সারথি



গুলজার
অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ

অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

অনুবাদ ফজল হাসান

গেইটওয়ে অব ইন্ডিয়া ঘাটের জেটি থেকে দিনের প্রথম বাষ্পচালিত ফেরী সকাল সাড়ে সাতটায় এলিফ্যান্টা কেইভ-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তাই মারুতিকে সকাল সাড়ে ছ’টার মধ্যে সেখানে হাজির হতে হয়। তার দৈনিক কাজকর্ম নির্ধারিত, যেমন ফেরীর পাটাতন ঝাড়ু দেওয়া, আগের রাতের যাত্রীদের ফেলে যাওয়া ময়লা জিনিসপত্র তুলে নেওয়া এবং সবশেষে পাটাতন ধুয়েমুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা। এক ফেরীর কাজ শেষ করেই সে অন্য ফেরীতে যায়। এই হলো তার নিত্যদিনের সাত-সকালের ধরাবাঁধা কাজের তালিকা।

মারুতির কাজে মনিব নারাসিংঘা রাও বেজায় খুশি, তবে তার মুখ অত্যন্ত জঘন্য। নিজের জিহ্বার প্রতি কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং অশ্রাব্য গালিগালাজ লেগে থাকে ঠোঁটের ফাঁকে। তবে একথা সত্যি যে, সে যেসব শব্দ উচ্চারণ করে, আসলে তা বোঝাতে চায় না। কিন্তু তার প্রতিটি কথাই মারুতির কানে অশ্লীল শোনায়। নারাসিংঘা রাওয়ের পরনের লুঙ্গি উরুর উপরে বাঁধা থাকে। তার কপালে ছয়-আঙুল প্রশস্ত একটা বিশাল তিলক। সেখানে সে মলম মাখে। নিশ্চয়ই সে খুব সকালে ঘুম থেকে জেগে ওঠে।

মারুতির ধোয়ামোছার কাজ শেষ হলে ফেরীতে চড়ার জন্য নানান কিসিমের মানুষ এসে জেটিতে লাইন ধরে দাঁড়ায়। বিদেশি পর্যটকেরা, বিশেষ করে আমেরিকা এবং জাপান থেকে আগত, তাদের ট্যুর গাইডের তত্ত্বাবধানে দল বেঁধে জড়ো হয়। দিনের প্রথম ফেরীতে আরোহণ করার জন্য প্রায় সময়ই জেটির অনতিদূরে তাজ হোটেল থেকে পর্যটকরা ধীরেসুস্থে বেরিয়ে এসে জেটিতে পৌঁছে। তাদের হাতে থাকে ছোট ব্যাগ, মাথায় বিভিন্ন ধরনের হ্যাট এবং কাঁধে ঝোলানো থাকে ক্যামেরা ও বাইনোক্যুলার। দ্বিতীয় ফেরীতে কাজ করার সময় মারুতির মনে প্রথম ফেরীতে কাজ করার স্মৃতি মনে থাকে না। প্রথম ফেরী ছেড়ে যাওয়ার পরপরই যাত্রীরা দ্বিতীয় ফেরীতে ওঠার জন্য রীতিমত হুমড়ি খেয়ে পড়ে, এমনকি অনেক সময় মারুতির কাজ শেষ করার আগেই তারা উঠতে শুরু করে। তখন মারুতির চেহারা বিগড়ে যায়। কেননা দ্বিতীয় ফেরীর যাত্রীরা সৌখিন এবং ভদ্র নয়। উল্টোদিকে তাদের চাহিদা অনেক বেশি। তাই সে সকলের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ না করে বরং হালকাভাবে অভিসম্পাত দেয়। ক্রমশ যাত্রীদের ওপর বিরক্তি জমা হয়ে ভারি হতে থাকে এবং তা তার শরীরের চামড়ায় কষাঘাত করে। রোদের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কষাঘাত আরো বেশি প্রকট হয়।

