ব্যক্তিমানুষ ও স্রষ্টামানুষ



স্বকৃত নোমান

  • Font increase
  • Font Decrease

একজন কবি একজন স্রষ্টা। একইসঙ্গে তিনি একজন ব্যক্তিও। ব্যক্তিমানুষ ও স্রষ্টামানুষ কি আলাদা? ব্যক্তিমানুষটি যদি চোর, ডাকাত, গুণ্ডা, বদমাশ, লম্পট, ধর্ষক হয়―তাতে কি তার সৃষ্টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়? আমি বলি, হ্যাঁ, করা যায়। কিন্তু আপনি বলবেন, না করা যায় না। কারণ ব্যক্তিমানুষ ও স্রষ্টামানুষ সম্পূর্ণ আলাদা। মহাকবি হোমার অন্ধ ছিলেন, সুরগুরু বিঠোফেন বধির ছিলেন, শেক্সপীয়র মদ্যপ ও উচ্ছৃঙ্খল ছিলেন, বাল্মীকি দস্যু ছিলেন, আর কালিদাস ছিলেন মহামূর্খ। তাই বলে তাদের সৃষ্টি তো প্রশ্নবিদ্ধ নয়। তাদের সৃষ্টিকে তো আমরা খারিজ করে দিতে পারি না। রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছেন, ‘কবিরে পাবে না তাহার জীবনচরিতে।’ কার্ল গুস্তাভ ইয়ুং বলেছেন, ‘শিল্পী-স্বভাবকে পুরোপুরি প্রকাশ পেতে গেলে শিল্পীর নিজের ব্যক্তিস্বভাবকে আগে নির্বাসিত করতে হবে।’ ওদিকে টি.এস.এলিয়টও স্রষ্টার মধ্যে দুজনের অস্তিত্বের কথা বলেছেন―একজন the man who suffers এবং অপরজন the mind which creates. সুতরাং ব্যক্তিমানুষ ও স্রষ্টামানুষ যে সম্পূর্ণ আলাদা―এর পক্ষে মহান মনীষীদের ভারী ভারী সব উক্তি পাওয়া যাচ্ছে। অতএব, আপনার পাল্লা ভারী।

কিন্তু জনাব, বাটখারার পাল্লা একটি হয় না। বাটখারার জন্য দুটি পাল্লা লাগে। আপনার পাল্লাটি ভারী হলেও বিপরীত পাল্লাটি কি শূন্য? মোটেই তা নয়। আপনি নিশ্চয়ই সাহিত্যতত্ত্বকে স্বীকার করেন? করতেই হবে। একটা জায়গায় স্বীকার না করে কিন্তু উপায় নেই। যেমন ধরুন, সাহিত্যতত্ত্বে কবিতাকে কবিতা বলেছে, গল্পকে গল্প বলেছে, উপন্যাসকে উপন্যাস বলেছে। এখন আপনি যদি বলেন, না, কবিতাকে আমি গল্প বলব, গল্পকে নাটক বলব, উপন্যাসকে কবিতা বলব, আর নাটককে অংক বলব―তাহলে আপনার সঙ্গে তর্ক বৃথা। আপনি শিল্পী নন, আপনি নৈরাজ্যবাদী। শিল্পরাজ্যে আপনার প্রবেশ নিষেধ। আপনি নিশ্চয়ই তা নন। সাহিত্যতত্ত্বকে আপনি স্বীকার করেন। আপনি জানেন যে, সাহিত্যের বহু তত্ত্বের মধ্যে মার্কসীয় সাহিত্যতত্ত্ব অনেক প্রভাবশালী, অনেক বেশি বিখ্যাত। পৃথিবীর বহু প্রভাবশালী সাহিত্যিক এই তত্ত্বকে মেনেছেন, মানেন।

মার্কসীয় সাহিত্যতত্ত্বে আপনার ব্যক্তিমানুষ ও স্রষ্টামানুষের বিভাজনকে ‘অবস্তুতান্ত্রিক’ বা ‘ভাববাদী’ বলেছে। প্রাচীনকালের রচনাগুলো দেখুন না। যেমন ধর্মগ্রন্থ। ওগুলোকে তো মানব-রচিত বলেই স্বীকার করা হয় না। এগুলোর ওপর দৈবত্ব আরোপ করা হয়। অর্থাৎ এগুলো মানব-রচিত নয়। সেসব রচনায় দুটো সত্তার অস্তিত্বকে স্বীকার করা হচ্ছে। হতেই পারে। প্রাচীনকালে এমন দৈব ঘটনা হামেশাই ঘটত। কারণ মানুষ তখনও তার চিন্তাকে শৃঙ্খলিত করতে পারেনি, তার ক্ষমতাকে সুসংহত করতে পারেনি, পৃথিবীতে তার অস্তিত্বের জয় ঘোষণা করতে পারেনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কার্ল গুস্তাভ ইয়ুং বা টি.এস.এলিয়টও কার্ল মার্কস-কথিত সেই অবস্তুতান্ত্রিক বা ভাববাদী বা সেই দৈবযুগের মতবাদের সমর্থক। হতেই পারেন। দোষের কিছু নেই।

কিন্তু পৃথিবীটা এখন বদলে গেছে। এখন অন্ধকবি হোমারের যুগ নয়, এখন বধির বিঠোফেনের যুগ নয়, এখন মদ্যপ ও উচ্ছৃঙ্খল শেক্সপীয়রের যুগ নয়, এখন দস্যু বাল্মীকির যুগ নয়, এখন ‘মহামূর্খ’ কালিদাসের যুগ নয়। তাদের মৃত্যুপরবর্তীকালে পৃথিবীর সমস্ত নদ-নদীর অনেক জল গড়িয়েছে। অনেক নদী শুকিয়ে গেছে। এন্টার্কটিকা-হিমালয়ের অনেক বরফ গলে গেছে। অনেক অরণ্য মরুভূমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ঘটে গেছে ফরাসি বিপ্লব, অক্টোবর বিপ্লব, ঘটে গেছে হাইতি, কিউবা, চাইনিজ বিপ্লব। দু-দুটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। হিরোশিমা-নাগাসাকি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। মানুষ এখন কল্পিত স্বর্গকে পৃথিবীতে নামিয়ে এনেছে, একটি বাটনের মধ্য দিয়ে মানুষ এখন পৃথিবীকে শাসন করছে। একটি বাটনের চাপে গোটা স্থলভাগকে উড়িয়ে দিতে পারে মানুষ। মানুষের বৌদ্ধিক উৎকর্ষ এখন শিখরকে স্পর্শ করেছে।

পৃথিবীটা এখন পণ্যায়নের পৃথিবী। আপনি যে গল্পটি লিখছেন সেটি একটি পণ্য। আপনি যে কবিতাটি লিখছেন সেটি একটি পণ্য। আপনি যে উপন্যাসটি লিখছেন সেটি একটি পণ্য। আপনার কবিতার, গল্পের, উপন্যাসের বইটি একজন পাঠকও না কিনলে, আপনার বইটি কোনো প্রকাশক প্রকাশ না করলে, আপনি স্বীকার করুন বা না-ই করুন, আমি নিশ্চিত, আপনি লেখালেখি ছেড়ে দেবেন। ছেড়ে দেবেন, কারণ, আপনার মধ্যে হতাশা তৈরি হবে, নিরর্থকতা তৈরি হবে। আপনি কোনো অনুপ্রেরণা পাবেন না। লেখাবাহুল্য, শিল্পসৃষ্টির জন্য অনুপ্রেরণা জরুরি। সেই অনুপ্রেরণা আকাশ থেকে আসে না। রবীন্দ্রনাথের ‘অলৌকিক আনন্দের ভার বিধাতা যাহারে দেন’―এই উক্তিকে অচল ঘোষণা করেছে পণ্যসভ্যতা। অর্থাৎ আপনি একটি পণ্যসভ্যতায় বসবাস করছেন। গায়ের জোরে আপনি এই সভ্যতাকে অস্বীকার করতে পারবেন না।

