গর্ভবতীকে লাথি মারার অভিযোগ পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে



সেন্ট্রাল ডেস্ক ২

  • Font increase
  • Font Decrease
এক গর্ভবর্তী নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের খুড়ারগাঁতী গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা। নির্যাতিত ওই নারীর স্বজনদের অভিযোগ, কোনো পরোয়ানা ছাড়াই দিনমজুর খাইরুল ইসলামকে ধরতে যান উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কুতুব। খাইরুলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেখা খাতুন তাদের বাধা দেন। এ সময় তার পেটে লাথি ও তাকে মারধর করেন দুই পুলিশ সদস্য। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থল ঘুরে জানা যায়, বাগবাটি ইউনিয়নের খুড়ারগাঁতী গ্রামের বেলাল হোসেন ও আক্তারের সঙ্গে একই ইউনিয়নের পানিয়াবাড়ী গ্রামের গোলাম মওলার বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত বুধবার দুপুরে খুড়ারগাঁতী গ্রামে সিরাজগঞ্জ সদর থানার এসআই গোলাম মোস্তফা ও এএসআই কুতুবের পক্ষে ১০/১২ জন পুলিশ খাইরুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করে। তাকে আটক করতে তার স্ত্রী বাধা দিলে তার পেটে কয়েকটি লাথি মারেন পুলিশ সদস্যরা। এতে তিনি অসুস্থ হয় পড়েন। পরদিন তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে স্থানীয়রা নির্যাতিত ৮ মাসের অন্ত:সত্ত্বা রেখা খাতুনকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে অন্তসত্ত্বা রেখা খাতুন হাসপাতালের দ্বিতীয়তলার দুই নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। আহত রেখা খাতুন বলেন, ‘এসআই গোলাম মোস্তফা আমার শ্বশুরবাড়ি আসে। পরে বাড়ির সবাইকে বের হয়ে যেতে বলে। সবাই বাইরে গেলে আমার স্বামী রাজ মিস্ত্রী খাইরুল ইসলামের হাতে হাতকড়া লাগানোর চেষ্টা করলে আমি বাধা দিলে পুলিশ আমার অন্তঃসত্ত্বা দেখেও তলপেটে লাথি মারে খাইরুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে আমার অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।’ এদিকে, সংবাদ পেয়ে সাংবাদিকরা হাসপাতালে গেলে রেখা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে পুলিশের নির্মম নির্যাতনের কথা বলেন রেখা। এসময় চিকিৎসারত এক সিনিয়র নার্স বলেন, বর্তমানে রেখার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এখনো আশংকামুক্ত না বলে জানালেন এই নার্স।। এ ব্যাপারে সদর থানার এসআই গোলাম মোস্তফা কিছুই জানেন না বলে বলেন, ‘খাইরুল ইসলামকে ধরার সময় তার স্ত্রী বাধা দিলে একটু ধস্তা-ধস্তি হয়। এর বেশি আমি বলতে পারবো না ওসি সাহেব সব জানেন এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।’ এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ বলেন, ‘এই ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে একটি মারামারির মামলায় খায়রুলকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’