বুকশপ ক্যাফে : রাজধানীর বইপ্রেমী মানুষের নিয়মিত গন্তব্য



শেহজাদ আমান, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
বইপ্রেমী ও সব ধরনের মানুষের প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে বেঙ্গল বই

বইপ্রেমী ও সব ধরনের মানুষের প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে বেঙ্গল বই

  • Font increase
  • Font Decrease

বই পড়া হোক, বা বইয়ের সাথে সংযুক্ত থাকার ব্যাপার, তার জন্য প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট পরিবেশ। তাই তো বই সাধারণত বাসাতেই পড়ে বেশিরভাগ মানুষ। ধোঁয়া ওঠা চা বা কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে একটু কাত হয়ে, হেলান দিয়ে, আরাম করে বই পড়ার অভ্যাস অধিকাংশ মানুষের। পাঠক ও বইপোকাদের সেরকম পরিবেশই দিচ্ছে বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন বুকশপ ক্যাফেগুলো। পাশাপাশি সেখানে বন্ধুবান্ধবের সাথে হালকা নাস্তা খেতে খেতে আড্ডা দিতে পারেন পাঠকরা। আলাপ করতে পারেন সাহিত্যজগৎসহ রাজ্যের সব বিষয়ে।

এধরনের অসাধারণ ও ‘হোমলি’ পরিবেশের জন্যই শহরের তরুণ-তরুণীসহ প্রায় সব বয়সের মানুষ ভিড় করছে বিভিন্ন বুকশপ ক্যাফেতে। বুকশপ ক্যাফেগুলো হয়ে উঠছে তাদের নিয়মিত গন্তব্য। নিজেদের মতো করে সময়টা কাটাতে পারছেন। আর যেতে-আসতে সংগ্রহ করছেন পছন্দানুযায়ী দেশি-বিদেশি বই। পাশাপাশি বুকশপ ক্যাফেগুলোতে মাঝেমধ্যেই অনেকে আয়োজন করছে শিল্প-সাহিত্যের ওপর বিভিন্ন অনুষ্ঠান। সেখানে লোকজনের উপস্থিতিও কম নয়। এভাবে ক্যাফেগামী মানুষের স্রোত নাগরিকজীবনে এনেছে নতুন মাত্রা, জীবনধারায় যোগ করেছে উন্নত এক সংস্কৃতি।

বুক ক্যাফে কালচার উন্নত দেশগুলোতে অনেকদিন ধরে উপস্থিত থাকলেও বাংলাদেশে এর আগমন সমসাময়িক। দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বুকক্যাফে ধরনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরা যেতে পারে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত ‘দীপনপুর’কে। এরপর এই অঙ্গনে এসেছে বাতিঘর, বেঙ্গল বই, কবিতা ক্যাফে ও নালন্দা বুকক্যাফে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/29/1564391031913.jpg
◤ বাংলাদেশে বুকশপ ক্যাফের অগ্রপথিক ‘দীপনপুর’ ◢

 

প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের ৪৫তম জন্মদিনে, ২০১৭-তে এলিফ্যান্ট রোডে যাত্রা শুরু করে বুকশপ ক্যাফে ‘দীপনপুর’। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে উগ্রবাদীদের হামলায় নিহত হন প্রকাশক দীপন। দীপনের মৃত্যুর পর তার সহধর্মিনী ডা. রাজিয়া রহমান জলি দীপনের স্মৃতি ও চেতনাকে ধরে রাখতে রাজধানীতে প্রতিষ্ঠা করেন ভিন্নধর্মী বুকশপ ক্যাফে ‘দীপনপুর।’ এলিফ্যান্ট রোডের ২৩০ নম্বর ভবনে প্রায় তিন হাজার স্কয়ার ফুটের বিশাল পরিসরে এই বুকশপ ক্যাফে করা হয়েছে। ঢুকতেই চোখে পড়বে প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের মৃত্যুকালীন তিনি যে চেয়ারে বসেছিলেন সেটি, সঙ্গে টেবিল এবং রক্তাক্ত পাণ্ডুলিপি, কলম ও অন্যান্য জিনিসপত্র।

দীপনপুরে বই ছাড়াও রয়েছে ‘দীপনতলা’ নামের অনুষ্ঠানস্থল। চাইলে যে কেউ এখানে সাহিত্য, কবিতা পাঠ, বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করতে পারবেন। রয়েছে ‘ক্যাফে দীপাঞ্জলি।’ এখানে বই পড়া ও দেখার পাশাপাশি চা, কফি ও ফ্রেশ জুস পাওয়া যাবে। পাওয়া যাবে স্বাস্থ্যসম্মত নাস্তা। রয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য স্বপ্নরাজ্য ‘দীপান্তর।’ শিশুরা এ কর্নারে বই পড়তে পারবে, আঁকতে পারবে, পাশাপাশি পারবে খেলতেও।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/29/1564391138190.jpg
◤ নান্দনিক নকশার বাতিঘর ঢাকা, যেখানে নিয়মিত আসা-যাওয়া রুচিশীল বইপ্রেমীদের ◢

 

এরপরই বলতে হয় বাতিঘর ঢাকার কথা। ২০১৭-এর ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করা এই নান্দনিক বুক ক্যাফেটি ইতোমধ্যেই সব ধরনের বইপ্রেমী মানুষের প্রিয় একটি গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। লাল ইটের দেয়াল এবং মোঘল সম্রাজ্যের অন্যতম বিখ্যাত স্থাপত্য লালবাগ কেল্লার আদলে তৈরি এই বুকশপ ক্যাফেটি। প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে লক্ষাধিক বই নিয়ে রাজধানীর বাংলামটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৮ম তলায় এর অবস্থান। এখানে রয়েছে সফট ড্রিংকস ও কফির ব্যবস্থা। পাঠকের গল্প করবার জন্য রয়েছে খোলা বারান্দা।

বাতিঘরের ভেতরে রয়েছে ছোট্ট একটি মঞ্চ। যেখানে হয় সাহিত্য আলোচনা কিংবা বই সম্পর্কিত কোনো অনুষ্ঠান। এখানে এসে ঘুরে গিয়েছেন ওপার বাংলার সমরেশ মজুমদার। মজার ব্যাপার হলো, মঞ্চটির অভ্যন্তরীণ সজ্জা করা হয়েছে লালবাগ কেল্লার পরীবিবির মাজারের মতো করে। এখানে থাকা চেয়ারগুলোও সাজানো মোঘল রীতি অনুসারে। সেলস কর্নারটি সাজানো আছে ফতেহপুরের সিক্রির মতো করে, যেখানে বসে গান করতেন সংগীতজ্ঞ তানসেন। শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা কর্নার। সেই জায়গাটি সজ্জিত হয়েছে কাচ ও কাঠ খোদাইয়ের বাহারি সব নকশায়। বাতিঘরে সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ইচ্ছেমত বই পড়া যাবে কোনো ধরনের ফি প্রদান ছাড়াই। রয়েছে বাংলা ও ইংরেজি বইয়ের বিশাল সমাহার।

‘বেঙ্গল বই’ নামের বুকশপ ক্যাফেটি অবস্থিত ধানমন্ডিতে। মিরপুর রোড থেকে ২৭ নম্বর রোডে ঢুকে প্রায় শেষের দিকে বামপ্রান্তের এক রাস্তায় এর অবস্থান। তিনতলা ভবনের পুরোটা জুড়েই এই বুকক্যাফে। মন কাড়বে এর চমৎকার সব স্থাপত্যশৈলি ও খোলামেলা পরিবেশ। প্রতিটি তলা ভাগ করা হয়েছে আলাদা আলাদাভাবে। একদম উপর থেকে অর্থাৎ তৃতীয় ও দ্বিতীয় তলায় রয়েছে দেশি ও বিদেশি বইয়ের সমাহার। নিচতলায় রয়েছে ক্লাসিক সব বই ও ম্যাগাজিন, যেগুলোর অনেকাংশই অবশ্য পুরনো। দেয়ালজুড়ে রয়েছে সব অনন্য চিত্রকর্ম। অসুস্থ কিংবা চলাফেরায় অক্ষম মানুষদের জন্য রয়েছে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করা কিংবা বই পড়ার সুযোগ।

