ফিতরার আর্থসামাজিক গুরুত্ব



মাওলানা আবদুল জাব্বার, অতিথি লেখক, ইসলাম, বার্তা২৪.কম
ফিতরার আর্থসামাজিক গুরুত্ব, ছবি: সংগৃহীত

ফিতরার আর্থসামাজিক গুরুত্ব, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সদকাতুল ফিতর আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে, রোজা শেষে, ঈদুল ফিতরের দিন গরিবের আনন্দের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ খাদ্যপণ্য অথবা অর্থ প্রদান করার জন্য, ইসলাম নির্ধারিত বিশেষ ব্যবস্থা।

সামর্থ্যবান, জীবিকা নির্বাহের অত্যাবশকীয় সামগ্রী ছাড়া নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকদের পক্ষ থেকে, গরিবদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থ প্রদান করাই মূলত সদকাতুল ফিতর, যা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর ওয়াজিব।

রোজা না রাখলে অথবা রাখতে না পারলেও তার ওপর ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব। ফিতরা ওয়াজিব করা হয়েছে প্রথমত রোজাদারদের জন্য। রোজার রাখার ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে তার এক ধরনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে। দ্বিতীয়ত অসহায় মিসকিনদের জন্য ঈদের রিজিকের ব্যবস্থা করার জন্য, যাতে তারাও সবার সঙ্গে আনন্দ উপভোগ করতে পারে। অসহায়, গরিব-মিসকিন যারা জাকাত পাওয়ার যোগ্য, তারাই ফিতরার হকদার। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) রোজা ফরজ হওয়ার বছরেই জাকাত ফরজ হওয়ার আগে সদকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে জাকাতের মতো এ ক্ষেত্রে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া জরুরি নয়। বরং কেউ যদি ঈদের আগের দিনও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তাকেও ফিতরা আদায় করতে হবে।

নিজের এবং নিজের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান, এমনকি প্রাপ্তবয়স্ক অধীনস্থ সন্তানদের জন্যও ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব।

সন্তানের নামে সম্পদ থাকলে সেখান থেকেও ফিতরা আদায় করা যাবে। কোনো এতিম শিশুর ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়ে থাকলে তার পক্ষ থেকেও আদায় করা ওয়াজিব। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বীয় উম্মতের ক্রীতদাস ও স্বাধীন, নারী ও পুরুষ, ছোট ও বড় সবার ওপর ফিতরা ওয়াজিব করেছেন এবং তা ঈদের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগেই আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। এমন কি, ঈদের দিন সকালে কোনো শিশু ভূমিষ্ঠ হলে তার পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। অর্থাৎ সদকাতুল ফিতর হলো- জানের সদকা, মালের নয়; তাই জীবিত সব মুসলিমের জানের সদকা আদায় করার জন্যই ফিতরার ব্যবস্থা।

ফিতরা প্রদানের ক্ষেত্রে পরিবারের কয়েকজনের সদকা মিলিয়ে একজন গরিবকে একসঙ্গে দেওয়া যেতে পারে; অথবা একজনের সদকা কয়েকজন গরিবকেও দেওয়া যেতে পারে। তবে অধিকতর উত্তম হলো- একজন গরিবকে এই পরিমাণ ফিতরা দেওয়া, যা দিয়ে সে তার ছোটখাটো প্রয়োজন পূরণ করতে পারে কিংবা দু’তিন বেলা খেতে পারে।

ঈদুল ফিতরের দিন সকালে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে সদকাতুল ফিতর আদায় করা উত্তম। তবে জাকাতের মতো সে সময়ের আগেও আদায় করা যায়। আবার কোনো কারণে সময়মতো আদায় করতে না পারলে পরেও আদায় করা যায়। কেউ আদায় না করে মারা গেলে তার পক্ষ থেকে তার উত্তরাধিকারী দিয়ে দিলেও আদায় হয়ে যাবে।

ফিতরা আদায় করা মহান আল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ একটি আদেশ। বিত্তবান মুসলিম নাগরিকদের ওপর ফিতরা ওয়াজিব করে দেওয়া হয়েছে মূলত গরিব-অসহায় মানুষদের হক। পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালনের পুরস্কার হিসেবে আল্লাহতায়ালা ঈদের আনন্দ প্রদান করেছেন। গরিব মানুষগুলো এই সমাজেরই মানুষ। তারা সারা বছরই দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে নিদারুণ কষ্টের মাঝে থাকে। তারা কমপক্ষে ঈদের দিন যাতে আনন্দে সবার সঙ্গে শরিক হতে পারে, এ জন্য তাদের কিছু খাদ্য ও বস্ত্রের ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিত।

সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। ফিতরার মাধ্যমে মুসলিম সমাজে বসবাসকারী ধনীদের অর্থ গরিবদের মধ্যে বণ্টিত হয় এবং এর দ্বারা তাদের জীবন-যাপনে কিছুটা হলেও গতি সৃষ্টি হয়।

নগদ অর্থ দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে কি না এ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) পণ্য দিয়ে ফিতরা প্রদান করেছেন- অথচ ওই যুগেও মুদ্রা হিসেবে দিরহাম প্রচলিত ছিল। দিরহামের দ্বারা কেনাকাটা, দান-খয়রাত করা হতো। হজরত মুহাম্মদ (সা.) খাদ্যবস্তু দিয়ে ফিতরা প্রদান করতেন। এ জন্য মুসলমান পণ্ডিতদের বড় অংশ টাকা দিয়ে ফিতরা প্রদানের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেন।

তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তার অনুসারীদের মতে, নগদ অর্থ দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে।

কেননা, ফিতরা আদায়ের অন্যতম লক্ষ্য হলো- দরিদ্র মানুষকে ঈদের আনন্দে শরিক করা। দরিদ্র মানুষের যেমন প্রয়োজন খাদ্যের, তেমনি প্রয়োজন কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য সামগ্রীর। এখন সবাই যদি শুধু খাদ্য দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করে, তাহলে হয়তো সংশ্লিষ্ট প্রাপকের ঘরে জমা হয়ে যাবে অঢেল খাদ্য। অথচ তার এত খাবারের প্রয়োজন নেই। বরং প্রয়োজন তার কাপড়-চোপড় কিংবা সেমাই, চিনি ও অন্যান্য সামগ্রী। এ অবস্থায় প্রয়োজন পূরণের জন্য তাকে অতিরিক্ত খাবার বিক্রি করতে হবে। এতে যেমন রয়েছে বিড়ম্বনা, তেমনি বিক্রি করতে হবে তুলনামূলকভাবে কম মূল্যে। এতে হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র মানুষটি।

অতএব ইমাম আবু হানিফার মতে, এ ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতায় না গিয়ে বিষয়টি উন্মুক্ত রাখাই উত্তম, যাতে সবার জন্যই তা সহজ হয়ে যায়। ইসলাম সহজকে পছন্দ করে যদি তাতে গোনাহ না হয়। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

সদকাতুল ফিতর প্রদানের পরিমাণের ক্ষেত্রে ইনসাফ করতে হবে। যেমন- সদকাতুল ফিতর গম, যব, খেজুর, কিশমিশ আর পনির দিয়ে আদায় করা যায়। বিভিন্ন পণ্য নির্ধারণের মৌলিক উদ্দেশ্য হলো- যাদের ওপর এই ফিতরা ওয়াজিব, তাদের আর্থিক অবস্থার ভিন্নতার কারণে সুবিধামতো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী পণ্য দিয়ে ফিতরা আদায় করতে পারেন। আসলে উত্তম হলো- সর্বোচ্চ মূল্যের পণ্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা। ধনীদের সর্বোচ্চ এবং সাধারণদের মাঝামাঝি মূল্যে আদায় করা শ্রেয়।

সবচেয়ে ইনসাফ হলো- যারা যে চালের ভাত খান বা যারা যে খেজুর দ্বারা ইফতার করেন, তারা এর সমমানের বা সমমূল্যের ফিতরা আদায় করবেন। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তাই উত্তম, দাতার কাছে যা সর্বোৎকৃষ্ট এবং যার মূল্যমান সবচেয়ে বেশি।’ –সহিহ বোখারি

একজন মুসলমানের মুখে হাসি ফুটানো উত্তম সদকা। ফলে সদকাতুল ফিতরের মাধ্যমে সওয়াবের পাশাপাশি গরিব-অসহায়দের ঈদ আনন্দে শরিক করে মুখে হাসি ফোটানোর সওয়াবও পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে। এ ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামি সংস্থা, ইমাম, খতিবসহ যারা এ বিষয়টির সঙ্গে জড়িত, সবার উচিত ফিতরা নির্ধারণ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং সবার মধ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী সদকাতুল ফিতর আদায়ের আগ্রহ সৃষ্টি করা। ফিতরা আদায় করা মূলত প্রত্যেক উপযুক্ত ব্যক্তির নিজস্ব দায়িত্ব। এটা গরিবের হক যা নষ্ট করা কোনোভাবেই উচিত হবে না। তাই আমাদের সবার দায়িত্ব নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি মূল্যের পণ্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করে নিজে লাভবান হওয়া এবং গরিবদের বেশি সহযোগিতা করা।

