একদা এক ভীষণ নির্বোধ ব্যক্তি



লিডিয়া ডেভিস
ছবি নিউইয়র্কার থেকে। গ্রাফিক বার্তা২৪

ছবি নিউইয়র্কার থেকে। গ্রাফিক বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

অনুবাদ মেহেদী হাসান

লিডিয়া ডেভিস ১৯৪৭ সালের ১৫ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের নরদাম্পটনে জন্মগ্রহণ করেন। অনুগল্প (Flash fiction) কথিত অত্যন্ত স্বল্প পরিসরের সাহিত্য আঙ্গিকের জন্য তিনি অধিক পরিচিত। পাশাপাশি তিনি একজন ছোট গল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক এবং অনুবাদক। তিনি মার্সেল প্রুস্তের সোয়ান’স ওয়ে এবং গুস্তাব ফ্লবেয়ারের মাদাম বোভারিসহ ফরাসি ও অন্যান্য ভাষার বেশ কিছু চিরায়ত সাহিত্য ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।

লিডিয়া ডেভিসের বাবা রবার্ট গরহ্যাম ডেভিস (Robert Gorham Davis) ছিলেন একজন সাহিত্য সমালোচক ও ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক এবং মা হোপ হেল ভেভিস (Hope Hale Davis) ছিলেন একজন ছোটগল্পকার, স্কুল শিক্ষিকা এবং স্মৃতিকথা লেখক। গোড়ার দিকে তিনি সঙ্গীতের ওপর শিক্ষা গ্রহণ করেন—প্রথমে পিয়ানো, তারপর ভায়োলিন। সঙ্গীত ছিল তার প্রথম প্রেম। লেখক হওয়ার বিষয়ে লিডিয়া ডেভিস জানান, “আমি সম্ভবত সবসময় লেখক হওয়ার পথেই এগিয়ে গিয়েছি, এমনকি যদিও এটা আমার প্রথম প্রেম নয়।” 

লিডিয়া ডেভিস দ্য থারটিন উম্যান এন্ড আদার স্টোরিজ (১৯৭৬) এবং ব্রেক ইট ডাউন (১৯৮৬) সহ মোট ছয়টি গল্পগ্রন্থ প্রকাশ করেন। ব্রেক ইট ডাউন গল্প গ্রন্থটি পেন/ হেমিংওয়ে অ্যাওয়ার্ড-এর (PEN/Hemingway Award) চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এবং তার সাম্প্রতিক প্রকাশিত ভ্যারাইটিজ অব ডিস্টারবেন্স (২০০৭) গল্পগ্রন্থটি স্থান লাভ করে ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড (National Book Award) চূড়ান্ত তালিকায়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত লেখা তার সকল গল্পের সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়েছে দ্য কালেক্টডে স্টরিজ অব লিডিয়া ডেভিস (২০০৯)।

অনেকে তাকে অনেকাংশে তার নির্মিত সাহিত্য আঙ্গিকের গুরু হিসেবে অভিহিত করেন। তার অনেক অনুগল্প (Flash fiction) মাত্র একটি বা দুটি বাক্যেই সম্পূর্ণ। ডেভিস এইসব গল্পকে আকাশচুম্বী ভবনের সাথে তুলনা করেন এই অর্থে যে তারা আরোপিত শূন্যতা দ্বারা পরিব্যাপ্ত।

লিডিয়া ডেভিস ৬৫ বছর বয়সে ২০১৩ ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। ডেভিসকে পুরস্কার দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ম্যান বুকার প্রাইজ ওয়েবসাইটে তার সাহিত্য কর্মকে কাব্যের পরিমিতিবোধ এবং যথাযথতা সম্বলিত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/01/1561953332191.jpg
তরুণ বয়সে লিডিয়া ডেভিস / প্যারিস ১৯৭৩

 