নারাসিংঘা রাও তিনটি ফেরীর মালিক। তার সবগুলো ফেরী গেইটওয়ে এবং এলিফ্যান্টার মাঝে যাতায়াত করে। ফেরীগুলো একপাশের যাত্রীদের উদরে পুরে অন্য পাশে নিয়ে উগড়ে দেয়। শুধু মেঝেতে পড়ে থাকে আবর্জনা, যেমন চানাচুরের খালি প্যাকেট, চিনাবাদামের খোসা, কমলার খোসা, চকলেট মোড়ানোর কাগজ, ক্যান্ডি, যাত্রীদের উদগীরণ, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির খালি প্যাকেট, ভাঙা নেকলেসের পুঁতি, কারো ফেলে যাওয়া টুপি এবং অন্য কারো রুমাল। এসব জিনিসপত্র তুলে পরিষ্কার করতে মারুতির হাত প্রায় অবশ হয়ে যায়।

সমুদ্রের পানিতে কোনো কিছু ছুঁড়ে ফেলার জন্য যাত্রীদের অনুমতি নেই। কিন্তু যাত্রীরা আকছার তাই করে। মারুতির চোখে পড়লেও সে কখনোই কাউকে বাধা দেয় না। যাত্রীরা যদি তার কাজ কিছুটা লাঘব করতে চায়, তাহলে সে বাধা দেওয়ার কে? ফেরীর পাটাতন থেকে বমি পরিষ্কার করা সবচেয়ে কঠিন কাজ। যারা জীবনে প্রথম সমুদ্র যাত্রা করে, প্রধানত তাদের মাঝেই বমি করার প্রবণতা বেশি। অনেকে রেলিংয়ের ওপর ঝুকে পড়ে এবং সেখানেই উদগীরণ করে। অনেক সময় তারা নিজেদের কাপড়চোপড়ে, এমনকি বসার বেঞ্চিতেও বমি করে। জোয়ারের সময় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়। তখন যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই যে সমস্ত খাবার গলাধঃকরণ করে, পুরোটাই উগড়ে দেয়। নারাসিংঘা রাও যাত্রীদের সতর্ক করে দিয়েছে যে, যারা বমি করবে, তারা তৎক্ষণাৎ ট্যাঙ্ক থেকে পানি তুলে নিজেরা পরিষ্কার করবে। প্রতিদিন নিচু হয়ে পাটাতন থেকে বমি সাফ করার জন্য মারুতির পিঠের ব্যথা বেড়ে দ্বিগুণ হয়। মাঝে মাঝে মনিব তাকে তাড়িয়ে দেয়। এসব ফেরীতে সে নিচুশ্রেণির লোকজনের মধ্যেও নিম্নতম—সে আসলে মেথর—সাধারণ ঝাড়ুদার। সুতরাং যাত্রীরা যা চায়, তারা তাই করতে তাকে বাধ্য করে। ফেরীর সারেং বাক্স করে দুপুরের খাবার নিয়ে আসে, কিন্তু সেই খাবার সে থালায় নিয়ে খায়। মারুতি ময়লা লাঞ্চবাক্স এবং থালাবাসন ধুয়েমুছে পরিষ্কার করে এবং ঝুড়িতে রাখে, যেন বিকেলে যাওয়ার সময় সারেং বাড়ি নিয়ে যেতে পারে।

উত্তাল সমুদ্রের মাঝে মারুতি প্রতিদিন পুরো দশঘণ্টা কাজ করে। ফেরী যখন অন্য ঘাটে পৌঁছে, তখন কঠোর পরিশ্রমের জন্য তার হাড়মাংস ব্যথা করে। সেই সময় কাজ করার মতো শরীরে কোনো শক্তি থাকে না।

মারুতির মাকে নারাসিংঘা রাও কটূক্তি করেছে এবং জবাবে মারুতির মা বলেছে, ‘তাহলে আপনি কেন ফেরী পরিষ্কার করেন না … তা নাহলে সকালে আপনি নিজেই নিজের পাছা চাপড়াবেন।’

মালিকের কথার পিঠে কথা বলার শক্তি নেই মারুতির। সে শুধু আকারে-ইঙ্গিতে বলল, ‘সকালে … এখন শ্বাস ফেলার মতো শক্তি নেই।’ তার মনে হয়, সমস্ত অঙ্গপত্যঙ্গ যেন প্রাণহীন।

জনতার ভীড়ের মাঝে ফাঁকফোকর গলিয়ে মারুতি কোনোভাবে চার্চগেইটের কাছে পৌঁছে। তারপর সে স্থানীয় ট্রেনে চড়ে। ক্লান্তিতে তার শরীর নুইয়ে পড়ে এবং চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসে। যোগেশ্বরীতে যাত্রীরা প্রায় তাকে ধাক্কা দিয়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়। এ-টা নিত্যদিনের ঘটনা।