বাংলাদেশের মুসলমানেরা টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করতে চাইলে দুই কেজি চল্লিশ গ্রাম মধ্যমানের চালের মূল্য পরিশোধ করতে হবে। জাকাত বোর্ড প্রতি বছর শহর ও গ্রাম এলাকার জন্য ফিতরার মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। এ বছরও সরকার ফিতরার সর্বনিম্ন ৭০ এবং সর্বোচ্চ এক হাজার ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সম্ভব হলে চাল বা খাদ্যবস্তু দিয়ে ফিতরা প্রদান করা ইনসাফপূর্ণ হবে বলে অনেকে মনে করেন।

তুরস্কে হাফেজের সংখ্যা বৃদ্ধির রহস্য



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হাফেজ হওয়া শিশু-কিশোরদের সম্মান জানানো তুরস্কের ঐতিহ্য

হাফেজ হওয়া শিশু-কিশোরদের সম্মান জানানো তুরস্কের ঐতিহ্য

  • Font increase
  • Font Decrease

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান নিজে কোরআনে কারিমের হাফেজ। কিছুদিন আগে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, এরদোগান তার নাতিকে কোরআনের তালিম দিচ্ছেন। পরে নাতি ওমর তাইয়েবসহ ১৩৬ শিশুকে কোরআনের হাফেজ হওয়ায় সম্মাননা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। সম্মাননাপ্রাপ্ত ১৩৬ জন হাফেজের মধ্যে এরদোগানের নাতি (নাজমুদ্দিন বেলালের ছেলে) ওমর তাইয়্যেব এবং তুর্কি স্পিকারের ছেলে ওমর আসেম শান্তুবও রয়েছেন।

প্রায় ৮৬ বছর পর বিথ্যাত আয়া সুফিয়ায় নামাজ শুরুর আগে এরদোগান কোরআন তেলাওয়াত করে বিশ্ববাসীর নজর কাড়েন। ওই দিন আয়া সুফিয়ায় জুমার নামাজের ইমামতি করেন, দেশটির ধর্মমন্ত্রী প্রফেসর ড. আলি এরবাশ। তিনিও পবিত্র কোরআনের হাফেজ। এর দ্বারাই অনুমান করা যায়, তুরস্কে ব্যাপকভাবে কোরআন চর্চার বিষয়টি।

সম্প্রতি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে জানায়, করোনা মহামারি সময়েও তুরস্কে ২০২১ সালে প্রায় ১২ হাজার শিশু-কিশোর কোরআনে কারিমের হাফেজ হয়েছেন। দেশটির সাধারণ মাদরাসা ও অন্তত ৯০ হাজার মসজিদের ইমাম ও খতিবদের দ্বারা পরিচালিত মাদরাসায় পড়ে তারা হিফজ সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্সি অব রিলিজিয়ার্স অ্যাফেয়ার্সের শিক্ষা-সেবা প্রকল্পের প্রধান কাদির দিজ।

মাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরে সারা দেশে অন্তত ১১ হাজার ৭৭৩ জন শিক্ষার্থী হিফজ সম্পন্নের সনদ গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে অনেকে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি হিফজ বিভাগে পড়ে এই কীর্তি অর্জন করে।

হাফেজদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রেসিডেন্ট এরদোগান

 

গত গ্রীষ্মে তুর্কি দিয়ানাত কর্তৃপক্ষ দেশটির ৮১টি এলাকা নিয়ে অন্তত ১ হাজার ৬৭৯টি কোরআন শিক্ষা কোর্স চালুর ঘোষণা দেয়। ৬ হাজার ৮৩৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে কোর্সগুলোতে ৭১ হাজার ৪৩৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয় এবং গত বছরের শুরুর কয়েক মাসেই এদের মধ্য থেকে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

