পাঠপ্রতিক্রিয়া: প্রতিদিন একটি খুন



আহমেদ শরীফ শুভ
'প্রতিদিন একটি খুন' বইয়ের প্রচ্ছদ, ছবি: সংগৃহীত

'প্রতিদিন একটি খুন' বইয়ের প্রচ্ছদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তরুণ গল্পকার শফিক হাসানের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘প্রতিদিন একটি খুন’ এর তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে এবারের বইমেলাকে সামনে রেখে। ছোট বড় আটটি গল্পে সাড়ে পাঁচ ফর্মায় সাজানো হয়েছে বইটি। বয়সে তরুণ হলেও জীবনের অভিজ্ঞতায় শফিক হাসান ঋদ্ধ। সেই সাথে গল্প বলার ঢংয়েও পরিপক্ব। তার গল্পগুলো সে কথাই জানান দেয়।

‘প্রতিদিন একটি খুন’ গ্রন্থের গল্পগুলোতে আমাদের প্রতিদিনের রোজনামচা উঠে এসেছে একজন পরিণত পর্যবেক্ষকের নিপুণতায়। পর্যবেক্ষক বলেছি এ কারণে যে গল্পকার মাত্রই প্রথমে একজন পর্যবেক্ষক। কিন্তু সেই পর্যবেক্ষণটি কথা সাহিত্যের পাতায় পুনরুস্থাপনের মুনশিয়ানা সবার সমান থাকে না। শফিক হাসান নিঃসন্দেহে সেই মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। তার গল্পগুলোতে দেখা যায় সমাজ চিন্তা, মনোদৈহিক জটিলতার অভিজ্ঞান এবং আমাদের চারপাশের অনাচার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহের আকাঙ্ক্ষা। এ সব কথাচিত্র আঁকতে গিয়ে শফিক হাসান কখনো নিছক ধারা বর্ণনা, কখনো রূপক আবার কখনোবা পরাবাস্তবতার আশ্রয় নিয়েছেন। প্রতিটি গল্পেই তিনি কোন না কোন ম্যাসেজ দিতে চেয়েছেন। একজন গল্পকারের এখানেই বোধহয় সবচেয়ে বড় সার্থকতা। একটি গল্প পড়ে পাঠক যদি কোন চিন্তার খোরাকই না পান তাহলে তার সময়ের প্রতি সুবিচার করা হয় কি?

গ্রন্থের প্রথম গল্প ‘শরীর’। একজন পড়ন্ত মধ্যাহ্নের বিধবার মনোদৈহিক জগতের যে টানাপোড়েন তার একটি চমৎকার চিত্রকল্প। কোথাও কোথাও গল্পের নায়ককে রায়প্রবণ (জাজমেন্টাল) মনে হলেও লেখক নিজেকে গল্পের নায়ক সত্ত্বা থেকে পৃথক করেছেন সফল ভাবে। সেখানে তিনি নৈর্ব্যক্তিক। তবে গল্পের প্রথম লাইনটি যথাযথ মনে হয়নি। ‘বৈধব্যের কী যন্ত্রণা – জানবেন বিধাতা আর বিধবার সন্তান!’ – কেবল তা’ই হতে যাবে কেন? বৈধব্যের যন্ত্রণা তো সবচেয়ে বেশি জানবেন বিধবা স্বয়ং। দেখা যায় নায়ক তার বিধবা মায়ের মনোদৈহিক পরিবর্তন লক্ষ করে একটি উভয় বলতার (এম্বিভ্যালেন্স) মধ্যে প্রবেশ করে। ‘মায়ের গুনগুনানি, উচ্ছল প্রজাপতি হয়ে উঠা দেখতে ভালো লাগে আবার ভালো লাগেও না’ – এই তার অভিব্যক্তি। আমাদের সমাজের রায়প্রবণতার বিপক্ষে গিয়ে লেখক একজন চল্লিশ বছরের বিধবা মহিলার মন এবং শরীরের কান্নাকে সহমর্মিতার দৃষ্টিতে দেখেছেন। আবার তা দেখতে গিয়ে আমাদের প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন – ‘লাবণ্য অনেক সময় পবিত্রতা বয়ে আনে। মায়ের তাই ঘটছে’। কিংবা ‘পাপপুণ্য নাকি আপেক্ষিক বিষয়’। ‘শরীর’ নিঃসন্দেহে এই গ্রন্থের শ্রেষ্ঠ গল্প। গল্পটি শেষ হয়েছে একটি অমীমাংসিত বাঁকে, একটি সার্থক গল্পে যেমনটি হবার কথা, ‘শেষ হইয়া হইল না শেষ’।

