সমোটো শহরে হাতকাটা ক্যাপ্টেন



মঈনুস সুলতান
সমোটো শহরের দরিদ্র মহল্লা

সমোটো শহরের দরিদ্র মহল্লা

  • Font increase
  • Font Decrease

বেশ বেলা হয়েছে, তবে নিকারাগুয়ার সমোটো শহর এখনো জেগে ওঠেছে বলে মনে হয় না। নিকারাগুয়ার অন্য একটি মফস্বল শহরে আমি বাস করছি বেশ কিছু দিন হলো। গতকাল এসেছি সমোটোতে। এখানে আছে সম্পূর্ণ পাথরে তৈরি দৃষ্টিনন্দন একটি পাহাড়। তার রুক্ষ পাষাণ কেটে ‘ককো’ নদীর বয়ে চলাতে প্রকৃতিকভাবে তৈরি হয়েছে অত্যন্ত দৃষ্টি নন্দন একটি ক্যানিয়ন। এর রূপবৈচিত্র অসামান্য, তার টানে ইদানীং সমোটো শহরে টুরিস্ট আসছে বিস্তর। আমি নিকারাগুয়া ছেড়ে যাওয়ার আগে এ ক্যানিয়নে একবার ঘুরে বেড়াতে চাই। আমার সাথে আজ অন্য শহর থেকে এসে যোগ দিচ্ছে দুই নিকারাগুয়ান বান্ধবী ইভা ও গাবরিয়েলা। গাবরিয়েলা তার ছোট মেয়ে মারিয়াকে নিয়ে আসছে। ঘণ্টা দুয়েক পর তারা বাসে করে সমোটোতে আসলে আমরা একসাথে ক্যানিয়নে বেড়াতে যাব।

গতকাল এখানে এসে ‘আসিয়ানদা’ বলে একটি গেস্ট-হাউসে উঠেছি। তো একটু বেলা হতেই আমি বেরিয়ে পড়ি। খানিকটা হেঁটে আসতে হয় শহরে। ক্যানিয়নে যাওয়ার আগে শহরটির খতিয়ান আরো ভালো করে নেওয়া উচিত। তাই বেরিয়ে পড়েছি ভোরবেলা। এদিকের ঘরদুয়ারের হালত দেখে মনে হয় না মানুষজনের অর্থনৈতিক অবস্থা বিশেষ একটা সুবিধাজনক। সড়কটি পিচঢালা, তাতে একটি-দুটি ভ্যান-জাতীয় গাড়ি ছাড়া আর কিছু দেখতে পাই না। ভ্যানের চালকেরাও এখনো খেপ দিতে সড়কে বেরোয়নি। হাঁটতে হাঁটতে বাড়িঘরের নির্মাণশৈলী ও দেয়ালের রংচঙ চুনকামের পরিবর্তন দেখে বুঝতে পারি, চলে এসেছি মধ্যবিত্তদের মহল্লায়। এ এলাকাও জনহীন, তবে এখান থেকে পেছন ফিরে মিরাদর বলে খ্যাত পর্বতটিকে সবুজ ধূসরে আবছা দেখা যায়। ওদিকে বেশ ঘন হয়ে কুয়াশা জমেছে।

ফুটপাতের পাশে তোলা উনুনে তৈরি হচ্ছে ভাঁপা পিঠার মতো দেখতে নারকেল, শসা ও মরিচের কুচি দেওয়া তমালে। হাতে সময় আছে, তাই দাঁড়িয়ে পড়ে তমালের অর্ডার করে গতকাল সমোটোতে চলে আসার ব্যাপার নিয়ে গুছিয়ে ভাবি। জনসংখ্যার পরিমাপে সমোটোকে ঠিক শহর বলা চলে না। হাল্কাপাতলা কিছু আবাসিক এলাকা, কয়েকটি কমার্শিয়াল স্থপনা, গোটা কয়েক ক্যাফে-রেস্তোরাঁ, পেট্রলপাম্প ও বাসস্টপ মিলিয়ে শহরের বিস্তার। আমি কোনো হেটেল বা গেস্টহাউস রিজার্ভ করে এখানে আসেনি। তাই বাস থেকে নেমে ক্যাফেতিন কুয়ো বলে ডিসকোর চনমনে মিউজিক বাজা একটা রেস্তোরাঁতে বসে এক পেয়ালা কফি খাই। দেখা হয় এক ট্যুরগাইড তরুণীর সাথে। তার নাম লুসিয়া। সে পর্যটকদের সমোটো কেনিয়ানে গাইড হিসাবে তার ঘোড়ায় চড়িয়ে বেড়াতে নিয়ে যায়। মেয়েটি হাসিখুশি ও খুব সহজে তার সাথে কথাবার্তা বলা যায়।

কফি খাওয়া শেষ হতেই সে বলে—চলো, তোমাকে পৌঁছে দিচ্ছি একটি আসিয়ানদায়। আসিয়ানদা হচ্ছে একদম পাড়াগাঁয়ের ভেতর ছোট্ট গেস্ট-হাউস। চালাচ্ছে একটি পরিবার। দামে সস্তা। খুব নিরিবিলি। পছন্দ হবে তোমার। সে আমার ব্যাগ ও রুকস্যাখ তার ঘোড়ার জিনগদির ওপর বেঁধে দিয়ে লাগাম হাতে তুলে নেয়। কথাবার্তা বলতে বলতে হাঁটতে হাঁটতে আমরা চলে আসি অসিয়ানদাতে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/02/1535885286565.jpg
আসিয়ানদার কটেজে ঝুলছে হ্যমোক

ঝোপঝাড়ে নিবিড় আসিয়ানদার প্রাঙ্গণে নদীর দিক থেকে বইছে মৃদুমন্দ সুবাতাস। মাটিতে লেপাপুছা দেয়ালের একটি কটেজ ভাড়া করি। দুটি কামরার বড়টিতে গাবরিয়েলা ও তার মেয়ে মারিয়া আমার অন্য বান্ধবী ইভার সঙ্গে থাকতে পারবে। পাশের কামরাটি ছোট হলেও তাতে আমার চলে যাবে। বারান্দায় জোড়া হ্যামোক বা দড়ির দোলনা ঝোলানো। বারোয়ারি আঙিনার চারপাশে অন্য কটেজগুলো গাছপালায় জড়ানো ঘন লতার ঘেরাটোপে আলাদা করা।

আঙিনায় জলপাই রঙের কমব্যাট কেতার জ্যাকেট পরে ক্রুকাট চুলের এক লোক বেজায় ভারী একটি ক্যামেরা নিয়ে কী যেন ধুন্দুর-মুন্দুর করেন। তাঁর জ্যাকেটের একটি হাতার ভেতরে বাহু বলে কিছু নেই। কানের সংখ্যাও এক। অন্যটির দগদগে ক্ষতময় ছিদ্রের ওপর লাগানো ব্যাঙের ছাতার মতো দেখতে একটি ইয়ারপিস। তিনি মাটিতে আয়না পেতে তাতে মস বা শুকনো শেওলার টুকরা রেখে চিমটা দিয়ে তাজাতনা লাল পিঁপড়া ধরে ছেড়ে দেন তার ওপর। পিঁপড়াটি মসের স্তূপ বেয়ে নেমে আসতে গেলে আয়নাতে তার পরিষ্কার প্রতিফলন হয়। তিনি ভারী ক্যামেরার স্ট্র্যাপ দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে এক হাতে লেন্স পাল্টে তার ছবি তোলেন। আমি চিয়ার্স বলে তাঁর কামেরাম্যানশিপের তারিফ করলে তিনি চোখমুখ কুঁচকে কুৎসিতভাবে আমাকে স্বমেহন করার পরামর্শ দেন। আচরণটি শুধু অস্বাভাবিকই না অশোভনও বটে। কিন্তু কেন জানি দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতে ইচ্ছা হয় না। বিমর্ষ হয়ে আমার কটেজের দিকে ফিরে লতানো পত্রপল্লবে তৈরি কুঞ্জের আড়ালে বেতের চেয়ার টেনে বসলে সারা বাতাবরণ ভরে ওঠে অদেখা কোনো পতঙ্গের শার্প গুঞ্জনে।