কাদির দিজ জানান, তুরস্কে সারা বছরই মাদরাসাগুলোতে কোরআন হিফজের ডে-কোর্স পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের মেধাস্তরের ভিন্নতার ফলে হিফজ সম্পন্ন করতে একেকজনের একেক রকম সময় ব্যয় হয়। কোর্স শুরুর সময় থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৭ হাজার ১৯০ জন শিক্ষার্থী কোরআন মুখস্থের পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোর্সটি স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করতে প্রায় তিন বছর সময় লাগে; এক বছর নাজেরা বা কোরআন দেখে দেখে পড়া, দুই বছর হিফজ বা মুখস্থ করা।

প্রেসিডেন্সি অব রিলিজিয়ার্স অ্যাফেয়ার্সের কর্মকর্তা কাদির দিজ আরও জানান, তাদের তরফ থেকে মাদরাসাগুলোতে হাফেজ শিক্ষকও নিয়োগ করা হয়। তারা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কোরআন হিফজের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষা শিক্ষাকেও বাধ্যতামূলক করবেন। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল লক্ষ্য হলো, শিক্ষার্থীরা যেন কোরআন মুখস্থের পাশাপাশি তার অর্থের সঙ্গেও পরিচিত হতে পারে।

কোরআনে কারিমের হাফেজের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে তুরস্ক। দেশটির ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা আলি এরবাশ জানান, সারাদেশে এখন সনদধারী ২ লাখ হাফেজ আছেন এবং ৮০ হাজার শিক্ষার্থী এমন আছে যারা খুব শিগগিরই হিফজ সম্পন্ন করবে। তুরস্কের মোট জনসংখ্যার ০.০২ শতাংশ নাগরিক কোরআনের হাফেজ। এটি বৃদ্ধি করে ১ শতাংশে উন্নীত করার চেষ্টা করছে সরকার। এটি বাস্তবায়ন হলে সারাদেশে হাফেজ সংখ্যা হবে অন্তত ৮ লাখ ৪০ হাজার।

আলি এরবাশ জানান, তাদের দেশের ৪১ শতাংশ মানুষ দেখে দেখে কোরআন পড়তে পারেন। এটিও আরও বাড়ানোর জন্য কাজ করছেন তারা।

আয়া সুফিয়ায় কোরআন তেলাওয়াত করছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান

 

তুরস্কের মসজিদের ইমাম ও খতিবদের পক্ষ থেকে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কোরআনে কারিম মুখস্থ করানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। দেশটির ইমাম-খতিবদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে এসব ইমাম-খতিবদের পরিচালিত মাদরাসাগুলোর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৭৩টি। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬ লাখ ৬৭ হাজার।

দিয়ানাতের এই হিফজ কোর্স ইমাম-খতিবদের অন্তত ১৯৪টি মাধ্যমিক মাদরাসায় চালু করা হয়। সেখানে ভর্তি হয় ১৮ হাজার ৫৩৬ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্য থেকে ২ হাজার ৬১১ শিক্ষার্থী হাফেজ হয়ে সনদ গ্রহণ করেছে।

কাদির দিজ আরও জানান, কোরআন হিফজ কোর্সের একাধিক ব্যাচ আছে। চার থেকে ছয় বছরের বাচ্চাদের জন্য আলাদা, উঠতি বয়সীদের জন্য আলাদা এবং বয়স্কদের জন্য আলাদা ব্যাচ। তুর্কি প্রেসিডেন্সি অব রিলিজিয়ার্স অ্যাফেয়ার্সের অধীনে সব বয়সীদের নিয়ে প্রতি বছর গ্রীষ্মে এই কোর্সের সূচনা হয়।

;

ইংল্যান্ড থেকে পায়ে হেঁটে হজে যাচ্ছেন আদম মুহাম্মদ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ইংল্যান্ড থেকে পায়ে হেঁটে হজে যাচ্ছেন আদম মুহাম্মদ

ইংল্যান্ড থেকে পায়ে হেঁটে হজে যাচ্ছেন আদম মুহাম্মদ

  • Font increase
  • Font Decrease

‘সব ধরনের মন্দের বিরুদ্ধে শান্তি যাত্রা’র অংশ হিসেবে পবিত্র হজ পালনের জন্য ইংল্যান্ড থেকে পায়ে হেঁটে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন আদম মুহাম্মদ নামের ইরাকি। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সিলিভরিতে এসে পৌঁছেছেন। ইংল্যান্ড থেকে গত বছরের ১ আগস্ট যাত্রা শুরু আদম। তার আশা, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে তুরস্ক থেকে সিরিয়া এবং জর্ডান পাড়ি দিয়ে তিনি সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরী পৌঁছতে পারবেন।

আদম মুহাম্মদ হেঁটে চললেও তার সঙ্গে রয়েছে তিন চাকার একটি ট্রলি। যাতে তার আসবাবপত্র বহন করছেন। মজার বিষয় হলো, এই টলি তাকে খুব একাট ঠেলতে হয় না। রাস্তায় দেখা হওয়া উৎসুক মানুষ তা টেনে নিয়ে যান। ওই টলিতে লেখা রয়েছে, ‘শান্তি যাত্রা, ইংল্যান্ড থেকে মক্কা।’ টলিতে একটি সাদা পতাকা লাগানো আছে।

টলি ঠেলে ঠেলে যাচ্ছেন আদম মুহাম্মদ

 

ইরাকি বংশোদ্ভূত আদম গত ২৫ বছর ধরে ইংল্যান্ডে ব্রিটেনে বসবাস করছেন। যাত্রা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য আদমের দুই মাস সময় লেগেছে। একটি ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা তাকে সহায়তা করেছে।

পায়ে হেঁটে মক্কা যাত্রা প্রসঙ্গে আদম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমার হৃদয় থেকে একটি আওয়াজ আসছে। সেই আওয়াজকে আমি উপেক্ষা করতে পারিনি। এ জন্য আমি বাড়ি থেকে মক্কা পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তা অতিক্রম করার চেষ্টা করছি। আশা করি, আমি এটা সুন্দরভাবে শেষ করতে পারবো। আমার হৃদয়ের ডাক, জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি হয়ে আছে।’

তুরস্কে পৌঁছানোর পর অনলাইনে অনেকেই আদম মুহাম্মদের দুঃসাহসিক যাত্রা সম্পর্কে অবগত হন। পরে তাকে তুরস্কের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাকে দেখতে, তার সঙ্গে কথা বলতে ভীড় জমায়। মাতিন উলুকুশ নামের এক তুর্কি নাগরিক দুই দিন তাকে সঙ্গ দিয়েছেন।

ইস্তাম্বুলের সিলিভরিতে আদম



মুহাম্মদ নামের আরেক তুর্কি নাগরিক বলেন, তিনিও আদম মুহাম্মদকে যাত্রাপথে সঙ্গ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। টেকিরদাগ থেকে ইস্তাম্বুল পর্যন্ত তিনি তার সঙ্গেই ছিলেন। তুরস্কের মানুষের আন্তরিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে।

ইংল্যান্ড থেকে মক্কায় হেঁটে হজপালনের যাওয়া প্রথম ব্যক্তি আদম মুহাম্মদ নন। এর আগে ২০২০ সালে ফরিদ ফাইদি নামের এক ব্যাক্তি ইসলাম সম্পর্কে পশ্চিমা মিডিয়ার ভুল ধারণা দূর করতে এই ধরনের যাত্রা করেছিলেন।

;

সুন্দর নামাজ ক্ষমার কারণ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সুন্দর নামাজ ক্ষমার কারণ

সুন্দর নামাজ ক্ষমার কারণ

  • Font increase
  • Font Decrease

হজরত উবায়দা বিন সামেত রাযিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায়, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি সময় অনুযায়ী উত্তমরূপে অজু করে, রুকু-সিজদা পূর্ণ করে, পূর্ণ মনোযোগসহ নামাজ আদায় করবে, তার জন্য আল্লাহর ওয়াদা- তিনি তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যে তা করবে না, তার প্রতি আল্লাহর কোনো দায়িত্ব নেই। ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন আবার না-ও পারেন।’ -সুনানে আবু দাউদ : ২৩৬

ইসলামি স্কলারদের মতে, পরিপূর্ণ পবিত্রতা, সঠিক নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শুদ্ধ উচ্চারণের চেষ্টা ছাড়া নামাজের কল্যাণ পাওয়া যায় না। এ ছাড়া নামাজের সুফল লাভে আরও কতগুলো বিষয় রয়েছে- সেগুলো মেনে চলা। এসব বিষয়ের অন্যতম হলো-

ধীরে ধীরে নামাজ আদায়
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘জীবনে সুখে-দুঃখে বিচলিত হয় না তারা, যারা নামাজের মধ্যে ধীর, স্থির ও স্থায়ী। যারা নামাজের শিক্ষাকে সংরক্ষণ করে।’ -সুরা মাআরিজ : ২৩-৩৪

হাদিস থেকে জানা যায়, হজরত আবু বকর (রা.) খুঁটির মতো নিশ্চল হয়ে নামাজে দাঁড়াতেন।

আসলে নামাজের পঠিত কোরআনের আয়াত ও দোয়াগুলোর যথাযথ উচ্চারণ এবং রুকু-সিজদা সবকিছু ধীরে ধীরে ও প্রশান্তির সঙ্গে আদায় করাই হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা। এ অভ্যাস না করলে নামাজের কল্যাণ পাওয়া সম্ভব নয়।

বিনম্রভাবে নামাজ আদায়
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মুমিন তারাই আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর ভীত বিহবল হয়, কোরআনে কারিমের আয়াত শুনলে ঈমান বৃদ্ধি পায়, আল্লাহর ওপর ভরসা করে, জীবনে নামাজ কায়েম করে এবং আল্লাহর অনুমোদিত পন্থায় আয় ও ব্যয় করে।’ -সূরা আনফাল : ২

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি শুধু তাদেরকেই সতর্ক করতে পারেন যারা না দেখে তাদের রবকে ভয় করে এবং নামাজ কায়েম করে।’ -সুরা ফাতির : ১৮

কোরআনে কারিমে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের সত্যিকার বন্ধু একমাত্র আল্লাহ ও তার রাসুল এবং ওই সব মুমিন, যারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত আদায় করে ও আল্লাহর সামনে নত হয়।’ –সুরা মায়িদা : ৫৫

তিনি আরও বলেন, ‘সফলতা লাভ করবে সে সব মুমিন; যারা নামাজের মধ্যে ভীত-বিহ্বল।’ -সুরা মুমিনুন : ১

হজরত আবু আইউব আনসারি (রা.)-এর বর্ণনায় এক সাহাবির উপদেশ প্রার্থনার জবাবে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন তুমি নামাজে দাঁড়াবে ওই ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে, যে দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছে।’ –মেশকাত

মুমিনের অন্তরকে গর্ব, অহঙ্কার ও উদাসীনতা থেকে মুক্ত করে কৃতজ্ঞ ও বিনীত করার উত্তম মাধ্যম হচ্ছে- নামাজ।

বুঝে বুঝে নামাজ আদায়
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি নামাজকে আমার ও বান্দার মধ্যে ভাগ করে নিয়েছি। বান্দা আমার কাছে যা চায় তা সে পাবে। বান্দা যখন বলে, ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ আল্লাহ তখন বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। …আমার বান্দার জন্য তাই যা সে চাইল।’

অন্যত্র তিনি বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন সে তার রবের সঙ্গে গোপনে কথা বলে এবং তার ও কেবলার মাঝেই তার রব বিরাজ করেন।’ –সহিহ বোখারি

এ হাদিস দু’টি থেকে বুঝা যায়, নামাজ হচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার কথোপকথন। ইমাম অথবা নিজের উচ্চারণে তার বাণী শোনা, তার কাছে প্রার্থনা করা, অনুতপ্ত হওয়া, ক্ষমা চাওয়া, অঙ্গীকার করা ইত্যাদি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কারও বাড়ির সামনে যদি একটি প্রবহমান নদী থাকে এবং প্রতিদিন পাঁচবার তাতে গোসল করে, তাহলে তার শরীরে কোনো ময়লা থাকতে পারে কি? সাহাবাগণ বললেন, না। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, এটাই হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ। এর সাহায্যেই আল্লাহ তার যাবতীয় গোনাহ দূর করে দেন।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

এসব আয়াত ও হাদিস অধ্যয়নে যে উপলব্ধিটুকু পাওয়া যায়, তা হচ্ছে- কোরআন এসেছে মানুষকে সত্য পথ দেখানোর জন্য, আর নামাজ এসেছে সে পথে চলার শক্তি জোগানোর জন্য। তাই নামাজ শুধু পড়লেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নামাজ থেকে শিক্ষা নিয়ে ও শক্তি সঞ্চয় করে একটি মহৎ জীবন গড়াই নামাজের মূল উদ্দেশ্য, যাতে সমাজটি হয়ে ওঠে সুখ, শান্তি ও উন্নতির আবাস। আর এটা যদি আমরা করতে পারি তাহলেই ‘নামাজ’ হবে আমাদের জন্য জান্নাতের চাবি।