মারুতি কোনোভাবে শরীরে সামান্য শক্তি সঞ্চয় করে এবং রীতিমত টলতে টলতে বড় রাস্তার পাশে উঁচু জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়। সেখানে শহরতলী সাওয়ান্ত নগরে যাওয়ার ১০৯ নম্বর বাস থামে। অন্য সব দিনের মতো তুলসিবাই কলসি থেকে চকচকে বাটিতে পানি ঢালে এবং হাতে নিয়ে বলে, ‘ক্লান্ত? এই নাও, খাও।’

মারুতি কনুই দিয়ে দেহের ভর রক্ষা করে এবং এক নিঃশ্বাসে পুরো বাটির পানি পান করে। তার মনে হয়, পান করা পানি যেন গলা ভিজিয়ে মুহূর্তেই শরীর-মনকে শীতল করেছে।

তুলসি এসে মারুতির পাশে খাটিয়ায় বসে এবং ব্যথায় কাতর পায়ে চাপ দিয়ে দিনের সব ঘটনা একের পর এক বলতে শুরু করে।

শ্বশুরবাড়ি থেকে লক্ষী এসেছে। ওর শ্বশুর-শাশুড়ি নাসিকে গিয়েছে।

মারুতি চোখের পাতা বন্ধ করে। পলকে মুহূর্ত সময় চলে যায়। তুলসি আরেকবার বলল, ‘ছোট্টি খুব দুষ্ট হয়েছে … ভাবতে পারো, আমাকে সে নানী ডাকে! এবং তোমাকে তোমার নাম ধরে ডাকে। সে জিজ্ঞাসা করে, তুমি কখন আসবে … আধো বুলি এবং তোতলামির ভঙ্গিতে বলে, ‘মালুতি কখন আসবে? কখন?’

মারুতির দুশ্চিন্তাপীড়িত মুখমণ্ডলে এক টুকরো হাসি ফুটে উঠে, যা তার সারা মুখের ওপর জমে থাকা ক্লান্তির রেখা মুছে দেয়।
‘সে হিন্দীতে কথা বলে!’
‘ওহ্, হ্যাঁ।’
‘মারাঠি শিখেনি?’
‘শিখে নিবে। এখনও ঢের সময় আছে।’
মারুতির শরীর থেকে সারাদিনের ক্লান্তি-অবসাদ ক্রমশ মিলিয়ে যেতে থাকে। ভাঁজ করা বাহুর ওপর সে মাথা এলিয়ে দেয়।
‘ওরা কেমন করে ফিরে গেছে?’
‘ওরা যায়নি … সিনেমা দেখতে গেছে।’
‘ছোট্টিও?’
‘পুচকি দুষ্টটা এক মুহূর্তের জন্যেও মাকে কোথাও যেতে দেয় না। মা কী করবে? তাই ওরা সঙ্গে করে নিয়ে গেছে।
মারুতি ঘোঁতঘোঁত করে একটা দীর্ঘশ্বাস টেনে নেয় বুকের ভেতর।
‘এবং কার্তিক? সে কোথায়?’
‘আজ আবারও সে স্কুলে কার সঙ্গে মারামারি করেছে।’
‘হারামজাদা …!’
মারুতি চট করে ঘোরে এবং উঠে দাঁড়ায়।
‘হতচ্ছারা, প্রতিদিন স্কুলে মার খায় এবং বাড়ি আসে … ভিতু কোথাকার। ঘটি। মারাঠিদের জন্য সে রীতিমত লজ্জাজনক!’
তুলসিও উঠে দাঁড়ায়।
‘যাও … হাত-মুখ ধুয়ে এসো … আমি পোহা রান্না করেছি … সামান্য খেয়ে নাও।’

মারুতি একটা তোয়ালে টেনে নেয় এবং স্নান করার জন্য এক কোণে মাথা নিচু করে বসে। ‘আমার ধূতি-কুর্তা নিয়ে এসো,’ সে বলল।

চুলায় আগুন জ্বলছে। বাতিও জ্বলছে। ঘরের ভেতর মারুতি হাত ভাঁজ করে মূর্তির সম্মুখে উপাসনা করে এবং বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়ে। তার পরনে ধোওয়া ধূতি-কুর্তা।

কার্তিক ঘরে প্রবেশ করে। মারুতি রীতিমত কার্তিকের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং দু’হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে হালকাভাবে বিছানায় ছুঁড়ে দেয়। তারপর সে কার্তিককে চেপে ধরে আদর করে।
‘এসো, দুষ্ট। এসে আমার সঙ্গে কুস্তি করো।’

কার্তিকের সুড়সুড়ি লাগে ।

মারুতি বলল, ‘কাল থেকে শরীরে সরিষার তেল মাখবে, আখড়ায় যাবে এবং সেখানে কুস্তি শিখবে।’
কার্তিক হাসতে থাকে। বাতাসে কেরোসিনের জ্বলন্ত চুলার শোঁ শোঁ শব্দের মাঝেও তুলসি সব কিছু শুনতে পেয়ে বলল, ‘কেন ওকে এসব বাজে জিনিস শেখার কথা বলছো?’
‘ওকে আমি সঠিক জিনিস শেখার কথাই বলেছি। একজন মারাঠির ছেলে হবে অতিশয় বুদ্ধিমান মারাঠি।’

বাবু দরজার বাইরে এসে দাঁড়ায় এবং ঘর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মারুতিকে ডাকে।

‘কী বললে, মারুতি? পাটকারের সভায় যেতে চাচ্ছো?’
খোলির ভেতর থেকে মারুতি বলল, ‘হায় কপাল, তোমার কি আদৌ কোনো ধারণা আছে যে, লোকজন সেখানে কেন যায়? আমার বউ বলেছে, ওখানে গিয়ে তোমরা সবাই আন্ডা চুলকাও।’
হেঁশেল থেকে তুলসি দু’জনকেই অভিসম্পাত করে, ‘ধিক্, তোমাদের দূর্ভোগ!’

মারুতি বের হয়ে আসে।

‘শুনেছো, বউ কী বলেছে?’

স্থানীয় মদিরার কারখানায় সভা শেষে তারা বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। তারা বাবা আমবেটকার থেকে মেধা পাটকার, চবন থেকে পাওয়ার—সবাইকে নিয়ে চুলচেরা আলোচনা-সমালোচনা করে।

মাঝ রাতে যখন কয়েকজন মাতাল সরু রাস্তার নিস্তব্ধতাকে ভেঙে চুরমার করে, তখন তুলসি বিছানা ছেড়ে ওঠে। সে চুলা জ্বালিয়ে পুনরায় খাবার গরম করে। বারান্দার তার মেয়ের জামাই ঘুমিয়েছে। মারুতির বিছানা মেয়ের জামাইয়ের পাশে। মারুতি ঘরের ভেতর ঢোকে এবং আপন মনে হাসে। কার্তিক কাঠের বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। লক্ষীও গভীর ঘুমে বিভোর। তার পাশেই পিচ্চিটা দোলনায় ঘুমিয়ে আছে। মারুতি পিচ্চির মাথায় হাত রাখে এবং গাল টিপে। তারপর পিচ্চির ঠোঁট টিপে সে অনুকৃতি করে বলল, ‘মালুতি এসেছে।’

তুলসি তিরস্কারের ভঙ্গিতে বলল, ‘ওকে ঘুমাতে দাও। এখন জাগাতে হবে না।’

লক্ষী জেগেছে। সে বাবাকে জড়িয়ে ধরে। ছোট্টিও উঠে গেছে। কার্তিক অন্যপাশে ঘুরে শোয় এবং বিড়বিড় করে, ‘বাপু!’ মেয়ের জামাই মাথা নুইয়ে মারুতির পা ছোঁয়।

এখন মারুতি নিচুশ্রেণির লোকজনের মধ্যে নিম্নতম নয় … এমনকি মেথরও নয়। সে পুরো পরিবারের ক্যাপ্টেন, একজন সারথি, যে সাতটি ঘোড়ায় বাঁধা রথের চালক।