আমার চেয়ারের সামনে সিমেন্টে বাঁধানো একটি স্মুদ পরিসর। কয়েকদিন আগে আমার বান্ধবী ইভা আমাকে উপহার দিয়েছে শিশুতোষ একটা লাটিম। তো পকেট থেকে বের করে ওখানে তা ঘোরাই। লাটিমটি একটি নির্দ্দিষ্ট বিন্দু থেকে ঘুরে ঘুরে তৈরি করছে বৃত্তের বাইরে একাধিক বৃহৎ বৃত্ত। তাদের ক্রমশ সম্প্রসারিত রেখার দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, যে মুহূর্তে প্রথম ইভার সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় হয়, তার পর কিভাবে যেন তার যাপিত জীবনের বেশ কিছু অধ্যায় ঘুরে আবার তার উদ্যোগে গাবরিয়েলার সঙ্গে পরিচয়। তার সঙ্গে আমার মিথষ্ক্রিয়া লাটিমের চক্রের মতো বাঁক নিচ্ছে। জলপাই রঙের কমব্যাট জ্যাকেট পরা মানুষটি ক্যামেরা হাতে এসে দাঁড়িয়ে অবলোকন করেন লাটিমের ঘূর্ণমান রেখা। মে আই টেক আ পিকচার?—বলে মোলায়েম করে হেসে পোলাইটভাবে আমার পারমিশন চান। কী বলব, মাথা হেলিয়ে সায় দিতেই তিনি মাইক্রোলেন্সে তুলতে শুরু করেন তার ছবি। চেয়ার টেনে কাছে বসে আইপ্যাডের স্ক্রিনে লাটিমের ব্লারি রেখার ছবি দেখাতে দেখাতে তিনি এমন খোলামেলাভাবে নিজের কথা বলতে শুরু করেন যে আমি খানিকটা অপ্রস্তুত বোধ করি। তাঁর নাম এরোন হুরুম। মার্কিন সেনাবাহিনীতে কিছুদিন আগে তাঁর পদবি ছিল ক্যাপ্টেন। যদিও ব্যাটেলফিল্ডে খুইয়েছেন একখানা হাত ও বাঁ কান, তিনি আর্মি কমান্ডের তেমন কিছু জানেন না। কমব্যাট ফটোগ্রাফার হিসেবে তিনি চলমান যুদ্ধের ছবি তুলতেন। আহত হওয়ার পর মিলিটারি তাঁকে জবাব দিয়েছে। পোস্ট ট্রামাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের স্নায়বিক বিপত্তিতে ভুগছেন। মানসিক ভারসাম্য ফিরে পেতে তাঁর সময় লাগছে। এবং সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে—গেস হোয়াট? বলে আমার অনুমান কী তা জানার জন্য মুখ তুলে তাকালে কোন বিষয়টি তাঁর জীবনে কঠিন মনে হচ্ছে, এ নিয়ে অনুমানপ্রসূত কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এবং একটু আগে তিনি যে মিলিটারি মেজাজের পরিচয় দিয়েছেন, তাই কিছু আন্দাজ করাও নিরাপদ মনে হয় না। সুতরাং নীরব থাকি। তিনি একটু অপেক্ষা করে গলার স্বর নামিয়ে ফিসফিসিয়ে বলেন—এই যে একা, সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গভাবে চলাফেরা করা, দিস ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট, বলে রোদেলা দিনে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো কেঁদে ওঠেন।

এ রকমের শক্তসমর্থ যুদ্ধংদেহী লোককে কিভাবে সান্ত্বনা দিতে হয়, তার কলাকৌশল আমার জানা নেই, আবার কিছু বললে যদি হিতে বিপরীত হয়, তাই খামোশ মেরে থাকি। তিনি নিজেই চোখটোখ মুছে মোলায়েম হেসে বলেন—লাইফ ইজ নট অলওয়েজ ব্যাড অ্যাট অল। মিলিটারি থেকে খালাস পাওয়ার পর হাতে এসেছে অঢেল অবসর ও বেশ কিছু বিত্ত। ঘুরে বেড়াচ্ছি এক দেশ থেকে আরেক দেশে, ক্যামেরা দিয়ে শ্যুট করছি। তো ঘুরে বেড়ানো আপনি এনজয় করছেন ক্যাপ্টেন?—বলে আমি তাকালে তিনি রিলাক্স-ভাবে জবাব দেন—আ ফিউ মোমেন্টস। কোনো কোনো জায়গায় কিছু কিছু মুহূর্ত ভালোই লাগছে। ফর এক্সাম্পল, কিছুদিন আগে পেরুতে গেলাম। লিমার এক উষ্ণ জলের স্পাতে সারা শরীর হাত-পা ঘষে-মেজে দিলো ঝামা পাথর দিয়ে। তারপর ফার্মের লামা, তাদের তুলতুলে লোমে হাত বোলানো, বাচ্চা বাচ্চা লামারা খড়বিচালিতে হামা দিচ্ছে, এ সবের ছবি তোলা। ইনডিড হ্যাড আ ফাইন টাইম ইন পেরু।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/02/1535885165878.jpg
ফুটপাতে ছুটছে চশমা চোখে তরুণী

তমালে তৈরি হয়ে গেছে। কলাপাতায় মোড়া তপ্ত পিঠা হাতে হাঁটতে হাঁটতে চলে আসি শহরের মূল সরণিতে। গতকাল বিকেলে আসিয়ানদা থেকে বেরিয়ে এসে এখানে ঘোরাঘুরি করছি। দেখি ক্যাফেতিন কুয়া নামের রোস্তোরাঁয় রোয়াকে পাতা টেবিলে বসে ক্যামেরা হাতে ক্যাপ্টেন এরোন। আমাকে দেখতে পেয়ে তিনি ডেকে তাঁর টেবিলে বসতে বলেন। ক্যাফেতিন কুয়োর ওপরের তলায় সরগরম পাব। রোয়াকের আঙিনায় ফুলগাছের ঝোপেঝাড়ে বেশ নিরিবিলি। উড়ছে জোড়া ডানার লাল ফড়িং। তাকে ধাওয়া করে উড়ে আসে ছোট্ট এক নীল পাখি। তারা চক্রাকারে ঘুরপাক খেলে ক্যাপ্টেন ক্যামেরায় তাক করেন। ঠিক তখনই দেখি প্রায় নির্জন সড়ক ধরে ছুটে আসছে চশমা চোখের এক তরুণী। তার চোখেমুখে স্পষ্ট ভীতি। বিষয় কী দেখতে আমি উঠে দাঁড়িয়েছি। মেয়েটি রেস্তোরাঁর সামনে দাঁড়িয়ে একটু থতমত করে, তারপর জোরে জোরে শ্বাসপ্রশ্বাস ফেলে ঢুকে পড়ে ভেতরের কেবিনে। ততক্ষণে ক্যাফেতিনের সামনের ফুটপাতে এসে দাঁড়িয়েছে তাকে ধাওয়া করে নিয়ে আসা ছেলে দুটি। তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিচু স্বরে কথা বলছে। সম্ভবত রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢুকবে কি না, তা নিয়ে ইতস্তত করছে। ক্যাপ্টেন ভারী ক্যামেরাটি টেবিলে রেখে ব্যাকপ্যাক থেকে নোঙরের মতো একটি আংটায় প্যাঁচানো দড়ি নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যান দোতলায়। মিনিট দু-তিনেকের মধ্যে বিষয়টি বিদ্যুদ্বেগে ঘটে যায়। পাবের বারান্দার পিলার বা রেলিংয়ে তিনি নোঙরের মতো আংটা আটকে এক হাতে দড়িতে ঝুলে ফ্লায়িং কেতায় লম্ফ দিয়ে ছেলে দুটির গর্দানে এ্যায়সা পদাঘাত করেন যে, তারা কুকাৎ-জাতীয় আওয়াজ করে ফুটপাতে ছিটকে পড়ে। সিমেন্টে হুমড়ি খেয়ে পড়ে একজনের দাঁতফাতও বোধ করি ভেঙেছে। কাপড়চোপড় থেকে ধুলো ঝেড়ে তারা নজর করে ক্যাপ্টেনকে দেখে। কমব্যাট জ্যাকেট পরা মিলিটারির এই সাবেক সাঙ্গাৎকে চিনতে তাদের কোনো অসুবিধা হয় না। কোনো চোটপাট না করেই তারা উল্টাপথে হাঁটা দেয়।

