালপুর ইকো রিসোর্টের গ্রাম পর্যটন ট্যুরের অংশ হিসাবে। রিসোর্টের প্যাকেজের মধ্যে সেতু-পার্ক অন্তর্ভুক্ত থাকায় হাওর দর্শনার্থীরা রিসোর্টের অতিথি হলেও গ্রামস্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/09/1562673583089.jpg
নদী থেকে শেখ রাসেল সেতু

 

আমরা সেতুতে ছবি তুলি। পার্কে ঢুকে কিছু খাই। ওয়াচ টাওয়ার ও বিচ চেয়ারে বসে নদী দেখি। ফেরার পথে প্রবেশমুখের গ্রাম্য চা দোকানে বসে দুধ চা খাওয়ার ছুতোয় অলস আড্ডায় মেতে থাকা গ্রাম্যবুড়োদের সঙ্গে গল্প করি। ইজিচালক সোহেল তাড়া দেয়, দূরের আকাশে মেঘ জমছে, যে কোনো সময় ঝুপ করে বৃষ্টি নামতে পারে।

ফিরতি পথে একদল হাঁসের ছন্দময় চলা আমাদের চোখে প্রশান্তি ঢেলে দেয়। দশপাখি গ্রামের শেষপ্রান্তের একটি গ্রাম্য পুকুরপাড়ে এই খামার। দেখি বাম দিকের ফাঁকা মাঠ থেকে উদোম গায়ের দুই হাঁসরাখাল একপাল হাঁস তাড়িয়ে রাস্তার দিকে আসছে। হাঁসদলের চলার ছন্দ তৈরি করেছে বিরল এক দৃশ্য। গাড়ি থেকে নেমে উল্লসিত হয়ে আগুয়ান হাঁসের দলটির ভিডিও করতে থাকি। স্থানীয় গ্রাম্য মানুষের কাছে এই দৃশ্য আটপৌরে... তাদের কাছে আমাদের উল্লাসমুখরতা নতুন। আমরা যখন হাঁসদলের চলাছন্দ দেখি, তারা তখন অবাক বিস্ময়ে দেখতে থাকেন আমাদের। মাঠ থেকে রাস্তায় উঠে হাঁসদল সামনে দিয়ে ডান দিকের পুকুরে নেমে ডুবসাঁতার খেলায় মেতে উঠল। দুই উদোম গা’কে জিজ্ঞেস করতেই জানাল, হাঁসের সংখ্যা চারশো। মাঠ থেকে রাতের খাওয়ার খেয়ে তাদের ফিরিয়ে আনা হলো। গোসল সেরে এখনই উঠে যাবে পুকুরপারের খামারঘরে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/09/1562673729484.jpg
হাঁসদল মাঠ থেকে খাবার খেয়ে ফিরছে

 

পর্যটকদলের কামরুল হাসান আপাদমস্তক কবি ও ভ্রমণলেখক। বহুদর্শী হলেও যা কিছু দেখেন, সদ্যভূমিষ্ঠের মতো বিস্ময়াভিভূত হয়ে দেখেন, নোট নেন। হাঁসবৃত্তান্তের নোট নেওয়া শেষ হলে আবার ইজিবাইকে চাপি। রিসোর্টগ্রাম জালালপুর এলে ইজিবাইক থেকে নেমে হেঁটে হেঁটে রিসোর্টে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ইজিচালক সোহেল ও গাইড জিহানকে বিদায় দিই। সামনে জালালপুর হাইস্কুল। বৈকালিক খেলা শেষ করে ছেলেরা ঘরে ফিরতে উদ্যত। জনে জনে সাইকেল। সৈয়দ জাফর একজনের হাত থেকে সাইকেল চেয়ে নিয়ে মাঠের মধ্যে চালাতে শুরু করলেন। দেখাদেখি আমিও। চার যুগ পরে কৈশোরে ফিরে যাওয়া। ভালোই লাগল। কবি কামরুল হাসান বসে থাকবেন কেন! তিনি একটিতে চাপলেন। তিন বুড়োর সাইকেলকাণ্ডে উপস্থিত স্কুলবালকরা খুব মজা পেল। একজন জিজ্ঞেস করল, আঙ্কেলরা বুঝি রিসোর্টে আছেন। তাদের আলাপচারিতা ও শরীরী ভাষা আমাদের বোঝাল, রিসোর্টের সুবাদে হালে তারা জালালপুরে নিত্যনতুন মানুষ দেখছে। তারা একেকজন একেকরকম। মানুষের সঙ্গে আলাপ করে তাদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হচ্ছে। রিসোর্টকে তারা গ্রামের আশীর্বাদ হিসেবে নিয়েছে।