‘কালো পর্দায় নীল অন্ধকার’ আমাদের রূপালী পর্দার কদর্য কাহিনী। এ ধরনের কাহিনী আমরা প্রায়ই শুনে থাকি কিংবা আঁচ করি। তবে শফিক হাসান এই চির চেনা গল্পটিই উপস্থাপন করেছেন নতুন আঙ্গিকে। কাহিনী গতানুগতিক হলেও উপস্থাপনের গুনে সুখপাঠ্য হয়ে উঠেছে। ‘প্রতিদিন একটি খুন’ একটি প্রতীকী গল্প। সমাজে বিদ্যমান নানা অনাচারের বিরুদ্ধে লেখকের ক্ষোভ এবং দ্রোহ ফুটে উঠেছে এই গল্পে। ইভটিজার, ঋণখেলাপি, প্রতারক প্রেমিক এবং রাজাকার এই চার জনকে খুনের গল্প সাজিয়ে লেখক সমাজের আরও অনাচারের বিরুদ্ধে তারুণ্যের দ্রোহকে জাগ্রত করেছেন। এখানে পাঠককে একটি ম্যাসেজ দেয়ার জন্য ‘খুন’ বিষয়টি রূপকার্থেই ব্যবহৃত হয়েছে।

‘কুহক’ এবং ‘বুনোফুলের ঘ্রাণ’ গল্প দু’টোতে রহস্যের অবতারণা করা হয়েছে। শেষ দিকে এসে দু’টি গল্পকে পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত মনে হয়েছে। যেন একটি উপন্যাসের দুই অধ্যায়। এই প্রবণতা কি লেখকের সচেতন নিরীক্ষা তা না জেনেই বলা যায়, ‘বুনোফুলের ঘ্রাণ’ পড়া শেষ হলে আবারো ‘কুহক’ এ চোখ বুলানোর আগ্রহ জন্মাবে। ‘লিঙ্গান্তর’ গল্পে আছে পরাবাস্তবতার ছোঁয়া। ‘ফেইসবুক জেনারেশনের’ পাঠক একটি হাল্কা মেজাজের মজাদার কাহিনী পড়তে গিয়ে হঠাৎই একটি কঠিন প্রস্তাবনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যাবেন – ‘নারী থেকে পুরুষ, পুরুষ থেকে নারী হওয়া বোধহয় অতটা খারাপ না’।

শেষ গল্প ‘কবির সংসার’ একজন অস্বীকৃত কবির সংসার জীবনের নিত্যদিনের টানাপোড়েনের গল্প। যদিও ‘কবির সংসার’ আমাদের চেনা গল্পেরই নতুন চিত্রকল্প, তবুও গল্প বলার ঢংয়ে হয়ে উঠেছে সুপাঠ্য। পড়তে পড়তে পাঠক নিজেকে আবিষ্কার করবেন গল্পের ভেতর। শেষ দিকে বেরিয়ে যাবে একটি দীর্ঘশ্বাস। এই গল্প কয়েকটি উপশিরোনামে বিভক্ত করা হয়েছে। এই বিন্যাসে পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে গল্পটিতে একটি উপন্যাসের ভ্রূণ রয়েছে।