শর্ট গ্লাসে সোডা ছাড়া ব্র্যান্ডির অর্ডার করে ক্যাপ্টেন খুব সংবেদনশীল স্বরে মেয়েটিকে ডেকে এনে টেবিলে বসান। জোরে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে নিতে সে চশমা খুলে তাকালেই তার দৃষ্টিতে ঝাপসা অস্থিরতা থেকে বুঝতে পারি, তার মধ্যে ঘটছে অস্বাভাবিক কিছু। শর্টগ্লাস থেকে খুব ধীরে সে চুমুক দিয়ে ব্র্যান্ডি পান করছে। ক্যাপ্টেনকে দেখে মনে হয় খানিক দ্বিধায় পড়েছেন, ঠিক বুঝতে পারছেন না কী করবেন? আমি তরুণীর দিকে আই কন্টাক্ট করে জানতে চাই, কী সমাচার, কোথা থেকে এসেছো তুমি, কী ঘটেছে? কথা বলতে গিয়ে তার গলার স্বর তীব্রভাবে কাঁপে। হিস্পানিক আমেরিকান সে, তার ইংরেজিতে এসপানিওল উচ্চারণের প্রভাব আছে প্রচুর। আমেরিকার অখ্যাত শহরের এক স্কুলে সে সায়েন্স টিচার। পর্যটক হিসেবে সমোটো ক্যানিয়ন দেখতে গিয়েছিল। মাঝনদীতে নৌকা চালাতে চালাতে গাইড তাকে কোকেন অফার করলে স্রেফ কৌতূহলবশত সে তা স্মোক করে। দ্বীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মেয়েটি বলে, গাইডের কাছ থেকে কোকেন নেওয়াটাই তার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। ঠিক মনে করতে পারছে না কখন পাথর বেয়ে গাইডের সঙ্গে চলে গেছে গুহার অন্ধকারে। কেইভে কোনো পর্যটক নেই দেখে তার খুব অবাক লাগে। আবছা মনে পড়ে, গাইড তার শরীর স্পর্শ করেছে কিন্তু কোনো ভায়োলেন্স ব্যবহার করেনি। নৌকা বেয়ে ফিরিয়ে এনে তাকে নামিয়েও দিয়েছে পাড়ে। তার শরীরে এখনো ক্রিয়া করছে কোকেনের গাঢ় কুয়াশা। এটা কাটানোর জন্য আমি কাউন্টার থেকে ফ্রেশ অরেঞ্জ জুস নিয়ে এসে তাকে পান করতে বলি। জুস খেতে খেতে সে বলে, শহরে ঢোকার মুখে এ ছেলে দুটি তার পেছনে লেগেছে। ফিসফিস করে বলছিল—হানি, আমাদের কাছে আছে আরো ভালো কোয়ালিটির কোকেন। নিয়ে যাব সবচেয়ে সুন্দর গুহায়। চলো, আমাদের সঙ্গে, খুব সফিসটিকেটেড ইক্যুইপমেন্ট আছে, কোনো কষ্ট হবে না, তোমার শরীরে এঁকে দেব চমৎকার উল্কি। মেয়েটি অরেঞ্জ জুসের পুরা গ্লাস খালি করে ওয়াশ-রুমে যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/02/1535885355537.jpg
দূরে ক্যানিয়নের পাথর কাটা নদী

ক্যাপ্টেন আমার দিকে কিছুক্ষণ খুব খেয়াল করে তাকিয়ে তাঁর নোঙরের মতো বস্তু ফ্লোর থেকে তুলে তাতে দড়ি প্যাঁচান। তা দিয়ে টেবিলের পায়ায় মৃদু ঠুকে বিদ্রূপ করে বলেন—সো, ইউ নো হাউ টু মেইক আ প্যারোট টক, টিয়া পাখির মুখে কিভাবে বুলি ফোটাতে হয়, তা তোমার জানা আছে দেখছি। জবাবে বলতে চাই, কোকেনের ঘোরে মেয়েটির মস্তিষ্ক এখনো কুয়াশাচ্ছন্ন। কতটা বলছে আর আদতে কী ঘটেছে, তার পরিষ্কার পিকচার পাওয়ার জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। আমাকে বক্তব্যের মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে টেবিলের ওপর নোঙরের মতো জিনিস রেখে ক্যাপ্টেন বলেন—ইউ আর আ কাওয়ার্ড, অ্যাডমিট ইট স্ট্রেইট। আমি এবার তাঁর চোখে চোখ রাখলে তাঁর এক্সপ্রেশনে পরিষ্কার বুঝতে পারি তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন, চরের দখল নিয়েছি আমি, ওখানে ফসল বোনার অধিকার আমার। তিনি নোঙর ঠুকে বিষয়টিতে জোর দিয়ে বলেন—অ্যাডমিট ইট, ইউ আর আ কাওয়ার্ড। আমি দ্রুত হিসাব করি, তিনি ফ্লাইং কিক কষিয়ে একটু আগে যে বিক্রমের পরিচয় দিয়েছেন, তা হিন্দি সিনেমাতে সুলভ হলেও পর্যটনে এ ধরনের তাকদ প্রদর্শন বিরল। আমি খানিকটা কাপুরুষও বটে, আর কোথাও গল্পের সন্ধান পেলে হুঁশও ঠিক থাকে না। তদুপরি আমি কুংফুতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নই, সুতরাং, এক-হাতা সৈনিকের সঙ্গে হাতাহাতিতেও সফল হাওয়ার সম্ভাবনা জিরো। তাই তাঁকে গুডবাই বলে উঠে পড়ি। তিনি কুৎসিতভাবে পেছন থেকে বলেন—গো অ্যান্ড মাস্টারবেট ইয়োরসেল্ফ, স্বমেহন করগে, যাও।

আজ ভোরবেলা আসিয়ানদা থেকে বেরোবার পথে দেখি, যে কটেজে ক্যাপ্টেন এরোন আছেন, তার বারান্দায় হ্যামোকে শুয়ে ঝিমাচ্ছে কোকেন নেওয়া শিক্ষয়িত্রী তরুণীটি। হয়তো সে তার নিজের হোটেলে একা ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছিল। ক্যাপ্টেন তাকে আসিয়ানদায় নিয়ে এসে শেল্টার দিয়েছেন। পুরা ব্যাপারটা আমার কাছে পরিষ্কার হয় না। ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতে চাই না, আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেড়াতে আসা মাস্টারনি গোছের হিস্পানিক মেয়েটির আসলে কী হয়েছে, সবকিছু জেনে আমার হবেই বা কি? এ মুহূর্তে আমার অতিথিদের দিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার। ইভা গাবরিয়েলাকে নিয়ে সমোটোতে আসছে, সঙ্গে আছে গাবরিয়েলার বছর চারেকের মেয়ে মারিয়া। তাদের জন্য সমস্ত কিছুর অ্যারেঞ্জমেন্ট খতিয়ে দেখতে হয়। এসব ভাবতে ভাবতে আমি ক্যাফেতিন কুয়ো রেস্তোরাঁর দিকে হাঁটি।

স্ট্যাচু অব লিবার্টি: আমেরিকার স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম
স্ট্যাচু অব লিবার্টি: আমেরিকার স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক

স্ট্যাচু অব লিবার্টি: আমেরিকার স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক

  • Font increase
  • Font Decrease

আমেরিকা ভ্রমণে বাঙালির অন্যতম গন্তব্যের একটি হচ্ছে স্ট্যাচু অব লিবার্টি। স্ট্যাচু অব লিবার্টির সামনে দাঁড়িয়ে একটা ছবি না উঠলে যেন আমেরিকাপূর্ণই হবে না! আমেরিকার গর্বের সিম্বলিক আইকন হচ্ছে এই স্ট্যাচু অব লিবার্টি। ভাস্কর্যটি আমেরিকার স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক। তাই বাংলাদেশ থেকে রওনা হবার আগেই গন্তব্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছিল নিউইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টি।

পরিকল্পনা ছিল আমার স্ত্রীর এবং তার ছোট বোনের পরিবারের সকলে মিলে একসাথে স্ট্যাচু অফ লিবার্টি দেখতে যাব। কিন্তু ভায়রা ভাইয়ের বিশেষ কাজ পরে যাওয়ায় সিদ্ধান্ত হলো তার এক বন্ধু নীলফামারীর জিএম ভাই আমাদের ড্রাইভ করে নিয়ে যাবে নিউইয়র্কে। যাত্রার দিন ঘড়ির কাটা মেপে জিএম ভাই হাজির, রেডি হয়েই ছিলাম তাই ঝটপট বেরিয়ে পরলাম। পেনসিলভেনিয়ার লেভিট্টাউনে তখন সকাল ৮টা বাজে, বাসা থেকে বের হবার সাথে সাথেই সূর্য মামার ঝাঁজ বুঝতে পারলাম। সূর্য এমন তেতেছে দিনটা যে খুব একটা সুখকর হচ্ছে না তা বেশ বুঝতে পারলাম। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের গ্রীষ্মে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে আমেরিকাতে। স্থানীয়দের মতে এরকম গরম বিগত কয়েক বছরে তারা দেখতে পায়নি। শুধু আমেরিকাতে নয়, এই বছর ইউরোপেও বেশ গরম অনুভূত হচ্ছে আর আমাদের দেশের কথা না হয় নাই বললাম।

লিবার্টি আইল্যান্ড

গাড়ির চাকা সচল আবার কিছুক্ষণ পরেই আমরা আই-৯৫ হাইওয়েতে গিয়ে পড়লাম, এই এক রাস্তা ধরেই প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় আমরা পৌঁছে যাবো নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে। ৫৫ মাইল বেগে ছুটে চলছে আমাদের গাড়ি আর ঠান্ডা হাওয়ায় বসে আমরা গান শুনছি। হঠাৎ ড্যাশবোর্ডে চোখ পড়তেই খানিকটা আঁতকে ওঠার মতো অবস্থা হলো। কারণ সেখানে উইন্ড স্ক্রিনের তাপমাত্রা দেখাচ্ছে ১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট। কপালে ভোগ আছে তা পরিষ্কার হয়ে গেল। চলতে চলতে প্রায় ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই আমরা নিউইয়র্কের ম্যানহাটান এলাকার ব্যাটারি পার্কে পৌঁছে গেলাম, এখান থেকেই যেতে হবে লিবার্টি আইল্যান্ডে। এবার পার্কিং এর জায়গা খোঁজার পালা। নিউইয়র্কে গাড়ি পার্কিং করা বেশ ঝামেলার তার মধ্যে আমরা গিয়েছে ফোর্ডের ট্রানজিট নামের বেশ বড়সড় একটি ভ্যান। যত প্রাইভেট পার্কিংয়েই যাচ্ছি সবাই না করে দিচ্ছে যে এত বড় ভ্যানের জন্য কোন জায়গা খালি নেই। কোথায় গেলে পেতে পারি সেই হদিসও কেউ দিতে পারছে না দেখে মেজাজ কিঞ্চিৎ খারাপ হতে শুরু করলো। অবশেষে প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে আমরা এক পার্কিং খুঁজে পেলাম। গাড়ি পার্ক করেই ছুটলাম ফেরি টার্মিনালের দিকে। জনপ্রতি ২৩ ডলার করে অনলাইনে টিকিট করাই ছিল।  ওই টিকিটে ভাস্কর্যটির উপরে উঠা এবং এলিস আইল্যান্ড ভ্রমণ অন্তর্ভুক্ত।

 

লিবার্টি আইল্যান্ডে যাবার ফেরি

গ্রীষ্মকালে স্ট্যাচু অব লিবার্টিতে প্রচুর পর্যটক যায়। আপনি যদি অনলাইনে টিকিট না করে যান তাহলে ব্যাটারি পার্ক ফেরি টার্মিনালে যে টিকিট কাউন্টার আছে সেখানেও করতে পারবেন কিন্তু ঘণ্টাখানেক লাইনে দাঁড়াতে হতে পারে। আমাদের যেহেতু অনলাইন টিকিট কাটা ছিল তাই আমরা সরাসরি ফেরি টার্মিনাল চলে যাই। মোটামুটি এয়ারপোর্ট গ্রেড সিকিউরিটি সম্পন্ন করে জ্যাকেট, জুতা, ব্যাগ, বেল্ট এবং ওয়ালেট সবকিছু স্ক্যান করিয়ে ফেরিতে উঠার অনুমতি মেলে। ফেরিতে উঠিই তড়িঘড়ি করে ছাদে চলে যাই ভালো ভিউ পাবার জন্য। তবে রোদের তীব্রতায় সেখানে বেশ কষ্ট হচ্ছিল, বিশেষ করে বাচ্চাদের। ফেরি ছাড়ার পর খানিকটা আরাম বোধ হলো বাতাস শুরু হয় বলে। ফেরি ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা পৌঁছে যাই লিবার্টি আইল্যান্ডে বা স্ট্যাচু অব লিবার্টির বাড়িতে। এই ভাস্কর্যটি আমেরিকার আইকনিক সিম্বল হলেও এটা কিন্তু আমেরিকানরা তৈরি করেনি। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ে আমেরিকানদের বিশেষভাবে সাহায্য করেছিল ফ্রান্স। আমেরিকার স্বাধীনতা অর্জনের ১০০ বছর পূর্তিতে দুই দেশের বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে, ১৮৮৬ সালে ফ্রান্সের জনগণের পক্ষ থেকে ভাস্কর্যটি আমেরিকাকে উপহার দেয়া হয়। ফ্রান্সে পুরোপুরি তৈরি করার পর বিশাল এই ভাস্কর্যটি খুলে ২০০টি বাক্সে ভরে জাহাজে করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

লিবার্টি আইল্যান্ড জেটি

১৯২৪ সাল পর্যন্ত ভাস্কর্যটির নাম ছিল লিবার্টি এনলাইটেনিং দ্য ওয়াল্ড, পরবর্তীতে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় স্ট্যাচু অব লিবার্টি। ১৫১ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার ভাস্কর্যটির ডান হাতে রয়েছে প্রজ্জলিত মশাল এবং বাম হাতে রয়েছে আইনের বই। স্ট্যাচু অব লিবাটির মাথার মুকুটে রয়েছে সাতটি কাটা, যা সাত মহাদেশ এবং সাত সমুদ্র কে নিদের্শ করে। মাটি থেকে মূল বেদি সহ এর উচ্চতা ৩০৫ ফুট ১ ইঞ্চি। ভাস্কর্যটির নাকের র্দৈঘ্য ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং এর এক কান থেকে আরেক কানের দূরত্ব ১০ ফুট। মূর্তিটির ওজন প্রায় আড়াই লক্ষ কেজি। ভাস্কর্যটির পায়ের কাছে পরে থাকা শেকল আমেরিকার মুক্তির প্রতীক। স্ট্যাচু অব লিবার্টির ভেতরে দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে একেবারে মাথায় ওঠা যায়। ভাস্কর্যটির মুকুটে রয়েছে ২৫ টি জানালা, যা অনেকটাই ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে কাজ করে।

মজার ব্যাপার হলো যে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির ছবি দেখলেই সবাই আমেরিকা ঠাওর করতে পারে সেটা কিন্তু আসলে আমেরিকার কথা ভেবে তৈরি করা হয়নি।ফরাসি ভাস্কর ফ্রেডেরিক অগাস্ট বার্থোল্ডি এটির রূপকার। রোমান দেবী লিবার্টাসের আদলেবার্থোল্ডি এই বিশ্বখ্যাত ভাস্কর্য টিডিজাইন করেছিলেন তবে মুখমন্ডলটি ডিজাইনে তার মায়ের মুখের প্রভাব আছে বলে জানা যায়। ভাস্কর্যটির ভিতরের কাঠামো ডিজাইন করতে তিনি বিখ্যাত গুস্তাভ আইফেলের সাহায্য নিয়েছিলেন। গুস্তাভ আইফেল কিন্তু ফ্রান্সের আইকন আইফেল টাওয়ারের রূপকার।

স্ট্যাচু অব লিবার্টি

প্রাথমিকভাবে বার্থোল্ডি ঠিক করেছিলেন তার এই স্বপ্নের শিল্পকর্মকে তিনি সুয়েজ খালের তীরে স্থাপন করবেন এবং সেই মোতাবেক সুয়েজ কর্তৃপক্ষ ও মিশর সকারের সাথে আলোচনার পর ঠিক হলো সুয়েজ খালের তীরেই স্থাপন করা হবে এই ভাস্কর্যটিকে, নামও ঠিক করা হলো 'ইজিপ্ট ব্রিঙিং লাইট টু এশিয়া'। পরবর্তীতে নানা জটিলতায় ভাস্কর্যটি মিশরে স্থাপন না করা গেলে বার্থোল্ডি আমেরিকায় আসেন তার শিল্পকর্মটির একটা হিল্লে করতে।