এই পণ্যায়নের যুগে হোমার, বাল্মীকি আর কালিদাসরা জন্মগ্রহণ করেন না। কারণ এই পণ্যায়নের যুগের চাহিদা আলাদা। সামাজিক সম্পর্ক, শ্রমবিভাগ এবং সাংস্কৃতিক জীবনও আর সেই কালে দাঁড়িয়ে নেই। সমাজের এখন মূল লক্ষণ প্রগতি, অর্থাৎ সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। অতএব শেষ হয়ে যাওয়া, বিগত হয়ে যাওয়া সামাজিক অবস্থাকে ফিরিয়ে আনা এখন আর সম্ভব নয়। পুরনো সেই মহাকাব্য রচনার যুগ বা এলিজাবেথ-বিক্রমাদিত্যের যুগ বা জীবন আর ফিরে আসবে না। ফিরে আসবে না সেই সময়কার সাহিত্যকর্মও। এখনকার যুগটা সম্পূর্ণই আলাদা। এই আলাদা যুগে প্রত্যেক মানুষই এক বিশেষ সমাজে বাস করে। সেই সমাজ থেকে সে বন্ধনমুক্ত হতে পারে না। কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীও বন্ধনমুক্ত হতে পারে না। পেটে একবেলা ভাত না থাকলে এখন আর কলম চলে না। তাই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বা নজরুলরা এখন আর জন্মগ্রহণ করেন না।

আপনি যদি এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে চান, তবে আপনার উদ্দেশে ভি.আই লেনিন বলছেন, ‘হে বুর্জোয়া লেখকগণ! আপনারা যে অবাধ স্বাধীনতার কথা বলেন, তা নিছক ভণ্ডামি মাত্র। যে সমাজে অর্থই শক্তি, যে সমাজে অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ দুঃসহ দারিদ্র্যে কষ্ট সহ্য করেন, আর মুষ্টিমেয় ধনী পরগাছার মতো জীবন-যাপন করে, সে সমাজে সত্য এবং সক্রিয় স্বাধীনতা বলতে কিছু থাকে না।’ সুতরাং এই পণ্যায়নের যুগে আপনি যে ব্যক্তিমানুষ ও স্রষ্টামানুষকে আলাদা করে আপনার পাল্লাটি ভারী করতে চাইলেন, বিপরীত পাল্লার ওজনের কাছে আপনার পাল্লাটি হালকা হয়ে গেল, আপনার পাল্লাটি উপরের দিকে উঠে গেল। অর্থাৎ আপনার পাল্লাটি হালকা, বিপরীত পাল্লাটি ভারী।

আপনি বলতে পারেন, এটি তো মার্কসীয় সাহিত্যতত্ত্ব। আমি এই তত্ত্ব মানি না। তাহলে আপনার তত্ত্বটি কী? ঐ অবস্তুতান্ত্রিকতা? ঐ ভাববাদীতা? ঐ দৈবত্ব? ঐ প্রাচীনতা? জনাব, সবিনয়ে আপনাকে বলছি, আপনি গায়ের জোরে বাস্তবকে অস্বীকার করছেন। আপনার চারদিকে যে জাজ্বল্যমান বাস্তব, তা আপনি দেখেও না দেখার ভান করছেন। আপনি কপটতা করছেন। কপটকে দিয়ে শিল্প-সাহিত্য হয় না জনাব। তবু যদি আপনি গায়ের জোরে অস্বীকার করতে চান, করুন। আপনার সঙ্গে বিতর্কে না যাই। বিতর্কে যাই সেই লোকটির সঙ্গে, যিনি এই পণ্যায়নকে স্বীকার করছেন, নিজেকে মার্কসবাদী বলে দাবি করছেন, আবার একই সঙ্গে ব্যক্তিমানুষ ও স্রষ্টামানুষকে আলাদা করছেন। এই লেখা পড়ার পর, সেই মানুষটি, আশা করছি, আর আলাদা করবেন না।

আসলেই কি তাই? আলাদা কি করা যায় না? যায়। কল্যাণরাষ্ট্রে করা যায়। যে রাষ্ট্রে মানুষে মানুষে সমতা এসেছে, জাতি গঠন হয়েছে, সেই কল্যাণ রাষ্ট্রে ব্যক্তিমানুষের দিকে আমাদের নজর না দিলেও চলে। যেমন ধরুন সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, লুক্সেমবুর্গ, লিশটেনস্টাইন―এসব রাষ্ট্রকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা যায়। অপরাধীদের অভাবে এসব দেশের কারাগারগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে―এটি কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষণ। এসব দেশের একজন কবি-সাহিত্যিক ব্যক্তিজীবনে যদি চোর, ডাকাত, গুণ্ডা, বদমাশ, লম্পট, ধর্ষক হন―তার ব্যক্তিজীবনের দিকে আমাদের না তাকলেও চলে। কারণ তার রাষ্ট্রের কোনো সংকট নেই, জাতির কোনো সংকট নেই। তার জাতি ‘কল্যাণ’-এর যে মহাসমুদ্র রচনা করেছে, সেই সমুদ্রে তার সমস্ত অপরাধ সিন্ধুর মাঝে বিন্দুর মতো বিলীন হয়ে যাবে।

কিন্তু বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে ব্যক্তিমানুষের কি এই অবাধ স্বাধীনতার সুযোগ আছে? অর্থাৎ একজন কবি বা ঔপন্যাসিক বা নাট্যকারের কি সেই সুযোগ আছে? তাকে কি দুই সত্তায় বিভাজন করা যায়? এই রাষ্ট্র তিরিশ লক্ষ শহিদের হাড়-কঙ্কালের উপর দাঁড়িয়ে আছে। এই রাষ্টের নাগরিকরা এখনো তার পরিচয় নিয়ে সংশয়ী। সে বাঙালি না মুসলামান, এখনো এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। অর্থাৎ এখনো জাতিটাকে গঠন করতে পারেনি। এই রাষ্ট্রের অসংখ্য নাগরিক এখনো শত্রুরাষ্ট্র পাকিস্তানকে বন্ধু মনে করে, মুক্তিযুদ্ধকে বলে গণ্ডগোল। এই রাষ্ট্রের অসংখ্য তরুণ স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে। এই রাষ্ট্রের মুসলমানরা হিন্দুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে। এই রাষ্ট্রের সংখ্যাগুরু নাগরিকরা ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠী নাগরিকদের মানুষ বলে স্বীকার করতে নারাজ। এই রাষ্ট্রের পরতে পরতে দুর্নীতির মহোৎসব। এই রাষ্ট্রের অসংখ্য প্রাচীনপন্থী নাগরিক শিল্প-সাহিত্যকে ‘অধর্মের কাজ’ বা ‘অকাজ’ বলে গণ্য করে। এমন একটি রাষ্ট্রের একজন কবি বা ঔপন্যাসিকে দুই সত্তায় বিভাজন করা যায় কিনা? এমন একটি রাষ্ট্রে একজন কবি-লেখক ব্যক্তিজীবনে চোর, ডাকাত, গুণ্ডা, বদমাশ, লম্পট, ধর্ষক হতে পারেন কিনা? যুদ্ধাপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতে পারেন কিনা? প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিতে পারেন কিনা?

আপনি বলতে পারেন, কবি-লেখকের কোনো রাষ্ট্র নেই, কোনো দেশ নেই; কবি-লেখক বিশ্বনাগরিক। সুতরাং এই রাষ্ট্রের প্রতি তার দায় না থাকলেও চলে। আপনার উদ্দেশে হোর্হে লুইস বোর্হেস বলছেন, ‘আমি সব ধরনের জাতীয়তাবাদকে ঘৃণা করি, আমি বিশ্বনাগরিক হতে চাই। সমগ্র বিশ্বের নাগরিক এবং আমি আর্হেন্তিনারও একজন ভালো নাগরিক। আর্হেন্তিনীয় প্রজাতন্ত্র পৃথিবীরই একটি অংশ।’ সুতরাং, আপনার সেই কবি-লেখকটিও বিশ্বনাগরিক হতে পারেন, কোনো সমস্যা নেই। শুধু এটুকু মনে রাখলে চলবে, এই গণপ্রজাতন্ত্রের বাংলাদেশ এই বিশ্বেরই অন্তর্ভূক্ত একটি দেশ।

 অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;