ভাসমান মানুষের ইফতার হয় যেভাবে



শিহাবুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
হাইকোর্টের মাজার এলাকায় হতদরিদ্রদের ইফতার, ছবি: বার্তা২৪

হাইকোর্টের মাজার এলাকায় হতদরিদ্রদের ইফতার, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

রমজানে ইফতারের সময় রাজধানীসহ সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সারাদিন রোজা থাকার পর কেউ বাসায়, কেউ বা রাস্তায় ইফতার করেন। আবার বিত্তশালীরা ইফতার করেন ছোট বড় রেস্টুরেন্টে। কিন্তু দরিদ্র, স্বল্প আয়ের ও গৃহহীন মানুষগুলোর ইফতার নির্ভর করে অন্যের উপর।

রাজধানীর ছিন্নমূল মানুষগুলো থাকেন বহুতল ভবনের পাশে, মার্কেটের সিড়ি, লঞ্চ টার্মিনাল, বাস স্টেশন, রেল স্টেশনে বা ফুটপাতে। এদের বেশিরভাগই ভিক্ষুক, অনাথ বা হতদরিদ্র মানুষ। এদের অনেকেই রোজা থাকেন, ইফতার করেন। কিন্তু উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্তদের মতো করে ইফতারের খাবার কপালে জোটে না। মসজিদ, মাজারে এদের ইফতার করতে হয়। সেটাও না জুটলে সামান্য মুড়ি, একটা কলা এসব দিয়েই ইফতার করতে হয়।

ভাসমান মানুষের ইফতার হয় যেভাবে

তবে প্রায়ই স্বেচ্ছাসেবী অনেক সংগঠন বা কয়েকজন বন্ধু মিলেও এসব মানুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করেন। সোমবার (১৩ মে) বিকেলে রাজধানীর হাইকোর্টের মাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায় হতদরিদ্র কয়েকশ’ মানুষ। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ মাজার কমিটির দেওয়া ইফতারের খাবার খাচ্ছেন। মাজারের পাশেই চিশতিয়া নিজামীয়া দরবার শরীফের আয়োজনে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত হয়েছেন অনেকে। মাজার সংলগ্ন মসজিদের পাশে তাবু টানিয়ে ইফতার করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এখানে ইফতারে উপস্থিত কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কেউ ভিক্ষুক, কেউবা রিকশাচালক। এদের বেশিরভাগ মানুষই ঘুমায় রাস্তায়। নেই নির্দিষ্ট থাকার জায়গা।

ভাসমান মানুষের ইফতার হয় যেভাবে

রাজশাহীর নিয়াজ উদ্দিন শেখ (৭০)। বয়সের ভার যেন বইতেই পারছেন না। এরপরও আসতে হয়েছে রাজধানীতে। ছেলে নেই। দুই মেয়ে ছিল, বিয়ে দিয়েছেন। তার নেই কোনো থাকার জায়গা। ভাড়ার টাকা জোগার করতে পারেন না ঠিকমত। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘যেখানেই রাত হয় সেখানেই ঘুমাই। সেহরি করি কলা আর রুটি খেয়ে। সারাদিন মানুষের কাছ থেকে চেয়ে চেয়ে টাকা নেই। প্রতিদিন ১০০ বা ১৫০ টাকা পাই। এর থেকে যা কিছু পাই, বাড়িতে পাঠাই। আর এখানে এসে ইফতার করি।'

ভাসমান মানুষের ইফতার হয় যেভাবে

চিশতিয়া নিজামীয়া দরবার শরীফে শামসুল ইসলাম নামের একজন স্বেচ্ছাসেবক বার্তা২৪.কমকে বলেন, প্রতিদিন এখানে দুই থেকে তিনশ’ মানুষের ইফতারের আয়োজন করা হয়। তারা খুবই দরিদ্র, মানুষের কাছে হাত পেতেই তাদের উপার্জন। প্রতিবছর মাজারে মসজিদের পাশের জায়গায় ইফতারের আয়োজন করি। এর উদ্দেশ্য আল্লাহ যেন আমাদের উপর রহমত নাজিল করেন। সাওয়াব দেন।