শুরুর দিকে আমেরিকাবাসীরাও খুব একটা আগ্রহ দেখাননি এই ভাস্কর্য নিয়ে। তবে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের পর শেষ পর্যন্ত ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শহর ও একদার রাজধানী নিউইয়র্কের হাডসন নদীর মুখে লিবার্টি আইল্যান্ডে। আমরা সেই আইল্যান্ডে পৌঁছে ফেরি থেকে নেমেই সারিবদ্ধ ভাবে এগোতে থাকলাম ভাস্কর্য পানে। কাছে গিয়ে ভাল করে দেখতে লাগলাম বিশ্বখ্যাত সেই ভাস্কর্য। ভাস্কর্যটি তামায় তৈরি হলেও বর্তমানে এর গায়ের রঙ বর্তমানে সবুজ আকার ধারণ করেছে। সময়ের আবর্তে  আটলান্টিক মহাসাগরের নোনা জলের ওপর দিয়ে ভেসে আসা বাতাসের সাথে বিক্রিয়ার ফলে তামার বহিরাবরণের এই সবুজ সাজ। ভাস্কর্য চত্বর ভাল করে ঘুরে, মুর্তিটিকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে কিছু ছবি তুলে হাঁটা দিলাম এটির মাথার যাবার জন্য। আবারও সিকিউরিটি চেক করাতে হলো। বয়স্ক এবং অপারগ মানুষের জন্য লিফটের ব্যবস্থা আছে সেখানে তবে আমরা সিঁড়ি বেয়েই উঠতে লাগলাম। প্রায় ১০ তলা সমান উঁচু প্যাডেস্টালে পৌঁছার পর আমাদের থামতে হলো কারণ কোভিডের কারণে একদম মাথা পর্যন্ত উঠা বন্ধ আছে যদিও মাথার মুকুট পর্যন্ত উঠার জন্য টিকিট কাটা ছিল আমাদের।

প্যাডেস্টালের ওপর থেকেই মূল ভাস্কর্যের শুরু। সেখান থেকে ভাস্কর্যটির ভিতর দিয়ে উঠতে যাওয়াটা খানিকটা কঠিনই বলা চলে কারণ এর থেকে উপরের দিকে উঠতে হলে বেশচাপা প্যাঁচানো প্যাঁচানো খাড়াসিঁড়ি বাইতে হবে। উপর যাওয়া বারণ বিধায় নিচ থেকে তাকিয়ে উপরের দিকে দেখলাম। গ্লাস লাগানো থাকাতে মোটামুটি অনেকটা অংশ দেখা যায়। প্যাডেস্টালে কর্মরত সিকিউরিটি অফিসার খানিকাটা ব্রিফিং দিলেন এবং বললেন যে এই ভাস্কর্যের ভিতরের কাঠামোর সঙ্গে আইফেল টাওয়ারের খানিকটা মিল আছে। দেখিয়ে দিলেন কোন কর্নার থেকে দেখলে আইফেল টাওয়ারের মতো মনে হবে। প্যারিসের আইফেল টাওয়ার কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। তাই সিকিউরিটি অফিসারের দেখিয়ে দেয়া অংশ দিয়ে তাকিয়ে ভিতরের কাঠামোর সাথে আইফেল টাওয়ারের বেশ সাদৃশ্য পেলাম।

মূল ভাস্কর্যের ভিতরের কাঠামো

প্যাডেস্টালে বা ভাস্কর্যের পাদদেশে খানিকক্ষণ সময় কাটিয়ে ছবি-টবি তুলে নামার পথ ধরলাম।সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে আমার স্ত্রীর তেষ্টা পেয়ে গেল। নিচে নামার পর পানি খাবে না লেমনেড খাবে জিজ্ঞেস করাতে সে বলল লেমনেড খাবে। অগত্যা লেমনেড তথা খাস বাংলায় লেবুর শরবত অর্ডার করলাম। প্লাস্টিক গ্লাসে অর্ধেক বরফের উপর আধখানা ফ্রেস লেবু, দুই চামচ চিনি আর পানি এই হলো লেমনেড। আমাদের মোট ১১ জনের জন্য বিল আসলো ১৮৬ ডলার। এমনিতেই ভীষণ গরম তার উপর লেবু পানির বিল দেখে গায়ের জ্বালা আরও বেড়ে গেল। নিজেকে আর ধরে রাখতে না পেরে স্ত্রীকে বলেই ফেললাম বাংলাদেশ তোমাকে কখনো লেবুর শরবত খেতে দেখিনি আর এখানে এসে তুমি ১৮৬ ডলার নামিয়ে দিলে। বউ মুখে কিছু না বলে আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে থাকলো যেন আমার থেকে বড় কিপ্টে সে জীবনেও দেখেনি। শ্যালিকা আমার পাশে ছিল বলেই সেই যাত্রা রক্ষা পেলাম।

লিবার্টি আইল্যান্ড ঘোরা শেষ, মিউজিয়াম না দেখেই ফেরির পথ ধরলাম কারণ আমাদের পরের গন্তব্য এলিস আইল্যান্ড। ফেরিরে উঠার সময় কাঠের পাটাতনের বাহিরের দিকে স্টিল স্ট্রাকচারের গর্তে প্রচুর কয়েন দেখতে পেলাম। ইউরোপিয়ান-আমেরিকানরা এরকম হাজারো কয়েন প্রতিবছর নানা ধরনের মনোবাসনা নিয়ে পানিতে ছুঁড়ে মারে। এখনেও হয়তো তেমনি কিছু হয়েছে, কিছু অংশ গিয়ে সাগরে পরেছে বাকিটা পল্টুনের স্টিল স্ট্রাকচারের গ্যাপে আটকে গিয়েছে।

ফেরিতে উঠেই আবারো ছাদে চলে গেলাম, সমান্য পরেই চলে আসলাম এলিস আইল্যান্ডে। এলিস আইল্যান্ড একসময় একসময় ছিল অভিবাসীদের  ইমিগ্রেশন সেন্টার। এখানে ইমিগ্রেশন শেষ করে তারা আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তো। ১৮৯২ সাল থেকে ১৯৫৪ সালে বন্ধ হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত ৬০ বছরে প্রায় ১২ মিলিয়ন অভিবাসীর ইমিগ্রেশন হয়েছিল এই আইল্যান্ডে। অনুমান করা যায় যে বর্তমান মার্কিন নাগরিকদের প্রায় ৪০ শতাংশের পূর্বপুরুষদের মধ্যে কেউ না কেউ এই দ্বীপের মাধ্যমে আমেরিকাতে অভিবাসিত হয়েছিল।

এলিস আইল্যান্ড ইমিগ্রেশন রেজিস্ট্রেশন হল

ইমিগ্রেশন সেন্টারটিকে বর্তমানে স্মৃতিশালা হিসেবে বেশ সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা হয়েছে। ইমিগ্রেশন হল, লাগেজ রুম সহ পুরো ইমারতটি ভাল করে ঘুরে দেখলাম। প্রচুর পিক্টোরিয়াল ডিসপ্লে আছে যেগুলো পড়তে গেলে অনেক সময়ের দরকার। বিল্ডিঙে দুই ফ্লোরে দুটো থিয়েটারও আছে পুরো ইতিহাসের উপর মুভি দেখানোর জন্য। আমাদের সময় কম থাকাতে মুভি না দেখেই ফিরতে শুরু করলাম কারণ ততক্ষণে দিনের আলো কমতে শুরু করেছে।

;

ধারাবাহিক উপন্যাস ‘রংধনু’-২



মাহফুজ পারভেজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

[দ্বিতীয় কিস্তি]

মেয়ের ব্রোকেন ফ্যামিলির বেহাল দশার খবর জেনে একদিন ম্যারির মা এসে হাজির। যথেষ্ট বৃদ্ধ হলেও মিসেস অ্যানি গিলবার্ট, ম্যারির মা, এখনো বেশ শক্তপোক্ত ও কর্মঠ। মা আসায় বাড়িটি কিছুটা প্রাণ পেলো। মেয়ে আর নাতীকে নিয়ে মিসেস অ্যানি গিলবার্ট চারপাশে আনন্দময় একটি পরিবেশ গড়ে তুললেন। তারপর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন। ক্রুসেড ঘোষণার মতো তিনি বাড়ি থেকে ক্যাভিনের যাবতীয় স্মৃতি মুছে ফেলতে লাগলেন। তার পরিত্যক্ত জামা-কাপড়, বইপত্র, এমনকি দেয়ালে ঝুলানো একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবিও মিসেস অ্যানি গিলবার্টের ক্ষোভ থেকে রেহাই পেলো না। তিনি সময় পেলেই গজগজ করে ক্যাভিনকে অভিসম্পাত করেন এবং তার মেয়ের সকল দুর্গতির জন্য তাকে আসামী করে অভিযোগ করতে থাকেন। মিসেস অ্যানি গিলবার্টের চোখে পৃথিবীর একমাত্র মন্দ লোক এবং তাদের চরম শত্রু ক্যাভিন।