[মূল গল্পে পাদটীকা নেই। পাঠকের সুবিধার্থে অপরিচিত শব্দের ব্যাখ্যা দেওয়া হলো। - অনুবাদক]।
ব্যাঙ্গাত্বক শব্দ, যা মহারাষ্ট্রের বংশধর কিংবা সেই এলাকার লোকজনকে কৌতুক করে বলা হয়। সাধারণত সংস্কৃতিহীন এবং অশিক্ষিত লোকদের বোঝাতে ‘ঘটি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
চিড়া দিয়ে তৈরি একধরনের হালকা খাবার। অল্প ভাজা চিড়ার সঙ্গে বাদাম, মনাক্কা, এলাচি এবং স্বাদ অনুযায়ী চিনি মিশিয়ে মধ্যপ্রদেশে সকালের নাস্তা হিসাবে পোহা খাওয়ার রেওয়াজ আছে। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রে হালকা ভাজা সরিষা, হলুদ, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজকুচি ও বাদামের সঙ্গে চিড়া ভেজে মশলাযুক্ত ঝোলের সঙ্গে মিশিয়ে পোহা রান্না করা হয়। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে পুদিনার চাটনি দিয়েও নাস্তা হিসাবে পোহা খাওয়া হয়।
যেখানে থাকা-খাওয়ার সঙ্গে ভারতীয় মার্শাল আর্টস্ শেখানো হয় অথবা ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করে সন্ন্যাসী হওয়া যায়।
মারাঠি বা হিন্দিতে এক কক্ষের ঘর। তবে অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপার্টমেন্টের প্রতিশব্দ হিসাবেও ব্যবহার করা হয়।

গুলজার ভারতের প্রথিতযশা গীতিকার, চিত্রনাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, কবি, ছোটগল্প লেখক এবং ঔপন্যাসিক। তাঁর আসল নাম সাম্পুরাণ সিং কালরা। তৎকালীন অখণ্ড ভারতের পাঞ্জাব (বর্তমানে পাকিস্তানে) প্রদেশের ঝিলাম জেলার দিনা শহরে তিনি ১৯৩৪ সালের ১৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। মূলত হিন্দি, উর্দু এবং পাঞ্জাবি ভাষায় সাহিত্য রচনা করলেও ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় লেখালেখি করেন। ‘টু’ তাঁর একমাত্র উপন্যাস, যা ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পরে শরণার্থীদের করুণ কাহিনী নিয়ে রচিত। তিনি তিনটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। ‘রাভি পার অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’ (১৯৯৭) এবং ‘হাফ এ রুপি স্টোরিজ’ (২০১৩) ইংরেজিতে প্রকাশিত তাঁর ছোটগল্প সংকলন। তবে ‘রাভি পার অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’ থেকে চারটি গল্প নিয়ে ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছে ‘সীমা অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’। কাব্যিক ভাষায় চরিত্র চিত্রণের, বিশেষ করে শব্দ প্রয়োগের, জন্য তাঁকে ‘মাস্টার ওয়ার্ডস্মিথ’ বা ‘শব্দ কারিগর’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।

গুলজারের কর্মজীবন শুরু হয়েছে সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে। পরবর্তীতে তিনি গীতিকার, চিত্রনাট্যকার এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসাবে সুপরিচিতি লাভ করেন। গীতিকার হিসাবে তিনি ২০০৪ সালে ‘পদ্ম ভূষণ’ এবং ২০০২ সালে ‘সাহিত্য অ্যাকাডেমি’ পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারসহ একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন। ‘স্লামডগ মিলিনিয়র’ চলচ্চিত্রের গান ‘জয় হো’ সঙ্গীত রচনার জন্য তিনি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড এবং গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডও অর্জন করেছেন। তিনি ২০১৩ সালের এপ্রিলে আসাম ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলার হিসাবে নিযুক্ত হন। ১৯৭৩ সালে বলিউডের বিখ্যাত নায়িকা রাখীর সঙ্গে ‘সাত পাকে বাঁধা’ পড়েন।

গল্পসূত্র
‘সারথি’ গল্পটি গুলজারের ইংরেজিতে অনূদিত ‘দ্য চ্যারিওটিয়্যার্স’ গল্পের অনুবাদ। হিন্দি থেকে গল্পটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন সঞ্জয় শেখর। গল্পটি লেখকের ‘হাফ এ রুপি স্টোরিজ’ ছোটগল্প সংকলন থেকে নেওয়া।

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;