হতাশার সঙ্গে আছে স্বস্তিও



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মাশরাফি বিন মর্তুজা

মাশরাফি বিন মর্তুজা

  • Font increase
  • Font Decrease

চোটের কারণে আগেই ছিটকে গেছেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। একই সমস্যা বয়ে বেড়াচ্ছিলেন মুশফিকুর রহীম। এর সঙ্গে ছিল টানা খেলার ধকলও। তারপরও এসব প্রতিকুলতা জয় করে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-মুস্তাফিজুর রহমানরা ভক্তদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এ টুর্নামেন্টের প্রথম শিরোপার। মঞ্চটাও শুক্রবার প্রস্তুত ছিল। কিন্তু ২০১২ ও ২০১৬ সালের মতো আবারও টাইগারদের সঙ্গী হল সেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনা। কে কাকে সান্ত্বনা দেবেন, কীভাবে দেবেন এই হারের ব্যাখ্যা?

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা তবুও চেষ্টা করেন সেটা লুকিয়ে হারের ব্যাখ্যা দিতে, ‘আমরা হৃদয় দিয়ে খেলেছি। শেষ বল পর্যন্ত লড়েছি। এটাই চেয়েছি আমরা।’ হতাশার সঙ্গে আছে স্বস্তিও!

শুক্রবার দুবাইয়ে টস হেরে শুরুতেই চমক দেন মাশরাফি। ওপেনিংয়ে লিটন কুমার দাসের সঙ্গী হিসেবে মেহেদি হাসান মিরাজকে পাঠান। তাতে কাজও হয়ে যায়। এ জুটি স্কোর বোর্ডে এনে দেন ১২০ রান। কিন্তু তারপরও দলের রান ২৫০ হয়নি। মাঝারি মানের এ পুঁজি নিয়েও শেষ পর্যন্ত অবশ্য লড়াইটা চালিয়ে গেছেন বোলাররা। যে কারণে অধিনায়কের বাহবাও পাচ্ছেন তারা, ‘এবারের এশিয়া কাপে যদি আমাদের বোলারদের দিকে তাকান, বেশির ভাগ সময়েই ২৪০ করে আমরা জিতেছি। ব্যাটসম্যানদের কাছে আজ এটাই চাইছিলাম। শেষমেশ বোলাররা সত্যি অসাধারণ করেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/29/1538198136688.jpg

শেষ দুই ওভারে ভারতের জিততে প্রয়োজন ছিল ৯ রান। ৪৯তম ওভারে মুস্তাফিজ ৩ রান দিয়ে নেন ১টি উইকেট। কিন্তু বাংলাদেশ সমস্যায় পড়ে শেষ ওভার নিয়ে। কেননা তার আগেই যে মাশরাফির মূল বোলারদের কোটা শেষ। তাই বাধ্য হয়ে ম্যাশ বল তুলে দেন মাহমুদউল্লাহ হাতে। এ ডানহাতি অবশ্য খারাপ করেননি। তবু শেষ পর্যন্ত পারেননি প্রতিপক্ষের ১ বলে ১ রানের সমীকরণ আটকাতে। তাহলে কী শেষ ওভারে মুস্তাফিজকে দিতে ভাল করতেন ম্যাশ? এ ব্যপারে নড়াইল এক্সপ্রেস বলেন, ‘আমিও আলোচনা করেছি বিষয়টা নিয়ে। ভারত যেভাবে রান করছিল মুস্তাফিজকে ৪৯তম ওভারেই আনা দরকার ছিল। ওরা প্রায় প্রতি বলে রান করছিল। এই পর্যায়ে আমি স্পিনার আনতে চাইনি। ওরা খুব একটা ভালো করেনি।’

মহাদেশীয় বা বৈশ্বিক কোন টুর্নামেন্টে এখনো কোন শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। গেল কয়েক বছর ধরে সেই একাধিকবার পেয়েছিল টাইগাররা। প্রতিবারই শেষ বলেই হয়েছে স্বপ্নভঙ। যার সবশেষটা দেখা গেল শুক্রবার। এখান থেকে এখন মনে হয় বের হয়ে আসার সময় এসেছে বাংলাদেশের! স্বপ্নভঙ্গের বেদনা আর কতো!