ক্যাভিনের প্রতি মায়ের প্রচণ্ড ক্ষোভের কোনো প্রতিক্রিয়া জানান না ম্যারি। ক্যাভিন সম্পর্কে কোনো কিছু জানতে চাইলেও উত্তর দেন না। ক্যাভিনের প্রসঙ্গ এলেই ম্যারি নিশ্চুপ থাকেন। যদিও ক্যাভিনের পক্ষে বলার মতো কোনো যুক্তি কিংবা বাস্তবতা তার কাছে নেই। আবার ওর বিরুদ্ধে কিছু বলতেও ম্যারির মন সায় দেয় না। চুপচাপ ম্যারি ভাবেন, “সব কিছু মুছে ফেললে কিংবা সব জিনিস ফেলে দিলেই স্মৃতিরা হারিয়ে যাবে? স্মৃতি তো বস্তুগত বিষয় নয়। সত্ত্বার সঙ্গে মিশে থাকা স্মৃতি সহজে হারায় না।”

মিসেস অ্যানি গিলবার্ট কিছুদিনের মধ্যেই পুরো বাড়ি থেকে ক্যাভিনের অস্তিত্ব সাফ করে দিলেন। ক্যাভিন নামে একজন এই বাড়ির বাসিন্দা ছিল, এমন কোনো চিহ্নই আর রইল না। এখানেই থেমে থাকলেন না তিনি। পাড়ায়, বাজারে, যখন যেখানে যান, সেখানেই ক্যাভিনের একটি নিগেটিভ ইমেজ তৈরিতে ব্যস্ত হলেন। মিসেস অ্যানি গিলবার্ট আসলে খুব নেতিবাচক ও পরচর্চ্চাকারী মানুষ নন। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন, মেয়ের জীবন থেকে চলে যাওয়া ক্যাভিনের স্মৃতিগুলো ওর মন থেকে মুছে ফেলনে নতুন একটা পরিবেশ তৈরি হবে। ম্যারি হয়ত নতুন জীবনও শুরু করতে পারবে। তিনি মেয়ের জন্য গোপনে যুৎসই পাত্র খুঁজতেও তৎপর হলেন। মা হিসেবে এসব কাজকে তিনি তার দায়িত্ব মনে করেন।

মিসেস অ্যানি গিলবার্টকে দোষ দেওয়া যায় না। কন্যার স্বার্থচিন্তায় সব মায়েরাই এমন করেন। তিনি কোনো ষড়যন্ত্র বা গোপন লুকোছাপার আশ্রয় নেন নি, সব কিছু প্রকাশ্যেই করছেন। ম্যারিকেও তিনি পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন, “তোমাকে এভাবে একাকী ও নিঃসঙ্গভাবে কাটাতে আমি দেবো না। আমার জীবনে তুমি আর তোমার ভাই পিটার ছাড়া কেউ নেই। পিটার ফিলাডেলফিয়ায় চাকরি নিয়ে বেশ আছে। ওকে নিয়ে চিন্তা নেই। তোমার ছেলে টমাসকে নিয়ে আমি থাকবো আর তুমি নতুন করে জীবন শুরু করবে।”

মায়ের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে পরিকল্পনাগুলো শুনেন ম্যারি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সম্মতি কিংবা অসম্মতি জানান না। তিনি জানেন, বিধবা মায়ের সঙ্গে তর্ক অর্থহীন। তিনি এসেছেন সাহার্য্য করতে। তাকে মোটেও বিমুখ করা যাবে না। তর্ক-বিতর্ক করে পরিবেশ বিষিয়ে লাভ নেই। বরং চুপ থাকলে এক সময় মা হাল ছেড়ে দেবেন।

কিন্তু মিসেস অ্যানি গিলবার্ট কঠিন প্রকৃতির মানুষ। সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন মোটেই। তিনি চা কিংবা কফি পানের জন্য চেনাজানা তরুণদের বাসায় আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করেন। ভদ্রতা স্বরূপ ম্যারিকে তাদের সঙ্গ দিতে হয়। তবে নতুন জীবন শুরুর প্রসঙ্গ এলেই ম্যারি প্রসঙ্গান্তরে কিংবা আলোচনা থেকে কোনো উছিলায় সন্তর্পণে সরে আসেন।

বিরক্ত মিসেস অ্যানি গিলবার্ট এক সময় মেয়ের কাছে সোজাসুজি জানতে চান,

“তোমার আসল পরিকল্পনা আমাকে বলো? মধ্য ত্রিশ বয়সের একজন নারী হিসেবে বাকী জীবন একা থাকা তোমার পক্ষে দুরূহ।”

“আমি জানি। কিন্তু এখনই নতুন করে আবার জীবন শুরুর ব্যাপারে আমি মনস্থির করতে পারি নি। আমাকে কিছু সময় দাও।”

এরপর আর কথা চলে না। মিসেস অ্যানি গিলবার্ট চুপ করে ঘরের কাজে মন দেন। তার সন্দেহ হয়, তবে কি ক্যাভিন গোপনে এখনো যোগাযোগ রাখছে? কৌশলে নানা রকমের তদন্ত করে তিনি শঙ্কামুক্ত হন। না, ক্যাভিনের বিন্দুমাত্র সন্ধান এই তল্লাটের কেউ জানে না। ম্যারির সঙ্গেও সামান্যতম যোগাযোগ নেই বেচারার। তাহলে ম্যারি এমন করছে কেন? কেন তার সিদ্ধান্তহীনতা? মিসেস অ্যানি গিলবার্ট এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে মেয়ের আচরণ ও চাল-চলনের দিকে বিশেষ মনোযোগী হন।

প্রথম প্রথম মিসেস অ্যানি গিলবার্ট কিছুই টের পান নি। তার গভীর ঘুমের বাতিক। একবার ঘুমালে কিছুই টের পান না তিনি। একরাতের মধ্য প্রহরে ঘুম ভেঙে দেখেন ম্যারি ঘরে নেই। টমাস একাকী ঘুমাচ্ছে বিছানায়। বাথরুম থেকেও কোনো শব্দ আসছে না। চিন্তিত মিসেস অ্যানি গিলবার্ট অবশেষে ম্যারির দেখা পেলেন বাগানে পাইন গাছের নিচে। জানালা দিয়ে অন্ধকারে ডুবে থাকা চরাচরে ঈষৎ আলোর ঝলকানির মতো ম্যারিকে দেখা যাচ্ছে। ম্যারির কফি রঙা খয়েরি চুল কালো বাতাসে অনামা রঙের আদলে অদ্ভুত শিহরণে দুলছে।

পর পর কয়েক রাত ঘাপটি মেরে মিসেস অ্যানি গিলবার্ট মেয়ের গতিবিধি অনুসন্ধান করেন। অবশেষে তিনি নিশ্চিত হন যে, রাতের নিস্তব্ধতাকে খানখান করে দিয়ে বাড়ির দেওয়ালঘড়ি মধ্যরাত্রির জানান দিলে ম্যারি বিছানা ছেড়ে দেয়। ঠিক বারোটায় চকিতে উঠে দাঁড়ায় ম্যারি। তারপর ধীর পায়ে পৌঁছে যায় বাগানে। খানিক পায়চারী পর স্থির হয় পাইনের তলে।

আরও পড়ুন: ধারাবাহিক উপন্যাস 'রংধনু'-১

মিসেস অ্যানি গিলবার্টের স্মরণ শক্তি বেশ। তাই তিনি খুবই হতবাক হন ম্যারি মধ্যরাতের অদ্ভুত অভ্যাসের কারণে। কারণ, তিনি বিলক্ষণ জানেন, ম্যারি ছোটবেলা থেকেই ভীষণ ভাবে ভূত বিশ্বাস করে। গ্রামের দিকে তো বটেই, খাস শহরেও সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পেতো তার মেয়ে। তাদের এই ক্যাম্পাস সিটির আবাসকে নামেমাত্র শহর বললেও আসলে এটি এক প্রত্যন্ত গ্রাম। সুনির্দিষ্টভাবে একে গ্রাম বলাও ভুল হবে। শহর পেরিয়ে পাহাড়তলির ওপর ইতস্তত ছড়িয়ে থাকা কয়েকটা কাঠের বাড়ির একটি আবাসিক ব্লক আর চারপাশে সীমাহীন বন-জঙ্গল। সাঁঝবেলাতেই নিঝুম রাত নেমে আসে জায়গাটিতে। এখানে তার নিজেরও কেমন একটা ভয়-ভয় করে। অথচ তার ভীতু মেয়েটি দ্বিধাহীন পদক্ষেপে দিব্যি মাঝরাতে বাগানে ঘুরছে?

