বাংলাদেশকে জানার সুযোগ তৈরি করছে জেলা ব্র্যান্ডিং



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা
কয়েকটি জেলার লোগো

কয়েকটি জেলার লোগো

  • Font increase
  • Font Decrease

‘পদমদীতে (রাজবাড়ী) বসে কালজয়ী উপন্যাস বিষাদসিন্ধু রচনা করেছেন মীর মশাররফ হোসেন। এটা আমাদের রাজবাড়ীর অনেকেই জানেন না। নিজের জেলাকে ভালো করে না জানার এমন অনেক উদাহরণ পাওয়া যাবে।’

জেলা ব্র্যান্ডিং আমাদের দেশটাকে জানার সুযোগ তৈরি করবে। প্রত্যেকটি জেলার রয়েছে ভিন্ন রকম আকর্ষণ, ভিন্ন রকম ভূ-প্রকৃতি, জীব-বৈচিত্র্য ও সংস্কৃতি, রয়েছে নানা রকম লোভনীয় খাবার। এগুলো তুলে ধরা হয়েছে জেলা ব্র্যান্ডিংয়ে। সবাই যখন জেলাগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জানবে তখন একেকজন বিউটিফুল বাংলাদেশের দূত হয়ে উঠবে বলে মনে করেন পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান রামচন্দ্র দাস।

জেলা ব্র্যান্ডিং যেমন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। একইসঙ্গে পযর্টনের সম্ভাবনাময় সময়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটক বেড়ে যাবে বলে মনে করেন পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান।

জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য সরকার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের রেজুলেশন গ্রহণ করে। প্রত্যেক জেলার পৃথক লোগো ও ট্যাগ লাইন রাখার সিদ্ধান্ত হয়। লোগো-ট্যাগ লাইনের ক্ষেত্রে জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, জীব-বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যবাহী খাবারকে তুলে ধরার নির্দেশনা জারি করা হয়। যাতে করে প্রত্যেকটি জেলার স্বকীয়তা তুলে ধরা যায়। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক জেলায় পৃথক লোগো এবং ট্যাগ লাইন নির্বাচন করা হয়েছে।

চাঁদপুর জেলার ব্র্যান্ডিংয়ে শাপলা পাতায় ইলিশ ও কুঁড়ি দিয়ে খচিত লোগোতে ট্যাগলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর। নদী বেষ্টিত উপকূলীয় জেলা বরগুনার লোগোতে ঠাঁই পেয়েছে হরিণের চারণভূমি, নদী, নৌকা, সূর্যোদয়, মাছ ও নারিকেল জিঞ্জিরা। ট্যাগ লাইন করা হয়েছে সৈকত সৌন্দর্যে বরগুনা।

এরমধ্যে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর অল্পদিনেই ব্যাপক পরিচিত লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। সুস্বাদু ইলিশের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ এই জেলা এরই মধ্যে পর্যটকদের টানতে শুরু করেছে। বর্তমান প্রজন্ম অনেকেই দলবেঁধে ছুঁটে যাচ্ছেন চাঁদপুরে ইলিশের স্বাদ পরখ করতে। অনেকে আবার মাছের স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি জেলেদের সঙ্গে মাছ ধরার কৌশল জানতে নৌকায় রাত্রিযাপন করছেন।

ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান এক্সিলেন্স এশিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবি সিদ্দিক টিটো বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর ট্যাগলাইনে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। অনেক পর্যটক ছুটছেন এই জেলা সফরের জন্য। বিদেশি পর্যটরকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এটা ট্যুরিজমের জন্য খুবই ভালো ইঙ্গিত বহন করে।

জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের ধারণাটি খুবই চমৎকার উদ্যোগ উল্লেখ করে টিটো বলেন, অন্য জেলাগুলো তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের সুফল ঘরে তুলতে হলে সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজন ব্যাপক প্রচারণা। শুধু লোগো-ট্যাগলাইন নির্ধারণ উন্মোচন করে দায় সারলে এর থেকে ভালো ফল পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ট্যুরিজম অনেক বেড়েছে। ফেসবুক এবং ইউটিউব কেন্দ্রিক ট্যুরিজমে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনকে আরও একটু ঘষামাজা করতে পারলে দারুণ ফলদায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রায় সব বিষয়েই পক্ষে-বিপক্ষে মত থাকলেও জেলা ব্র্যান্ডিংকে সব পক্ষই স্বাগত জানিয়েছে। তবে লোগো-ট্যাগলাইন নির্ধারণ পরবর্তী প্রচারণাকে যথাযথ মনে করছেন না অনেকেই। তারা মনে করছেন, অনেক জেলায় দায়সারা গোছের ব্র্যান্ডিং হয়েছে। নিজের জেলার বাইরে ছড়িয়ে দিতে পারছে না। এ জন্য প্রচারণা বাড়ানো দরকার। না হলে ভালো ফলের জন্য কয়েক যুগ অপেক্ষায় থাকতে হতে পারে।

জেলা ব্র্যান্ডিং প্রসঙ্গে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা জেলা ব্র্যান্ডিংকে ব্যাপকভাবে পরিচিত করার জন্য নানামুখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। লোগো-ট্যাগলাইন রি-প্রিন্ট করা হচ্ছে। লিফলেট হ্যান্ডবিল, বিলবোর্ড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভা-সমাবেশে ব্র্যান্ডিংকে তুলে ধরা হচ্ছে। আশা করছি সৈকত সৌন্দর্যে বরগুনা দারুণ সাড়া ফেলবে। আর এই জেলার লোকজন খুবই অতিথি পরায়ণ। কেউ ঘুরতে এলে তারাও মুগ্ধ হবেন।

ট্যুর অপরেটরদের সংগঠন টোয়াব’র ডিরেক্টর ও পাটা (প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি জেনারেল তৌফিক রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, জেলা ব্র্যান্ডিং করাটা খুবই জরুরি। সঠিকভাবে করতে পারলে দেশে এবং দেশের বাইরে প্রমোট করা সহজ হবে। ট্যুর অপরেটররাও সেভাবে মার্কেটিং প্ল্যানিং করতে পারবেন।

তবে এটা যেনতেনভাবে করলে চলবে না, পুরোপুরি প্রফেসনালি করতে হবে। ট্যুরিজম বোর্ডকে মিডিয়া হিসেবে কাজ করতে হবে। ট্যুরিজম বোর্ডের সঙ্গে জেলাগুলো সমন্বয় থাকা দরকার। জেলা প্রশাসনে ট্যুরিজমের জন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তা থাকা প্রয়োজন। এটা করা গেলে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তৌফিক রহমান।

বাংলাদেশে পর্যটনের আকর্ষণের সাধারণ কয়েকটি ভাগ রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, পাহাড় ও দ্বীপ, বন ও জলাবন, সমুদ্র সৈকত ও ঐতিহাসিক স্থান। জাতির পিতার সমাধিসৌধ, জাতীয় কবির সমাধিসৌধ, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, কার্জন হল, বলধা গার্ডেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, পুরাতন হাইকোর্ট ভবন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধি, সাগরদাড়ি, মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, ত্রিশাল, গান্ধী আশ্রম, রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ীসহ অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। সারা দেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে হাজারো নির্দশন। যা প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছে ভীষণ প্রিয়। লালবাগ কেল্লা, মুঘল ঈদগাহ, আহসান মঞ্জিল, পাহাড়পুর, কান্তজির মন্দির, মহাস্থানগড়, ষাট গম্বুজ মসজিদ, সোনারগাঁও, উয়ারী বটেশ্বর ও ময়নামতি উল্লেখযোগ্য ৷

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের গর্বিত মালিকও বাংলাদেশ। ১২০ কিলোমিটার বিস্তৃত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি পতেঙ্গা, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, কুয়াকাটা, কটকা, কচিখালী একেকটি সৈকত আরেকটির চেয়ে সুন্দর ও জীব-বৈচিত্র্যময়।

দেশের উত্তরাঞ্চলে যেমন চোখ জুড়ানো সমতল ভূমি। তেমনি উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে রয়েছে বিশাল হাওড় ও পাহাড়ের মিতালি। আবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাহাড় লেকের গলাগলি। বান্দরবান, খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পট, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, কক্সবাজারের মহেশখালী, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওড়, বিছানাকান্দি, রাতারগুল জলাবন, সোনাদিয়া দ্বীপে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে দর্শনার্থীদের।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবন, বঙ্গভবন, রমনা পার্ক, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, মাধককুণ্ড, জাফলং, সিলেট অঞ্চলের চা বাগান, বাইক্কা বিল, লাউয়াছড়া, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান দেশ-বিদেশে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর-ট্রাভেল এন্ড ট্যুর, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর  চলতি বছরের ১ এপ্রিল সীমান্ত খুলে দেয় মালয়েশিয়া। মূলত ওইদিন থেকে দেশটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এর ফলে ফের পর্যটক টানতে নানা উদ্যোগ নেয় মালয়েশিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটির পর্যটন উন্নয়ন সংস্থা ‘ট্যুরিজম মালয়েশিয়া’ ২ থেকে ৭  জুন বাংলাদেশের  গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকা এবং চট্রগ্রামে প্রথমবারের মতো রোডশো’র আয়োজন করছে।