শফিক হাসানের রচনা শৈলী পরিশীলিত। কোথাও কোথাও তিনি এলাকা বিশেষের কথ্য ভাষাও ব্যবহার করেছেন। ‘ইহজিন্দেগী’, ‘সালামালকি’, ‘ঠাটবাট’ – এ সব শব্দের ব্যবহারে পাঠক সহজেই গল্পের সাথে একাত্ম হতে পারেন। ইংরেজি শব্দকে বাংলা হরফে লিখতে গিয়ে কোথাও কোথাও আরেকটু সাবধানতার দাবি রাখে। ‘শার্টটা নাকি আমাকে শুট করেছে’ – এখানে ‘সুট করেছে’ হলে উচ্চারণ যথার্থ হতো বলে মনে হয়েছে।

রাজিব রায়ের আঁকা প্রচ্ছদ দৃষ্টিনন্দন। অঙ্গসজ্জা মানসম্মত। তবে ‘সমীকরণহীন’ গল্পটির শিরোনাম শেষদিকে এসে ‘শয়তানের হাসি’ হয়ে গেলে কেন তা বোঝা গেল না। হয়তোবা মুদ্রণ প্রমাদ!

‘প্রতিদিন একটি খুন’ এর তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেছে অনুপ্রাণন প্রকাশন। মূল্য ১৯০ টাকা। বইমেলায় অনুপ্রাণনের স্টলে (স্টল নম্বর ৫৬৫, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাওয়া যাবে। কাঁটাবনস্থ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্সে প্রকাশকের বিপণন কেন্দ্র থেকেও সংগ্রহ করা যাবে। গ্রন্থটির বহুল প্রচার ও বহুল পাঠ কামনা করি।

মধুকবির জন্মদিন, হচ্ছে না মধু মেলা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৮তম জন্মবার্ষিকী মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি)।

১৮২৪ সালের এইদিনে যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জমিদার ঘরে জন্মগ্রহণ করেও সাহিত্যকে ভালোবেসে সমাজ সংসার থেকে কবি পেয়েছেন শুধু বঞ্চনা আর যন্ত্রণা। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতায় মারা যান মহাকবি মাইকেল মধুসূদন। এরপর কবির ভাইয়ের মেয়ে কবি মানকুমারি বসু ১৮৯০ সালে কবির প্রথম স্মরণসভার আয়োজন করেন সাগরদাঁড়িতে। সেই থেকে শুরু হয় মধু মেলার। এরপর থেকে সাগরদাঁড়িতে কবির জন্মদিন ঘিরে সপ্তাহব্যাপি মধুমেলায় হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে।

জন্মদিন উপলক্ষে মহাকবির জন্মভূমি সাগরদাঁড়িতে প্রতিবছর সপ্তাহ ব্যাপি মধুমেলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে করোনার কারণে গতবছরের মতো এবারও মধুমেলার আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত পরিসরে পালন করা হবে খ্যাতিমান এই কবির জন্মদিন। আজ ২৫ জানুয়ারি মহাকবির ১৯৮তম জন্মবার্ষিকীতে জেলার কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে মাত্র একদিনের কর্মসূচি উদযাপিত হবে। তবে প্রথমবারের মতো এবছর জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হচ্ছে।

আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় সাগরদাঁড়িতে মধুকবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। যশোর থেকে স্বল্প পরিসরের একটি সাংস্কৃতিক দল উদ্বোধনী সংগীত