পরদিন নাস্তার টেবিলে ম্যারিকে চেপে ধরেন মিসেস অ্যানি গিলবার্ট।

“ওতো রাতে বাগানে তোমার কি কাজ থাকে?”

ম্যারি প্রশ্ন শুনেও খানিক চমকিত হলেও নির্বিকার থাকেন। তার অভিব্যক্তিতে মনে হয়, ঘটনাটি যেন অতি স্বাভাবিক বিষয়। এতে অবাক হওয়া বা প্রশ্ন করার মতো কিছু নেই। মায়ের কৌতূহল নিবৃত্ত করতে তিনি সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন,

“আমি পাইন গাছের সান্নিধ্যে যাই।”

“পাইন গাছের কাছে? কেন? তা-ও এতো রাতের বেলা?”

“কারণ আমি খুবই একেলা। পাইন গাছের মতো একাকী।”

মিসেস অ্যানি গিলবার্টের চোখে বিস্ময়। তার মুখ লা-জওয়াব। মেয়ের এমন কথার কি উত্তর দেবেন তিনি জানেন না। এরকম কথা কখনো কারো কাছে শুনেছেন বলে তিনি মনে করতে পারেন না। সম্বিৎ হারানোর মতো অবস্থা হলেও মিসেস অ্যানি নিজেকে সামলে নিয়ে মেয়ের সঙ্গে আলাপ জারি রাখেন।

“সব মানুষই কম-বেশি একাকী। পাইনের মতো একেলা হওয়ার কি আছে?”

“আমি আসলেই পাইনের মতো একেলা। না পারছি কাউকে ছায়া দিতে। না পারছি ঝড়-বাদল-দুর্যোগ সামাল দিতে। রাত হলে আমি আমার দোসর পাইনের কাছে চলে যাই নিঃসঙ্গতা কাটাতে।”

মিসেস ম্যারি আর কোনো কথা বলতে পারেন না। তার চোখ ছলছল করছে। তিনি ঘরের অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে মেয়ের কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করেন।

[পরবর্তী কিস্তি আগামী শুক্রবার]

;

আমেরিকার স্বাধীনতার প্রতীক লিবার্টি বেল



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পেনসিলভেনিয়াকে বলা হয় আমেরিকার জন্মস্থান। পেনসিলভানিয়া একসময় একটি বৃটিশ উপনিবেশ ছিল এবং এরকম মোট ১৩টি বৃটিশ উপনিবেশ মিলেই তৈরি হয়েছে আজকের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকা। ১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে আমেরিকায় ইউরোপিয়ান সাম্রাজ্যবাদীদের বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক শুরু হয়। যদিও ভাইকিংসরা কলম্বাসের অনেক অনেক আগেই আমেরিকায় পৌঁছেছিল কিন্তু কলম্বাসের পদার্পণের পরেই এই মহাদেশ ইউরোপিয়ানদের আকর্ষিত করে এবং এক সময় ইংরেজদের দখলে চলে যায় আজকের এই আমেরিকা। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ৪ জুলাই উত্তর আমেরিকার ১৩টি উপনিবেশের প্রতিনিধি পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় সম্মেলনে আয়োজন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ইংরেজদের থেকে ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ করেন।

ইনডিপেন্ডেন্স হল

আজকের আমেরিকা প্রতিষ্ঠার বিপ্লবে পেনসিলভানিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় মহাদেশীয় কংগ্রেস আহবান করা হয়েছিল পেনসিলভেনিয়ার অন্যতম জনবহুল শহর ফিলাডেলফিয়াতে। ফিলাডেলফিয়ার তৎকালীন স্টেট হাউজে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লেখা ও স্বাক্ষরিত হয় যা বর্তমানের ইন্ডিপেন্ডেন্স হল নামে পরিচিত । ১৭৫৩ খ্রিষ্টাব্দে স্টেট হাউজে স্থাপন করা হয় এক প্রকান্ড বেল বা ঘণ্টা। বেলটি কেবল বিশেষ বিশেষ মুহূর্তেই বাজানো হত। সেই বেল বা ঘণ্টাটি বাজিয়ে আইন প্রনেতারা তাদের মিটিং ডাকতেন এবং শহরের লোকজনকে একসঙ্গে জড়ো করতেন তাদের ঘোষণা বা নির্দেশনা শোনানোর জন্য। পরবর্তিতে ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে সেই ঘণ্টাই লিবার্টি বেল হিসেবে স্বীকৃত হয়। বেলটি লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল বেল ফাউন্ড্রি দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময়ে প্রায় ১০০ পাউন্ডে কেনা হয়েছিল এবং ১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট মাসে আমেরিকার ফিলাডেলফিয়া শহরে ডেলিভারি করা হয়েছিল। লিবার্টি বেলের ওজন প্রায় ২০৮০ পাউন্ড বা ৯৪৩ কেজি। বেলের নিচের অংশের পরিধি ১২ ফুট এবং উপরের দিকে মুকুটের পরিধি ৩ ফুট। আমেরিকাতে আনার পর বেলটি প্রথমবার পরীক্ষামূলক বাজানোর সময়ই ফেটে যায়, স্থানীয় কারিগর মিঃ জন পাস এবং মিঃ জন স্টো ঘণ্টাটি গলিয়ে আবার নতুন করে তৈরি করেছিলেন।

লিবার্টি বেল

পেনসিলভানিয়া পৌঁছেই আমরা পরিকল্পনা করলাম প্রথমেই আমেরিকার স্বাধীনতার সূতিকাগার ইনডিপেন্ডেস হল এবং লিবার্টি বেল দেখতে যাবো। আমেরিকাতে গিয়ে আমরা উঠেছিলাম ভায়রা ভাই আহমেদ মাহিয়ান মিথুনের বাসায়, খুব সুন্দর ৩ তলা বিশিষ্ট ইনডিভিজুয়াল হাউজ সাথে বিশাল ব্যাকইয়ার্ড। ব্যাকইয়ার্ডের সবুজ ঘাস যেন তুলতুলে কার্পেট, আমার ছোট মেয়ের দারুন পছন্দ হলো তার খালামনির বাসা। এবারের আমেরিকা যাত্রা কিছুটা আমার ছোট মেয়ের ইচ্ছেতেই হয়েছে, ৫ বছর বয়সে সে বাবার থেকে বড় ট্রাভেলার হয়েছে। কয়েকদিন পর পর কান্নাজুড়ে দিত আমেরিকা যাবে বলে, তাই হয়তো আমেরিকা যেতে পেরে তার খালামনির বড়সড় বাড়িতে লাফাতে-ঝাঁপাতে পেরে সে মহাখুশি। ঢাকাতে আমাদের  ছোট্ট ফ্লাটে বাচ্চাদের লাফঝাঁপের সুযোগ একেবারে নেই। যেদিন আমেরিকা পৌঁছলাম তার পরেরদিন বরিশালের এক ছোটভাই পলাশ আমাদের সবাইকে গাড়িতে করে নিয়ে গেল ৫২৬ মার্কেট স্ট্রিটের ইনডিপেন্ডেন্স হল এরিয়াতে, লক্ষ্য লিবার্টি বেল দেখা!

