শিং মাছ চাষে বুলবুলের সফলতা



জিয়াউর রহমান, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

আড়াই কাঠার (২৫ শতক) পুকুরে শিং মাছ চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বুলবুল মিয়া। তিনি কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোণা ইউনিয়নের আটিগ্রামের খুরশিদ মিয়ার ছেলে। স্বল্প পরিমাণ জায়গাটিতে ১৫০ মণের বেশি মাছ উৎপাদন হয়। এতেই গোটা এলাকায় বুলবুলের সফলতার খবর ছড়িয়ে পড়ে।

মৎসচাষী বুলবুল জানায়, গত জুন মাসের শুরুতে পুকুরটিতে ২ কেজি শিং মাছের পোনা চাষ করি। ছয় মাসে বিভিন্ন ঔষধ বাবদ খরচ হয়েছে আট হাজার আটশত টাকা। খাদ্য বাবদ প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। পুকুর প্রস্তুতসহ আনুসাঙ্গিক ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

ছয় মাসের ব্যবধানে মাছগুলো বেশ বড় হয়েছে। রোববার পুকুরে মাছ ধরার জন্য জালটান দিলে প্রথমবারেই একশ মণ মাছ ধরা পড়ে। এরপর আবার টান দিলে আরো ২৩ মণ মাছ ধরা পড়ে। সোমবার পুকুরটি সেচ (পুকুরের পানি নিংড়ানো) দিলে ২৭ মণের চেয়ে কিছু বেশি মাছ ধরা পড়ে।

সবমিলিয়ে, স্বল্প জায়গার মধ্যে ১৫০ মণের বেশি মাছ উৎপাদন অন্যান্য মৎস্যচাষীদেরকেও রীতিমত অবাক করে দেয়। বেশি উৎপাদনে বুলবুলও বেশ খুশি। কিন্তু বাজারে মাছের দাম কিছুটা কম হওয়াতে খুশির পালে কিছুটা লাগাম টানতে হচ্ছে চাষির।

এই বিষয়ে বুলবুল বলেন, মাছ তো ঠিকই মাড়াইছি (উৎপাদন করেছি)। তবে বাজারে মাছের দর কম। এই মাছ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়। এখন সাতশ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। সবমিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছি। তবে এতেই আমি খুশি।

স্থানীয় মৎস্য চাষী বাবুল মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছি। কিন্তু এত মাছ একসাথে কোন সময় মাড়াইতে (উৎপাদন করতে) পারি নাই।

কেন্দুয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দোলোয়ার হোসেন বলেন, বুলবুল মিয়ার পুকুরে অবাক করা মাছের উৎপাদনের কথা শুনেছি। রোগ বালাই না হলে এবং সঠিক পরিচর্যা করলে যেকোন পুকুরে এমন উৎপাদন সম্ভব।

বুলবুল মূলত ক্ষুদ্র কাঠ ব্যবসায়ী। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সাহিতপুর বাজারে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশেই এই আড়াই কাঠা (২৫ শতক) পুকুরটি ৩ বছরের জন্য ২৪ হাজার টাকায় লীজ নিয়েছেন তিনি। আর এতেই শিং মাছ চাষ করে বাজিমাত করেছেন নব্য এই মাছ চাষি।