;

অহঙ্কারমুক্ত জীবন, জান্নাত লাভের কারণ



মো. আকতার হোসেন, অতিথি লেখক, ইসলাম
নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন লোককে পছন্দ করেন না, যে বড় হওয়ার গৌরব করে ও অহঙ্কার করে

নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন লোককে পছন্দ করেন না, যে বড় হওয়ার গৌরব করে ও অহঙ্কার করে

  • Font increase
  • Font Decrease

মানুষ যখন নিজকে অন্যকোনো মানুষ থেকে উন্নত, উত্তম, ক্ষমতাধর কিংবা বড় মনে করে অথবা কাউকে কোনোভাবে নিজের চেয়ে হেয় মনে করে তখন তার এই মানসিকতাকে অহঙ্কার বলে। এটি একটি মানসিক অনুভূতি, তবে কাজে-কর্মে এর প্রকাশ ঘটে। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, অহঙ্কার একমাত্র আল্লাহর অধিকার। কোনো মানুষ যখন গর্ব অহঙ্কার করে তখন মূলত সে আল্লাহর অধিকারে হস্তক্ষেপ করে। কারণ মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত নিয়েই অহঙ্কারে লিপ্ত হয়।

আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে সবাইকে তার নেয়ামত ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, মেধা ও যোগ্যতা সমানভাবে প্রদান করেন না। তার এই নেয়ামত কাউকে দেন আবার কাউকে দেন না, কারও ক্ষেত্রে কমবেশি করেন। মানুষের উচিত হলো, আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। মানুষ যখন আল্লাহর নেয়ামতের কথা ভুলে এটাকে নিজের সম্পদ কিংবা উপার্জন মনে করে, তখনই অহঙ্কারের সূত্রপাত হয়। অহঙ্কারের কারণে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।

কোরআন ও হাদিসে অহঙ্কারী ব্যক্তির পরিণতি ও শাস্তি সম্পর্কে বিশদ আলোকপাত করা হয়েছে। আল্লাহ অহঙ্কারীকে ভালোবাসেন না ও পছন্দ করেন না। কোরআনে কারিমের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহর ঘোষণা-

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন লোককে পছন্দ করেন না, যে বড় হওয়ার গৌরব করে ও অহঙ্কার করে।’ –সুরা আন নিসা : ৩৬

‘মানুষের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে রেখে কথা বলো না এবং পৃথিবীতে গর্বের সঙ্গে চলবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো বড়াইকারী ও অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না।’ -সুরা লুকমান : ১৮

‘যাতে তোমাদের যতটুকুই ক্ষতি হয়ে গেছে সে জন্য তোমরা হতাশ না হও এবং আল্লাহ তোমাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন তাতে তোমরা খুশিতে আত্মহারা না হও। আল্লাহ এমন লোকদেরকে পছন্দ করেন না, যারা নিজেদেরকে বড় মনে করে এবং অহঙ্কার করে।’ –সুরা হাদিদ : ২৩

অহঙ্কারী ব্যক্তির সর্বশেষ পরিণতি হলো- জাহান্নাম। কেননা সে অহঙ্কারের মাধ্যমে আল্লাহর গোলামি হতে নিজেকে মুক্ত করে বেপরোয়া হয়ে যায়। নিজকে অনেক বড় ও ক্ষমতাবান এবং শক্তিশালী মনে করে এবং মানুষকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য মনে করে।

এ প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে ইরশাদ করেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহঙ্কার রয়েছে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এক ব্যক্তি বললেন, কোনো ব্যক্তি পছন্দ করে তার কাপড় সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক (তাও কি অহঙ্কার?) হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। প্রকৃতপক্ষে অহঙ্কার হলো- আল্লাহর গোলামি থেকে বেপরোয়া হওয়া এবং মানুষকে অবজ্ঞা করা।’ –সহিহ মুসলিম

শুধু পরকাল নয়, মহান আল্লাহ অহঙ্কারের শাস্তি দুনিয়াতেও প্রদান করে থাকেন। ইতিহাসে দেখা যায়, পূর্বের অনেক জাতিকে ধন-সম্পদ ও শাসনক্ষমতা নিয়ে অহঙ্কার ও বাড়াবাড়ির কারণে আল্লাহ দুনিয়াতেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করেছেন।

