চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সমাজসেবায় অনন্য ব্যক্তিত্ব ডা. করিম



ড. মাহফুজ পারভেজ, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম
ডা. করিম, ছবি: বার্তা২৪

ডা. করিম, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে বাইরে বের হলেই চোখের সামনে দেখা যায় প্যারামাউন্ট কমপ্লেক্স আর মহিউদ্দিন মার্কেট। ১৯৪৬ সালে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার ও তামাকুমণ্ডি লেন সংলগ্ন স্টেশন রোড এলাকাটি এতো জমজমাট না থাকলেও সেখানেই ব্রিটিশ আমলে দক্ষিণ ভারতের কেরালা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা প্রতিষ্ঠা করেন প্যারামাউন্ট স্টোর। গড়ে তুলেন প্যারামাউন্টের অনেকগুলো শাখা। নানা পণ্যের বিপণী ও মিষ্টির জন্য একদা চট্টগ্রামে প্যারামাউন্ট ছিল একমাত্র ব্র্যান্ড।

দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে প্যরামাউন্টের ব্যবসাও বদলে যায়। পরিবারের সদস্যরা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েন। বর্তমান প্রজন্মের প্রতিনিধি হয়ে আছেন অধ্যক্ষ ডা. আবদুল করিম, চিকিৎসা আর সমাজসেবায় চট্টগ্রামের উল্লেখযোগ্য নাম তিনি। চকবাজারের আজিজুর রহমান হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমান রেক্টর তিনি। সম্পাদনা করছেন ‘হোমিও চেতনা’ পত্রিকা এবং জড়িত আছেন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের হোমিও সংক্রান্ত প্রায়-সকল সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে। ৬টি ভাষায় পারদর্শি ডা, করিম চট্টগ্রামের শিক্ষা, সমাজসেবা, স্বাস্থ্য, ধর্ম ও কল্যাণমূলক বহু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত।

বহু বিচিত্র আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক সঙ্কট ও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে ঘটনাবহুল জীবনের অধিকারী এই ষাটোর্ধ্ব অথচ ঝকঝকে তরুণ মানুষটির কাছে জানতে চেয়েছিলাম তার অভিজ্ঞতার কথা। বার্তা২৪.কমকে তিনি বললেন, ‘জীবনের লক্ষ্যই হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাওয়া এবং জীবনকে যতটুকু সম্ভব ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো। তাহলে কোনও সমস্যাই স্পর্শ করবে না এবং শরীর-স্বাস্থ্য-মন থাকবে চিরতরুণ।’

এক অদ্ভুত পরিমিতিবোধের জীবন যাপন করেন অসংখ্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও বহু সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ডা. করিম। স্বল্পাহার, স্বল্পকথা আর বেশি কাজ তার জীবনের মূলমন্ত্র। দিন-রাত্রে সামান্য বিশ্রাম ও ঘুমের পর বাকী পুরো সময়ই তিনি কাজে ব্যস্ত থাকেন। মানুষের নানা শারীরীক, আর্থিক ও অন্যবিধ সমস্যার সমাধানে মগ্ন থাকতেই ভালোবাসেন তিনি। সার্বক্ষণিক লিপ্ত থাকেন হোমিও চিকিৎসার উন্নতির জন্য গবেষণা ও প্রকাশনা সংক্রান্ত চিন্তা ও কাজে।

বার্তা২৪.কমকে ডা. করিম বলেন, ‘মেধাবী ও শিক্ষিতদের হোমিও চিকিৎসার আসা দরকার। গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখার ক্ষমতা না হলে হোমিও-এর মতো সূক্ষ্ণ চিকিৎসা সম্ভব নয়। আর শুধু বই পড়ে পড়ে এ চিকিৎসা করা উচিত নয়। অভিজ্ঞতা ও গবেষণার মানসিকতা একজন আস্থাশীল চিকিৎসকের প্রধান শর্ত।’

হোমিও-এর নামে অপ ও ভুল চিকিৎসা সম্পর্কে সতর্ক তিনি। এজন্য পত্রিকা প্রকাশ করে হোমিও চিকিৎসকদের গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ কারণে দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা শত শত হোমিও চিকিৎসককে সরকারি প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ডিগ্রি ও কোর্সের আওতায় নিয়ে আসার জন্য হোমিও বোর্ড ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গেও প্রতিনিয়ত দেন-দরবার করছেন বাংলাদেশের অন্যতম পথিকৃৎ এই চিকিৎসক।

‘বাংলাদেশের মতো বিপুল মানুষ ও দারিদ্র্যপীড়িত সমাজে হোমিওপ্যাথিকে যুক্ত না করে সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা অসম্ভব’ বলেও মনে করেন ডা. করিম। তিনি বলেন, ‘সরকারি, বেসরকারি, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা হাসপাতালে এবং প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে হোমিও চিকিৎসক নিয়োগ দিলে তারা জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে ও অল্প পয়সায় চিকিৎসা দিতে পারবেন। গরীব মানুষের গ্রাম ও বস্তি সমাজের তৃণমূল স্তরে স্বাস্থ্য সচেতনা ও রোগ প্রতিরোধ চেতনার বিকাশ না করলে দেশে বিভিন্ন মারাত্মক রোগ ছড়াতেই থাকবে। হোমিও চিকিৎসকরা রোগের প্রকোপ ও বিস্তার রোধের পাশাপাশি স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সবার জন্য স্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারেন।’

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সমস্যা মেটানোর পাশাপাশি সীমাহীন বেকারত্ব মোচনের জন্য ডা. করিম দাবি করেন, ‘প্রতিটি জেলা ও থানায় হোমিও কলেজ গড়ে প্রশিক্ষিত জনসম্পদ গঠনে আর বিলম্ব করা উচিত নয়। এতে বেকারত্ব দূর হয়ে বিরাট কর্মসংস্থান যেমন হবে, তেমনি জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রেও গণুবাচক পরিবর্তন আসবে।’

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সমাজসেবায় অনন্য ব্যক্তিত্ব ডা. করিম তার অসংখ্য শিক্ষার্থীর শ্রদ্ধা আর বহু মানুষের ভালোবাসার মধ্যেই নিজের জীবনকে অতিবাহিত করতে চান। সমাজ ও মানুষের জন্য নিজেকে নিবেদনের মাধ্যমে আর্থ-মানবতার কল্যাণে কাজ করাতেই জীবনের পরিপূর্ণ তৃপ্তি ও আনন্দ নিহিত রয়েছে বলে অধ্যক্ষ ডা. আবদুল করিম মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন।