‘সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়’



সেন্ট্রাল ডেস্ক ২

  • Font increase
  • Font Decrease
শুধু মুখে দুর্নীতি প্রতিরোধের কথা বলে দুর্নীতি দমন করা যাবে না, দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহি ও বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব হবে না। জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনের সড়কে দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি। অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও স্বাধীন মত প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা থাকলে দুর্নীতির প্রবণতা বৃদ্ধি পায় জানিয়ে ড. জামান বলেন, সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করার উদ্যোগ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং এই উদ্যোগ স্বাধীন মত প্রকাশ ও অবাধ তথ্য প্রবাহে সহায়তার মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে নাগরিকদের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার দেওয়া হয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বা এরূপ কোনো ধারা কোনো আকারে অন্য কোনো আইনে অন্তর্ভুক্ত করে জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ণ না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও টিআইবি বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্যাপন করছে। জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে মানববন্ধন, দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা এবং প্রদর্শনী, দুর্নীতিবিরোধী মুট কোট ও বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দুর্নীতিবিরোধী বার্তাসম্ববলিত বিজ্ঞাপনচিত্র প্রচার উল্লেখযোগ্য। দুর্নীতি দমন কমিশন ও টিআইবি’র যৌথ উদ্যোগে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গতকাল সকালে দেশের ৬৪টি জেলায় সমন্বিতভাবে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় পর্যায়ে টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত ৪৫টি সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) অঞ্চলে দুর্নীতিবিরোধী সেমিনার, সংলাপ, নাট্যপ্রদর্শনী, মেলা, মতবিনিময়সভাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্যাপিত হচ্ছে। মানববন্ধনে টিআইবি’র উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়েরসহ টিআইবি সদস্য ও কর্মী, ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ইয়েস গ্রুপের সদস্য ও সমমনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশ নেন। বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বিবেচনার জন্য ১৫ দফা সুপারিশ পেশ করা হয় মানববন্ধন থেকে। মানববন্ধনের পর সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে ‘দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ২০১৭’-এর পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিজয়ী ও বিশেষ মনোনয়নপ্রাপ্ত কার্টুনিস্ট-আলোকচিত্রীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ এবং নির্বাচিত কার্টুন ও আলোকচিত্র নিয়ে সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেনি হোলেস্টাইন, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে ডেনমার্ক দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স রেফিকা হাইতা ও যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ডিএফআইডি) বাংলাদেশে গভর্ন্যান্স বিষয়ক টিম লিডার আইসলিন বাকার। ‘দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন প্রতিযোগিতা ২০১৭-এর ‘ক’ বিভাগে (১৩-১৮ বছর) ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান লাবীব হোসেন, বরিশাল ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থী দাহির আল হোসেন মাহি ও ঢাকার উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহাতাব রশিদ। ‘খ’ বিভাগে (১৯-২৫ বছর) ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকার করেন যথাক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রসূন হালদার, ঢাকার সিদ্ধেশ^রী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মমি-তু-উর রহমান ও চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নাইমুর রহমান। উভয় গ্রুপের বিজয়ী তিনজনকে যথাক্রমে ৫০ হাজার, ৪০ হাজার ও ৩০ হাজার টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়া দু’টি বিভাগ থেকে মোট ২৮ জন কার্টুনিস্টকে বিশেষ মনোনয়ন দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই দু’টি বিভাগে মোট ৪৬৯টি কার্টুন জমা পড়ে। ‘দুর্নীতিবিরোধী আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ২০১৭’-এ ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকার করেন যথাক্রমে প্রামাণ্য চিত্রগ্রাহক মো. এখলাস উদ্দিন, দৈনিক নিউ এইজ-এর স্টাফ ফটোগ্রাফার সনি রামানি এবং শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহফুজা আনোয়ার। বিজয়ী তিনজনকে যথাক্রমে ৫০ হাজার, ৩০ হাজার ও ২০ হাজার টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়া মোট ১৬ জন আলোকচিত্রীকে বিশেষ মনোনয়ন দেওয়া হয়। তৃতীয়বারের মত টিআইবি আয়োজিত এই আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় পেশাদার ও সৌখিন আলোকচিত্রীদের কাছ থেকে মোট ২২৩টি আলোকচিত্র জমা পড়ে। কার্টুন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও বিশেষ মনোনয়নপ্রাপ্ত মোট ৫৭টি কার্টুন ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার মোট ২১টি আলোকচিত্র নিয়ে গতকাল শনিবার ৯ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের জয়নুল গ্যালারিতে প্রদর্শনী চলবে।