৪০ বছর পায়ে হেঁটে সন্দেশ বিক্রি নিবারণের



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
পায়ে হেঁটে সন্দেশ বিক্রি নিবারণের/ছবি: বার্তা২৪

পায়ে হেঁটে সন্দেশ বিক্রি নিবারণের/ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

 ‘সন্দেশ লাগবে সন্দেশ’, ‘চাই সন্দেশ’। মহল্লা থেকে মহল্লায় ৪০ বছর ধরে পায়ে হেঁটে এমনভাবে ডাক দিয়েই সন্দেশ বিক্রি করে চলেছেন নিবারণ (৫৬)। এতেই চলে তার জীবিকা। প্রতিদিন ১০ কেজির সন্দেশ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন নিবারণ। শিকে ঝোলানো হাড়ি ও তার উপরে ঢাকনায় সাজানো থাকে সন্দেশ। সেই শিকে ধরেই নিবারণ হেঁটে চলে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সন্দেশের ভারে নিবারণের হাতে কড়া পড়েছে অনেক আগেই।

নিবারণের বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর ঘোষপাড়া এলাকায়। মা, স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে নিবারণের পরিবার। বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। বাবা মিষ্টির ভালো কারিগর ছিলেন। পরে সন্দেশ তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতেন। বাবার হাত ধরেই নিবারণ এ পেশায় নামেন যখন তার বয়স ১৬ বছর।

নিবারণ জানান, ১৬ বছর বয়সেই এ ব্যবসা শুরু করেন। প্রতিদিন ভোরে নিবারণ সন্দেশ তৈরি করে। সকাল হতেই বেরিয়ে পড়েন।

তিনি আরো জানান, স্বল্প পুঁজিতে এ ব্যবসা করা সম্ভব। তবে মাঝে মধ্যে পুঁজি হারিয়ে যায়। তখন ধারে চলে তার ব্যবসা।  সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে তার বেচাকেনা। প্রতি পিস পাঁচ টাকায় বিক্রি করে। ছোট বড় সকলেই তার সন্দেশ কিনে খায় 

শহরের অনেকের কাছেই প্রিয়মুখ নিবারণ। শহরের মহাসড়ক থেকে ওলিতে গলিতে তার পদচারণা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও (রাবি) তার বিশেষ নাম আছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা তাকে ‘সন্দেশ মামা’ বলেই ডাকেন। এক সময় পরীক্ষায় পাস করলে তার সন্দেশ দিয়েই মিষ্টি মুখ করতো শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. চৌধুরী মো: জাকারিয়া তাকে সে সময়ে ভ্রাম্যমাণ পরিচয়পত্র প্রদান করেন। তার কার্ড নং ৩৮৮।

রাবির সদ্য অবসরপ্রাপ্ত গ্রন্থাগার কর্মকর্তা শফিকুল আলম জানান, আমি তাকে বহুদিন থেকেই ক্যাম্পাসে সন্দেশ বিক্রি করতে দেখেছি। তার সন্দেশ সুমিষ্ঠ ও সুস্বাদু। মাঝে মধ্যেই আমরা কিনে খেতাম।

নিবারণ জানান, আড়াই কেজি ছানা ও পাঁচ কেজি চিনি দিয়ে তৈরি হয় এ সুমিষ্টি সন্দেশ। সব মিলিয়ে খরচ দাঁড়ায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। প্রতি পিস ৫ টাকা দরে বিক্রি করে গড়ে লাভ হয় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

সারাদিন হেঁটে হেঁটে পায়ে ব্যথা ধরে যায়। রাতে বাড়ি ফিরে শুরু হয়ে যায় পরের দিনের আয়োজন। এ কাজে স্ত্রী তাকে দারুণভাবে সাহায্য করে। নিবারণের তেমন কোনো চাওয়া নেই। জীবনে সে একটি স্বপ্ন দ্যাখেন। সন্তান যেন তার মত না হয়ে উচ্চশিক্ষিত ভালো মানুষ হয়।