ঢাকায় রোববার (৫ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য  রোডশো’র আয়োজন করে মালয়েশিয়া পর্যটন উন্নয়ন বোর্ড- ট্যুরিজম মালয়েশিয়া।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম, ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শিবলুল আজম কোরেশী সহ স্বনামধন্য সকল ট্রাভেল এজেন্ট এবং ট্যুর অপারেটররের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এবং ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’র সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুর আলম।

এদিকে রোডে শো উপলক্ষে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক (কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগ) সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এর নেতৃত্বে একটি মালয়েশীয় প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে মালয়েশিয়ার ৫টি ট্রাভেল এজেন্সি এবং দুটি স্বাস্থ্যশিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরাও।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম বক্তব্য রাখছেন

অনুষ্ঠানে রোড শো’র আয়োজন প্রসঙ্গে বক্তরা জানান, মালয়েশিয়া ভ্রমণে বাংলাদেশিদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করার সাথে সাথে এই রোডশো’র লক্ষ্য হলো ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা যার মাধ্যমে তারা পর্যটনকে পূর্বাবস্থায় বা আরো ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান বলেন, বাংলাদেশে ফিরে আসার এটি একটি দারুণ সময় এবং রোডশো আয়োজনের জন্য যথার্থ। বাংলাদেশে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য মালয়েশিয়ার সীমান্ত উন্মুক্তকরণ বলতে গেলে একই সময়ে সংঘঠিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ায় স্বাগত জানানোর সূযোগ পেয়ে আমরা সত্যিই রোমাঞ্চিত। পর্যটকরা এখন মালয়েশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ রোমাঞ্চকর আকর্ষণগুলো সাশ্রয়ী খরচে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ দুবছর পর পর্যটকরা এখন অনেক কিছুই এক্সপ্লোর করতে পারবেন যার মধ্যে রয়েছে সম্প্রতি চালু হওয়া আউটডোর থিমপার্ক, গেন্টিং স্কাইওয়ার্ল্ড, কুয়ালালামপূরে নতুন সাজে সজ্জিত সানওয়ে রিসোর্ট এবং জাকজমকপূর্ণ নতুন আকর্ষণ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু অট্টালিকা ‘মারদেকা ১১৮’। অনিন্দ্য সুন্দর সমূদ্রতট, চিত্তাকর্ষক পর্বতমালা ও বনোরাজিসহ বিভিন্ন আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর কর্মকান্ড আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।

উল্লেখ্য, বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যার হিসেবে মালয়েশিয়ার তালিকায় বাংলাদেশের স্থান প্রথম দিকে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন; যা মোট সংখ্যার ১৯.৩০ শতাংশেরও বেশি। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ণ কোর্স কোভিড টিকাপ্রাপ্ত বিদেশিদের জন্য মালয়েশিয়া ভ্রমণে কোন কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজন নেই। আসার আগে ও যাওয়ার পর  পর্যটকদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা লাগবে না। ১৭ বছর বা তার নিচের বয়সী শিশুদের জন্যও করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, বাটিক এয়ার এবং এয়ার এশিয়া ঢাকা এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে ভ্রমণের জন্য সপ্তাহে ৩ হাজার ৯১০ টির বেশি আসন অফার করছে।

;

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই বছর পর পুরোদমে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১ এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য সীমানা সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দর্শনার্থীদের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা কর্মী যারা দুই ডোজ বা বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন তারা খুব সহজেই মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারবেন। তাদের কোয়ারেনটিনে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে তাদের অবশ্যই যাত্রার দুই দিন আগে একটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা এবং পৌঁছানোর পরে একটি দ্রুত পরীক্ষা (আরটিকে) করতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসার কার্যক্রম বন্ধ করে দেশের সীমানা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটির সরকার। মালয়েশিয়ার প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।

;

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করলেই যাওয়া যাবে মালদ্বীপ। বিশ্বের যেকোনো দেশের পর্যটকরাই এ সুযোগ নিতে পারবে।

সম্প্রতি মালদ্বীপের পর্যটন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যা গত শনিবার থেকে কার্যকর হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো যাত্রী যদি করোনা প্রতিরোধ টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ (বুস্টার ডোজ প্রয়োজন নেই) নিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ৫ মার্চ থেকে সেসব যাত্রীর মালদ্বীপ ভ্রমণের আগে আরটি-পিসিআর টেস্টের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হলো। সূত্র: লয়ালটিলবি ডটকম

;

সাদা পানির ঝর্ণা



তৌফিক হাসান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্ধকার থাকতেই ভোর ৫টা নাগাদ হোটেল ছেড়ে নৌকা ঘাট পৌঁছে গেলাম। ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই কিছু জেলে নৌকা নিয়ে নেমে গেছে কাপ্তাই লেকের জলে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। আজকের যাত্রা সাদা পানির ঝর্ণা তথা ধুপপানির উদ্দেশ্যে। রাঙমাটির বিলাইছড়ি ঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ আমাদের বোট ছাড়ল উলুছড়ির উদ্দেশ্যে, সেখান থেকেই শুরু হবে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং। লোকালয়ের পাশ দিয়েই এগিয়ে চলছে আমাদের বোট। স্থানীয়রা কেউ কেউ লেক ঘেষা রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণ করছেন, কেউ কেউ কৌতুহলী দৃষ্টি আমাদের বোটের দিকে তাকিয়ে আছেন। এবারের যাত্রায় আমরা মোট ৯ জন যাচ্ছি। সবারই পাহাড়ে হাঁটার অল্প বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে। ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন নন-এসি বাসে করে কাপ্তাই এসেছিলাম। কাপ্তাই ঘাট থেকে দুই দিনের জন্য ৫৫০০ টাকায় নৌকা ভাড়া নিয়ে আমরা রাঙ্গামাটির বিলাছড়িতে পৌঁছেছি। রাত্রিবাস হয়েছে ঘাট লাগোয়া স্মৃতিময় বোডিং-এ। কোনরকমে থাকা যায় সেরকম রুমের ভাড়া পড়েছে ১০০০ টাকা।

কাপ্তাই লেকের বুক চিরে আমাদের নৌকা এগিয়ে চলছে। বিগত কয়েকদিন বৃষ্টিজনিত পাহাড়িঢলের কারণে সব পলিমাটি এসে জমা হয়েছে সুন্দরি কাপ্তাইয়ের বুকে, তাই পানি একেবারে ঘোলা। সুন্দর পানিপথের মাঝে মাঝে জংলার মতন আবার কখনো বা নাম না জানা জলজ ফুল দেখতে পাচ্ছি। সামান্য যাবার পর বিলাইছড়ি আর্মি সদর দফতরের নৌ-চেক পোস্ট পড়লো সেখানে যথাযথ পরিচয় লিপিবন্ধ করেই আবার সচল হলো আমাদের নৌকার ইঞ্জিন। নৌকা এবার নদী বা খালের মতো সরু পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। কি মনোরম এই পথ, সবুজে ঘেরা খাড়া পাহাড়কে পাশে রেখে চলছি। মাঝে মাঝে পাহাড়ের খাজে শুভ্র মেঘকে আটকে থাকতে দেখছি যেন সবুজ পাহাড় তার শুভ্রতায় ভরা প্রেয়সীকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে। আমরা কেউ কোনো কথা বলছিনা, অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি।

কাদা মাটি মাড়িয়ে ঝর্ণার উদ্দেশ্যে মূল ট্রেকিং শুরু

এক পর্যায়ে আমরা আলীক্ষিয়াং নামক একটা স্থানে দাঁড়িয়ে নাস্তা সেরে নিলাম। এখানে খুব কম সংখ্যক পরিবারই বাস করে যার মধ্যে মাত্র ৩টি পরিবার আছে বাঙালি। লাল মিয়া নামে এক বাঙালির হোটেলে ঝটপট নাস্তা করেই যাত্রা শুরু হলো। মিনিট ৫/৭ পরেই আবার দাঁড়াতে হলো আরেকটা আর্মি চেক পোস্টে, যথারীতি পরিচয় লিপিবদ্ধ করার পালা। এবারে চেক পোস্ট থেকে আমাদের সতর্ক করা হলো ফিরতি পথে বিকেল ৫টার মধ্যেই এই চেকপোস্ট পার হতে হবে। চেকপোস্ট পেরিয়ে সুন্দর নদীপথ ধরে যেতে যেতে মোটামুটি আড়াই ঘণ্টায় উলুছড়ি পৌঁছে গেলাম। ঘাট থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে এক ক্ষুদে গাইড বিচ্ছুকে সাথে নিয়ে শুরু হলো মূল ট্রেকিং। যাত্রা শুরুর পূর্বে মাঝির মাধ্যমে দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করে গেলাম স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে, কারণ এখানে কোন খাবারের দোকান নেই। ২০০ টাকায় আমাদের ভাত, মুরগি, আলু ভর্তা আর ডাল খাওয়ার ব্যবস্থা হলো।

যাইহোক ট্রেকিং এর শুরুতেই পথটা বেশ খারাপ। খানিকটা পথ বেশ পিচ্ছিল, গ্রিপ পেতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। আর বেশ খানিকটা পথ ভয়াবহ কর্দমাক্ত, মোটামুটি হাঁটুর সমান কাঁদা। এ ধরনের রাস্তার আলাদা একটা মজা আছে, আমরা পাহাড়ে আসি রোমাঞ্চের খোঁজে আর এরকম পথ, নালা, জংগল, চড়াই-উতরাই ও ঝর্না দেয় ভীষণ রকম আনন্দ। ধুপপানিতে বর্ষার শেষ দিকে যাওয়াই উত্তম বিধায় আমরা সেপ্টেম্বর মাসে যাচ্ছি এই পথে। অন্য সময় গেলে হয়তো অন্যরকম সৌন্দর্য দেখতে পাবো কিন্তু ঝর্ণায় বেশি পানি পেতে হলে এর থেকে দেরিতে যাওয়া ঠিক হবে না।

অবারিত সৌন্দর্যে অবগাহন করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি

 

ট্রেকিং শুরুর খানিক পরেই একটা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গ্রাম পড়ল, চারিদিকে পাহাড় মাঝখানে সমতল আর সেখানে ধান পেকে সোনালি রঙ ধারন করে আছে। কি সেই সৌন্দর্য, সবুজের মাঝে খানিকটা সোনালি আভা একেবারে চিরায়ত বাংলার রূপ। গ্রামবাসীরা তাদের উৎপাদিত ফল বিক্রি করছিল আমরা সেখান থেকে দেশি লাল পেয়ারা আর পেঁপে কিনে খেয়ে হাঁটা দিলাম।

এরপর প্রথমে একটা সিড়ি তারপর খাঁড়া তিনটে পাহাড় ডিঙিয়ে বেশ হাঁপিয়ে গিয়ে বিশ্রাম নেবো বলে চিন্তা করতেই দূরে তাকিয়ে দেখি দুটো শিশু কি যেন বিক্রি করছে! ওদের কাছে গিয়ে দেখি কলার ছড়ি ঝুলিয়ে রেখেছে, প্রতি পিস ৫ টাকা। অতঃপর বেশকিছু কলার সুব্যবস্থা করে সেখানে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু হলো আমাদের। আরও কিছুদূর গিয়ে ধুপপানি গ্রামে পৌঁছে দেখি টেবিল পেতে রীতিমতো দোকান সাজিয়ে বসে আছে, জুস পানি চিপস শসা আর ফল-মূল কি নেই সেখানে! আবারও পেয়ারা কিনে নিয়ে যাত্রা শুরু হলো আমাদের।

সাদা পানির ঝর্ণা

হাচরে-পাচরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছে গেলাম ধুপপানিতে। রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে এর অবস্থান। খুব বেশিদিন হয়নি মানুষজন এই ঝর্ণার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কিছু বছর আগে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এই স্থানে ধ্যান করার কারণে নয়নাভিরাম এই ঝর্ণাটি মানুষের নজরে আসে। তঞ্চঙ্গ্যা শব্দে ধুপ অর্থ সাদা আর পানিকে পানিই বলা হয় অর্থাৎ ধুপানির অর্থ সাদা পানির ঝর্ণা ।

মূলত এই ঝর্ণার পানি স্বচ্ছ এবং যখন অনেক উঁচু (প্রায় ১৫০ মিটার) থেকে ঝর্ণার জল আছড়ে পড়ে তখন তা শুধু সাদাই দেখা যায়। তাই একে ধুপপানি ঝর্ণা বলা হয়। বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ঝরনাগুলির মধ্যে অন্যতম এই ঝরনায় নিচের দিকে একটি গুহার মতন আছে। যা এই ঝরনাকে করেছে অনন্য।

;