নাগরিক পেশাজীবী স্বপ্ন তার.



সৈয়দ রানা মুস্তফী
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

সেই কবে মার বুক খালি করে ছেড়ে এসেছিলাম প্রাণের শহর যশোর।

মোচওয়ালা মামার ঘন জংগলে, ঝমঝমিয়ে নামা বৃষ্টির মধ্যে, পচা কাঁদামাটিতে খালি গা, খালি পায়ে হেঁটে হেঁটে ভিজে চুপচুপে হওয়া, গোড়ালী থেকে হাঁটুর নিচে কটা জোঁক লেগে রক্ত চুষেছে তাও টের পাইনি বর্ষার ঘোরে! কালু মামার লম্বা সিঁড়ি বাঁধানো পুকুরে গুনে গুনে ৫ হাজার ডুব দিয়ে; চোখ যখন টকটকে লাল, শরীর পুড়ছে সারা দিনমান পানিতে ডুবানোর ফল জ্বরে; সন্ধ্যার আগে নানী সৈয়দা রহিমা হকের কড়া শাসনে গোসল-উৎসব ভঙ্গ।

মসজিদের মেঝে পরিচ্ছন্ন করেছি পরম মমতায়। মসজিদের মেঝের মোজাইকের উপরের আস্তর ঘষতে ঘষতে হাতের আস্তর উঠে রক্ত ঝরেছে। এইচআর সিল্কের রাজ্জাক মামা বলতেনঃ শাহীন (আমার ডাক নাম) আজান দিলে বেশ কিছু মুসল্লি বেশি দেখি, উনারা কি মানুষ না জিন!

একুশের ভোর রাতে ওয়াপদা বাগানের ফুল আনতে গিয়ে কুঁচকিতে (ইনার থাই) তারকাঁটা বিঁধে ঝুলে থেকেছি সকাল পর্যন্ত! সে আকুলতা তো ছিল সৌরভের জন্যই!

যশোর ইন্সটিটিউট লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাঠে মগ্ন থাকা; রবিবাসরীয় সাহিত্য আসর জমিয়ে রাখা; টাউন হল মাঠে আজীজুল হক স্যারকে ঘিরে বসে ছন্দের আলোচনায় রাত গভীর। বেশ দেরি করে বাড়ি ফেরা। রাতের গোপন পিকনিকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মোরগ সংগ্রহের থ্রিল...

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/13/1536837283952.jpg

তারপর সব ছেড়ে একদিন পা বাড়িয়েছিলাম পৃথিবীর পথে। ঢাকা, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, ঢাকা হয়ে দুবাই, আবার ঢাকা এবং আবার কয়েকবার নিউ ইয়র্ক; এভাবেই কেটে গেছে চার চারটি দশক! সময় কিভাবে নদীর মত বয়ে যায়!

এখন আর দূরের জীবন ভালো লাগেনা। মনে হয় ছুটে যাই কারবালা গোরস্তানে। মা শুয়ে আছেন সেখানে সেই ১৯৮৮ সাল থেকে। কিছুক্ষণ কাটাতে মন চায় মায়ের শিয়রে। নীরবে কথা বলতে ইচ্ছে করে মার সঙ্গে। সারাজীবন ঢাকা-যশোর করে শেষে চৌদ্দ পুরুষের ভিটে ক্ষেত্রপালায় গিয়েই চিরবিশ্রামে গেছেন আব্বা, সেখানে যেতেও মন টানে।

ইচ্ছে করে জলকল-এর জোড়া দীঘির কাকচক্ষু জলে নেমে দাঁড়িয়ে থাকি কিশোর বেলার মত, দীর্ঘক্ষণ; সারাজীবনের দাহ ধুয়ে শীতল হোক দেহ-মন-প্রাণ! ঘন সবুজ শ্যাওলা-ধরা জলকল দীঘির চির রহস্যময় তলদেশের ভয় লাগা স্ফটিকস্বচ্ছ জলের আহ্বান যেন ডাকে ইদানীং ঘুমের ঘোরেও। ভোরের শিশির ভেজা ঘাসের গালিচা ডাকে পার্ক মাঠের বিস্তীর্ণ চরাচর। কাঁধে একগাদা বইখাতা নিয়ে ভোরের কুয়াশা ভেদ করে জেলা স্কুলের পথ ধরে হেঁটে যাই কিশোর আমি!