‘বেঙ্গল বই’ নামের বুকশপ ক্যাফেটিকে ভাগ করা হয়েছে চারটি অংশে। আর সেগুলো হলো, ‘বারান্দায় কফি’, ‘বইয়ের হাট’, ‘আকাশকুসুম’ ও ‘বৈঠক খানা’। শিগগিরই ছাদে শুরু হবে নতুন আয়োজন ‘চিলেকোঠায় কাবাব’। বারান্দায় কফি নামের আয়োজন দোতলায়। বারান্দায় বসে কফি খেতে খেতে বই পড়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সেখানে। এখানে কবিতা পাঠের আসর থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা হয় মাঝেমধ্যেই, যেখানে উপস্থিত থাকেন লেখকেরাও। বেঙ্গল বইয়ের ‘বৈঠকখানা’য় কেউ পুরনো দুইটি বই ডোনেট করলে বিনিময়ে বেঙ্গল বইয়ের পুরনো সংগ্রহ থেকে নিতে পারবে সে একটি বই।

বেঙ্গল বইয়ের স্থাপত্যের নকশা করেছেন তাহমিদা আফরোজ। পুরো ভবনজুড়ে তিনি রেখেছেন সবুজের ছোঁয়া। তারই ধারাবাহিকতায় বেঙ্গল বইতে দেখা মিলবে ঝুলন্ত বারান্দার। এখান থেকে যে কোনো দেশি বিদেশি বই কেনা যাবে নির্দিষ্ট ডিসকাউন্টে। ভেতরে বসে সকাল নয়টা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত বই পড়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। লাগবে না কোনো অর্থ কিংবা রেজিস্ট্রেশন।

দোতলাতেই রয়েছে ‘বইয়ের হাট’, যা আসলে বই কেনার জায়গা। এখানে রয়েছে ১২ হাজার আইটেমের প্রায় ৭০ হাজার বই। সবাই কিনতে পারবে এসব বই। অসুস্থ বা প্রতিবন্ধীরা হুইলচেয়ারে পুরো জায়গা ঘুরে নিজের পছন্দমাফিক বই কিনতে পারবে। রয়েছে বারান্দায় বসে কফি খাওয়ার ব্যবস্থা।

তৃতীয় তলাটা শিশুদের জন্য। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘আকাশকুসুম’। বাচ্চাদের বই পড়া ও খেলাধুলার ব্যবস্থা আছে এখানে। পাওয়া যায় পাঠ্যপুস্তকও। খাতা-কলম-পেনসিল ছাড়াও মিলবে ছবি আঁকার কাগজ, তুলি, রঙ। মাঝেমধ্যে বাচ্চাদের জন্যও এখানে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান হয়। সঙ্গে আসা অভিভাবকদের জন্য আছে ম্যাগাজিন পড়ার ব্যবস্থা।

নিজের বাসার মতো পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে বসে বই পড়ার সুযোগ বুক ক্যাফেগুলোর মধ্যে কেবল বেঙ্গল বইতেই পাওয়া যায়। চেয়ার-টেবিলে বসে বসে বই পড়া ছাড়াও দোতলার একপাশে এমন ব্যবস্থা করা আছে, যাতে পাঠক হেলান দিয়ে বা পা-তুলে বসেও বই পড়তে পারেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/29/1564391273779.jpg
◤ ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থী ও ধানমন্ডির স্থানীয় অভিজাতদের গন্তব্য ‘দ্য নার্ডি বিন কফি হাউজ’ ◢

 

ইংরেজি সাহিত্য পড়ুয়া কিশোর-কিশোরীদের স্বর্গরাজ্য বইলা যায় ধানমন্ডিতে অবস্থিত ‘দ্য নার্ডি বিন কফি হাউজ’কে। ভিনটেজ স্টাইলে করা অভ্যন্তরীণ সজ্জা ও মনোরম পরিবেশে কফির ধোঁয়া ওঠানোর সাথে সাথে হাতে ইংরেজি বই নিয়ে মেতে থাকতে অনেকেই ভিড় করছেন এখানে। তাদের বেশিরভাগই অবশ্য অল্পবয়স্ক বা তরুণ। এখানের ইংরেজি বইয়ের সংগ্রহশালাটা বেশ ভালোই। হালকা স্ন্যাক, আড্ডা ও কফি থাকায় কিশোর কিশোরী পাঠকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এটি। মাঝেমধ্যে এখানে আয়োজন করা হয় লাইভ মিউজিকের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/29/1564391350164.jpg
◤ ‘কবিতা ক্যাফে’তে আয়োজিত নানারকম অনুষ্ঠানে আগমন ঘটছে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ◢

 

কবিতা ক্যাফে চালু হয়েছে ২০১৮-এর সেপ্টেম্বর থেকে। এলিফ্যান্ট রোডে দীপনপুরের পাশের ভবনেই এর অবস্থান। ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে এনে পূর্ণাঙ্গ বুক ক্যাফে হিসেবেই এখন কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা। তাদের সংগ্রহে রয়েছে ১২,০০০-এর মতো বই। ক্যাফেতে রয়েছে হালকা নাস্তা থেকে শুরু করে চাওমিন, বার্গারের মতো আইটেমও। এমনকি দুপুরের লাঞ্চেরও ব্যবস্থা রয়েছে। একপাশে ছোট একটি মঞ্চে নিয়মিত আয়োজিত হয় অনুষ্ঠানমালা। প্রতি সপ্তাহে ২-৩টি অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। শিল্প-সাহিত্যভিত্তিক অনুষ্ঠানই সেখানে বেশি হয়ে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/29/1564391556414.jpg
◤ সম্প্রতি চালু হওয়া নালন্দা বুক ক্যাফেতে রয়েছে দেশি, ভারতীয় বাংলা সেরা বইগুলোর সমাহার ◢

 

সম্প্রতি জুলাইয়ের ১২ তারিখে চালু হয়েছে ‘নালন্দা বুক ক্যাকে’ নামের নতুন বুকশপ ক্যাফে। এটিরও অবস্থান এলিফ্যান্ট রোডের দীপনপুরের পাশের ভবনে, কবিতা ক্যাফের পাশে। ১৫,০০০ বুক আইটেম নিয়ে বেশ ছিমছাম নকশায় চালু হয়েছে এটি। মোটামুটি স্বল্প পরিসরে পাঠকদের বুক ক্যাফের অভিজ্ঞতা প্রদান করতে সক্ষম। ভেতরে বসে বই পড়ার ও আড্ডা দিতে দিতে চা, কফি, সিঙ্গারা, সমুচার মতো খাবার উপভোগ করতে পারবেন পাঠকরা। দেশি বইয়ের ওপর এখানে রয়েছে ২৫% ডিসকাউন্ট এবং ভারতীয় বই কেনা যাবে গায়ের দামের ১.৬ গুণ টাকায়। ভিতরে অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে, তবে সেক্ষেত্রে তা হতে হবে কেবল শিল্প-সাহিত্যের ওপর।

বহুমুখী সুবিধা দিচ্ছে বলে এইসকল বুকশপ ক্যাফেগুলো প্রকৃত অর্থেই হয়ে উঠেছে সামাজিক মিলনমেলার এক উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র। পাঠক বা কাস্টোমারদের জন্য এগুলো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খোলা থাকে সপ্তাহের প্রতিটি দিন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;

স্বপ্নের পদ্মা সেতু



রিঝুম ইতি
স্বপ্নের পদ্মা সেতু

স্বপ্নের পদ্মা সেতু

  • Font increase
  • Font Decrease

আমি জন্মেছি বাংলায়-

গর্বিত আমি,
শেখ হাসিনার মহিমায়।
পেয়েছি আমি,
স্বপ্নের পদ্মা সেতু।
একদিন যেটা,
স্বপ্নই ছিলো শুধু।
আজ, পদ্মাসেতুর প্রয়োজন -
বুঝবে সেই,
ভুক্তভুগী যেজন।
মাঝরাতে-
বেড়েছিলো মায়ের অসুখ।
ফেরিঘাটে-
গুণেছি শুধু প্রহর।
অবশেষে -
পারিনি মাকে বাঁচাতে,
পেরেছো কি দায় এড়াতে?
অভাবের সংসার-
একটা চাকরি,খুব দরকার।
একদিন-
ডাক পড়লো আমার,
ইন্টারভিউ দেবার।
পড়লাম এসে-
ফেরিঘাটের জ্যামে,
স্বপ্ন নষ্ট-
কিছু সময়ের দামে।
বাংলাদেশে-
হয়নি কোন চাকরি,
ভেবেছি তাই-
বিদেশ দেবো পাড়ি।
ভিটেমাটি সব বেঁচে,
সব টাকা যোগাড় করে।
রওনা দিলাম ভোরে,
চারপাশের-
কুয়াশা ঘিরে ধরে।
ফেরি চলাচল বন্ধ,
হারালো,জীবনের ছন্দ।
সারা বছর-
হাড়ভাংগা পরিশ্রমে,
জন্মাই ফসল-বাংলার মাটির বুকে।
পাইনা ভালো দাম,
এই কি তবে-
আমার ঘামের দাম।
শহরে আমি-
সবজি বেঁঁচবো দামে,
কিন্তু-
ঘাটে সবজি যাবে পঁচে।
শুধু-
পাইনি সুবিধা আমি,
পেয়েছে আরো-
তিন কোটি বাঙালি।
হাজারো-
ব্যর্থতার গল্প,
এভাবেই-
রচনা হতো।
হয়েছে স্বপ্ন পূরণ,
পদ্ম সেতুর দরুণ।

লেখক-রিঝুম ইতি, অনার্স- ১ম বর্ষ, প্রাণীবিদ্যা, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ

;

সত্য-মিথ্যার মাঝখানে!



ড. মাহফুজ পারভেজ
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

১.

ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে ইউলিসিস প্রবেশ করেছিলেন নিজেরই প্রাসাদে, ইথাকায়। ইথাকা সাধারণত ইতিহাসে চিহ্নিত হয় হোমারের ইথাকা নামে। ওডিসিয়াস-এর বাড়ি। যে দ্বীপটিতে বিলম্বিত প্রত্যাবর্তন ঘিরে ক্লাসিকাল গ্রিক গল্প 'ওডিসি' আবর্তিত।

প্রত্নতাত্ত্বিককাল থেকেই ইথাকাকে পৌরাণিক বীরের বাড়ি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওডিসি'তে হোমার ইথাকাকে এভাবে বর্ণনা করেন:

"পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ইথাকাতে বাস করুন, সেখানে এক পাহাড়, নেরিটন। বনের সাথে বসতি। অনেকগুলো দ্বীপের একটি। কাঠবাদাম জ্যাসিয়েন্টসকে ঘিরে রেখেছে। ইথাকা নিজেই মূল ভূখন্ডের কাছাকাছি ঘেঁষার দিকে খুব আগ্রহী। অন্যরা ভোর ও সূর্যের দিকে পৃথক হয়ে পড়েছে। কিন্তু অতিপ্রাকৃত দ্বীপ ইথাকা যুবকদের জন্য একজন ভাল নার্সের মতো প্রণোদন জাগ্রতকারী। "

২.

ইথাকায় ইউলিসিসের ফিরে আসার মধ্যে পেরিয়ে গিয়েছিল কুড়ি বছর। এতই প্রাচীন তাঁর অনুপস্থিতি যে, স্ত্রী পেনেলোপির একাধিক প্রণয়প্রার্থী তাঁরই প্রাসাদে এসে জড়ো হয়েছে, বসবাস করছে এই আশায় যে, হয়তো এবার পেনেলোপি-কে পাওয়া যাবে।

পেনেলোপি প্রথমে অপেক্ষায় ছিলেন, স্বামী ফিরবেন। তাই তাঁর প্রণয়াকাঙ্ক্ষীদের দূরে রাখতেন এক চতুর ছলনায়। সকলকে বলতেন, তিনি ইউলিসিসের পিতা লেয়ার্তেসের জন্য একটি শবাচ্ছাদনবস্ত্র বুনছেন, বোনা শেষ হলেই সাড়া দেবেন মনোমতো এক ভালবাসার আবেদনে। কিন্তু সে-বোনা অনন্তকাল ধরে যেন চলতে থাকল, চলতেই থাকল। আসলে, সকালের বুনন রাতে বিনষ্ট করে ফেলতেন তিনি।

ইউলিসিস ফিরবেন, সময় ক্রয় করে চলেছেন পেনেলোপি তাই। এটাই ছিল সত্য। আর সব মিথ্যা।

অবশেষে একটা সময় এমন এল, যখন সমস্ত আশা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ল। দু’দশক পেরিয়ে গেল যে। ইউলিসিস সম্ভবত আর ফিরবেন না, তাঁদের পুত্র টেলেম্যাকাস-ও বড় হয়ে গিয়েছে। এবার তা হলে পেনেলোপি অন্য পুরুষের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে পারেন।

এমনই এক ক্ষণে ফিরে এলেন ইউলিসিস। তবে, ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে। তারপর যখন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে স্বয়ম্বরসভা, তখন দেখা গেল, এই ভিক্ষুকই হলেন সেরা পাণিপ্রার্থী পেনেলোপির। স্বপরিচয়ে প্রত্যাবর্তন এবার তাঁর। একে একে হত্যা করলেন স্ত্রী-র সকল পাণিপ্রার্থীকে। তিনিই তো অধিকর্তা, প্রমাণ করতে হবে তাঁকে। প্রমাণ করলেনও তিনি।

৩.

লুইজ় গ্লিক-এর 'মেডোল্যান্ডস' কবিতাগ্রন্থে ইউলিসিস-পেনেলোপির যে-মিথ, তার ভেতর এক গাঢ় অন্তরঙ্গতা আছে। 'গাঢ়' শব্দটা বললে নিমেষে মাথায় আসে বাংলা ভাষার সেই কবিকে, শহরের পথহাঁটা যাঁকে স্মরণ করিয়ে দিত, ‘বেবিলনে একা একা এমনই হেঁটেছি আমি রাতের ভিতর’।

বস্তুত, অনুভব বা বোধ গাঢ় না-হলে স্মৃতি অবাধ বিচরণ করতে পারে না। জীবনের স্মৃতি প্রস্তরীভূত হতে পারে না কালাতিক্রমী কল্পস্মৃতির সঙ্গে। যেমনভাবে, শরীরের শত প্রলোভন থাকা সত্ত্বেও মন মিশতে পারে না মনের সঙ্গে।

কারো কারো কবিতাভাষায় প্রচ্ছন্ন রয়েছে সেই গাঢ় অনুভব, যে-কারণে কবিতা আর জীবন পাশাপাশি বসবাস করতে পারে। পুরাণকাহিনিকণা আর বাস্তবের খণ্ডাংশ একাকার হতে পারে। পৌরাণিক আখ্যান পেরিয়ে সামনে এসে দাঁড়াতে পারেন একজন ইউলিসিস। একজন পেনেলোপি নব-নির্মাণে উত্থিত হতে পারেন। কালান্তরের দাগ মুছে আমাদের কালের নারী-পুরুষে পরিণত হতে পারেন তাঁরা।

৪.

বাস্তবের জীবনে ছুঁয়ে যাওয়া পৌরাণিক ভাষ্যের অপর নাম 'মিথ'। আদিতে যা গ্রিক শব্দ 'mythos' থেকে উদ্ভূত।  শব্দটি হোমারের বিভিন্ন কাজে প্রচুর দেখা গেছে। এমন কি হোমার যুগের কবিরাও এই শব্দটির ব্যাপক ব্যবহার করেছেন তাদের সাহিত্য কর্মে।

মূলগত অর্থে 'mythos' শব্দটি সত্য অথবা মিথ্যার মাঝে পার্থক্য বোঝাতে প্রয়োগ করা হয়। David Wiles এর মতে, প্রাচীন গ্রিসে শব্দটি বিপুল তাৎপর্য বহন করতো। এটি ব্যবহার করা হত মিথ্যাচারমূলক ধর্মীয় বা সামাজিক ব্যাপারগুলোকে উপস্থাপন করার সময়।

আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, মিথ নিজেই এখন সত্য ও মিথ্যার মাঝখান থেকে জীবনের বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। 'এটা ছিল' বা 'এটা হতে পারতো' ধরনের বহু মিথ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে সত্যের চেয়ে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ অবয়বে। কিংবা মিথ প্রতিষ্ঠিত করতে দাঙ্গা, হাঙ্গামা, হত্যাকাণ্ড ও রক্তপাতের বন্যা বইছে। একদা মিথ্যাচারমূলক ধর্মীয় বা সামাজিক ব্যাপারগুলোকে উপস্থাপন করতো যে মিথ, তা-ই এখন ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার মজবুত হাতিয়ারে পরিণত হয়ে হত্যা করছে মানুষ ও মানবতাকে।

৫.