একদা এক ভীষণ নির্বোধ ব্যক্তি 

মেয়েটি ক্লান্ত ও হালকা অসুস্থ এবং খুব পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে পারছে না। পোশাক পরার সময় মেয়েটি লোকটিকে জিজ্ঞেস করতে থাকে তার কাপড়-চোপড় সব কোথায় এবং লোকটি খুব ধৈর্য সহকারে মেয়েটির কাপড়-চোপড়ের অবস্থান জানায়—প্রথমে তার প্যান্ট, তারপর তার শার্ট, তারপর তার মোজা, তারপর তার চশমা। লোকটি মেয়েটিকে চশমা পরতে বলে এবং মেয়েটি চশমা পরে, তবে এতে তেমন কোনো লাভ হয় বলে মনে হয় না। রুমে খুব একটা আলো ঢুকছে না। এই খোঁজাখুঁজি এবং পোশাক পরার চেষ্টার সময় মেয়েটি প্রায় সকল পোশাক পরা অবস্থায় বিছানায় শুয়ে থাকে। বিড়ালটাকে খাওয়াতে খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠার এবং খাবারের টিন খোলার পর লোকটি চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকে। খাবারের টিন খোলার সময় এমন শব্দ হয় যা মেয়েটিকে হতবিহ্বল করে তোলে কারণ শব্দটি গাভীর বান থেকে স্টিলের বালতিতে দুধ পড়ার মতো শোনায়। প্রায় সকল পোশাক পরা অবস্থায় মেয়েটি লোকটির পাশে শুয়ে থাকার সময় লোকটি বিভিন্ন বিষয়ে একনাগাড়ে মেয়েটিকে বলে যায়। মেয়েটি লোকটির কথা শোনার সময় বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকে, প্রথমে বিরক্তি, তারপর ব্যাপক উৎসাহ, এরপর আহ্লাদ, তারপর চিত্ত বিক্ষেপ, তারপর আবার বিরক্তি, এরপর আবার আহ্লাদ। লোকটি মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করে তার বাচালতায় সে কিছু মনে করছে কিনা এবং সে কথা বলা বন্ধ করবে নাকি চালিয়ে যাবে। এখন তার প্রস্তুত হওয়ার সময়—এই বলে মেয়েটি বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে।

মেয়েটি আবার তার পোশাক খুঁজতে শুরু করে এবং লোকটি এবারও তাকে পোশাক খুঁজতে সাহায্য করে। মেয়েটি জানতে চায় তার আংটি কোথায়, জুতা কোথায়, জ্যাকেট কোথায় এবং পার্স কোথায়। লোকটি মেয়েটির জিনিসপত্রের অবস্থান জানিয়ে দেয়। এরপর লোকটি বিছানা ছাড়ে এবং মেয়েটি জানতে চাওয়ার আগেই কিছু জিনিস এগিয়ে দেয়। মেয়েটি যখন সকল পোশাক পরে বাইরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত, তখন মেয়েটি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারে যে তার পরিস্থিতি অনেকটা সেই হাসিডিক গল্পের মতো যা সে আগের দিন সাবওয়েতে পড়েছে। বইটি এখনো তার পার্সের মধ্যে আছে। মেয়েটি লোকটিকে জিজ্ঞেস করে মেয়েটি তাকে একটি গল্প পড়ে শোনাতে পারে কিনা, লোকটি ইতস্তত করে। মেয়েটি ভাবে লোকটি সম্ভবত চায় না সে তাকে গল্প পড়ে শোনাক, এমনকি যদিও লোকটি মেয়েটিকে পড়ে শোনাতে পছন্দ করে। মেয়েটি বলে একটি মাত্র অনুচ্ছেদ তাকে পড়ে শোনাবে, লোকটি রাজি হয় এবং তারা রান্নাঘরের টেবিলের সামনে বসে। ইতোমধ্যে লোকটিও পোশাক পরে নিয়েছে—একটি সাদা টি-শার্ট এবং একটি প্যান্ট যাতে তাকে খুব সুন্দর মানিয়েছে। পাতলা বাদামী রঙের বইটি থেকে মেয়েটি তাকে নিম্নোক্ত গল্পটি পড়ে শোনায়।

“একদা এক লোক ছিল—লোকটি ছিল ভীষণ নির্বোধ। সকাল বেলায় বিছানা ছাড়ার সময় পোশাক খুঁজে পাওয়া তার জন্য এতই দুষ্কর হয়ে উঠত যে, এই ঝামেলার কথা ভেবে সে রাতে বিছানায় যেতে ইতস্তত বোধ করত। একরাতে সে হাতে কাগজ ও পেন্সিল তুলে নেয় এবং তার পরনের পোশাক খুলে কোথায় রাখছে তা যথাযথভাবে লিখে রাখে। পরের দিন সকালে সে তার কাগজটি হাতে নিয়ে খুশি মনে পড়তে শুরু করে: টুপি—এখানে ছিল, তখন সে এটা মাথায় পরে; প্যান্ট—এখানে পড়ে আছে, সে প্যান্ট পরে নেয়; এবং সকল পোশাক পরা পর্যন্ত এভাবে চলে। এখন তার আতঙ্ক দূর হয় এবং সে নিজেকে বলে: ‘আমি আমার পোশাক খুঁজে পেয়েছি এবং গায়ে চাপিয়েছি, তবে আমি নিজে এখন কোথায় আছি? এই পৃথিবীর কোথায় আমি? সে চারদিকে খুঁজতে থাকে, তবে এতে কোনো লাভ হয় না; সে নিজেকে খুঁজে পায় না। ইহুদি যাজকটি বলে, আমাদের ব্যাপার-স্যাপারই এরকম।”

মেয়েটি পড়া থামায়। লোকটি গল্পটি পছন্দ করে, তবে শুরুর দিকটা, লোকটির সমস্যা এবং সমাধান, যেমন পছন্দ করে শেষের অংশটুকু—‘আমি কোথায়?’—তেমনটা পছন্দ করে বলে মনে হয় না।

মেয়েটি ভাবে সে ওই ভীষণ নির্বোধ ব্যক্তিটির মতো, শুধু এই কারণে নয় যে, সে তার পোশাক খুঁজে পায় না, একারণেও নয় যে মাঝে মাঝে পোশাক পরা বাদেও অন্যান্য সাধারণ জিনিসপত্র তার নাগালের বাইরে চলে যায়। তবে বেশিরভাগ এই কারণে যে, সে প্রায়ই বুঝতে পারে না সে কোথায় এবং বিশেষ করে এই লোকটির প্রেক্ষিত থেকে মেয়েটি জানে না মেয়েটি কোথায়। মেয়েটি ভাবে এই লোকটির জীবনে সম্ভবত তার কোনো জায়গা নেই, লোকটি অবশ্য শুধু তার নিজের বাড়িতেই নেই, ঠিক তেমনিভাবে মেয়েটিও তার নিজের বাড়িতে নেই যখন সে লোকটির সাথে দেখা করতে যায় এবং সে আসলে জানে না কোথায় তার বাড়ি তবে ঠিকই সে রাস্তায় হোঁচট খেতে খেতে এবং পড়ে যেতে যেতে সেখানে পৌঁছায় যেন বাস্তবে নয় স্বপ্নে, তবে লোকটি মোটেই লোকটির নিজের জীবনে আর নেই এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করে,‘আমি কোথায়?’

মেয়েটি আসলে নিজেকে একজন ভীষণ নির্বোধ ব্যক্তি মনে করতে চায়। মেয়েটি কি বলতে পারে না, এই মেয়েটি একজন ভীষণ নির্বোধ ব্যক্তি, ঠিক যেমনভাবে কয়েক সপ্তাহ আগে সে ভেবেছিল সে নিজেকে একজন দাঁড়িওয়ালা লোক মনে করেছে? কারণ এই গল্পের ভীষণ নির্বোধ ব্যক্তি যে আচরণ করে মেয়েটি ঠিক তেমন আচরণই করত অথবা ঠিক এই মুহূর্তে তেমন আচরণ করছে, সে কি নিজেকে ভীষণ নির্বোধ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে পারে না, ঠিক যেমনভাবে কয়েক সপ্তাহ আগে সে ভেবেছিল একটি ক্যাফেতে পাশের টেবিলে বসে লিখতে থাকা কেউ দাড়িওয়ালা লোক হিসেবে পরিগণিত হবে? মেয়েটি একটি ক্যাফেতে বসেছিল এবং একজন দাড়িওয়ালা লোক তার থেকে দুই টেবিল পরে বসে লিখছিল এবং উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকা দুইজন মহিলা লাঞ্চ করতে আসে এবং দাড়িওয়ালা লোকটিকে বিরক্ত করে এবং মেয়েটি তার নোটবুকে লিখে রাখে যে তারা পাশের টেবিলে বসে লিখতে থাকা দাড়িওয়ালা লোকটিকে বিরক্ত করেছে এবং এরপর দেখে যদিও সে নিজে, যখন সে এটা লিখছিল, পাশের টেবিলে বসে লিখছে, সে সম্ভবত নিজেকে একজন দাড়িওয়ালা লোক মনে করে। ব্যাপারটা এরকম নয় যে সে কোনোভাবে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে, তবে দাড়িওয়ালা লোক এই শব্দটি এখন তার ওপর প্রয়োগ করা যায়। অথবা সম্ভবত সে পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

মেয়েটি উচ্চস্বরে লোকটিকে গল্পটি পড়ে শোনায় কারণ এটা ঠিক তেমনই যেমনটা তার ক্ষেত্রে ঘটেছে, তবে এরপর সে ভাবে বিপরীতটাও তো হতে পারে এবং গল্পটি আগের দিন তার মনের ভেতরে কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারে এবং তার সকল পোশাক কোথায় আছে তা ভুলে যাওয়া এবং পোশাক পরার সময়কার এসব ঝামেলা সম্ভব করে তুলতে পারে। সেইদিন সকালে, অথবা সম্ভবত অন্য এক সকালে, লোকটিকে ছেড়ে আসার সময় একই ধরনের নির্বুদ্ধিতা অনুভব করা, যে তার নিজের জীবনে আর নেই, যখন মেয়েটি আবার নিজেকে লোকটির জীবনে খোঁজ করে এবং নিজেকে কোথাও খুঁজে পায় না, তখন আরো বিভ্রান্তি তৈরি হয়। মেয়েটি কাঁদে এবং সম্ভবত কাঁদে শুধুমাত্র এই কারণে যে বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে এবং সে জানালার শার্শিতে পড়তে থাকা বৃষ্টির দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে থাকে এবং এরপর সে ভাবে সে বেশি বেশি কাঁদে কারণ বৃষ্টি হচ্ছে অথবা এই বৃষ্টি প্রথমেই তার জন্য কান্না সম্ভব করে তোলে, যেহেতু সে ঘন ঘন কাঁদে না, এবং অবশেষে ভাবে এই দুইটি, বৃষ্টি এবং অশ্রু, আসলে একই। এরপর রাস্তায় একটা বিশাল হঠাৎ হট্টগোল বিভিন্ন জায়গা থেকে একই সময় আসতে থাকে—কিছু গাড়ি হর্ন বাজাচ্ছে, একটি ট্রাকের ইঞ্জিন ঘরঘর শব্দ করছে, অন্য একটি লক্করঝক্কর ট্রাক একটি ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে ঝনঝন করে চলছে, একটি রোড মেন্ডার রাস্তা পিটাচ্ছে—এবং হট্টগোলটি মনে হচ্ছে যেন তার ঠিক ভেতরে ঘটছে যেন তার ক্রোধ এবং দ্বিধা তাকে শূন্য করে দিয়ে গেছে এবং তার বুকের ঠিক মাঝখানে একটি জায়গা তৈরি করেছে এই উচ্চ ধাতব সংঘর্ষ তৈরি হওয়ার জন্য, অথবা যেন সে নিজে এই শরীর ত্যাগ করেছে এবং এই হট্টগোলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে গেছে, এবং এরপর সে ভাবে, আসলেই কি শব্দটি আমার ভেতরে ঢুকছে, অথবা আমার ভেতরের কিছু রাস্তায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে এরকম একটা বিশাল হট্টগোল তৈরি করার জন্য।

 

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;