লিবার্টি বেল

লিবার্টি বেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার একটি প্রতীক। অনেকেই বলেন ৪ জুলাই ১৭৭৬ তারিখে, মহাদেশীয় কংগ্রেসের স্বাধীনতার ঘোষণা গ্রহণের সংকেত দেওয়ার জন্য ঘণ্টা বাজানো হয়েছিল আসলে তা সঠিক নয়। প্রকৃত ইতিহাস হলো তার ৪ দিন পরে ৮ জুলাই স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র পাঠ উদযাপনের জন্য বাজানো হয়েছিল। বেলটি ১৮৪৬ সালে জর্জ ওয়াশিংটনের জন্মদিন উদযাপন করার জন্য বাজানোর সময় এমনভাবে ফেটে যায় যা ঠিক করা সম্ভব হয়নি।

১৭৭৬ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণা হলেও বৃটিশদের সাথে খণ্ড খণ্ড যুদ্ধ চলে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত। যুদ্ধ চলাকালে ১৯৭৭ সালে অতিরিক্ত শক্তি সঞ্চয় করে ব্রিটিশ বাহিনী যখন ফিলাডেলফিয়ায় প্রবেশ করে, তখন কিন্তু এই বেলটি পেনসিলভানিয়ার অ্যালেনটাউন গির্জায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৮৩৫ সালে আবার এটিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ইন্ডিপেন্ডেন্স হলে। ২০০৩ সালে ইনডিপেন্ডেন্স হল সংলগ্ন ইনডিপেন্ডেস ন্যাশনাল হিস্টোরিক পার্কের এক পাশে লিবার্টি বেল সেন্টার তৈরি করে সেখানে স্থানান্তর করা হয়। লিবার্টি বেল সেন্টারে প্রবেশে কোন টিকিট কাটতে হয় না। তবে প্রবেশে বেশ কড়াকড়ি রয়েছে, ভালরকম সিকিউরিটি চেক সম্পন্ন হবার পরেই ঢুকতে পাবেন সেখানে। হলের গেটে পৌঁছে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ঢুকে পরলাম হলে। শুরুতেই নানান পিক্টোরিয়াল ডিসপ্লে রুম। এরকম কয়েকটা রুম পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম বেলটির কাছে। বেলটির কাছে বেশ ভিড় পেলাম, সবাই বেলের সাথে ছবি তোলার জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু সময় অপেক্ষা করে আমরাও ছবি তুললাম আমেরিকার স্বাধীনতা এবং মুক্তির প্রতীকের সাথে। প্রতি বছর প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষ এই বিখ্যাত লিবার্টি বেল দেখতে আসে। আমেরিকার পেনসিলভানিয়ায় ঘুরতে গেলে অবশ্যই দেখতে যাবেন আমেরিকার ইতিহাস এবং স্বাধীনতার এই প্রতীক লিবার্টি বেল।

;

পার্বত্য চট্টগ্রাম 'শান্তিচুক্তির দুইযুগ' গ্রন্থের প্রিঅর্ডার রকমারি'তে



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রিঅর্ডার শুরু হয়েছে 'শান্তিচুক্তির দুইযুগ: সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিদ্যমান সমস্যা ও সমাধানের রূপরেখা' শীর্ষক গবেষণা গ্রন্থের।

প্রিঅর্ডার শুরু হয়েছে 'শান্তিচুক্তির দুইযুগ: সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিদ্যমান সমস্যা ও সমাধানের রূপরেখা' শীর্ষক গবেষণা গ্রন্থের।

  • Font increase
  • Font Decrease

 

প্রিঅর্ডার শুরু হয়েছে 'শান্তিচুক্তির দুইযুগ: সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিদ্যমান সমস্যা ও সমাধানের রূপরেখা' শীর্ষক গবেষণা গ্রন্থের। এক বছরের মাঠ পর্যায়ের নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে রচিত হয়েছে গ্রন্থটি, যার প্রিঅর্ডার শুরু হয়েছে রকমারি.কম-এ। গ্রন্থটির লেখক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বার্তা২৪.কম-এর অ্যাসোসিয়েট এডিটর ড. মাহফুজ পারভেজ।

গ্রন্থ সম্পর্কে লেখক ড. মাহফুজ পারভেজ জানান, বাঙালিসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আবাসস্থল পার্বত্য চট্টগ্রাম আয়তনে বাংলাদেশের দশ ভাগের এক ভাগ হলেও এমন বৈচিত্র্যময় অঞ্চল পৃথিবীতে খুব কমই আছে, যেখানে এতোগুলো জনজাতি জড়াজড়ি করে একসঙ্গে রয়েছে অনেক বছর ধরে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিঃসন্দেহে প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে একটি অত্যন্ত মূল্যবান ঐতিহ্যগত অঞ্চল।

চিরায়তভাবে শান্তিপূর্ণ অঞ্চলটি একসময় অশান্ত হয়ে উঠেছিল। অনেক রক্তপাত ও ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের পর অবশেষে ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি সম্পাদন হওয়ায় শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থানের উদার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। সশস্ত্র বিদ্রোহী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে অস্ত্র সমর্পণ করেছেন। বাস্তুচ্যুৎ ও শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন হয়েছে। নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অশান্ত পার্বত্যাঞ্চলে নিশ্চিত হয়েছে জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন, জনঅংশগ্রহণ ও স্থিতিশীলতা, যা দুইযুগ স্পর্শ করেছে ২০২১ সালে।

ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, শান্তিচুক্তির দুইযুগের অভিজ্ঞতায় শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের গতিবেগে সমগ্র পার্বত্য জনপদ ও বাসিন্দারা মুখরিত হলেও সেখানে নানা কারণে সঙ্কটের আগুন ধূমায়িত হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাস, নাশকতা, হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি, অপহরণ প্রভৃতি সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা ও জনজীবনের শান্তি বিঘ্নিত করার মাধ্যমে উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো ঘটনা ঘটছে মহল বিশেষের উস্কানি ও অপতৎপরতায়। ফলে মাঝে মধ্যেই উত্তপ্ত ও অস্থির পার্বত্যাঞ্চলে কখনো কখনো শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ইতিবাচক অর্জনসমূহ বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে।

তাই নিবিড় গবেষণার আওতায় এনে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পথে চলমান পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্জনসমূহ পর্যালোচনা এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো শনাক্তকরণ ও সমাধানের রূপরেখা প্রণয়ন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন গবেষক ড. মাহফুজ পারভেজ।

১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি প্রণীত হওয়ার পর প্রথম গবেষণা গ্রন্থ ‘বিদ্রোহী পার্বত্য চট্টগ্রাম ও শান্তিচুক্তি’ (১৯৯৯) প্রকাশ করেন বর্তমান লেখক-গবেষক ড. মাহফুজ পারভেজ। ২০০০ সালে লেখকের ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানবাধিকার’ বিষয়ক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করে ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লাইড এন্থ্রোপলজি। ২০০৩ সালে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) উন্নয়ন পরিকল্পনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে সামাজিক বিষয়ে গবেষণায় যুক্ত থাকেন লেখক। তিনি ২০০৬ সালে সফল ভাবে সম্পন্ন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সংঘাত ও শান্তি বিষয়ক পিএইচডি গবেষণা। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অর্থায়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আরেকটি গবেষণা পরিচালনা করেন তিনি। দীর্ঘ গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের ধারাবাহিকতায় ‘শান্তিচুক্তির দুইযুগ: সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পথে পার্বত্য চট্টগ্রামÑবিদ্যমান সমস্যা ও সমাধানের রূপরেখা’ শীর্ষক অংশগ্রহণ ও পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিপূর্ণ উত্তরণ ও অর্জনের পথে বিদ্যমান সমস্যাগুলো ও এর সমাধান তুলে ধরা হয়েছে, যা সমাজ, রাজনীতি, জাতিগত চর্চা, শান্তি ও সংঘাত বিষয়ক অধ্যয়ন এবং নীতিপ্রণেতাদের কাজে লাগার পাশাপাশি সাধারণ পাঠকের আগ্রহ মিটাবে বলে গবেষক মনে করেন।

গবেষক ড. মাহফুজ পারভেজ (জন্ম: ৮ মার্চ ১৯৬৬, কিশোরগঞ্জ শহর)-এর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: গবেষণা-প্রবন্ধ: বিদ্রোহী পার্বত্য চট্টগ্রাম ও শান্তিচুক্তি; দারাশিকোহ: মুঘল ইতিহাসের ট্র্যাজিক হিরো; দ্বিশত জন্মবর্ষে বিদ্যাসাগর; প্রকাশনা শিল্প, স্টুডেন্ট ওয়েজ, মোহাম্মদ লিয়াকতউল্লাহ। উপন্যাস: পার্টিশনস; নীল উড়াল। ভ্রমণ: রক্তাক্ত নৈসর্গিক নেপালে। গল্প: ইতিহাসবিদ; ন্যানো ভালোবাসা ও অন্যান্য গল্প; বুড়ো ব্রহ্মপুত্র। কবিতা: মানব বংশের অলংকার; আমার সামনে নেই মহুয়ার বন; গন্ধর্বের অভিশাপ। অগ্রসর ও জনপ্রিয় মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল বার্তা২৪.কম-এর প্রকাশিত হচ্ছে তার নতুন উপন্যাস 'রংধনু', যা অচিরেই গ্রন্থাকারে প্রকাশ পাবে।

ড. মাহফুজ পারভেজ রচিত 'শান্তিচুক্তির দুইযুগ: সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিদ্যমান সমস্যা ও সমাধানের রূপরেখা' গ্রন্থ প্রিঅর্ডার করা যাবে রকমারি.কম-এর লিংকে

;