আমরা এখানকার দু’দিনের যোগী। হেঁটে গন্তব্যের পথ ধরেছি। দিগন্তরেখায় তখন সান্ধ্য রক্তিমাভা। গ্রামের মিনার থেকে ভেসে আসছে মাগরিবের আজান।

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর-ট্রাভেল এন্ড ট্যুর, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর  চলতি বছরের ১ এপ্রিল সীমান্ত খুলে দেয় মালয়েশিয়া। মূলত ওইদিন থেকে দেশটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এর ফলে ফের পর্যটক টানতে নানা উদ্যোগ নেয় মালয়েশিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটির পর্যটন উন্নয়ন সংস্থা ‘ট্যুরিজম মালয়েশিয়া’ ২ থেকে ৭  জুন বাংলাদেশের  গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকা এবং চট্রগ্রামে প্রথমবারের মতো রোডশো’র আয়োজন করছে।

ঢাকায় রোববার (৫ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য  রোডশো’র আয়োজন করে মালয়েশিয়া পর্যটন উন্নয়ন বোর্ড- ট্যুরিজম মালয়েশিয়া।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম, ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শিবলুল আজম কোরেশী সহ স্বনামধন্য সকল ট্রাভেল এজেন্ট এবং ট্যুর অপারেটররের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এবং ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’র সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুর আলম।

এদিকে রোডে শো উপলক্ষে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক (কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগ) সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এর নেতৃত্বে একটি মালয়েশীয় প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে মালয়েশিয়ার ৫টি ট্রাভেল এজেন্সি এবং দুটি স্বাস্থ্যশিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরাও।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম বক্তব্য রাখছেন

অনুষ্ঠানে রোড শো’র আয়োজন প্রসঙ্গে বক্তরা জানান, মালয়েশিয়া ভ্রমণে বাংলাদেশিদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করার সাথে সাথে এই রোডশো’র লক্ষ্য হলো ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা যার মাধ্যমে তারা পর্যটনকে পূর্বাবস্থায় বা আরো ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান বলেন, বাংলাদেশে ফিরে আসার এটি একটি দারুণ সময় এবং রোডশো আয়োজনের জন্য যথার্থ। বাংলাদেশে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য মালয়েশিয়ার সীমান্ত উন্মুক্তকরণ বলতে গেলে একই সময়ে সংঘঠিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ায় স্বাগত জানানোর সূযোগ পেয়ে আমরা সত্যিই রোমাঞ্চিত। পর্যটকরা এখন মালয়েশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ রোমাঞ্চকর আকর্ষণগুলো সাশ্রয়ী খরচে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ দুবছর পর পর্যটকরা এখন অনেক কিছুই এক্সপ্লোর করতে পারবেন যার মধ্যে রয়েছে সম্প্রতি চালু হওয়া আউটডোর থিমপার্ক, গেন্টিং স্কাইওয়ার্ল্ড, কুয়ালালামপূরে নতুন সাজে সজ্জিত সানওয়ে রিসোর্ট এবং জাকজমকপূর্ণ নতুন আকর্ষণ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু অট্টালিকা ‘মারদেকা ১১৮’। অনিন্দ্য সুন্দর সমূদ্রতট, চিত্তাকর্ষক পর্বতমালা ও বনোরাজিসহ বিভিন্ন আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর কর্মকান্ড আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।

উল্লেখ্য, বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যার হিসেবে মালয়েশিয়ার তালিকায় বাংলাদেশের স্থান প্রথম দিকে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন; যা মোট সংখ্যার ১৯.৩০ শতাংশেরও বেশি। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ণ কোর্স কোভিড টিকাপ্রাপ্ত বিদেশিদের জন্য মালয়েশিয়া ভ্রমণে কোন কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজন নেই। আসার আগে ও যাওয়ার পর  পর্যটকদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা লাগবে না। ১৭ বছর বা তার নিচের বয়সী শিশুদের জন্যও করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, বাটিক এয়ার এবং এয়ার এশিয়া ঢাকা এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে ভ্রমণের জন্য সপ্তাহে ৩ হাজার ৯১০ টির বেশি আসন অফার করছে।

;

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই বছর পর পুরোদমে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১ এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য সীমানা সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দর্শনার্থীদের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা কর্মী যারা দুই ডোজ বা বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন তারা খুব সহজেই মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারবেন। তাদের কোয়ারেনটিনে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে তাদের অবশ্যই যাত্রার দুই দিন আগে একটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা এবং পৌঁছানোর পরে একটি দ্রুত পরীক্ষা (আরটিকে) করতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসার কার্যক্রম বন্ধ করে দেশের সীমানা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটির সরকার। মালয়েশিয়ার প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।