সম্প্রতি এক মোহন স্বপ্নে বিভোর হয়েছে মন। আল্লাহ হায়াৎ দান করলে এবং সুস্থ রাখলে ২০১৮'র শেষে কিংবা ২০১৯-এর শুরুর দিক থেকে মাত্র তিন/সাড়ে তিন ঘণ্টায় ধুলি ধুসরিত, ট্রাফিক জ্যামে মৃতপ্রায়, জনভার জর্জরিত ঢাকা থেকে প্রাণের শহর যশোরে পৌঁছতে পারবো! ইদানিং মাঝে মধ্যেই রাতের খাবার টেবিলে জীবনসঙ্গী নুসরাতের (Nusrat Jahan) সঙ্গে এই স্বপ্ন নিয়ে নানা ছবি আঁকি। কিভাবে সাজাবো সপ্তাহের কাজের দিনগুলো তা বলি স্ত্রীকে। আমার খুব ইচ্ছে-বৃহস্পতিবার বিকেলে বাক্স-পেটরা গুছিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেবো যশোরের পথে। হাইওয়ে টু হ্যাভেন! স্বপ্নের পদ্মা সেতু পার হয়ে মাত্র তিন/সাড়ে তিন ঘণ্টায় স্বপ্নশহর যশোর!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/13/1536837302875.jpg

পরদিন, অর্থাৎ শুক্রবার বেলা করে ঘুম থেকে ওঠার ইচ্ছে, যদিও যশোরে, বাড়িতে গেলে, যত রাতেই শুই না কেন, ঘুম ভাঙে খুব সকালে। জুম'য়া আদায় করতে যাবো শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিময় ওয়াপদা মসজিদে। একসময়ের তুখোড় ফুটবলার সাথী ভাই (Mashuk Sathi) মিষ্টি করে হেসে বলবেঃ আয় কাছে বস। শহীদ ভাই বুকে বুক মেলাতে মেলাতে কপট শ্লেষ মেশানো কণ্ঠ বলবে, কি আমাদের কথা মনে পড়ল? জুম'য়া শেষে কারবালা গিয়ে মা'র কবর যিয়ারা। বাসায় ফিরে দুপুরের খাবার। তার আগে, অনেক সাধ্যি-সাধনা করে সঙ্গে খানা খাবার জন্যে বাল্যবন্ধু বাবুকে (Shahid Babu) রাজী করানো। মহাব্যস্ত বাবু, যার নাম আমি দিয়েছি 'ওয়াক অ্যান্ড টক' বলে! বিকেলে চার খাম্বার মোড়ে নিজেদের প্রাসাদোপম বাড়ির সামনে বসে চায়ে চুমুকরত Pavel Choudhury ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হবে। কি রানা কখন এলে? এসো চা খাই, পাভেল ভাইয়ের আমন্ত্রণ থাকবে সাবলীল...

গত বেশ ক' বছর ধরে প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যায় ষষ্টিতলা পাড়ায় বাল্যবন্ধু ডা. বাবু'র বাড়ির নিচতলায় আড্ডার জমজমাট আসর বসায় স্কুলের বন্ধুরা। এ আড্ডায় যেতে মন আনচান করে! বাল্যবন্ধুদের প্রায় অশ্লীল খিস্তি-খেউড় শুনতে মন চায়; মনে হয় ওসব অশ্রাব্য ভাষার কথোপকথনই অমিয় বচন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ডা. বাবু'র বাসার বৈঠকখানায় বসবে 'সেইরাম আড্ডা'। ভাত ঘুম দিয়ে, চেহারায় মান্জা মেরে একে একে আসবে সাদী, বাদল, লিমন, সাগর, খসরু, শাহীন, ডাবলু, প্রফেসর, বিডিআর, মাস্টার, লিটন, মোস্তসহ আরো কত বন্ধু। কবু ওর হাসপাতালে এমডির দায়িত্ব করে আসতে নির্ঘাত একটু দেরি করবে! চোখের পলকে কয়েক ঘন্টা কখন পার হয়ে যাবে তার কোনো হিসাব পাওয়া যাবে না। এর মধ্যেই প্রাণকন্যা আয়েশা আরিয়ানা (Ayesha Aariana) ওর মা'র ফোন থেকে কল করবে কয়েকবারঃ বাবা, এখনো আসছো না কেন! আল্লাহ করলে ততদিনে আরেক প্রাণকন্যা আলভীনা ফিওনা'রও (Aalveena Fiona) কল করা শিখে যাওয়ার কথা। সেও হয়তো কল করে বড় বোনের মত গুনগুন করবে বাসায় ফিরতে দেরি হবার অনুযোগে!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/13/1536837321061.jpg