ইরশাদ হয়েছে, ‘এমন কত জনপদ আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, সেখানকার লোকেরা ধন-সম্পদের অহঙ্কার করত। এই যে তাদের বাড়িঘর পড়ে আছে, যেখানে তাদের পর কম লোকই বসবাস করেছে। শেষ পর্যন্ত আমি (এ সবেরই) ওয়ারিশ হয়েছি।’ –সুরা কাসাস : ৫৮

আদ, সামুদ, মাদিয়ান ও লুত (আ.)-এর সম্প্রদায়ের ধ্বংসের ইতিহাস কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া পূর্ববর্তী আরও অনেক শাসক ও ক্ষমতাধরদের অহঙ্কার প্রদর্শন করায় আল্লাহ তাদের সমুচিত শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাদের করুণ পরিণতির ইতিহাস বিশ্ববাসীর জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। ফেরাউন, হামান, নমরুদের মতো শাসকদের ইতিহাস আজো মানুষ ঘৃণাভরে স্মরণ করে।

প্রকৃত মুমিন ও আল্লাহর দ্বীনের পথের দায়ীরা (ইসলামের পথে আহ্বানকারী) যেকোনো অবস্থায় গর্ব ও অহঙ্কার পরিত্যাগ করবে। তাদের কথা, কাজ ও আচরণে অহঙ্কার নয় বিনয় প্রকাশ পাবে। কেননা মুমিনের ভূষণ আর অহঙ্কার খোদাদ্রোহী ও আখেরাতে অবিশ্বাসীদের ভূষণ।

মুমিনদের উদ্দেশে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মাটির বুকে গর্বের সঙ্গে চলবে না। নিশ্চয়ই তুমি কখনও পদচাপে জমিনকে বিদীর্ণ করতে পারবে না, আর পাহাড়ের সমান উঁচু হতেও পারবে না।’ –সুরা বনি ইসরাইল : ৩৭

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা আমার কাছে এই মর্মে অহি প্রেরণ করেছেন, তোমরা সকলে বিনয়ী হও, যাতে কেউ কারোর সঙ্গে বাড়াবাড়ি করতে না পারে এবং কেউ কারোর সঙ্গে গর্ব করতে না পারে। -সুনানে আবু দাউদ

অনেক মানুষ আছে, যারা দামি ও মূল্যবান পোশাক পরিধান করে অহঙ্কার প্রকাশ করে। তাদের ব্যাপারে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশত স্বীয় বস্ত্র মাটির ওপর দিয়ে টেনে চলে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না। তখন হজরত আবু বকর (রা.) বলেন, আমার লুঙ্গি অসতর্ক অবস্থায় ঢিলা হয়ে পায়ের গিরার নিচে চলে যায়, যদি না আমি তা ভালোভাবে বেঁধে রাখি। অতঃপর রাসুল (সা.) বলেন, তুমি তা অহঙ্কারবশত কর না। -সহিহ বোখারি

অহঙ্কার নেক আমল নষ্ট করে দেয়। অহঙ্কার থেকে বাঁচতে আল্লাহ প্রদত্ত ধন-সম্পদ, জ্ঞান যোগ্যতাকে আল্লাহ প্রদত্ত দয়া, রহমত ও নেয়ামত ভেবে এসবের শোকরিয়া আদায় করতে হবে। আর যে ব্যক্তি এসব নেয়ামত পাননি তার জন্য মহান রবের দরবারে দোয়া করতে হবে। যাতে আল্লাহ তাকেও এসব নেয়ামত দান করেন। আর এই মানসিকতা পোষণ করতে হবে, আমি যে ইবাদত-বন্দেগি করছি তা আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের তুলনায় অতি নগণ্য। কাজেই আমার গর্ব করার কিছুই নেই। আল্লাহ প্রদত্ত এ নেয়ামত যেকোনো মুহূর্তে ছিনিয়ে নিতে পারেন, তিনি একজন বাদশাকে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ফকিরে পরিণত করতে পারেন। আমাদের সব নেয়ামত আল্লাহর দান। আর এ নিয়ে গর্ব করার অর্থ, দানকারীর দানের অবজ্ঞা করা। অতএব আমাদের সর্বদা সাবধান থাকতে হবে যাতে কখনোই সম্পদ, শক্তি, ক্ষমতা, শিক্ষা, সৌন্দর্য, পেশা বা অন্যকোনো নেয়ামতের কারণে অহঙ্কার না করি এবং হেয়প্রতিপন্ন না করি।

;