;

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করলেই যাওয়া যাবে মালদ্বীপ। বিশ্বের যেকোনো দেশের পর্যটকরাই এ সুযোগ নিতে পারবে।

সম্প্রতি মালদ্বীপের পর্যটন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যা গত শনিবার থেকে কার্যকর হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো যাত্রী যদি করোনা প্রতিরোধ টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ (বুস্টার ডোজ প্রয়োজন নেই) নিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ৫ মার্চ থেকে সেসব যাত্রীর মালদ্বীপ ভ্রমণের আগে আরটি-পিসিআর টেস্টের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হলো। সূত্র: লয়ালটিলবি ডটকম

;

সাদা পানির ঝর্ণা



তৌফিক হাসান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্ধকার থাকতেই ভোর ৫টা নাগাদ হোটেল ছেড়ে নৌকা ঘাট পৌঁছে গেলাম। ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই কিছু জেলে নৌকা নিয়ে নেমে গেছে কাপ্তাই লেকের জলে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। আজকের যাত্রা সাদা পানির ঝর্ণা তথা ধুপপানির উদ্দেশ্যে। রাঙমাটির বিলাইছড়ি ঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ আমাদের বোট ছাড়ল উলুছড়ির উদ্দেশ্যে, সেখান থেকেই শুরু হবে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং। লোকালয়ের পাশ দিয়েই এগিয়ে চলছে আমাদের বোট। স্থানীয়রা কেউ কেউ লেক ঘেষা রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণ করছেন, কেউ কেউ কৌতুহলী দৃষ্টি আমাদের বোটের দিকে তাকিয়ে আছেন। এবারের যাত্রায় আমরা মোট ৯ জন যাচ্ছি। সবারই পাহাড়ে হাঁটার অল্প বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে। ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন নন-এসি বাসে করে কাপ্তাই এসেছিলাম। কাপ্তাই ঘাট থেকে দুই দিনের জন্য ৫৫০০ টাকায় নৌকা ভাড়া নিয়ে আমরা রাঙ্গামাটির বিলাছড়িতে পৌঁছেছি। রাত্রিবাস হয়েছে ঘাট লাগোয়া স্মৃতিময় বোডিং-এ। কোনরকমে থাকা যায় সেরকম রুমের ভাড়া পড়েছে ১০০০ টাকা।

কাপ্তাই লেকের বুক চিরে আমাদের নৌকা এগিয়ে চলছে। বিগত কয়েকদিন বৃষ্টিজনিত পাহাড়িঢলের কারণে সব পলিমাটি এসে জমা হয়েছে সুন্দরি কাপ্তাইয়ের বুকে, তাই পানি একেবারে ঘোলা। সুন্দর পানিপথের মাঝে মাঝে জংলার মতন আবার কখনো বা নাম না জানা জলজ ফুল দেখতে পাচ্ছি। সামান্য যাবার পর বিলাইছড়ি আর্মি সদর দফতরের নৌ-চেক পোস্ট পড়লো সেখানে যথাযথ পরিচয় লিপিবন্ধ করেই আবার সচল হলো আমাদের নৌকার ইঞ্জিন। নৌকা এবার নদী বা খালের মতো সরু পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। কি মনোরম এই পথ, সবুজে ঘেরা খাড়া পাহাড়কে পাশে রেখে চলছি। মাঝে মাঝে পাহাড়ের খাজে শুভ্র মেঘকে আটকে থাকতে দেখছি যেন সবুজ পাহাড় তার শুভ্রতায় ভরা প্রেয়সীকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে। আমরা কেউ কোনো কথা বলছিনা, অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি।