বাবু'র বাসার আড্ডা শেষে হোয়াইট প্যালেসে (The White Palace হোয়াইট প্যালেস আমাদের বাড়ীর নাম) ফিরে নামাজ সম্পন্ন করে রাতের খানা শেষ করতে না করতেই খোলা আকাশের নিচে দোতলার 'জোসনা-বৃষ্টি' নামের মার্বেল খচিত ওভারহেড লনে শুরু হয়ে যাবে গভীর রাতমুখী আড্ডার এক্সটেন্ডেড সেশন। রাত বেশ গভীর হলে, যখন আমরা ভাববো আজ রাতে হয়তোবা আর কেউ আসবে না; ঠিক তেমন সময়ে আমাদের অবাক করে গাড় পিংক পাঞ্জাবি গায়ে চড়িয়ে হাজির হবে আমাদের স্নেহভাজন সংসদ সদস্য Monir! ফল, মিষ্টি এসব তো ট্রলি ভরে আসবেই, সঙ্গে ওখান থেকেই ভেসে আসবে মনিরসহ আরও কয়েকজনের আব্দার মেশানো দাবি: 'ভাবী, পুদিনা চা লাগবে'। এভাবেই রাত ২/৩টায় গিয়ে ঠেকবে আমাদের প্রাণের কথার বারামখানা! কিন্তু এ কথামালা কি শেষ হবার? না মৃত্যুর আগে শেষ হবে কখনো!

শনিবার হোয়াইট প্যালেসের টুকিটাকি কাজ করিয়ে বিকেল বিকেল রওনা দেবো পোড়া জীবিকার শহর ঢাকার দিকে। মোহন এই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়েছেন জেদী প্রধানমন্ত্রী, জাতিরজনক কন্যা শেখ হাসিনা। বিশ্বব্যাংক নামক সাম্রাজ্যবাদী প্রতিষ্ঠানটির ভুয়া অভিযোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ শুধু শুরুই করেননি, ইতোমধ্যে সে সেতুর ৫০ ভাগ কাজ শেষও হয়ে গেছে! সব কিছু অনকুল থাকলে ২০১৯-এ ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে জন্মশহর যশোর যেতে বা যশোর থেকে ঢাকা আসতে তিন/সাড়ে তিন ঘন্টার বেশি লাগার কথা না। ভাবা যায়!

তারপর...

তারপর আর কি? যতদিন ভালো লাগবে, শরীরে কুলোবে ততদিন ঢাকা-যশোর করবো। এমন এক সময় আসবে, যখন আর ঢাকা ফিরতে মন চাইবে না। একদিন যে শহরে জন্মেছিলাম, যে শহরের ১১ নম্বর স্মিথ রোডের বাড়ীর জমিনে পোতা আছে আমার নাড়ি, সেই শহর ছেড়ে আর ফিরবো না কোলাহলের হলাহল মেগাসিটি ঢাকায়। একদিন সেই ঘুঘু ডাকা, ফুলের সৌরভময় যশোরে ভূমিশয্যা নেবো, এ স্বপ্নই দেখি, পরম করুণাময় আল্লাহ যেন তা মাঞ্জুর করেন, আমিন...

 সৈয়দ রানা মুস্তফী, সম্পাদক, অর্থকথা। জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

আসা যাওয়ার পথের ধারে...



