জাকাত অনাদায়ের পরিণতি



মুফতি রহিমুল্লাহ শরীফ, অতিথি লেখক, ইসলাম, বার্তা২৪.কম
জাকাত অনাদায়ের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ, ছবি: সংগৃহীত

জাকাত অনাদায়ের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামের মূল পাঁচ রোকনে একটি হলো- জাকাত। নামাজ ও রোজাকে শারীরিক ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। আর হজকে শারীরিক ও আর্থিক ইবাদতের সমন্বয় হিসেবে গণ্য করা হয় ৷ নিরেট আর্থিক ইবাদত একমাত্র জাকাত।

জাকাত কী?
আরবি জাকাত শব্দের অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া, পবিত্রতা, পরিশুদ্ধি ৷ বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখা যায়, জাকাত দানে সম্পদ কমে যায় ৷ কেননা একশ’ টাকার জাকাত আড়াই টাকা দেওয়ার পর অবশিষ্ট থাকে সাড়ে সাতানব্বই টাকা ৷ তাহলে সম্পদের বৃদ্ধি কোথায়?

মূলতঃ জাকাত দেওয়ার কারণে আল্লাহ তাকে এমন আগাম বিপদ থেকে রক্ষা করেন, যা তার জানা ছিল না ৷ হয়ত সেই বিপদে পতিত হলে অনেক বেশি টাকা তাকে খরচ করতে হতো ৷ জাকাতের অল্প টাকা ব্যয় করে বিরাট অঙ্কের টাকা ব্যয় করা থেকে সে বেঁচে গেল, এটাই বৃদ্ধি।

জাকাতের প্রয়োজনীয়তা
জাকাতের অংশটুকু সম্পদের ময়লা, এটা বের না করলে পুরো সম্পদ ময়লাযুক্ত হয়ে ব্যবহার অযোগ্য হবে ৷ যেমন কেউ এক হাজার টাকা খরচ করে জামা তৈরি করল, কয়েকবার ব্যবহারের পর জামাটি ময়লা হয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ল ৷ এখন ৮-১০ টাকা খরচ করলে পুরো জামাটা পরিচ্ছন্ন হবে আবার ব্যবহারযোগ্য হবে ৷ এমনিভাবে শতকরা আড়াই টাকা হারে জাকাত দিলে পুরো সম্পদটাই পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র হবে এবং ব্যবহারযোগ্য হবে ৷

মানুষ যদি মনে করে, এত কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করেছি, কেন আমি তা থেকে অন্যকে দেব? এ কথা তো অনেকটা ওই ব্যক্তির ভাবনার মতো হবে, যে আঙুর, বেদানা, ফল-ফলাদি ইত্যাদি ভিটামিন জাতীয় অনেক খেয়েছে। এবার ভাবছে, এগুলো আমি পেট থেকে বের হতে দেবো না ৷ কারণ অনেক পয়সা খরচ করে আমি খেয়েছি ৷ স্বাভাবিকভাবে যখন সে পেট থেকে বের হতে দেবে না, ২৪ কিংবা ৪৮ ঘন্টা পর দেখা যাবে অপারেশন করে হলেও তাকে তা বের করতে হবে ৷

এমনিভাবে কেউ যদি স্বাভাবিকভাবে জাকাতের অর্থ ব্যয় করতে কার্পণ্য করে, দেখা যাবে আল্লাহ এমন অবস্থা সৃষ্টি করে দেবেন শুধু আড়াই টাকা নয় আড়াই লাখ টাকা তাকে খরচ করতে হবে ৷ তাই সম্পদের মালিককে বুঝতে হবে, জাকাত তার হক নয়, গরীব-মিসকিনের হক ৷ তাদেরকে তাদের হক কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব করে দিয়ে দিতে হবে ৷

ইসলামি পরিভাষায় জাকাত
ইসলামি পারিভাষায় জাকাত হচ্ছে, মুসলিম বিত্তবানদের (নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক) ধন-সম্পদে আল্লাহ নির্ধারিত সেই অপরিহার্য অংশ, যা সম্পদ ও আত্মার পবিত্রতা, সম্পদের ক্রমবৃদ্ধি সাধন এবং সর্বোপরি আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় শরিয়ত নির্ধারিত খাতে ব্যয়-বন্টন করার জন্য দেওয়া হয় ৷