কাদা মাটি মাড়িয়ে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং শুরু

এক পর্যায়ে আমরা আলীক্ষিয়াং নামক একটা স্থানে দাঁড়িয়ে নাস্তা সেরে নিলাম। এখানে খুব কম সংখ্যক পরিবারই বাস করে যার মধ্যে মাত্র ৩টি পরিবার আছে বাঙালি। লাল মিয়া নামে এক বাঙালির হোটেলে ঝটপট নাস্তা করেই যাত্রা শুরু হলো। মিনিট ৫/৭ পরেই আবার দাঁড়াতে হলো আরেকটা আর্মি চেক পোস্টে, যথারীতি পরিচয় লিপিবদ্ধ করার পালা। এবারে চেক পোস্ট থেকে আমাদের সতর্ক করা হলো ফিরতি পথে বিকেল ৫টার মধ্যেই এই চেকপোস্ট পার হতে হবে। চেকপোস্ট পেরিয়ে সুন্দর নদীপথ ধরে যেতে যেতে মোটামুটি আড়াই ঘণ্টায় উলুছড়ি পৌঁছে গেলাম। ঘাট থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে এক ক্ষুদে গাইড বিচ্ছুকে সাথে নিয়ে শুরু হলো মূল ট্রেকিং। যাত্রা শুরুর পূর্বে মাঝির মাধ্যমে দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করে গেলাম স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে, কারণ এখানে কোন খাবারের দোকান নেই। ২০০ টাকায় আমাদের ভাত, মুরগি, আলু ভর্তা আর ডাল খাওয়ার ব্যবস্থা হলো।

যাইহোক ট্রেকিং এর শুরুতেই পথটা বেশ খারাপ। খানিকটা পথ বেশ পিচ্ছিল, গ্রিপ পেতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। আর বেশ খানিকটা পথ ভয়াবহ কর্দমাক্ত, মোটামুটি হাঁটুর সমান কাঁদা। এ ধরনের রাস্তার আলাদা একটা মজা আছে, আমরা পাহাড়ে আসি রোমাঞ্চের খোঁজে আর এরকম পথ, নালা, জংগল, চড়াই-উতরাই ও ঝর্না দেয় ভীষণ রকম আনন্দ। ধুপপানিতে বর্ষার শেষ দিকে যাওয়াই উত্তম বিধায় আমরা সেপ্টেম্বর মাসে যাচ্ছি এই পথে। অন্য সময় গেলে হয়তো অন্যরকম সৌন্দর্য দেখতে পাবো কিন্তু ঝর্ণায় বেশি পানি পেতে হলে এর থেকে দেরিতে যাওয়া ঠিক হবে না।

অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি

 

ট্রেকিং শুরুর খানিক পরেই একটা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গ্রাম পড়ল, চারিদিকে পাহাড় মাঝখানে সমতল আর সেখানে ধান পেকে সোনালি রঙ ধারন করে আছে। কি সেই সৌন্দর্য, সবুজের মাঝে খানিকটা সোনালি আভা একেবারে চিরায়ত বাংলার রূপ। গ্রামবাসীরা তাদের উৎপাদিত ফল বিক্রি করছিল আমরা সেখান থেকে দেশি লাল পেয়ারা আর পেঁপে কিনে খেয়ে হাঁটা দিলাম।

এরপর প্রথমে একটা সিড়ি তারপর খাঁড়া তিনটে পাহাড় ডিঙিয়ে বেশ হাঁপিয়ে গিয়ে বিশ্রাম নেবো বলে চিন্তা করতেই দূরে তাকিয়ে দেখি দুটো শিশু কি যেন বিক্রি করছে! ওদের কাছে গিয়ে দেখি কলার ছড়ি ঝুলিয়ে রেখেছে, প্রতি পিস ৫ টাকা। অতঃপর বেশকিছু কলার সুব্যবস্থা করে সেখানে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু হলো আমাদের। আরও কিছুদূর গিয়ে ধুপপানি গ্রামে পৌঁছে দেখি টেবিল পেতে রীতিমতো দোকান সাজিয়ে বসে আছে, জুস পানি চিপস শসা আর ফল-মূল কি নেই সেখানে! আবারও পেয়ারা কিনে নিয়ে যাত্রা শুরু হলো আমাদের।

সাদা পানির ঝর্ণা

হাচরে-পাচরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছে গেলাম ধুপপানিতে। রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে এর অবস্থান। খুব বেশিদিন হয়নি মানুষজন এই ঝর্ণার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কিছু বছর আগে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এই স্থানে ধ্যান করার কারণে নয়নাভিরাম এই ঝর্ণাটি মানুষের নজরে আসে। তঞ্চঙ্গ্যা শব্দে ধুপ অর্থ সাদা আর পানিকে পানিই বলা হয় অর্থাৎ ধুপানির অর্থ সাদা পানির ঝর্ণা ।

মূলত এই ঝর্ণার পানি স্বচ্ছ এবং যখন অনেক উঁচু (প্রায় ১৫০ মিটার) থেকে ঝর্ণার জল আছড়ে পড়ে তখন তা শুধু সাদাই দেখা যায়। তাই একে ধুপপানি ঝর্ণা বলা হয়। বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ঝরনাগুলির মধ্যে অন্যতম এই ঝরনায় নিচের দিকে একটি গুহার মতন আছে। যা এই ঝরনাকে করেছে অনন্য।

;