সৈয়দ রানা মুস্তফী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দ্য থ্রি মাস্কেটিয়ার্স। প্রতি শুক্রবার আমরা বেরিয়ে পড়তাম। কথাসাহিত্যিক, বিশ্ব সাহিত্যের নিষ্ঠ অনুবাদক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি ও আমার একান্ত আপনজন নুরুল করিম নাসিম ভাই, অতি প্রিয় অনুজপ্রতিম সিফাত আহমেদ চৌধুরী, আমি ও আমার ব্যক্তিগত গাড়িচালক সুজাতুর রহমান বকুল। এই ছিল মূল টিম, তবে অতি আগ্রহ বিবেচনায় কোনো কোনো শুক্রবার একজন বন্ধুকে সাথে নিতাম। কবি ফেরদৌস সালামও বোধহয় দু’একবার ভীড়েছিলেন আমাদের সে পাগলামিতে। একেক শুক্রবার নতুন এক জেলা, নতুন গন্তব্য। সকালে রওনা, পথে জুম’আ সময় হলে সেখানেই নামাজে অংশগ্রহণ, দুপুরের আহার, দর্শনানন্দ শেষ করে ঘরে ফিরতে গভীর রাত হয়ে যেত। সিফাত তখন সবে বিয়ে করেছে, ওর নবপরিণীতা স্ত্রী অভিমানে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে যখন সিফাতের দেরির জন্যে অনুযোগ করতো, সিফাত তখন খাঁটি সিলেটিঃ আইরাম আন্নি, আইরাম! অথচ আমরা হয়তো তখনো ঢাকা থেকে বেশ দূরে! নাসিম ভাবীর ঝাড়ি খেয়েও নাসিম ভাই তাঁর সুন্দর ব্যবহারের আড়ালে ঢেকে রাখতে চাইতেন সংসার সমুদ্রের ঝড়।

নুরুল করিম নাসিম ভাই তাঁর অনন্ত যাত্রা শুরু করেছেন দেড় বছরের বেশি সময় আগে (৫ই নভেম্বর ২০২০)। নাসিম ভাইকে আল্লাহ জান্নাতবাসী করুন এই মুনাজাত করি। ‘সৈয়দ সাহেব, বেরুবেন নাকি আবার?’ নাসিম ভাইয়ের কাছ থেকে আর কখনো এমন কল আসার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে, হায়রে জীবন।

সিফাত এখন মহাব্যস্ত ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে। ওর সন্তানরা এখন বেশ মাথাধরা হয়ে উঠেছে!

জীবন-সময় খুব দ্রুত ফাঁকি দিয়ে এগিয়ে যায়, সে সবসময় চির নতুন থাকে, আমরা মানুষেরাই শুধু পুরনো, ন্যুব্জ ও অক্ষম হয়ে যাই। একসময় মৃত্যু এসে ঢেকে দেয় জীবনের সব আনন্দ আয়োজন...

লেখক: সৈয়দ রানা মুস্তফী, জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

;

এম. মোরশেদ আলম- এক জীবন্ত কিংবদন্তী



সৈয়দ রানা মুস্তফী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মানুষটিকে ঘনিষ্ঠভাবে ও আপন করে চিনি গত ৩৪ বছর ধরে। একসঙ্গে সোনারগাঁও হোটেলের হেলথ ক্লাবে ওয়ার্কআউট করেছি প্রায় ৩০ বছর! কাজ, পরিবার, জিম ও কিছু একান্ত সময়, এই নিয়ে আপন বৈশিষ্ট্যে দীপ্যমান মানুষটির নাম এম. মোরশেদ আলম।

এম. মোরশেদ আলম

বেঙ্গল গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান অগ্রজপ্রতীম মোরশেদ ভাই খাঁটি উদ্যোক্তাদের শীর্ষস্থানীয় একজন। তাঁর কঠোর পরিশ্রম, মেধা, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা আজ বেঙ্গল গ্রুপকে অগ্রগণ্য বিজনেস কনগ্লোমারেট হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।


গত ৩৪ বছরে মোরশেদ ভাইয়ের কোনো উদ্যোগকে ঋণ খেলাপি হতে দেখিনি। কখনো মানুষের হক মেরে ধনী হতে চাননি এই ব্যক্তিত্ব। ব্যাংক, বীমা, শিল্প কলকারখানায় মোরশেদ ভাই যেমন সফল হয়েছেন, গণমাধ্যমেও (আরটিভি) তিনি তাই।

স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনা গৃহ প্রতিষ্ঠা করেছেন ব্যাপক উদারতায়। রাজনীতিক মোরশেদ ভাইয়ের অভিষেক হয়েছে সংসদ সদস্য হিসেবে, সেখানেও রেখে চলেছেন ইতিবাচক ভূমিকা।


শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রিয়জন মোরশেদ আলম ভাইয়ের সঙ্গে আমার কখনো সামান্যতম স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নেই। আছে কেবল ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধন। আপনি সুস্থ্য সুন্দর ও কর্মময় থাকুন মোরশেদ ভাই, আপনার জন্যে এই আমার একান্ত মুনাজাত…।

লেখক: সৈয়দ রানা মুস্তফী, জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

;

সাউথইস্ট ব্যাংক চেয়ারম্যান আলমগীর কবির: হি ইজ অ্যান ইন্সটিটিউশন হিমসেলফ



সৈয়দ রানা মুস্তফী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ থেকে দীর্ঘ ৪৫ বছর আগে তারুণ্যে ভরপুর যুবক আলমগীর যখন এফসিএ হন তখন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট খুব বিরল ছিল। রিটেনারশিপ কঠিন বলে এই পেশায় আসতে চাইত না শিক্ষার্থীরা। শুধু ব্যতিক্রমীরাই পা রাখতো এই অঙ্গনে।

জীবনের শুরু থেকেই ব্যতিক্রম ছিলেন আলমগীর কবির। তাই সহজ বিষয় বা সাবজেক্টকে বেছে না নিয়ে হয়েছিলেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। সেই থেকে আজ পর্যন্ত, জীবনের পরিণত বয়সে এসেও দেশের শীর্ষ সফল সাউথইস্ট ব্যাংক চেয়ারম্যান আলমগীর কবির এফসিএ ব্যতিক্রমীই আছেন। সততা, ধৈর্য্য, একাগ্রতা, নিয়মানুবর্তিতা ও কঠোর শ্রম-সাধনা  তাঁকে পরিণত করেছে এক অনুকরণীয় আইকনিক ব্যক্তিত্বে। একজন আলমগীর কবির ব্যক্তি থেকে পরিণত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানে।

সাউথইস্ট ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক সিকিউরিটিজ, সাউথইস্ট ব্যাংক ফাউন্ডেশন, এনসিসি ব্যাংক ও বে লিজিংসহ অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শুধু অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাই নন আলমগীর কবির এফসিএ, এসব প্রতিষ্ঠানে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এগুলোকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলেছেন তিনি।

সাউথইস্ট ব্যাংক চেয়ারম্যান আলমগীর কবির

চেয়ারম্যান হিসেবে গত ১৬ বছর ধরে পরম মমতায় সাউথইস্ট ব্যাংক-কে তাঁর শ্রম ঘাম মেধা দিয়ে আজ নিয়ে এসেছেন সর্বোচ্চ সফল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের অগ্রগণ্য হিসেবে।

সৌদী আরবের অর্থ ব্যবস্থার নীতি প্রণয়ন ও সেসবের বাস্তবায়নে ১৩ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন আলমগীর কবির, সে দায়িত্বে তাঁর কৃতিত্ব দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিএসইসি’র কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়কালকে বিশ্লেষকরা আজও সফলতম হিসেবে গণ্য করেন।

দেশের সুবৃহৎ উদ্যোক্তাদের অনেকই আলমগীর কবিরের সহায়তা, প্রণোদনা ও পরিচর্যায় ধ্বংসের প্রান্ত থেকে নতুন করে চূড়ান্ত সাফল্যের মুখ দেখেছেন! নতুন ও নিরীক্ষাধর্মী উদ্যোক্তারাও জনাব কবিরের অর্থায়ন ও উৎসাহে খুঁজে পেয়েছেন লাভজনক হয়ে ওঠার গন্তব্য। একারণেই সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলমগীর কবির যখন কোনো অনুষ্ঠান বা সামাজিকতায় উপস্থিত হন তখন অসংখ্য মানুষ তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনেকেই তাঁকে কদমবুসি করেন, অনেকেই তাঁর সামনে এসে কৃতজ্ঞতায় অশ্রুসজল হয়ে ওঠেন, অনেকে প্রকাশ্যে বলেনঃ উনি আমাদের জীবনে প্রকৃত ফাদার ফিগার!