সত্য আর মিথ্যার স্পষ্ট বিভাজনের পাশে মিথ দাঁড়িয়ে আছে অমীমাংসিত উপস্থিতিতে। কারো কাছে তা সত্য, কারো কাছে মিথ্যা, কারো কাছে অনির্ধারিত চরিত্রে। ব্যক্তি বা সামাজিক চর্চার বাইরে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমেও সত্যের পাশাপাশি মিথ্যা ও মিথের বাড়বাড়ন্ত।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে মার্কিন দেশে সাংবাদিকতা বললেই 'ফেইক নিউজ' শব্দটি সামনে চলে আসতো৷ বিরুদ্ধে গেলে মিথ্যা বা ফেইক বলাটা এখন ক্ষমতাসীনদের ট্রেন্ড বা ট্রেডমার্ক৷

এদিকে, তথ্যের সুনামির মধ্যে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা আলাদা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে৷ এর পেছনে কার দায় সবচেয়ে বেশি, তা এক গভীর গবেষণার বিষয়।

প্রতিদিন সামাজিক মাধ্যমে ও সংবাদ প্রবাহে কতো কতো সংবাদ আসে৷ আজকাল সবচেয়ে জরুরি আর গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো ফেসবুকে পাওয়া যায় শেয়ার-কমেন্টের কারণে৷ কিন্তু  ধীরে ধীরে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। এখন সত্য, মিথ্যা বা মিথ ফেসবুক স্ট্যাটাস বা কমেন্টে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না। সংবাদমাধ্যমও সঠিক তথ্য দেওয়ার চেয়ে কিভাবে প্রকাশ করলে ক্লিক আর শেয়ার বাড়বে, সেদিকে বেশি মনোযোগী৷

ফলে সত্য, মিথ্যা, মিথের ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি চারপাশে। আর মাঝখানে অসহায় মানুষের বিপন্ন অবস্থান।

পাদটীকা: ইউলিসিস আইরিশ লেখক জেমস জয়েস (জন্ম-২ ফেব্রুয়ারি ১৮৮২, মৃত্যু-১৩ জানুয়ারি ১৯৪১, বয়স ৫৮)-এর কালজয়ী সৃষ্টি। ১৯২২ সালে এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। অধিকাংশ সাহিত্য সমালোচক ইউলিসিস-কে ইংরেজি ভাষায় লিখিত বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে গণ্য করে থাকেন। ইউলিসিস-এর কাহিনী একটিমাত্র দিনকে ঘিরে। ১৯০৪ সালের ১৬ জুন। এই সাধারণ একটি দিনে এক সাধারণ নাগরিক লেওপোল্ড ব্লুম (Leopold Bloom) ডাবলিন শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত ঘুরে বেড়ান নানা কাজে। প্রাচীন গ্রিক কবি হোমার-এর রচিত মহাকাব্য ওডিসি-র সাথে উপন্যাসটির অনেক সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। ওডিসি কাব্যের বীর ইউলিসিস-এর নামেই উপন্যাসের নামকরণ। জয়েস-এর ভক্তরা ১৬ জুন দিনটিকে ব্লুম-দিবস (Bloomsday) হিসেবে পালন করে থাকেন। জয়েসের ইউলিসিস বিশাল এক গ্রন্থ। কোন কোন সংস্করনের দৈর্ঘ্য হাজার পৃষ্ঠার উপরে চলে গিয়েছে। বিগত আশি বছর ধরে সাহিত্য বিশারদরা বইটির চুলচেরা বিশ্লেষণ করে যাচ্ছেন। বইটি সাহিত্যাঙ্গণে অনেক বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। বিংশ শতকের শুরুতে আধুনিকতাবাদ (modernism) নামে যে সাহিত্যধারার সৃষ্টি হয়, ইউলিসিস তার অতি উৎকৃষ্ট একটি উদাহরণ। বিরতিহীন চৈতন্যবর্ণনার (stream of consciousness) অনবদ্য প্রয়োগের জন্যে উপন্যাসটি যথার্থই বিখ্যাত। এ ছাড়াও জয়েস-এর অভিনব গদ্যশৈলী, গদ্য নিয়ে বিচিত্র সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কুশলী চরিত্রায়ন ও চমৎকার রসবোধ বইটিকে স্বতন্ত্রতা এনে দিয়েছে। তবে বইটি বেশ দুরূহপাঠ্য যে কারণে কেউ কেউ এর সমালোচনা করেছেন। ১৯৯৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত প্রকাশক মডার্ন লাইব্রেরি শতাব্দীর সেরা ১০০টি ইংরেজি উপন্যাসের তালিকা প্রনয়ন করে। ইউলিসিস তালিকার শীর্ষে স্থান পায়। ২০২২ সাল জেমস জয়েসের ইউলিসিস প্রকাশের শতবর্ষ।

ড. মাহফুজ পারভেজ,  প্রফেসর,  রাজনীতি বিজ্ঞান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম

;