পরিবেশন করবে। গত ২০ জানুয়ারি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত । তার পিতার নাম রাজনারায়ণ দত্ত ও মাতা জাহ্নবী দেবী। মাইকেল মধুসূদন দত্ত সাগরদাঁড়ি পাঠশালায় শিক্ষাজীবন শুরু করেন। পরে সাত বছর বয়সে কলকাতার খিদিরপুর স্কুলে ভর্তি হন। এরপর ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। এই কলেজের অধ্যয়নরত অবস্থায় বাংলা, সংস্কৃত, ফারসি ভাষা শেখেন। ১৮৪৪ সালে তিনি বিশপস কলেজে ভর্তি হন। ১৮৪৭ সাল পর্যন্ত ওই কলেজে অধ্যয়ন করেন। এখানে তিনি ইংরেজি ছাড়াও গ্রিক, ল্যাটিন ও সংস্কৃত ভাষা শেখার সুযোগ পান। এসময় ধর্মান্তরের কারণে মধুসূদন তার আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তার পিতা এসময় অর্থ পাঠানো বন্ধ করে দেন। তাই অগত্যা ১৮৪৮ সালে ভাগ্যান্বেষণে মাদ্রাজ গমন করেন তিনি। ১৮৪৮-৫২ সাল পর্যন্ত মাদ্রাজ মেইল অরফ্যান অ্যাসাইলাম স্কুলে শিক্ষকতা করেন। এরপর ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন। এসময় সাংবাদিক ও কবি হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। একই সঙ্গে হিব্রু, ফরাসি,জার্মান, ইটালিয়ান, তামিল ও তেলেগু ভাষা শিক্ষাগ্রহণ করেন। মাদ্রাজে অবস্থানকালে প্রথমে রেবেকা ও পরে হেনরিয়েটা'র সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।  ১৮৬২ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশ্যে বিলেত গমন করেন এবং গ্রেজ ইন এ যোগদান করেন।

১৮৬৩ সালে প্যারিস হয়ে ভার্সাই নগরীতে যান।  ১৮৬৫ সালে আবার ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। ১৮৬৬ সালে গ্রেজ ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন। ১৮৬৭ সালে দেশে ফিরে কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৮৭০ সালে হাইকোর্টে অনুবাদ বিভাগে যোগদান করেন। ১৮৭২ সালে কিছুদিন পঞ্চকোর্টের রাজা নীলমণি সিংহ দেও এর ম্যানেজার ছিলেন। এখানে কিছুদিন কাজ করার পর পুনরায় আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন তিনি ইহকাল ত্যাগ করেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সাহিত্য কর্মের মধ্যে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ১২টি গ্রন্থ এবং ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ৫টি গ্রন্থ রয়েছে। Timothy PenPoem ছন্দনামে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ, The Captive ladie (১৮৪৮), দ্বিতীয় গ্রন্থ vissions of The past, পদ্মবতী নাটক, তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য, মেঘনাদ বধ মহাকাব্য, বীরাঙ্গনা (১৮৬২), কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১), ব্রজাঞ্জনা (১৮৬১), হেক্টের বধ (১৮৭১), মায়াকানন (১৮৭৩), 'বঙ্গভাষা' 'কপোতাক্ষ নদ' ইত্যাদী সনেট। এই সনেটগুলো ১৮৬৬ সালে চতুৰ্দ্দশপদী কবিতাবলী নামে না মন্ডল প্রকাশিত হয়। দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকটি তিনি ইংরেজি অনুবাদ করেন। Eurasion (পরে eastern Guardian), Madras Circulator and General Chronicle 3 Hindu Chronicle পত্রিকার সম্পাদনা করেন এবং Madras spec etator এর সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ১৮৪৮-১৮৫৬ সাল পর্যন্ত। ১৮৬২ সালে তিনি হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার সম্পাদনা করেন।

;

মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৮তম জন্মবার্ষিকী আজ।

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৮তম জন্মবার্ষিকী আজ।

  • Font increase
  • Font Decrease

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৮তম জন্মবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। মাইকেল মদুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোরের কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে বিখ্যাত দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

করোনা পরিস্থিতির কারণে মধুসূদন দত্তের জন্মদিন ঘিরে মধুমেলা কিংবা বিস্তৃত পরিসরের কোনো আয়োজন থাকছে না। তবে আজ সামাজিক দূরত্ব মেনে সীমিত পরিসরে একদিনের কর্মসূচি উদযাপিত হবে। এর মধ্যে মহাকবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাগরদাঁড়ির মধুমঞ্চে কবির জীবনীর ওপর আলোচনা সভা। এছাড়া রয়েছে কবিতা আবৃত্তি।