ব্যতিক্রমী আলমগীর কবির এফসিএ, আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় লুলু ভাইয়ের সৃজনশীল সৃষ্টিধর্মীতায় জাতীয় নারী ফুটবলারবৃন্দ ও জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচিং স্টাফরা পেয়েছেন/পাচ্ছেন সম্মানজনক আর্থিক প্যাকেজ।

সাউথইস্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যে উপার্জনমুখী আবাসনের জন্যে ৭১ কাঠা জমিতে একাধিক বাণিজ্যিক-কাম আবাসিক ভবন নির্মাণের মাস্টার প্ল্যান নিয়ে এগুচ্ছেন জনাব আলমগীর কবির।

তাঁর মানবিক ও মানুষের কল্যাণধর্মী অগণিত উদ্যোগের বর্ণনা করতে গেলে বিশাল রচনা লিখতে হবে। আমরা এই মহান কর্মবীরের সুস্থ্যতা, আরো সাফল্য, ও সুখী জীবনের জন্যে আল্লাহ’র দরবারে প্রার্থনা করি…

লেখক: সৈয়দ রানা মুস্তফী, জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

;

হাবিব উল্লাহ ডন রেকর্ড ৪র্থ বারের মতো বারভিডা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত



সৈয়দ রানা মুস্তফী
বারভিডার নতুন প্রেসিডেন্ট হাবিব উল্লাহ ডন ও সৈয়দ রানা মুস্তফী

বারভিডার নতুন প্রেসিডেন্ট হাবিব উল্লাহ ডন ও সৈয়দ রানা মুস্তফী

  • Font increase
  • Font Decrease

ও বন্ধু আমার… ব্যবসা-বাণিজ্যের অঙ্গণ খুব সহজ নয়। প্রত্যেকেই ইন্ডিভিজুয়ালিস্ট এই সেক্টরে। বিজনেস সেক্টরে নেতা হওয়া তাই খুব কঠিন। আরো কঠিন বা প্রায় অসম্ভব ব্যবসা-বাণিজ্য সেক্টরের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠা। অর্থাৎ অ্যাসোসিয়েশন, চেম্বার ও অ্যাপেক্স বডি, এই তিন পর্যায়ে অতীতে কখনোই কেউ দেদীপ্যমান সূর্যের মত আবির্ভুত হতে পেরেছেন তেমন দৃষ্টান্ত নেই। সেই প্রায় অসম্ভব কাজটিই করে বিজনেস সেক্টরকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন প্রিয় বন্ধু হাবিব উল্লাহ ডন! ৪র্থ বারের মত প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বারভিডা’র! এর আগে আর কেউ কখনো চারবার বারভিডা’র প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। অনন্য এই অর্জনে প্রিয়বন্ধু ডনকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ভালোবাসা।

দেশের বিজনেস সেক্টরের অ্যাপেক্স সংগঠন এফবিসিসিআই’র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে হাবিব উল্লাহ ডন শিল্প বাণিজ্যের উন্নয়নে রেখে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সিআইএস-বিসিসিআই চেম্বারের কয়েকবারের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডন সেখানেও রেকর্ড করেছেন। সিআইএস-বিসিসিআই চেম্বারের সদস্যবৃন্দ বারবার আস্থা রাখছেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে হাবিব উল্লাহ ডনের নেতৃত্বে।


দেশের বিজনেস সেক্টরের উন্নয়ন, বিকাশ ও এর সমস্যা সমাধানে হাবিব উল্লাহ ডনের অবদান ও ইন্টিগ্রিটি অতুলনীয়। ধর্মভীরু, সুদমুক্ত, দানশীল অথচ প্রচারবিমুখ ডন পরিবার অন্ত প্রাণ। তরুণ প্রজন্মের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ডন করোনার ভয়াল সময়ে হাজারো পরিবারকে সহায়তা দিয়েছেন। খাদ্য, ওষুধ ও শীতবস্ত্র দান করেছেন অসংখ্যজনকে। অবসরে ব্যতিক্রমী রান্না করে ও শরীর চর্চায় সময় দিয়ে ডন হয়ে উঠেছেন অনন্যসাধারণ এক আইকন!

আমি ডন ও ওঁর পরিবারের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল ও কল্যাণের জন্যে আল্লাহ’র শাহী দরবারে মুনাজাত করি।

লেখক: সৈয়দ রানা মুস্তফী, জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

;