জাকাতের গুরুত্ব
ইসলামি শরিয়তে জাকাতের গুরত্ব নামাজের গুরুত্বের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় ৷ কোরআনে কারিমের অধিকাংশ জায়গায় নামাজের সঙ্গে জাকাতের আদেশও দেওয়া হয়েছে ৷ যেমন ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো।’ -সূরা বাকারা: ১১০

হজরত আবু বকর (রা.)-এর খেলাফত লাভের পর একদল লোক জাকাত দিতে অস্বীকার করে। হজরত আবু বকর (রা.) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন ৷ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর কসম আমি সেসব লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ গোষণা করব, যারা নামাজ ও জাকাতের মাঝে পার্থক্য করে ৷ নামাজ শরীরের হক আর জাকাত হলো- সম্পদের হক ৷ আল্লাহর কসম কেউ যদি একটি উটের বাচ্চা অথবা একটি উটের রশি জাকাত হিসেবে দিতে অস্বীকার করে যা রাসূলের যুগে দিয়েছিল, আমি তার বিরুদ্ধেও লড়াই করব।’

দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত
দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবি হজরত মুয়াজ (রা.) কে ইয়েমেনে প্রেরণকালে বলেছিলেন, ‘তুমি তাদেরকে জানিয়ে দেবে, আল্লাহ তাদের ওপর জাকাত ফরজ করেছেন, যা ধনীদের নিকট থেকে নেওয়া হবে আর দরিদ্র্যদের মাঝে বন্টন করে দেওয়া হবে।’ আল্লাহ জাকাতের অর্থ ব্যয়ের খাত হিসেবে প্রথমে ফকির-মিসকিনের কথা উল্লেখ করেছেন ৷ এতে বুঝা যায়, দারিদ্র্য বিমোচন জাকাতের মূল লক্ষ্য ৷ আল্লাহ বলেন, ‘তুমি তাদের সম্পদ হতে জাকাত গ্রহণ করো, যা দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে আর তাদের জন্য দোয়া করো, নিঃসন্দেহে তোমার দোয়া তাদের জন্য প্রশান্তির কারণ আর আল্লাহ খুব শোনেন, খুব জানেন।’ -সূরা তাওবা: ১০৩

জাকাত না দেওয়ার পরিণাম
কোরআন-হাদিসে জাকাত আদায় না করায় কঠিন শাস্তির কথা ঘোষণা করা হয়েছে ৷ এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ যাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে সম্পদ দান করেছেন তাতে তারা কৃপণতা করে, (জাকাত আদায় না করে) এটা যেন তারা কিছুতেই কল্যাণকর মনে না করে বরং এটা তাদের জন্য অকল্যাণকর ৷ যাতে তারা কৃপণতা করবে কিয়ামতের দিন তা তাদের গলার বেড়ি হবে।’ ¬-সূরা আলে ইমরান: ১৮০

অন্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জিভূত করে রাখে এবং সেসব আল্লাহর পথে ব্যয় করে না (অর্থাৎ জাকাত আদায় করে না) তাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও ৷ সেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং এসব দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেওয়া হবে, সেদিন বলা হবে, এটা তোমার সেই সম্পদ যা তুমি পুঞ্জিভূত করে রেখেছিলে ৷ সুতরাং এর শাস্তি আস্বাদন করো ৷’-সূরা তওবা: ৩৪-৩৫

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যাক্তিকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন আর সে ধন-সম্পদের জাকাত আদায় করেনি সেই সম্পদ কিয়ামতের দিন মাথায় টাক পড়া সাপে পরিণত হবে ৷ এ সাপের দু’চোখের ওপর দু’টি কালো দাগ থাকবে (অর্থাৎ খুবই বিষধর সাপ) ৷ এরপর এ সাপ গলায় বেড়ি হয়ে সেই ব্যাক্তির দুই চোয়াল আকড়ে ধরে দংশন করবে আর বলবে, আমি তোমার মাল আমি তোমার সঞ্চিত সম্পদ ৷’-সহিহ বোখারি: ২/১০৬

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘কিয়ামতের দিন তোমাদের সম্পদ বিষধর সাপের রূপ ধারণ করবে ৷ মালিক এর থেকে পলায়ণ করবে, সাপ মালিককে খুঁজতে থাকবে ৷ পরিশেষে সে মালিককে পেয়ে যাবে এবং তার আঙ্গুলগুলোকে লোকমা বানিয়ে মুখে পুরবে ৷’-মুসনাদে আহমদ: ১৩/৫১৩

লেখক: মুহাদ্দিস, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার কক্সবাজার।

চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই ঈদুল আজহা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই ঈদুল আজহা

চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই ঈদুল আজহা

  • Font increase
  • Font Decrease

হিজরি ১৪৪৩ সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ১০ জুলাই রোববার দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ঈদুল আজহা উদযাপন করেন। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ৯ জুলাই ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। হজ অনুষ্ঠিত হবে ৮ জুলাই।

ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ই লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে হজব্রত পালনরত অবস্থায় থাকেন। হাজিরা ঈদের দিন সকালে কোরবানি দেন।

মুসলমানরা হিজরি বর্ষের দ্বাদশ মাস জিলহজের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপন করেন। আল্লাহতায়ালার আদেশে হজরত ইবরাহিম (আ.) নিজ পুত্র হজরত ইসমাইলকে (আ.) আল্লাহর জন্য কোরবানি করার ইচ্ছা ও ত্যাগের কারণে সারা বিশ্বের মুসলমানেরা আল্লাহর কাছে নিজেদের সোপর্দ করে দেওয়ার লক্ষ্যে পবিত্র হজের পরদিন ঈদুল আজহা উদযাপন ও পশু কোরবানি করে থাকেন। আল্লাহতায়ালা নবী হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং ছেলের পরিবর্তে তাকে পশু কোরবানি করার নির্দেশ দেন। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণে ঈদুল আজহার সময় মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন।

জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শরয়ি তরিকায় নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির পশু জবাই করাকে কোরবানি বলা হয়। সকালে রক্তিম সূর্য ওপরে ওঠার সময়ে ‘কোরবানি’ করা হয় বলে ওই দিনটিকে ‘ইয়াওমুল আজহা’ বলা হয়ে থাকে।

;

ঈদুল আজহা কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা ৯ জুলাই না ১০ জুলাই উদযাপিত হবে, তা জানা যাবে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায়।

১৪৪৩ হিজরি সনের ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ ও জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কমিটির বৈঠক হবে বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায়। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এই সভা বসবে।

কমিটি চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ করবে। ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানের সভায় সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ১৪৪৩ হিজরি সনের চাঁদ দেখা গেলে ১ জুলাই থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আগামী ১০ জুলাই (রোববার-১০ জিলহজ) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে ১ জুলাই শুক্রবার জিলকদ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে আগামী শনিবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে, দেশে ঈদ উদযাপিত হবে ১১ জুলাই।

ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

;

ঈদুল আজহা কবে, জানা যাবে বৃহস্পতিবার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহা কোনদিন উদযাপন করা হবে, তা বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় জানা যাবে।

১৪৪৩ হিজরি সনের ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ ও জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কমিটির বৈঠক হবে ওইদিন সন্ধ্যায়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এই সভা বসবে। কমিটি চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ করবে। ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানের সভায় সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

বৃহস্পতিবার ১৪৪৩ হিজরি সনের চাঁদ দেখা গেলে ১ জুলাই থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আগামী ১০ জুলাই (রোববার-১০ জিলহজ) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে ১ জুলাই শুক্রবার জিলকদ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে আগামী শনিবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে, দেশে ঈদ উদযাপিত হবে ১১ জুলাই।

ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

;

মহানবীকে (সা.) নিয়ে বিজেপি নেতার মন্তব্য: সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মহানবীকে (সা.) নিয়ে বিজেপি নেতার মন্তব্য: সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ

মহানবীকে (সা.) নিয়ে বিজেপি নেতার মন্তব্য: সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতাদের ইসলাম ও মানবতার মুক্তির দূত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবার নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারা দেশে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুন) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ-সমাবেশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

এ সময় তারা বলেন, সারা বিশ্বের মুসলমানদের চরমভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। ভারতের উচিত বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শিক্ষা গ্রহণ করা। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেরা বরাবরের মতো নিরাপদ ও সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করে যাচ্ছে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, ভয়েস অব ল’ ইয়ার্স বাংলাদেশ-এর আহবায়ক সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলহাজ গিয়াস উদ্দিন, জমিয়তের সভাপতি মাওলানা শায়খ যিয়া উদ্দীন, সহ-সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি নিজাম উদ্দিন আল আদনান, জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান পৃথক বিবৃতি ও সভায় মহানবীকে (সা.) নিয়ে ভারতের বিজেপি নেতার কট‚ক্তির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

তারা বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তার প্রিয়তমা স্ত্রী হজরত আয়েশা (রাযি.) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে বিজেপির নেতারা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে আঘাত দিয়েছে। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে সরকারিভাবে এর প্রতিবাদ করুন এবং চলমান জাতীয় সংসদে ভারতের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাস করুন।

নারায়ণগঞ্জ: মহানবী (সা.) কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ ডিআইটি জামে মসজিদের সামনে থেকে আজ বাদ জুমা বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা আমির আলহাজ আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সির নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে। 

ফরিদপুর: ভারতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) ও তার স্ত্রী  আয়েশা (রা:) কে নিয়ে ভারতীয় বিজেপির মুখপাত্র নুপুর শর্মা ও তার সহযোগী নবীনকুমার জিন্দাল কর্তৃক অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ‌।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ভারতে রাসূল (সা.)’র অবমাননার নিন্দা ও প্রতিবাদ স্বরূপ শুক্রবার জুমায় রেসালাতের উপর বয়ানের আহবান জানিয়েছেন হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালক আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া। তিনি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুই নেতা নূপুর শর্মা ও নাভিন জিন্দাল কর্তৃক ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও হযরত আয়েশাকে (রা.) অবমাননার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি প্রদান করেন।

নোয়াখালী: নোয়াখালীতে মহানবী (সা.) কে অবমাননামূলক বক্তব্যের প্র্রতিবাদে নোয়াখালীতে প্রতিবাদ সভা করেছে বাংলাদেশ ‘ল’ ইয়াস কাউন্সিল নোয়াখালী শাখা। গতকাল বিকালে নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির মিলনায়তে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী বারে সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম।

নীলফামারী: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির জেষ্ট দুই নেতার অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে ইমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির আয়োজনে নীলফামারীতে মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জুমার নামাজ শেষে জেলার সকল মসজিদ থেকে মিছিল বের করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয় ধর্মপ্রান মুসল্লিরা। এ সময় ধর্মীয় স্লোগান এবং বিজেপির সাবেক মুখপাত্র নূপুর শর্মা ও জ্যেষ্ঠ  নেতা নবীন কুমার জিন্দালের শাস্তির দাবির স্লোগানে মুখরিত হয় জেলা শহর।

রাজশাহী: ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির মূখপাত্র নূপুর শর্মা ও মিডিয়া সেল প্রধান নবীন জিন্দাল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এবং হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা:) কে নিয়ে অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টের বড় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

রাজশাহী উলামা মাশায়েখ পরিষদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যানারে কয়েক হাজার মুসল্লি এতে অংশ নেন। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রাজবাড়ী: বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:) কে নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজিপি) দুই শীর্ষ নেতা আক্রমণাত্মক এবং অবমাননাকর মন্তব্য করায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আজ শুক্রবার (১০) জুম্মার নামাজের পর সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং আইনশৃঙ্খলার কোন অবনতি না ঘটে সেজন্য সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন রাজবাড়ীর জেলা পুলিশ ও প্রশাসন।

পঞ্চগড়: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুই নেতার কটুক্তির প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছেন সর্বস্থরের মুসল্লিরা। জুম্মার নামাজের পর শহরের বিভিন্ন মসজিদ থেকে মুসল্লিরা শহরের শেরে বাংলা পার্কের চৌড়ঙ্গী মোড়ের সামনে সমবেত হন। পরে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠণের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে মুসল্লিরা। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে গিয়ে সমাবেশ করে। এ সময় ‘বিশ্বনবীর অপমান, সইবে নারে মুসলমান’, ‘ইসলামের শত্রুরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘নুপুর শর্মার দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন মুসুল্লি।

দিনাজপুর: ভারতে বিজেপি মুখপাত্র কর্তৃক বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) সম্পর্কে কু-রুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে দিনাজপুরে বাদ জুম’আ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে,জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জুমা’র নামজ শেষে শহরের ইন্সটিটিউট ও লোকভবন এলাকায় মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা দলে দলে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। 

ময়মনসিংহ: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে ময়মনসিংহ সদরে গফরগাঁও, ভালুকা, ঈশ্বরগঞ্জসহ জেলার সকল উপজেলায় জুমআর নামাজের শেষে  বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ।  দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বড় মসজিদ প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার ব্যানারে এ প্রতিবাদ সামবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ‘‘বিশ্ব নবীর অপমান-সইবে না আর মুসলমান’’ এ প্রতিপাদ্যে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

;