মধুসূদনের পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন জমিদার। মা ছিলেন জাহ্নবী দেবী। তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় মা জাহ্নবী দেবীর কাছে। তেরো বছর বয়সে মদুসূদন দত্ত কলকাতা যান এবং স্থানীয় একটি স্কুলে কিছুদিন পড়াশোনার পর তিনি সেসময়কার হিন্দু কলেজে (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হন।

তিনি বাংলা, ফরাসি ও সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষালাভ করেন। এরপর তিনি কলকাতার বিশপস কলেজে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি গ্রিক, ল্যাটিন ও সংস্কৃত ভাষা শেখেন। পরবর্তীতে আইনশাস্ত্রে পড়ার জন্য তিনি ইংল্যান্ড যান।

মাইকেল মদুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক ছিলেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি ইংরেজি সাহিত্যেও অসামান্য অবদান রাখায় বিশ্ববাসী এ ধীমান কবিকে মনে রেখেছে কৃতজ্ঞচিত্তে। তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।

তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি হলো দ্য ক্যাপটিভ লেডি, শর্মিষ্ঠা, কৃষ্ণকুমারী (নাটক), পদ্মাবতী (নাটক), বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, চতুর্দশপদী কবিতাবলী, হেকটর বধ ইত্যাদি।

এ মহাকবির জন্মের কারণেই সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ নদ জগৎবিখ্যাত। কালের প্রবাহে কপোতাক্ষ নদের যৌবন বিলীন হলেও মাইকেলের কবিতার কপোতাক্ষ নদ যুগে যুগে বয়ে চলেছে।

১৮৭৩ সালে ২৯ জুন কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ মহাকবি। কলকাতায় তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

;

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন যারা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২১ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী ১১ বিভাগে ১৫ জন এবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির সদস্য সচিব এ এইচ এ লোকমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম জানানো হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন:

কবিতায় আসাদ মান্নান ও বিমল গুহ, কথা সাহিত্যে ঝর্না রহমান ও বিশ্বজিৎ চৌধুরী, প্রবন্ধ/গবেষণায় হোসেন উদ্দিন হোসেন, অনুবাদে আমিনুর রহমান, রফিক উম মুনীর চৌধুরী, নাটকে সাধনা আহমেদ, শিশুসাহিত্যে রফিকুর রশীদ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় পান্না কায়সার, বঙ্গবন্ধু বিষয় গবেষণায় হারুন-অর-রশীদ, বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞানে পরিবেশ বিজ্ঞানে শুভাগত চৌধুরী, আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনীতে সুফিয়া খাতুন, হায়দার আকবর খান রনো এবং ফোকলোর বিভাগে আমিনুর রহমান সুলতানা।

অমর একুশে বইমেলা-২০২২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি অথবা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। 

;

আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার পেলেন আহমদ রফিক ও মাসরুর আরেফিন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক এবং কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক এবং কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন

  • Font increase
  • Font Decrease

আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার পেলেন দুই প্রজন্মের দুই কথাসাহিত্যিক।

আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার-২০১৯ পেয়েছেন ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক এবং কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন। ‘ভাষা আন্দোলন: টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’ প্রবন্ধের জন্য আহমদ রফিককে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ‘আগস্ট আবছায়া’ উপন্যাসের জন্য মাসরুর আরেফিনের নামের পাশে যোগ হয়েছে পুরস্কারটি।

করোনা মহামারির কারণে এবার অনলাইনের মাধ্যমে নির্বাচিত দুই প্রজন্মের দুই কথাসাহিত্যিককে সম্মাননা জানানো হয়। গত ১৫ জানুয়ারি এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। এছাড়া ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী শাহ এ সারওয়ার।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সমসাময়িক লেখকদের স্বীকৃতি দিতে আইএফআইসি ব্যাংক ২০১১ সালে চালু করে ‘আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার’। প্রতিবছর পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয় সেরা দুটি বই। নির্বাচিত প্রত্যেক লেখককে পাঁচ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র পেয়ে থাকেন।

;