ভাতার টাকা লোপাট, মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন ইউপি চেয়ারম্যান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, রাজশাহী
বাগমারা উপজেলা, ছবি: সংগৃহীত

বাগমারা উপজেলা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের টাকা লোপাটে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান রঞ্জু ও তিন মেম্বার মুচলেকাসহ টাকা ফেরত দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন।

শনিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিউল ইসলাম তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।

ইউএনও জাকিউল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, চলতি বছর সরকার গণিপুর ইউনিয়নে ১২০ জন প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, বিধবা ভাতাভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করে। ঈদের আগে তাদেরকে ভাতার টাকা পরিশোধে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার জনতা ব্যাংকের মোহনগঞ্জ শাখা থেকে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) তাদের ভাতার টাকা পরিশোধ শুরু করা হয়।

তিনি আরও জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওই দিন ভাতার টাকা বিতরণের জন্য ব্যাংকে যান মেম্বার সাবদুল আলী, মজনুর রহমান ও নূর ইসলাম। তারা ব্যাংকের দুই কর্মচারীকে নিয়ে ভাতাভোগীদের জন্য প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে বিতরণ শুরু করেন।

সেসময় ইউপি মেম্বাররা প্রত্যেক ভাতাভোগীর কাছ থেকে ১০০০ টাকা কেটে রাখেন। এছাড়া অনুপস্থিত ভাতাভোগীদের টিপসই জাল করে টাকা তুলে নেন।

ইউএনও জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘ভাতাভোগীরা বিষয়টি অভিযোগ আকারে জানালে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পাই। শনিবার ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের ইউএনও দফতরে ডাকা হয়। অভিযুক্তরা লোপাটকৃত টাকা ফেরত দিয়ে ক্ষমা চান। পরে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রঞ্জু বলেন, ‘আসলে আমি কোনো টাকা নেয়নি। আমি সেখানে দায়িত্বে পাঠিয়েছিলাম তিন মেম্বারকে। তারা টাকাটা সরিয়েছে। যেহেতু আমি চেয়ারম্যান তাই আমাকেও ডাকা হয়েছিল। ওই তিন মেম্বার তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় ইউএনও তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন।’