জমে উঠেছে শীতের কাপড়ের মার্কেট



আবুল কাশেম, বার্তা২৪
টাঙ্গাইলের কোর্ট চত্বরে অস্থায়ী শীতের কাপড়ের মার্কেট / ছবিঃ বার্তা২৪

টাঙ্গাইলের কোর্ট চত্বরে অস্থায়ী শীতের কাপড়ের মার্কেট / ছবিঃ বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

‘দেইখ্যা লন, বাইছ্যা লন, একদাম, পাঁচ টাকা, দশ টাকা, পঞ্চাশ টাকা-পঞ্চাশ টাকা, একশ, দেড়’শ টাকা, একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি। এভাবেই নারী, পুরুষ, শিশু, তরুণ-তরুণীদের কাছে শীতের কাপড় বিক্রি করছেন টাঙ্গাইল শহরের কোর্ট চত্ত্বর ও ডিস্ট্রিক্টের শীতরে কাপড় ব্যবসায়ীর।

শীতকে সামনে রেখে এখন গরম পোশাক কেনার হরদম চলছে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত শীত নিবারণ করতে গরম কাপড় কেনায় ব্যস্ত মানুষ। উচ্চ আয়ের মানুষেরা বিভিন্ন নামি-দামি শপিং মল থেকে বিভিন্ন রকমের গরম কাপড় কিনতে পারলেও টাঙ্গাইলের নিম্ন আয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা কোর্ট চত্ত্বর, ডিস্ট্রিক্ট ও হকারদের বিক্রি করা গরম কাপড়।

কোর্ট চত্ত্বর ও ডিস্ট্রিক্টের খোলা মাঠের শীতের কাপড়ের মার্কেটটি মূলত গরীবের শীতের মার্কেট বা ডিষ্ট্রিক্ট প্লাজা হিসেবে পরিচিত।

তীব্র শীত আসতে এখনো কিছু সময় বাকি। তবে ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে গরীবের শীতের মার্কেটগুলো। এ মার্কেটগুলোর ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও চলছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত।

এখানে মূলত নিম্ন আয়ের লোকজন কাপড় কিনে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে উচ্চ আয় ও মাঝারি আয়ের লোকজনেরাও এখান থেকে কাপড় কিনছেন। এখানকার ব্যবসায়ীরা শুধু শীতকে সামনে রেখে কাপড় কেনা-বেচা করে থাকেন।

বছরের অন্যান্য সময় এখানে তেমন কেনা-বেচা না হলেও শীতকে সামনে রেখে এখানকার ব্যবসা জমজমাট হয়। এতেই ব্যবসায়ীরা ভালো লাভবান হয়ে থাকে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন সরকারি পরিত্যক্ত জায়গা ও কোর্ট চত্ত্বর এলাকায় শতাধিক দোকান বসেছে। আর দোকানগুলোতে ক্রেতাদেরও বেশ ভিড় রয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/25/1543159293240.gif

এই মার্কেটগুলোতে ৫ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকা পর্যন্তও শীতের কাপড় পাওয়া যায়। প্রতিদিন প্রতিটি দোকানে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার বিক্রি হয় বলে জানায় ব্যবসায়ীরা।

তবে ব্যবসা ভালো হলেও অন্যান্যবারের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি বলে জানায় ক্রেতারা। দাম বেশির কারণ সম্পর্কে বিক্রেতাদের কাছে জানতে চাইলে জেলা হকার্স লীগ সভাপতি মোঃ বাদশা মিয়া ও সম্পাদক হায়েত আলী আকন্দ জানান, গত বছরের তুলনায় প্রতিটি বেল্টে তাদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এই অতিরিক্ত টাকা দেয়ার পরও তাদের কিনতে হচ্ছে নিম্নমানের বেল্ট। যা বিক্রী করে মূলধন আর যাতায়াতের খরচই উঠানো কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।

মার্কেটের পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, গত বছর পুরাতন শীতের কাপড়ের যে বেল্ট চট্টগ্রাম থেকে সর্বনিম্ন ১০ থেকে ১৬ হাজার টাকায় আনা যেত, এ বছর সেই বেল্ট আনতে হচ্ছে সর্বনিম্ন ১৪ থেকে ২০ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে।